রুদ্ধশ্বাস! যেভাবে গোয়েন্দারা উদ্ধার করলেন ভ্যান গগের চুরি যাওয়া ছবি

Vincent Van Gogh's Painting: চুরি যাওয়া ভ্যান গগের ছবি কে ফিরিয়ে গেলেন? কেমন করে উদ্ধার করলেন গোয়েন্দারা

Manjima Dasgupta
২ মিনিট
রুদ্ধশ্বাস! যেভাবে গোয়েন্দারা উদ্ধার করলেন ভ্যান গগের চুরি যাওয়া ছবি

'Starry Night'- এই ছবিটি বিভিন্ন ব্যাগে, জামাকাপড়ে, অন্য ছবির ব্যাকগ্রাউন্ডে আপনি হামেশাই দেখে থাকবেন। সেই ছবির বিখ্যাত শিল্পী ভ্যান গগের আঁকা একটি ছবি ২০২০ সালের মার্চ মাসে চুরি হয়েছিল ডাচ জাদুঘর থেকে। এবার সেই ছবিই ব্যাগে যত্নসহকারে মুড়ে ফেরত এলো ডাচ শিল্প সংক্রান্ত অপরাধের তদন্তকারী গোয়েন্দা আর্থার ব্র‍্যান্ডের বাড়িতে।

ছবিটির ইতিহাস:

১৮৮৪ সালে আঁকা এই ছবিটি বিখ্যাত শিল্পী ভ্যান গগের শিল্পজীবনের একেবারে প্রথম দিকের কাজ।ছবিটির নাম 'The Personage Garden at Nuenen in Spring'।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
শিল্পসম্মত নয়, 'বিচ্ছিরি' ছবিকেই বিশ্বের সামনে তুলে ধরে 'মিউজিয়াম ফর ব্যাড আর্টস'

Museum Of Bad Art: ত্যি বলতে যেসব ছবি একেবারেই পাতে দেওয়া যায় না, তেমনই বেশ কয়েকটি ছবি নিয়ে শুরু হয় MOBA-র পথ চলা। সেখান থেকে শুরু করে আজ হাজারটির কাছাকাছি ছবি রয়েছে ওই সংগ্রহশালায়।

১৮৮৩ সাল থেকে প্রায় দুবছর উত্তর নেদারল্যান্ডের নুয়েনেন শহরে বাবা-মার সঙ্গে বাস করতেন ভ্যান গগ। এখানে থাকাকালীন প্রায় ২০০ টি ছবি এঁকেছেন তিনি। তার মধ্যে অন্যতম এই ছবিটি। তেলরঙে আঁকা এই ছবিটি ফরাসি শিল্প আন্দোলন 'পোস্ট ইমপ্রেশনিজম'-এর দ্বারা প্রভাবিত ছিল। এই ছবিটি পরে নেদারল্যান্ডের গ্রনিঞ্জর জাদুঘরে সংরক্ষিত হয়।

চুরির বৃত্তান্ত:

২০২০ সালের মার্চ মাসে সিঙ্গার লরেন জাদুঘর থেকে ছবিটি চুরি হয়। যদিও সেই সময় কোভিড-১৯-এর প্রকোপে সাধারণ জনগণের জাদুঘরে প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল। পুলিশের অনুমান ছিল, জাদুঘরের কাচের দেওয়াল ভেঙে, আনুমানিক ভোর ৩:১৫ নাগাদ ছবিটি চুরি করা হয়েছিল। ঘটনার কিছুদিন পর এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হলেও, হদিশ মেলেনি ছবির।তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়টি হল, সেদিন ছিল ভ্যান গগের জন্মদিন। ১৯৮৮ সাল থেকে ভ্যান গগের মোট ২৮ টি ছবি চুরি হয়েছিল উত্তর নেদারল্যান্ড থেকে। যদিও সবকটিই পরে ফেরত পাওয়া যায়। সেই ধারাই বজায় থাকল এবারও। গত সোমবার তদন্তকারী গোয়েন্দার কাছে সযত্নে ফেরত এলো সেই ছবি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
সমুদ্রের তলায় গচ্ছিত ১১১ বছরের ভয়ংকর ইতিহাস! অবাক করবে টাইটানিকের সেই বিরল ছবি

Titanic : কেমন আছে টাইটানিক, প্রথমবারের মতো দেখা গেল বিরল দৃশ্য...

খুশির হাওয়া:

ছবি ফেরত আসার পর থেকে স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছসিত সকলে। এই প্রসঙ্গে তদন্তকারী আর্থার ব্র‍্যান্ড জানান, যে ব্যক্তি এই ছবিটি ফেরত দিয়ে গেছেন, তিনি এই চুরির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। উল্লেখ্য, এই গোয়েন্দা ইতিমধ্যে ২০০ টি শিল্পকর্ম পুনরদ্ধারে সাফল্য অর্জন করেছেন।উচ্ছাস দেখা গেল জাদুঘর কর্তৃপক্ষের মধ্যেও। গ্রনিঞ্জর জাদুঘরের কর্তার তরফ থেকে বলা হয়েছে, এই শিল্পকর্ম ফেরত পেয়ে তাঁরা স্বস্তির নি:শ্বাস ফেলেছেন। ছবিটি এতকিছুর পরেও তার চমক হারায়নি। যথাযথ অবস্থাতেই আছে।

ধাঁধার থেকে জটিল:

চুরির ঘটনার কিছুদিন পর, গ্রেফতার হয়েছিলেন এক ৫৮ বছর বয়সি ব্যক্তি। ডাচ সংবাদসংস্থায় যাঁর উল্লেখ ছিল 'Nils M' নামে। তাঁর অপরাধ প্রমাণও হয়েছিল। এই ছবিটির পাশাপাশি ফ্রান্স হালসের একটি ছবি লোপাটের অভিযোগও ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। এই ব্যক্তির ৮ বছরের কারাদণ্ড হয়। এখন প্রশ্ন থেকে যায়, এই ছবি ফেরত এলো কীভাবে? যদিও যে ব্যক্তি ফেরত দিয়ে গেছেন তাঁকে নির্দোষ বলা হয়েছে গোয়েন্দার তরফে। তিনি কোথায় পেলেন এই ছবি? এইসব প্রশ্নের উত্তর এখনও ধাঁধার মতো জটিল হয়ে আছে।

লিখেছেন
Manjima Dasgupta
Manjima Dasgupta
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

ক্লাইভের মুখে দুগ্গা দুগ্গা, কেমন ছিল শোভাবাজার রাজবাড়ির প্রথম দুর্গাপুজো

Shobhabazar Rajbari Durgapuja: শোভাবাজারের গর্ব সাবেকী এক চালার প্রতিমা। প্রতিমা শিল্পী, মোদক, ঢাকি বংশ পরম্পরায় জড়িয়ে আছেন এই পুজোর সঙ্গে। দশমীর পুজোর অন্যতম নিয়ম ‘কনকাঞ্জলি প্রথা’। লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০২১ সালের ১১ অক্টোবর।

জিতাষ্টমী থেকে শুরু দেবীর আরাধনা, ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির পুজো চলে পনেরো দিন

Jhargram Rajbari Durga Puja: রাজপুতানার ফতেহপুর সিক্রি থেকে আসা চৌহান বংশের ক্ষত্রিয় বীর সর্বেশ্বর সিংহ চৌহান। মুঘল সেনাপতি মানসিংহের বাংলা অভিযানের সময় তিনি জঙ্গলখণ্ডে আসেন। স্থানীয় জংলি মাল রাজাকে দ্বন্দ্বযুদ্ধে পরাজিত করে তিনি এই জঙ্গলমহলে নিজের রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। নামের সঙ্গে জুড়ে নেন 'মল্লদেব' উপাধি। আর ঘন জঙ্গলে ঘেরা সেই জায়গার নাম দেন ঝাড়গ্রাম।

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

থিম নেই, জাঁকজমক নেই: মানুষের ভালবাসায় গড়া আমার গ্রাম কেশাতড়ার দুর্গাপুজো

Keshatara village Durga Puja: পুজোর সম্পূর্ণ খরচ বহন করেন গ্রামের মানুষই। ইদানীং সরকারি অনুদান মেলে ঠিকই, কিন্তু পুজোর ভোগের চালটা আজও আসে গ্রামের মানুষের দেওয়া টাকা থেকেই।

দুর্গা মুখ তুলে তাকাবেন হকারদের দিকে?

Durga Puja Economy in Bengal: কর্পোরেট পুঁজির প্রভাব, অসংগঠিত অর্থনীতির সংকট, হকার উচ্ছেদ এবং ধর্মীয় বিধিনিষেধের আবহে কতটা সুরক্ষিত থাকবে শারদোৎসবের নিজস্ব চরিত্র? পুজোর জৌলুস বাড়লেও নাগরিক স্বাধীনতা, শিল্পের স্বতঃস্ফূর্ততা এবং সাধারণ মানুষের জীবিকার জায়গা ক্রমশ সংকুচিত হবে?

দুর্গাপুজোর উৎসব, অসুরের শোক: বাংলার ইতিহাসে কার জয়, কার পরাজয়?

Mahishasur Puja: ২০১১-র পুরুলিয়া পার করে ২০১৪-র মালদার গাজল। নিত্যানন্দ হেমব্রমরা শুরু করলেন অসুর আন্দোলন। ততদিনে উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলে অসুর পুজোর সংখ্যা ৬৫০ ছাড়িয়েছে। কেউ মূর্তি বানিয়ে মহিষাসুর স্মরণ করেন, কেউ ফ্লেক্স বানিয়ে আলোচনা সভা।

প্রতিদিন বদলায় মেনু, বদলায় খাবারের দাম: তবু স্বাদে অটুট কলকাতার সিদ্ধেশ্বরী আশ্রম

Hotel Siddheswari Ashram: সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে চোখ পড়বে সুবিশাল মেনু বোর্ডে, যাতে মুদ্রিত আছে হোটেলটির সামগ্রিক খাদ্য সমাহার। বোর্ডটিতে সেই দিনের প্রাপ্ত পদের পাশে চকখড়িতে হাতে লেখা সেই দিনের দাম। আর অতি অবশ্যই বাংলা ও ইংরাজিতে লেখা থাকে তারিখ।

যে দুর্গাবাড়ির পঞ্চমুণ্ডির আসনে আজও বসেন দেবী, সেখানেই একদিন শপথ নিতেন বিপ্লবীরা

Gangarampur Durgabari,: তন্ত্রশাস্ত্র অনুসারে, পঞ্চমুণ্ডি আসন সাধারণ কোনো বেদি নয়। পাঁচটি নির্দিষ্ট খুলি বা করোটি—যেমন চণ্ডাল বা ডোমের, শিয়ালের, বেজি বা নেউলের, বিষধর সাপের এবং হনুমানের খুলি মাটির নিচে নির্দিষ্ট নিয়মে পুঁতে এই আসন তৈরি করা হয়।