আদৌ কোনও বাইকে চড়েননি উত্তম-সুচিত্রা! কীভাবে শ্যুটিং হয়েছিল সপ্তপদী ছবির বিখ্যাত দৃশ্য?

Uttam Kumar-Suchitra Sen : ‘এই পথ যদি না শেষ হয়’ গানে আদৌ কোনও বাইকে চড়েননি উত্তম-সুচিত্রা! অবাক করবে আসল রহস্য

Kankana Mukherjee
৩ মিনিট
আদৌ কোনও বাইকে চড়েননি উত্তম-সুচিত্রা! কীভাবে শ্যুটিং হয়েছিল সপ্তপদী ছবির বিখ্যাত দৃশ্য?

দুজনেই আজ না ফেরার দেশে, অথচ “পথ শেষ না হলে ঠিক কেমন হতো”, সেই প্রশ্নের উত্তর হয়তো আজও খুঁজছে বাংলা সিনেমার দর্শক। আজকের যুগে অবশ্য বাইকে প্রেম, এমন ছবি হামেশাই দেখা যায়। তবে সে যুগে বিরল। বাঙালি প্রেমিকের ছবিটাই যেন মুহূর্তে বদলে দিয়েছিলেন পরিচালক অজয় কর। এমনিতেই ‘বসন্ত বিলাপ’ ছবির সেই সংলাপ বুঝেই দেয়, ঘরে ঘরে সকল প্রেমিকরাই একবার অন্তত উত্তম কুমার হতে চান। চিন্ময় রায়ের লিপে তাই সেই আকুতি ফুটে ওঠে, “একবার বলো তুমি উত্তম কুমার”!

কিন্তু বাইকে বসে যে প্রেমের দৃশ্য আলোড়ন সৃষ্টি করল বাংলা ছবির জগতে, যে দৃশ্য নতুন করে চিনিয়ে দিল উত্তম সুচিত্রা জুটির রসায়নকে, জানেন কি সেই দৃশ্যের নেপথ্যে লুকিয়ে রয়েছে অজানা গল্প! যে বাইকে চড়ে প্রেম নিয়ে এতো আলোচনা, আদতে সেই দৃশ্যে নাকি কোনও বাইকে চড়েননি উত্তম সুচিত্রা! হ্যাঁ ক্যামেরার কারিগরি ঠিক এতটাই বোকা বানিয়েছে সে যুগে! আজও যখন সেই দৃশ্য আমরা দেখি, সুচিত্রা উত্তমের একে অপরকে “তুমি বলো” বলতে শুনি, মোহিত হয়ে পড়ি, আমরা ভাবতেও পারি না বাইকে আদৌ ছিলেন না তাঁরা!

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কী এমন ভয়? কেন সাবিত্রীর বাড়ির বাথরুমে গিয়ে লুকোলেন উত্তম কুমার?

Uttam Kumar : মাঝরাতে সাবিত্রীর বাথরুমে গিয়ে লুকোলেন স্বয়ং মহানায়ক, জানেন কেন এমন ঘটালেন উত্তম কুমার?

কালের স্রোতে অনেক কিছু বদলে গিয়েছে ঠিকই, কেবল বদলায়নি উত্তম সুচিত্রার কেমিস্ট্রি! পর্দা বনাম বাস্তবের লড়াই ছিল কিনা সে প্রশ্নের উত্তর খোঁজার তাই প্রয়োজনই পড়ে না। এতটাই সাবলীল এই জুটি! ‘রমা না থাকলে উত্তম কুমার হতো না’, স্বয়ং উত্তম কুমার নিজেই স্বীকার করেছেন এ কথা। আর সেই সময়ে উত্তম সুচিত্রার ছবি মানেই ছিল বক্স অফিসে হিট। তার ওপর বাইকে চড়ে নায়ক নায়িকার প্রেম! এ তো শুধু বাংলা সিনেমা নয়, ভারতীয় সিনেমাতেও বিরল!

পরিচালক অজয় কর অবশ্য এই দৃশ্যকে সাজিয়েছিলেন সম্পূর্ণ অন্যরকম ভাবনায়। চেয়েছিলেন বাঙালি দর্শককে তাক লাগিয়ে দিতে। উত্তম সুচিত্রা জুটির তীব্র আকর্ষণ তো ছিলই, তার সঙ্গে আবার যোগ হল বাইক রোমান্স! গানের “লা লা লাআআআ...” বলে যখন অনেকটা এগিয়ে গিয়েছে বাইক তখনও উত্তর খুঁজেছে দর্শক। আর ক্যামেরায় চলেছে এক্কেবারে অন্য দৃশ্যায়ন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
আনা হয় সাদা পদ্ম, কেন আজও ‘উত্তম’ পুজো করা হয় শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে?

Uttam Kumar : আবেগ থেকে আস্ত একটা পুজো? শুনতে অবাক লাগলেও আজ থেকে প্রায় চল্লিশ বছর আগে এমন কাজটাই আদতে করে দেখিয়েছিলেন অভিনেতা শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায়!

বর্ষীয়ান চলচ্চিত্র সমালোচক স্বপন কুমার মল্লিক তাঁর ‘মহানায়ক রিভিজিটেড: দ্য ওয়ার্ল্ড অফ উত্তম কুমার’ বইতে বিখ্যাত এই দৃশ্যের আবরণ উন্মোচন করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, পরিচালক অজয় কর ক্লোজ আপ শটে ম্যানিপুলেট করে ‘এই পথ যদি না শেষ হয়’-এর বাইক দৃশ্য শ্যুট করেছিলেন। আর লং শটে ব্যবহার করা হয়েছিল একাধিক ডামিকে। আর যে বিএমডব্লিউ বাইক নিয়ে এতো আলোচনা, তাতে মোটেও চড়েননি উত্তম-সুচিত্রা।

শুধু স্বপন বাবুর বইয়ে ফুট নোটে নয়, পরবর্তীতে একটি সাক্ষাৎকারে উত্তম কুমারের নাতি গৌরব চট্টোপাধ্যায়ও এই রহস্য ভেদ করেছিলেন। গ্রামের একটি লম্বা রাস্তাকে ব্যাকগ্রাউন্ডে রেখে সামনে বসানো হয়েছিল সেই বিখ্যাত বিএমডব্লিউ বাইক। তারপর ডামিরা একে একে সেই বাইকে চড়ে কিংবদন্তি দৃশ্যের শ্যুটিং করেছেন। অথচ পর্দায় দর্শক দেখেছেন প্রিয় উত্তম সুচিত্রা জুটিকেই। এর সম্পূর্ণ কৃতিত্ব অবশ্য প্রাপ্য পরিচালক এবং ক্যামেরাম্যানের। আজ এতগুলো বছর পরও যখন সেই দৃশ্য দেখি তখনও কোথাও কোনও অসংগতি নজরে পড়ে না। একবারের জন্যও মনে হয় না বাইকে উত্তম সুচিত্রা আদৌ নেই।

আর দৃশ্যের সেই বিখ্যাত বাইকটি কিন্তু আজও অমর হয়ে রয়েছে বাঙালির মননে। স্বপনবাবুর হয় থেকেই জানা যায় ‘এই পথ যদি না শেষ হয়’ গানে দেখানো কিংবদন্তি বাইকটি খুঁজে পাওয়া গেছিল দক্ষিণ কলকাতার একটা গ্যারেজ থেকে। বাইকটি অবশ্য দেশীয় নয়, কলকাতায় এই বাইক প্রথম এসেছিল কোনও এক জার্মান নাগরিকের হাত ধরে। তাঁর কাছ থেকে কলকাতার কেউ বাইকটি কিনে নিয়েছিলেন। স্বপনবাবুর বইতে এও জানা গিয়েছে যে, ২০০৮ অবধি বাইকটি ব্যবহার করা হয়েছে। তারপর সেটিকে মিউজিয়ামে সংরক্ষণ করার ভাবনাও ছিল। বাইকের অতীত নিয়ে আজও সন্দিহান মানুষ, অথচ ভবিষ্যতটা ঠিক কেমন হল এই প্রশ্নের উত্তর অধরা।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।