'সবার মাথা খারাপ হয়ে যাচ্ছে', খোদ মোবাইল আবিষ্কর্তার মুখেই এমন কথা! কেন বললেন এমনটা?

Martin Cooper Mobile Phones : দারুণ সব সম্ভাবনা রয়েছে। হয়তো এমন দিনও আসবে, যেদিন এই মোবাইল মানুষের রোগ নির্ণয়ও করে দিতে পারবে।

inscript
২ মিনিট
'সবার মাথা খারাপ হয়ে যাচ্ছে', খোদ মোবাইল আবিষ্কর্তার মুখেই এমন কথা! কেন বললেন এমনটা?

বাড়ি হোক বা অফিস, কিংবা রাস্তাঘাটে – সবার হাতে হাতে সর্বক্ষণ ঘুরে বেড়ায় মোবাইল। নানারকম মডেল, তার আবার নানা বাহার। খেতে, চলতে, যেতে আসতে সবসময় মানুষের হাতে ঘোরাফেরা করছে এই মোবাইল। বাড়ির বাচ্চারাও সারাদিন সেখানে পাবজির মতো গেম খেলতে ব্যস্ত। আর এসব দেখেই রীতিমতো অস্বস্তিতে পড়েছেন মার্টিন কুপার। আমেরিকার এই বৃদ্ধ আদতে ইঞ্জিনিয়ার; স্রেফ এই কথাটি বললে ভুল হবে। ইঞ্জিনিয়ারিং জগতের কিংবদন্তি মার্টিন আসলে মোবাইলের আবিষ্কর্তা। তাঁর হাত ধরেই এই বস্তুটি প্রথমবার বাজারে এসেছিল। সেই মানুষটিই তাঁর আবিষ্কৃত যন্ত্রের এমন ‘বিস্ফোরণ’ দেখে রীতিমতো অবাক!

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জগতে তিনি ‘মোবাইলের জনক’, বা ‘ফাদার অফ সেল ফোন’। আজ থেকে ৫০ বছর আগে এই যন্ত্রটি আবিস্কার করেছিলেন। তারপর থেকে কেটে গিয়েছে অনেকগুলো বছর। সেদিনের মোবাইল আজ রূপ বদলে আরও আরও আধুনিক হচ্ছে। খোদ মার্টিন কুপারও বলছেন, আমাদের পকেটের ভেতর থাকা এই ছোট্ট যন্ত্রটি করতে পারে না, হেন কোনও কাজ নেই। এর দারুণ সব সম্ভাবনা রয়েছে। হয়তো এমন দিনও আসবে, যেদিন এই মোবাইল মানুষের রোগ নির্ণয়ও করে দিতে পারবে।

কিন্তু এটা তো গেল মুদ্রার একটি পিঠ। অপর দিকেরও সাক্ষী থেকেছেন মার্টিন কুপার। আর সেটা দেখে রীতিমতো ভয় পেয়ে গিয়েছেন তিনি। ৯৪ বছর বয়সি এই কিংবদন্তি প্রযুক্তিবিদের কথায়, মোবাইল এত অধিক মাত্রায় ব্যবহার করতে করতে মানুষ পাগলই হয়ে গিয়েছে। রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময়, এমনকী রাস্তা পেরনোর সময়ও কানে হেডফোন লাগিয়ে নাগাড়ে মোবাইলের দিকে তাকিয়ে থাকেন অনেকে। যে কোনও সময় বড়সড় দুর্ঘটনাও তো ঘটে যেতে পারে। মানুষের প্রাণের কোনও দাম নেই! এসব দেখে আরওই ভয় পেয়ে গিয়েছেন খোদ মোবাইল আবিষ্কর্তা মার্টিন কুপার।

আর এই দৃশ্য দেখার পর তিনি ফিরে গিয়েছেন ৫০ বছর আগের সেই দিনগুলোয়। সেটা ১৯৭২ সালের কথা। তখন মোটোরোলা কোম্পানিতে কাজ করতেন মার্টিন কুপার। ঠিক করা হল, মোবাইল টেকনোলজি নিয়ে কাজ করা হবে। এমন প্রযুক্তি, যার মাধ্যমে যে কোনও জায়গা থেকে ফোন করা যাবে। পরীক্ষা নিরীক্ষা চলতে চলতে ওই বছরেরই মার্চে তইর হল প্রথম সেল ফোন। এক কিলো ওজনের ওই ফোনটি দিয়ে মাত্র ২৫ মিনিটই টানা কথা বলা যেত। ব্যাটারিও থাকত অতক্ষণই।

আজকের মোবাইল দেখলে মনেই হবে না, তার পূর্বপুরুষের চেহারা এমন বিরাট ছিল! তখন থেকেই মূলত যাত্রা শুরু হল মোবাইলের মার্টিন কুপারের দেখানো পথেই এগোলেন বাকিরা। একটু একটু করে মোবাইলের ধরন বদলাল। মার্টিন নিশ্চিত ছিলেন, তাঁর আবিষ্কৃত এই যন্ত্র একদিন পৃথিবী বদলে দেবে। আক্ষরিক অর্থে, সেটাই হল। প্রথমে মানুষের মনে ধাঁধাঁ লাগলেও, পরে মোবাইলই হয়ে গেল নিত্যসঙ্গী।

সেইসঙ্গে আরও একটি জিনিস লক্ষ্য করেছেন মার্টিন কুপার। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলছেন, প্রজন্ম যত এগিয়েছে, তত মোবাইলের ব্যবহার আরও খোলতাই হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে নিজের বাড়ির কথাই টেনে আনলেন। তাঁর নাতি নাতনিরা যেভাবে মোবাইল ব্যবহার করে, তা দেখে আশ্চর্য হয়ে যান মার্টিন। তিনি নিজে মোবাইল আবিস্কার করেছিলেন, অথচ তিনিও এত ভালোভাবে ব্যবহার করতে পারেন না। তাঁর মতে, যত সময় এগোবে, মোবাইলের ব্যবহার আরও নতুন নতুন জায়গায় পা রাখবে। সেইসঙ্গে খারাপ দিকটা সরিয়ে ভালো দিকে পা বাড়াবে মানুষ।

লিখেছেন
inscript
inscript
17 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের আগে যে ভুলগুলি এড়ানো জরুরি

Stock Market Psychology: শেয়ারবাজারে একজন বিনিয়োগকারীর সবচেয়ে বড় সমস্যা অনেক সময় সে নিজেই। আজকের তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক বাজারে এই পর্যবেক্ষণের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। কারণ এখন সমস্যা তথ্যের অভাব নয়, বরং তথ্যের অতিরিক্ত প্রবাহ।

মহাবিশ্বকে বুঝতে গিয়ে সমাজকে ভুলে যাননি অশোক সেন

পিএইচডির প্রথম প্রায় তিন বছর তাঁর গবেষণায় কোনো কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতিই হয়নি। চারদিকে শুধু স্থবিরতা। বেশিরভাগ শিক্ষার্থী যেখানে এমন পরিস্থিতিতে ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন বা হতাশ হয়ে পড়েন, অশোক সেন তা করেননি।

মেষ নয়, হায়াডিস? ভ্যান গগের ‘স্টারি নাইট’ নিয়ে কী বলছে নতুন গবেষণা?

The Starry Night mystery: এর আগে দীর্ঘকাল ধরে ধারণা করা হতো যে ভ্যান গগের আঁকা ছবিটির উপরের অংশটি মেষ রাশির কোনো তারামণ্ডল। তবে, সায়েন্টিফিক রিপোর্টস জার্নালে প্রকাশিত 'দ্য অ্যাকচুয়াল স্কাই অফ ভ্যান গগস স্টারি নাইট: এ মাল্টিডিসিপ্লিনারি রিঅকনস্ট্রাকশন' নামক গবেষণাটিতে বলা হয়েছে, ভ্যান গগের ছবির কেন্দ্রীয় পাঁচ তারার বিন্যাস মেষ রাশির সঙ্গে নয়, বরং হায়াডিস নক্ষত্রপুঞ্জের সঙ্গে নিখুঁতভাবে মেলে।

ডার্কওয়েবে SBI-র তথ্য ফাঁস, কতটা সুরক্ষিত আপনার সঞ্চয়? যা জানাচ্ছেন সাইবার বিশেষজ্ঞ

সন্দীপ সেনগুপ্তের পরামর্শ, যাঁদের তথ্য ফাঁস হয়েছে বলে আশঙ্কা রয়েছে, তাঁদের আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। তিনি এমনকি ব্যাঙ্কে রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বর পরিবর্তন এবং নতুন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলার কথাও বলেছেন।

আইনস্টাইনের কাল্পনিক পরীক্ষা এবার বাস্তবে, কোয়ান্টাম জগতের কণা-তরঙ্গ রহস্যের কী হলো?

Einstein Bohr quantum debate: সম্প্রতি ১০০ বছর আগের আইনস্টাইনের সেই কাল্পনিক পরীক্ষাটি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অব চায়না (USTC)-এর বিখ্যাত কোয়ান্টামবিজ্ঞানী জিয়ান-উই প্যান (Jian-Wei Pan) এবং তাঁর সহকর্মীরা ল্যাবরেটরিতে বাস্তবে রূপ দিয়েছিলেন।

AI-এর যুগে মানুষ কি নিজের বুদ্ধিটাই মেশিনের হাতে তুলে দিচ্ছে?

Artificial Intelligence: ছোটবেলায় অনেকেই ভাবত রোবট এসে মানুষের কায়িক শ্রমের কাজগুলি করে দেবে। মানুষ অবসর পেয়ে গান শুনবে, কবিতা লিখবে কিংবা বারান্দায় বসে কফি খাবে। বাস্তবে দেখা গেল ঠিক তার উল্টো চিত্র। রোবট এখন কবিতা লিখছে, ছবি আঁকছে আর কোড তৈরি করছে। অন্যদিকে মানুষ সকাল থেকে রাত ল্যাপটপের সামনে বসে শিখছে প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং।

মহাকাশে রওনা নাসার টেলিস্কোপের, বদলে দিতে পারে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি?

NASA’s Roman Space Telescope: নাসার নতুন ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ বদলে দেবে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি? হাবল ও জেমস ওয়েবের পর কেন প্রয়োজন হলো এই নতুন মহাকাশ-চোখের? ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জি, গ্যালাক্সি ও এক্সোপ্ল্যানেট সম্পর্কে কি নতুন তথ্য দেবে রোমান? মহাবিশ্বের প্রসারণের ইতিহাস বুঝতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে এই অত্যাধুনিক টেলিস্কোপ?

সৌরপৃষ্ঠ আসলে কেমন? ৩৩ বছর পর মিলল উত্তর

Sun’s surface mystery: সূর্যের পৃষ্ঠকে এতদিন দূর থেকে তুলোর মতো নরম ও শান্ত দেখালেও, তা কি সত্যিই এমন? বিশ্বের বৃহত্তম সৌর টেলিস্কোপ ড্যানিয়েল কে ইনোয়ের তোলা সর্বোচ্চ-রেজোলিউশনের ছবিতে দেখা গেল ছোট ছোট হিংস্র প্লাজমার ঘূর্ণি। ৩৩ বছর আগে করা জোয়ান কার্পেনের সেই ভবিষ্যদ্বাণী কি অবশেষে সত্যি প্রমাণিত হলো? এই আবিষ্কার কি বদলে দেবে সৌরপৃষ্ঠ সম্পর্কে ধারণা?