উপমুখ্যমন্ত্রিত্বে স্তালিন-পুত্রই, ভারতীয় রাজনীতিতে কতটা গভীরে পরিবারতন্ত্রের শিকড়?

Familism in Indian politics: মোদির তৃতীয় বারের মন্ত্রিসভাতেও 'পরিবারতন্ত্রে'র প্রভাব নিয়ে জোর বিতর্ক হয়েছিল। সেখানে পরিচিত নেতানেত্রীদের পুত্র-কন্যা, পুত্রবধূদের জায়গা করে দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

Tanvia Barua
৩ মিনিট
উপমুখ্যমন্ত্রিত্বে স্তালিন-পুত্রই, ভারতীয় রাজনীতিতে কতটা গভীরে পরিবারতন্ত্রের শিকড়?

ভারতীয় রাজনীতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য যেন হয়ে দাঁড়িয়েছে 'পরিবারতন্ত্র'। সেই পরম্পরাই বজায় রাখল দেশের দক্ষিণের রাজ্য তামিলনাড়ু। তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিন তাঁর ছেলে উদয়নিধিকেই রাজ্যের উপ-মুখ্যমন্ত্রী করলেন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এমকে করুণানিধিও নিজের ছেলে এমকে স্ট্যালিনকে মুখ্যমন্ত্রী পদে বসিয়েছিলেন। সম্প্রতি সেনথিল বালাজি-কেও স্থান দিয়েছেন স্ট্যালিন। তবে শেষপর্যন্ত উত্তরসূরি হিসেবে তাঁর নিজের ছেলেকেই বেছে নিয়েছেন তিনি। লোকসভা নির্বাচনের আগে থেকেই উদয়নিধির উত্থানের ইঙ্গিত ছিল। বছরের শুরুতেই সেই সংক্রান্ত ঘোষণার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু ছেলে উদয়নিধির 'সনাতন ধর্ম' মন্তব্য ঘিরে বিতর্কের আবহে পিছিয়ে দেওয়া হয় সেই সিদ্ধান্ত। ২০২২ সালেই স্ট্যালিন মন্ত্রীসভার সদস্য হন উদয়নিধি। রাজ্যের ক্রীড়া এবং উন্নয়ন দফতরের দায়িত্ব পেয়েছিলেন সে সময়।

অন্যদিকে, মোদির মন্ত্রিসভার সদস্যদেরও পরিবারের রাজনৈতিক যোগসূত্র রয়েছে। মোদির তৃতীয় বারের মন্ত্রিসভাতেও 'পরিবারতন্ত্রে'র প্রভাব নিয়ে জোর বিতর্ক হয়েছিল। মন্ত্রিসভায় পরিচিত নেতানেত্রীদের পুত্র-কন্যা, পুত্রবধূদের জায়গা করে দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। মন্ত্রীসভার ৭২ জন সদস্যদের মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশেরই পারিবারিক রাজনৈতিক পরিচিতি রয়েছে। এই সদস্যদের মধ্যে অন্য দল থেকে আসা মন্ত্রীরাও রয়েছেন। কয়েক জন পূর্বতন ইউপিএ সরকারের সময়েও মন্ত্রী ছিলেন। বিজেপিও কি তবে সেই পরিবারতন্ত্রেরই উদাহরণ বয়ে চলেছে অন্দরে?

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ছেলে তথা বিসিআই সচিব জয় শাহকে ICC-তে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়েছিল। শুধু তাই নয় অর্থ এবং বাণিজ্য কমিটির প্রধান হিসেবেও নির্বাচিত করা হয়। তিনি BCCI-এর প্রতিনিধি, ICC-র ফিনান্স ও কমার্শিয়াল অ্যাফেয়ার কমিটির প্রধান হন। এটি ICC-র প্রধান কমিটি। এর মাধ্যমেই বিভিন্ন দেশে অর্থপ্রদান, সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয় থাকে। এর আগে এই কমিটির সদস্য ছিলেন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের প্রাক্তন সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। প্রশ্ন উঠেছিল, যাঁর নাম কোনওদিন ক্রিকেটের ময়দানে শোনা যায়নি, তিনি কীভাবে ভারতীয় ক্রিকেটের এত উচুঁ পদে জায়গা করে নিলেন?

মন্ত্রীসভার 'পরিবারতন্ত্র'-এর তালিকায় রয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁর বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর। তাঁর বাবা মঞ্জুলাকৃষ্ণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন। তালিকায় রয়েছেন, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এইচডি দেবগৌড়ার পুত্র তথা জেডিএস নেতা কুমারস্বামী। তিনি একটা সময় কংগ্রেসের সমর্থনে কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন। আরও রয়েছেন প্রয়াত প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মাধবরাও সিন্ধিয়ার পুত্র জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া, প্রয়াত প্রাক্তন কংগ্রেস সহ-সভাপতি জিতেন্দ্র প্রসাদের পুত্র জিতিন। মনমোহন সিং সরকারের মন্ত্রী ইন্দ্রজিৎ সিংও নয়া মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন। তিনি আবার হরিয়ানার প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী রাও বীরেন্দ্র সিং-এর পুত্র।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মোদি-মন্ত্রিসভার সিলমোহর, ‘এক দেশ এক ভোট’ চালু করতে কেন এত মরিয়া বিজেপি সরকার?

One Nation One Election: বুধবার সেই 'ওয়ান নেশন ওয়ান ইলেকশন' পদ্ধতি কার্যকরের পথেই আরও এক ধাপ অগ্রসর হল কেন্দ্র সরকার।

মোদির তৃতীয় বারের মন্ত্রিসভার সদস্য কিরেণ রিজিজুর-র বাবা ছিলেন অরুণাচল প্রদেশের নেতা তথা বিধায়ক। আবার মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন বিজেপি মন্ত্রী তথা বর্তমান এনসিপি নেতা একনাথ শিন্ডের পুত্রবধূ রক্ষা খড়সে। ইউপিএ এবং এনডিএ দুই সরকারেই মন্ত্রী ছিলেন প্রয়াত রামবিলাস পাসোয়ান। তাঁর ছেলে চিরাগ পাসোয়ান জায়গা করে নিয়েছেন মোদি মন্ত্রিসভাতেও। বিজেপির সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডার শাশুড়ি মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা প্রাক্তন সাংসদ জয়শ্রী বন্দ্যোপাধ্যায়।

কংগ্রেস আমলের প্রধানমন্ত্রী চরণ সিং, মোদির মন্ত্রিসভার সদস্য জয়ন্ত চৌধরির ঠাকুরদা। আবার জয়ন্তের পিতা অজিত সিং, প্রধানমন্ত্রী নরসিংহ রাওয়ের সরকারের মন্ত্রী ছিলেন। বিহারের প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী কাপুরী ঠাকুরের ছেলে মোদি সরকারের জেভিইউ-র প্রতিনিধি রামনাথ ঠাকুর। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বেদপ্রকাশ গয়ালের ছেলে পীযূষ গয়াল। আরেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দেবেন্দ্র প্রধানের ছেলে ধর্মেন্দ্র প্রধান মোদির মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পেয়েছেন।

প্রিয়াঙ্কা গান্ধি ‘খামখেয়ালি টুরিস্ট রাজনৈতিক’! কতখানি সত্যি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর দাবি?

মোদি মন্ত্রিসভার নতুন মুখ কীর্তি বর্ধন সিং। তাঁর বাবা আনন্দ সিং উত্তরপ্রদেশ সরকারের প্রাক্তন মন্ত্রী ছিলেন। নতুনদের মধ্যে বীরেন্দ্র কুমার খটিকের বাবা গৌরীশঙ্করও মধ্যপ্রদেশ সরকারের প্রাক্তন মন্ত্রী। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সভার 'পরিবারতন্ত্র'-র তালিকায় রয়েছেন আরজেডির বিধায়ক রমেশপ্রসাদ যাদবের স্ত্রী ঝাড়খণ্ডের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অন্নপূর্ণা দেবী। উত্তরপ্রদেশের কুর্মি সমাজের নেতা তথা আপনা দল (এস)-এর প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত সোনেলাল পটেলের মেয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনুপ্রিয়া পটেল। পঞ্জাবের প্রাক্তন কংগ্রেস মুখ্যমন্ত্রী বিয়ন্ত সিং-এর নাতি রভনীত সিং বিট্টু।

গত একদশক বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার শক্তিশালী সরকার ছিল। ২০২৪ নির্বাচনের আগে মুখে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার কথা বললেও তা পায়নি মোদি সরকার। ফলে এবারের সরকার অনেকটাই জোট নির্ভর। ভোটের প্রচারে বিজেপি নেতারা লাগাতার পরিবারতন্ত্র নিয়ে বিরোধীদের খোঁচা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজেই, ভারতের রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্রের প্রবল সমালোচক। প্রশ্ন ওঠে, বিজেপি নিজেই কি তবে সেই নিয়মের ব্যতিক্রম প্রমাণ করতে ব্যর্থ হল?

লিখেছেন
Tanvia Barua
Tanvia Barua
7 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।