দেখা হল না ছেলের সঙ্গে! হাসপাতালে বসেই বাবার মৃত্যুসংবাদ পেলেন সুড়ঙ্গ-শ্রমিক

Uttarkashi Tunnel Rescue: ভক্তুদের উদ্ধারের ঠিক বারো ঘণ্টার মাথায় নিজের বিছানায় বসে থেকে থেকেই মৃত্য়ুর কোলে ঢলে পড়েন বাবা বরসা। আন্দাজ করা হচ্ছে, মৃত্যুর কারণ হার্ট অ্যাটাক।

Sohini Das
৩ মিনিট
দেখা হল না ছেলের সঙ্গে! হাসপাতালে বসেই বাবার মৃত্যুসংবাদ পেলেন সুড়ঙ্গ-শ্রমিক

১৭ দিন সুড়ঙ্গের অন্ধকারে কাটিয়ে আলোয় ফিরল ছেলে। কিন্তু ছেলের ঘরে ফেরা দেখতে রইলেন না বাবা। মঙ্গলবার উত্তরাখণ্ডের সিল্কিয়ারা সুড়ঙ্গ থেকে শ্রমিকদের উদ্ধারের বারো ঘণ্টার মধ্যেই মারা যান ঝাড়খণ্ডের ওই শ্রমিকের বাবা।

গত ১২ নভেম্বর সিল্কিয়ারা সুড়ঙ্গে ধস নেমে আটকে যান ৪১ জন নির্মাণকর্মী। লাগাতার ১৭ দিন কেটেছে ওই সুড়ঙ্গের। হাজার হাজার উদ্ধারকর্মী, ইঞ্জিনিয়ার এবং দেশ-বিদেশ থেকে আসা বিশেষজ্ঞ দল। লাগাতার চেষ্টার পরেও বারবার উদ্ধারের পথে এসেছে বাঁধা। প্রতিদিন সকালে যে আশার আলো ঘিরে ধরেছে বন্দি শ্রমিক ও তার পরিবারকে, প্রতি সন্ধেয় তা নিভে গিয়েছে সূর্যের সঙ্গেই। এই সতেরোটা দিন যেমন কঠিন ছিল বন্দি শ্রমিকদের জন্য, তার চেয়েও বেশি উৎকণ্ঠার, উদ্বেগের ছিল পরিবারের জন্য। বহু শ্রমিকই এসেছেন এমন আর্থ সামাজিক অবস্থা থেকে, যে ছেলের অনুপস্থিতিতে এই ১৭ দিন হাঁড়ি চড়েনি সেসব বাড়িতে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
৪১ শ্রমিকের এই পুনর্জন্ম আসলে 'মিরাকল্'! কেন প্রকৃতিকেই সমস্ত কৃতিত্ব দিচ্ছেন আর্নল্ড?

Uttarkashi Tunnel Rescue Operation: যত দিন কাটছিল, ধৈর্যের বাঁধ ভাঙছিল ততই। গোটা দেশের মানুষ যেন একমনে প্রার্থনা করছিল একটা মিব়্যাকেলের।

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এই সিল্কিয়ারা সুড়ঙ্গ খননের কাজ করতে এসেছিলেন শ্রমিকেরা। উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ওড়িশা, বাংলা থেকে শুরু করে ঝাড়খণ্ড, হিমাচল, এই সমস্ত রাজ্যের শ্রমিকরাই ছিলেন সুড়ঙ্গের ভিতরে। সবচেয়ে বেশি ছিলেন ঝাড়খণ্ড থেকে আসা শ্রমিকরাই। তাদের মধ্যেই ছিলেন ঝাড়খণ্ডের সিংভূম জেলার বাহড়া গ্রাম থেকে উত্তরাখণ্ডে কাজ করতে আসা ২৮ বঠরের ভক্তুও। ছেলের বিপদের খবর শুনে থেকেই টিভির পর্দায় চোখ পেতে বসে থাকতেন বাবা বরসা মুর্মু। উদ্বেগ, উৎকণ্ঠায় চোখের পাতা এক করতে পারতেন না ৭০ বছরের বৃদ্ধ। সবসময়ে মনে হত, আদৌ কোনওদিন ফেরা হবে তো ছেলেটার!

কিন্তু বাবার প্রার্থনার জোর হোক বা ছেলের ভাগ্যের গুণ, সুড়ঙ্গের ওই অন্ধকার থেকে অবশেষে ফিরল ছেলে। শুধু ভক্তু নয়, তার সঙ্গে বন্দি ৪১ জনকেই উদ্ধার করা গিয়েছে সিল্কিয়ারার ওই সুড়ঙ্গ থেকে। উদ্ধারের পর তাঁদের রাখা হয় সামনের একটি অস্থায়ী হাসপাতালে, যা তৈরিই করা হয়েছিল এই শ্রমিকদের সুস্থ করে তোলার জন্য। যেখানে শারীরিক অবস্থার পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের ব্যাপারটাও খতিয়ে দেখা হবে। এতগুলো দিন অন্ধকার সুড়ঙ্গে কাটানো তো আর মুখের কথা নয়। এর প্রভাব শরীরের পাশাপাশি পড়ে মনেও। তবে উদ্ধার হওয়া প্রতিটি শ্রমিকই বাড়ি ফেরার জন্য ব্য়তিব্য়স্ত।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
১২ নভেম্বর সুড়ঙ্গ ভাঙার সময় ঠিক কী ঘটেছিল? ১৭ দিন পর মুক্তি পেয়ে জানালেন শ্রমিক

Uttarakhand Tunnel Rescue : ওয়াকিটকি পাঠানোর পর যখন তারা নিজেদের আত্মীয়দের সঙ্গে কথা বলেন, তাতে অনেকটা আশ্বস্ত হন সকলে।

বাবা-মা পরিবারের সঙ্গে দেখা করার জন্য একই রকম অস্থির ছিলেন ভক্তুও। তথনও জানতেন না, বাড়ি ফিরলেও বাবার সঙ্গে আর কোনওদিনই দেখা হবে না তাঁর। ভক্তুদের উদ্ধারের ঠিক বারো ঘণ্টার মাথায় নিজের বিছানায় বসে থেকে থেকেই মৃত্য়ুর কোলে ঢলে পড়েন বাবা বরসা। আন্দাজ করা হচ্ছে, মৃত্যুর কারণ হার্ট অ্যাটাক। এতদিন ধরে ভয়াবহ উদ্বগ, উৎকণ্ঠা থেকে হঠাৎ মুক্তির ধকলটা সম্ভবত শরীর নিতে পারেনি। আর সেটাই হার্ট অ্যাটাকের কারণ হতে পারে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞরা। তার পর থেকে কথাবার্তা বন্ধ করেছেন ভক্তুর মা পিতি মুর্মু। দু-চোখ জুড়ে শুধু একরাশ শূন্যতা। যে চোখ এতদিন ছেলের অপেক্ষায় ছিল, ছেলেকে ফিরে পেতে না পেতেই যে স্বামীকে হারাতে হবে, এমন ভাবনা বোধহয় দুঃস্বপ্নেও ভাবেননি তিনি।

ভক্তুর জামাইবাবু জানান, মৃত্যুর আগের মুহূর্ত পর্যন্ত ছেলের কুশল জানার জন্য ব্যস্ত ছিলেন বৃদ্ধ। হঠাৎ করেই বিছানা থেকে পড়ে যান তিনি। আর তার পরেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে খবর। তবে এই সংক্রান্ত কোনও মেডিক্যাল রিপোর্ট মেলেনি। বাবার মৃত্যুর খবর আসতেই ভক্তুকে হাসপাতাল থেকে এয়ারলিফট করে সোজা রাঁচি নিয়ে যাওয়া হয়। আপদকালীন পরিস্থিতিতে ভক্তুকে হাসপাতাল থেকে ছাড়া হলেও বাকি শ্রমিকদের আরও ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে পাখা হবে ঋষিকেশের এইমস হাসপাতালে। এর পর তাদের সেখান থেকে সোজা দেহরাদূন নিয়ে যাওয়া হবে। ঝাড়খণ্ড থকে আসা শ্রমিকদের সেখান থেকে দিল্লিতে পাঠানো হবে, দিল্লি থেকে রাঁচি যাবেন তাঁরা। ইতিমধ্যেই রাঁচির বাসিন্দাদের দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য ঝাড়খণ্ড সরকারের তরফে একটি তিন সদস্যের দল উত্তরাখণ্ডে পৌঁছেছে। বাকি রাজ্যগুলি থেকে পৌঁছেছে রাজ্য সরকারি দল।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।