ত্রিপুরা নির্বাচনে লড়বেন না আর! কেন এত বড় সিদ্ধান্ত প্রবীণ বামনেতা মানিক সরকারের?

Manik Sarkar Tripura: প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার একসময় দেশের সবচেয়ে দরিদ্র মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, ছিলেন রাজ্যের সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য মুখ।

Madhurima Dutta
৩ মিনিট
ত্রিপুরা নির্বাচনে লড়বেন না আর! কেন এত বড় সিদ্ধান্ত প্রবীণ বামনেতা মানিক সরকারের?

ছোট্ট রাজ্যকে তিলে তিলে গড়েছিলেন তিনি। তাঁর আমলেই ত্রিপুরাতে বেড়েছে সাক্ষরতার হার, কমেছে অপুষ্টির সমস্যা, বেড়েছে নারী ক্ষমতায়ন। ৪০ বছর ত্রিপুরা ছিল লাল দূর্গ। ত্রিপুরায় দীর্ঘকালীন এই বামশাসনের যিনি ছিলেন নির্ভরযোগ্য মুখ, সেই মানিক সরকার আর ভোটে দাঁড়াচ্ছেন না! ত্রিপুরায় ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন। আর চারবারের মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার এবারের বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না। সূত্রের খবর, ৭৪ বছর বয়সী এই প্রবীণ বাম নেতাকে টিকিট দেয়নি সিপিআইএম। বদলে ঘোষণা করেছে, মানিক সরকারই এবার রাজ্য জুড়ে বাম প্রচারকে নেতৃত্ব দেবেন।

১৯৭৮ থেকে ২০১৮, মাঝে পাঁচ বছর বাদ দিলে সিপিএমই ত্রিপুরা শাসন করেছিল। আর বামেদের মুখ ছিলেন মানিক সরকার। বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এই ছোট্ট রাজ্যে শান্তি বজায় রাখতে পেরেছিলেন মানিক, যা একসময় বাঙালি আর উপজাতিদের মধ্যে সংঘর্ষের কেন্দ্রস্থল ছিল। আজীবন কমিউনিস্ট এবং পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য মানিক সরকারের ব্যক্তিগত রেকর্ডও ছিল সাফ সুতরো। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার একসময় দেশের সবচেয়ে দরিদ্র মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, ছিলেন রাজ্যের সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য মুখ। ২০১৮ সালে বিজেপির কাছে হেরে যায় বামেরা।

দলের আশা, ১৯৯৮ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত রাজ্য সরকারের নেতৃত্বে থাকা মানিক ফের হাল ধরবেন। বামদের সবচেয়ে বড় ভোটব্যাঙ্ক, আদিবাসী এবং দলিতদের ফের দলমুখী করবেন। এই আদিবাসী এবং দলিতদের ভোটই বিজেপি-আইপিএফটির (ত্রিপুরার আদিবাসী প্রগতিশীল ফ্রন্ট) মূলধন ছিল ২০১৮ সালের নির্বাচনে। কেন এই মানুষরা মুখ ফেরালেন তার কারণ বিশ্লেষণ করে এবার তাদের ফের দলে টানার ভার তাই প্রবীণ মানিকের। সিপিআইএমের সূত্র বলছে, কেবল নিজের নির্বাচনী এলাকা ধনপুরেই সীমাবদ্ধ থাকবেন না, সারা রাজ্যে প্রচার করবেন মানিক। পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু ২০০৬ সালে ৮৫ বছর বয়সে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ান। মানিক সরকার ব্যাটন তুলে দিচ্ছেন ৭৪-এ এসেই।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বিধানচন্দ্র রায় থেকে জ্যোতি বসু, এই মডেলের ফিয়াট পছন্দ ছিল সকলেরই

২০১৯ সালের অক্টোবর মাসের তিন তারিখ ছিল পঞ্চমী। রাত ২.৩০। তিনজন যাত্রীকে নিয়ে ফিয়াট ১১০০ কলকাতার উদ্দেশে রওনা দিল।

২০১৮ সালে বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় আসে। ত্রিপুরা রাজ্যের ৬০ টি আসনের মধ্যে ৩৬ টিতে জয় লাভ করে ইতিহাস গড়ে। যে বিজেপির ঘাঁটি তো দূর অস্ত, সামান্য বসত ভিটেও ছিল না ত্রিপুরায় তারাই একেবারে শূন্য থেকে একেবারে উপরে উঠে আসে। বিজেপির জোট শরিক আইপিএফটি ৮ টি আসন পায়। আর সিপিআইএম পেয়েছিল ১৬ টি আসন। কংগ্রেস আগের বিধানসভায় প্রধান বিরোধী দল হিসেবে থাকলেও ২০১৮ সালে তারা নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়।

এই হারের থেকে শিক্ষা নিয়ে সিপিআইএম এ বার কংগ্রেসের সঙ্গে আসন ভাগাভাগির চুক্তি করেছে। বামফ্রন্ট রাজ্যের ৬০টি আসনের মধ্যে ৪৭টিতে লড়বে আর কংগ্রেসের জন্য থাকছে ১৩ টি আসন। বামেদের প্রার্থী তালিকায় এবার ২৪টি নতুন নাম থাকবে। পশ্চিমবাংলার মতোই ত্রিপুরাতেও নতুন মুখদের তুলে ধরার জন্য বাদ পড়ছেন পুরনো লড়াকুরা। বামফ্রন্টের ছয়বারের বিধায়ক বাদল চৌধুরী সহ অনেক প্রতিষ্ঠিত প্রার্থীকেই এবার টিকিট দেওয়া হয়নি।

বামফ্রন্ট আরও ইঙ্গিত দিয়েছে যে তারা জোটে টিপরা মোথা, আদিবাসী সম্প্রদায়ের জন্য রাষ্ট্র প্রস্তাবকারী দলকে চায়৷ তবে সেই আশা বাস্তবায়িত নাও হতে পারে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে আদিবাসীদের সাংবিধানিক সুরক্ষার দাবি নিয়ে আলোচনা করতে প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মাকে সম্প্রতিই দিল্লিতে ডাকা হয়েছিল।

তবে মানিক সরকারের এই সিদ্ধান্ত দলের পক্ষে মোটেই সহজ ছিল না। দল বলছে, একটি আসনে জোর দেওয়ার চেয়ে সব আসনেই পূর্ণ শক্তি দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন মানিক। দফায় দফায় বৈঠকের পর দল শেষ পর্যন্ত এই ইচ্ছাকেই সম্মান জানায়। ত্রিপুরাতেও নতুনদের মুখ করতে চাইছে দল। পশ্চিমবঙ্গে নতুন মুখদের লড়াইয়ে নামানো হলে সিপিআইএমের প্রচারে ব্যাপক ঢেউ আসে ঠিকই তবে ভোটের বাক্সে তার কোনও প্রতিচ্ছবিই পড়েনি। ত্রিপুরাতেও যে পড়বে প্রথমবারেই এমনটা আশা করছেন না রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। তবে দলকে দীর্ঘকাল লড়াতে হলে পথ এটাই, মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

লিখেছেন
Madhurima Dutta
Madhurima Dutta
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।