উপনির্বাচনে গোহারা বিজেপি আরও কোণঠাসা? চারে-চার করে বিরোধীশূন্য তৃণমূল?

West Bengal Assembly By Election Result 2024: মানিকতলা বাদে তিনটি আসনেই গত বিধানসভা ও সদ্যসমাপ্ত লোকসভায় এগিয়েছিল বিজেপি। অথচ উপনির্বাচনে একটি আসনও জিততে পারল না বিজেপি।

inscript
৩ মিনিট
উপনির্বাচনে গোহারা বিজেপি আরও কোণঠাসা? চারে-চার করে বিরোধীশূন্য তৃণমূল?

সদ্য সমাপ্ত লোকসভা ভোটে আসন হারিয়েছে বিজেপি। রাজ্যে গেরুয়াবাহিনীকে একাই রুখেছে তৃণমূল। সেই নির্বাচনের রেশ নিয়েই রাজ্যের চারটি আসনে বিধানসভা উপনির্বাচন ছিল। রায়গঞ্জ, মানিকতলা, বাগদা আর রানাঘাট দক্ষিণ। এর মধ্যে দুই আসনে তৃণমূলের দাপট থাকলেও, দুই আসনে আবার বিজেপির দখল ভালোই। তাই নির্বাচনের আগে আগে হাওয়া বলছিল দুই আসনে তৃণমূল আর দুই আসনে বিজেপির জয় কার্যত নিশ্চিত। কিন্তু উপনির্বাচনে বিরোধী বিজেপিকে দুরমুশ করে চারটি আসনই পকেটে পুরেছে তৃণমূল। ২০২১ সালে জেতা তিন কেন্দ্রেই উপনির্বাচনে হেরেছে বিজেপি।

যে চার বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন হয়েছে, তার মধ্যে মানিকতলার জয় সম্পর্কে তৃণমূল কংগ্রেস প্রায় নিশ্চিতই ছিল। বাকি তিনটির মধ্যে রানাঘাট দক্ষিণ এবং বাগদা কেন্দ্রেও মোটামুটি জয়ের আশা ছিলই। তবে রায়গঞ্জ নিয়ে বিশেষ আশাবাদী ছিল না তৃণমূল। ভোট শেষ হতেই বিজেপি অভিযোগ করে, উপনির্বাচনে বিপুল পরিমাণ ছাপ্পা দিয়েছে শাসক দল। নানাভাবে বিজেপি বোঝাতে থাকে, বিজেপির এগিয়ে থাকা তিন আসনে তৃণমূল ব্যবধান কমিয়ে আনবে। অর্থাৎ তৃণমূলের জয় নিয়ে বিজেপিই যেন খানি নিশ্চিত ছিল। ফল প্রকাশ হতে তা মিলেও গেল। রানাঘাট দক্ষিণ, বাগদা, মানিকতলা এমনকী রায়গঞ্জ আসনেও জিতেছে তৃণমূলই।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
৪ কেন্দ্রে উপনির্বাচন! দেশের সর্বকনিষ্ঠ বিধায়ক হতে পারবেন মতুয়া কন্যা মধুপর্ণা?

West Bengal By Elections 2024: মধুপর্ণাকেই 'মতুয়াগড়' বাগদায় প্রার্থী করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হরিচাঁদ ঠাকুর-গুরুচাঁদ ঠাকুরের সরাসরি বংশধর মধুপর্ণাও।

তৃণমূলের অন্দরের বক্তব্য, মানিকতলায় বিরোধীরা কার্যত ছিলই না। রাজনৈতিকভাবেই এই এলাকায় তারা এগিয়ে ছিল তৃণমূলই। বুথভিত্তিক হিসেব কষে তৃণমূল দাবি করেছিল, অন্তত ১৫-১৮ হাজার ভোটে জিতবে তারা। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে অধুনা প্রয়াত সাধন পাণ্ডে জিতেছিলেন ২০ হাজারের বেশি ভোটে। বাগদা বিধানসভা আসনে লোকসভা ভোটে ২০ হাজারে পিছিয়ে ছিল তৃণমূল। তবে লোকসভা ভোটের পর সেই সমীকরণ বদলে যায়। তবে রায়গঞ্জ আসন নিয়ে চিন্তায় ছিল তৃণমূল। লোকসভা ভোটে প্রায় ৪৬ হাজারের বেশি ভোটে পিছিয়ে ছিল তারা এই আসনে।

মানিকতলা বাদে তিনটি আসনেই গত বিধানসভা ও সদ্যসমাপ্ত লোকসভায় এগিয়েছিল বিজেপি। অথচ উপনির্বাচনে একটি আসনও জিততে পারল না বিজেপি। প্রায় ১৩ বছর পর রানাঘাট দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রে জয়ী হয়েছে তৃণমূল। সদ্যসমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনে যেখানে প্রায় ৩৭ হাজার ভোটে পিছিয়ে ছিলেন মুকুটমণি অধিকারী, তিনিই জিতলেন ৩৯ হাজারেরও বেশি ভোটে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মেয়ের বদলে মা! মানিকতলা থেকে কেন সরিয়ে দেওয়া হলো সাধন কন্যা শ্রেয়াকে?

Shrreya Pande Maniktala: শুধুমাত্র সাধন পাণ্ডের সহধর্মিণী বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সহপাঠী হিসেবে নয়, সুপ্তি পাণ্ডে নিজেও রাজনীতিতে যথেষ্ট সক্রিয় একজন মুখ।

গত বিধানসভা নির্বাচনে এই আসনে বিজেপির টিকিটে প্রায় সাড়ে ১৬ হাজার ভোটে জিতেছিলেন মুকুটমণি। তিনি তৃণমূলে যোগ দিয়ে রানাঘাট লোকসভা কেন্দ্রের প্রার্থী হওয়াতেই উপনির্বাচন হয়। বিজেপির জগন্নাথ সরকারের কাছে হারার পর এই ভোটে তাঁকেই ফের প্রার্থী করে তৃণমূল।

মানিকতলা বিধানসভার উপনির্বাচনে নিকটবর্তী প্রার্থীকে ৬২ হাজার ৩১২ ভোটের রেকর্ড মার্জিনে হারিয়ে জিতেছেন তৃণমূল প্রার্থী সুপ্তি পাণ্ডে। বিধানসভায় রাজ্যের সর্বকনিষ্ঠ বিধায়ক হয়েছেন মতুয়া পরিবারের সদস্য এবং তৃণমূল সাংসদ মমতাবালা ঠাকুরের কন্যা মধুপর্ণা ঠাকুর। তাঁর বয়স ২৫ বছর। ১৩ বছর পর এই কেন্দ্রে ফিরল তৃণমূল। মধুপর্ণার জয়ের ব্যবধান প্রায় ৩৪ হাজার।

লোকসভা নির্বাচনে রায়গঞ্জ থেকে কৃষ্ণ কল্যাণীকেই প্রার্থী করেছিল তৃণমূল। তিনি হেরে গিয়েছিলেন বিজেপির কার্তিক পালের কাছে। এরপর রায়গঞ্জ বিধানসভা উপনির্বাচনে আবার তাঁকেই টিকিট দেয় শাসকদল। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও এই কেন্দ্র থেকে জিতেছিলেন কৃষ্ণ। তবে তখন বিজেপির টিকিটে প্রায় ২১ হাজার ভোটে জিতেছিলেন তিনি। এবার রায়গঞ্জে ৫০ হাজারের বেশি ভোটে জিতেছেন তৃণমূল প্রার্থী কৃষ্ণ কল্যাণী।

তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ বলছেন, 'থ্রি-টায়ার ফোর-টায়ার' স্ট্র্যাটেজিতে ক্যাম্পেন করেছে দল। উপনির্বাচনে সাধারণত ভোট কম পড়ে। তাই হাওয়া গরম করতে বড় মিটিং-মিছিল করেছে দল। পাশাপাশি প্রার্থীকে নিয়ে ঘরে ঘরে যাওয়ার চেষ্টাও চলেছে। বুথ ধরে ধরে যেখানে ভোটে ঘাটতি ছিল, সেখানে আলাদাভাবে টিম পাঠিয়ে মানুষের সঙ্গে কথা বলেছে তৃণমূল। বিজেপির টিকিটে যারা আগে জিতেছিলেন, তাঁদের দলে এনে নিজেদের টিকিটে জিতিয়ে তৃণমূল প্রমাণ করে দিয়েছে হাওয়া শসকের সঙ্গেই। লোকসভাতে যে বিজেপির বিরোধী ভোট হয়েছে সারা দেশেই, সেই আঁচের রেশটুকু তৃণমূল ধরে রাখতে পেরেছে বলেই চারটি আসনই এসেছে পকেটে।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর: বাংলায় ভোটার যাচাইয়ের প্রভাব মুসলিম এলাকাগুলিতে ছ’গুণ বেশি, বলছে পরিসংখ্যান

Bengal Voter List Review: পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা যাচাইয়ে বিচারাধীন ভোটারদের ক্ষেত্রে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলিতেই প্রভাব বেশি পড়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, এই এলাকাগুলিতে ভোটার যাচাইয়ের প্রভাব অন্যান্য এলাকার তুলনায় প্রায় ছ’গুণ বেশি। এই পার্থক্য কীভাবে তৈরি হলো, কোন এলাকার ভোটাররা বেশি প্রভাবিত হলেন এবং এর পিছনে কী কারণ রয়েছে?

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।