অজানা ঘোড়ার কথা

By: BAULARKA

September 12, 2021

Share

চিত্রঋণ : inscript.me

“আমরা যাই নি মরে আজও, তবু কেবলই দৃশ্যের জন্ম হয়।
মহীনের ঘোড়াগুলি ঘাস খায় কার্তিকের জোছনার প্রান্তরে।”
হাজার হাজার জন শুরু করেছে এই লাইন দুটি দিয়ে, ঘোড়াগুলোর কথা বলার সময়, হাজার হাজার বছর পেরিয়ে গেছে, ভালোবাসার আবদার মেটাতে মেটাতে , সে যে পুরোনো হয়না, পাপও লাগে না তার এই যৌবনে।
কথা বলার আকাশ টা হচ্ছে ছোট্ট খাতার মতন, কখন যে শেষ হয় আর কখন যে শুরু সেটা বোঝা দায়।
এই এত্তো এত্তো চিন্তা, এত্তো এত্তো ভাবনা নিয়ে যখন ঘোড়সওয়ার হয়, তখন না হারিয়ে কেউ পারেনা; কারণটা ঘোড়াগুলোকেই যে হাঁপাতে দেখেনি একবিন্দু , সে ছুঁতে চাওয়ার আনন্দে ছুটে চলে আর ফেলে যায় “চৈত্রের কাফন”।
ব্যাপার টা বেশি কাব্যিক হয়ে যাচ্ছে
হালকা করার প্রয়োজন কি আদৌ আছে, নাকি নেই সেটা ভাবনা চিন্তার উর্ধ্বে।
তথ্য বলছে গৌতম চট্টোপাধ্যায়, প্রদীপ(বুলা) চট্টোপাধ্যায়, তাপস(বাপি) দাস, রঞ্জন ঘোষাল, বিশ্বনাথ (বিশু) চট্টোপাধ্যায়, আব্রাহাম মজুমদার,তপেশ ব্যানার্জী ও রাজা ব্যানার্জী,এই মোটমাট ঘোড়াগুলির নাম।
কিন্তু সময় অন্য কথাবলে। বলে…. যে অগুনতি ঘোড়ার মাথা গোঁজার জায়গায় ছিল একটি আস্তাবলে, সেখানে তারা খুঁজে নিত জোছনায় ঘাস খাওয়ার আনন্দ।

১৯৭৫…. বুঝতে পারা যাচ্ছে সময় টা ? ৭১ ও ৭২ এর পরবর্তী সেই সময়ে আগুন বাঙালির পকেটে ও ঠোঁটে। খেলা তো দুরঅস্ত সে আগুন দিয়ে পেটের খিদেও মেটাচ্ছে। ‘জ্বলছে জ্বলুক’ ভাবধারা কে নিজের না , অন্যের ও না, এই মানসিকতায় গান গেয়ে উড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন একজন মহান সঙ্গীত রচয়িতা, যার নাম “গৌতম”।
সিদ্ধার্থর মতোই তাঁর অন্য নামে চেনার লোক প্রচুর আর নামটাও যে ‘মহিন’।তাই চেনার চেয়ে, চেনানোর মানুষ যখন বেশি হয় তখনই তাকে “কলাকার”(শিল্পী)বলে বোধ হয়।

রানওয়ে জুড়ে পড়ে আছে শুধু শূন্যতা।আকাশে তখন থমকিয়ে আছে মেঘ।
একটা সময় আসে যখন নতুন কে নিয়ে পুরোনোর দন্দ বাধে। আবার পুরোনো কে আগলে রাখে, হয়তো এই কারণেই ,যে নতুন জোয়ার হয়তো পুরোনোর বাঁধ ধুয়ে দেবে।তারা হয়তো খুঁজে পাবেনা বেঁচে থাকার রসদ। কিন্তু কাউকে না কাউকে তো জায়গা ছাড়তে হবে; নইলে যে নতুনদের কোনো স্থান থাকবে না।
“মহিন” হলো একটি নতুন এর প্রতীক।
আর হলপ করে বলা যায় যে নতুনের রাস্তাটা ভারত-কে প্রথম দেখিয়াছে এই দল টা।

গানের দল বা ব্যান্ড বলতে এর আগে বোঝাতো পালাগান যারা করেন তাদের। তাছাড়া বিদেশে ‘বিটলস’, ‘কুইনস’, আরো অনেক। কিন্তু আধুনিক চর্চায় এই ধরনের বাংলা গানের দল বলতে যা বোঝায় সেটা ছিল না এই বঙ্গদেশে । ছিল লোকগান, রবীন্দ্রসঙ্গীত(ছিল-আছে-থাকবে), ছিল আধুনিক গান ও তার অপুর্ব রূপকার সঙ্গীতজ্ঞরা;আর ছিল শোনার আনন্দ । কিন্তু যখন “আমিই রাজা”,তখন নিজের প্রশংসা শুনতে শুনতে নতুনকে উঠতে দেখে ভয় হয়। সেই রকম কিছু বাধার মুখে পড়তে হয়েছিল এই “গানের দল”- টিকে ।
যদিও “গানের দল” এই কনসেপ্ট ও ভাবধারার সঙ্গে পরিচয় অনেক দিনের, তবুও……(এই যেমন ধরুন বাপুজি কেক এর মতো ,কাগজের ওই সবুজ রং আর R চিহ্ন যেমন চোখের খিদেটা মেটায় অনেকটা সেইরকম)।
মানুষ গতানুগিক ভাবধারা ছেড়েছিল বটে, ৮০ দশকে আপন করে নিয়েছিল এই নতুন ভাবধারা কে। দলের লোকেরা নিজেরাই নিজেদের গানটা লিখে চলেছিল, মানুষ বুঝতে শুরু করলো নতুন বিপ্লব টিকে।
মাথা ঝাঁকানো কে যদিও আবেগ হিসেবে অনেকেই দেখে না, কিন্তু ওইটাও যে আবেগের বহিঃপ্রকাশ সেটা মানুষকে সময় বুঝিয়ে দিয়েছে।

কান্ডারী নৌকো চালানো শেখায় ও চালায়, এর ধারাবাহিকতা যারা এখনো বয়ে নিয়ে যাচ্ছে তারাও পথিক,রাস্তাটা উনি ঠিক করে দিয়েছিলেন।
বর্তমানে “মহীন ও ঘোড়াগুলি” র অনেক গান মানুষ কে মানুষ চিনতে শেখায়,শেখায় বোকাবাক্স আর বন্দীদশা সমার্থক। ….শেখায় কাল রাত্রি পোহালে , পরীক্ষাটা সকলকেই দিতে হবে,তাই কিন্তু কে মনে পড়া টাই স্বাভাবিক।
আজকে দিনেও সেই শিল্পীসত্বা দেখিয়ে যাওয়া, হওয়ায় ভাসছে অনেক দল ,সত্যিকারের সেই ভাবধারা টুকু বাঁচিয়ে রেখেছে ……”ভূমি, লক্ষ্মীছাড়া, ফসিলস্, চন্দ্রবিন্দু, পৃথিবী”- র মত গানের দলগুলি।
যদিও তারাও বোধ হয় কালের বিবর্তনে পথ হারাচ্ছে।
“বর্ণ অনন্য”ও তার ভাবধারা অনেক টা মেলে বা খাপ খায় মহীনের ঘোড়াগুলি-র সাথে, কারণ তারা কিছু নতুন করছে। করছে-ভাঙছে….ভাঙছে আবার গড়ছে , কিন্তু ফুরোচ্ছে না,মশালের মতোই রয়েছে প্রজ্জ্বলিত।

তথ্য : https://www.youtube.com/c/bornoanonyo
https://en.wikipedia.org/wiki/Moheener_Ghoraguli

More Articles

error: Content is protected !!