সিঙ্গুরে টাটাকে ক্ষতিপূরণ দিতেই হবে? নাকি অন্য পথও খোলা?

Tata Singur Controversy: আইনি বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, সালিশি আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আবেদন করার রাস্তা খোলাই আছে সরকারের কাছে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, আবেদন করতে হলে রাজ্য সরকারকে মোট প্রদেয় অর্থের ৫০ শতাংশ জমা করতে হবে।

Sohini Das
৩ মিনিট
সিঙ্গুরে টাটাকে ক্ষতিপূরণ দিতেই হবে? নাকি অন্য পথও খোলা?

সিঙ্গুরের জমি আন্দোলনকে সঙ্গী করে একদিন বদলে গিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির ইতিহাস। বদলে গিয়েছিল রাজ্যের শাসক দল। বাম জমানার পতন আর পশ্চিমবঙ্গে ঘাসফুল সাম্রাজ্যের সূচনা হয়েছিল যে সিঙ্গুরের জমি আন্দোলনের হাত ধরে সেই সিঙ্গুরই যেন বুমেরাং হয়ে ফিরল রাজ্য সরকারের কাছে। সিঙ্গুরে টাটার ন্যানো কারখানার জন্য জমি দিয়েছিল বাম সরকার। কিন্তু সেই জমিতে কারখানা না হতে পারার মাশুল দিতে হবে তৃণমূল সরকারকেই। সোমবার আরবিট্রাল ট্রাইব্যুনাল তথা সালিশি আদালত রাজ্য শিল্পোন্নয়ন নিগমকে টাটা মোটরসকে ক্ষতিপূরণবাবদ মোট ৭৬০ কোটি টাকা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। তার সঙ্গে দিতে হবে ১১ শতাংশ হারে সুদও। এই পরিস্থিতিতে কী করবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার? কী হতে চলেছে পরবর্তী পদক্ষেপ?

রাজ্য প্রশাসন সূত্রে যেটুকু জানা যাচ্ছে, তাতে ইতিমধ্যেই আইনি পরমর্শ নিয়েছে নবান্ন। রাজ্য প্রশাসনের একাধিক শীর্ষ আমলা মঙ্গলবারই আইনজীবীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। আরবিট্রাল ট্রাইব্যুনালের রায়ে রতন টাটার সংস্থা টাটা মোটরসকে ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দেওয়া হলেও সেই নির্দেশই কিন্তু চূড়ান্ত নয়। এর পরে হাইকোর্ট বা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার সুযোগ রয়েছে রাজ্যের। তবে রাজ্যের তরফে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে চলেছে, সে নিয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলেই জানা গিয়েছে। তবে আলোচনা চলছে।

২০১৬ সাল থেকেই এ নিয়ে টাটা মোটরসের সঙ্গে মামলা চলছিল রাজ্য সরকারের। আর সেই মামলায় আরবিট্রাল ট্রাইব্যুনালের তিন সদস্যের বেঞ্চের রায় গিয়েছে টাটা মোটরসের পক্ষেই। সালিশি আদালতে টাটা জানিয়েছিল, বিনিয়োগ করার পরেও সিঙ্গুরে কারখানা না হওয়ায় বড়সড় রকমের ক্ষতি হয়েছে টাটা মোটরসের। তার ক্ষতিপূরণ বাবদ রাজ্যের কাছে ৭৬০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আর ২০১৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে পুরো ক্ষতিপূরণ পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত ১১ শতাংশ হারে সুদ দিতে বলা হয়েছে। সব মিলিয়ে রাজ্যকে দিতে হবে প্রায় ৭৬৬ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে রাজ্য শিল্পোন্নয়ন নিগমকে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মমতার ভুল না কি... সিঙ্গুর নিয়ে যা বলছেন সেই মাস্টারমশাই

Singur Rabindranath Bhattacharya : সিঙ্গুর কাণ্ডে রাজ্যসরকার ধাক্কা খেতেই বামেদের প্রতিই আক্রমণের তির ঘুরিয়ে দিলেন রবীন্দ্রনাথ।

আইনি বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, সালিশি আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আবেদন করার রাস্তা খোলাই আছে সরকারের কাছে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, আবেদন করতে হলে রাজ্য সরকারকে মোট প্রদেয় অর্থের ৫০ শতাংশ জমা করতে হবে। বলাই বাহুল্য, সেই অঙ্কটিও কিছু কম নয়। পাশাপাশি সালিশি আদালতের রায় বিচারবিভাগীয় আদালত নাকচ করে দিয়েছে, এমনটা খুব একটা দেখা যায় না। ফলে সেই সম্ভাবনা ক্ষীণ বলেই মনে করছেন আইনজীবীদের বড় অংশ। তার উপর সিঙ্গুর যথেষ্ট জটিল মামলা। জমিদাতা ও রাজ্য সরকারের মধ্যে জমি অধিগ্রহণ নিয়ে প্রচুর টানাপড়েন ছিলই।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
সিঙ্গুরের ভুলের খেসারত ১৩৫৫ কোটি! রতন টাটার ছোট্ট চালেই কিস্তিমাত?

Tata Motors: সোমবার আদালতের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ন্যানো কারখানার ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৭৬০ কোটি টাকা টাটা মোটর্সকে মেটাতে হবে রাজ্য সরকারকে। আর সুদ-বাবদ দিতে হবে আরও ৬ কোটি টাকা।

আরও ভালো করে খুঁটিয়ে বললে, সে সময় বাংলায় ক্ষমতায় ছিল বামেরা। তারাই জমি অধিগ্রহণ করেছিল। জমির একচেটিয়া মালিকানা ছিল তাদের হাতেই। কৃষকদের জমি নিয়ে তা তারা টাটাকে বিক্রি করে। এবার রাজনৈতিক পালাবদলের পরে আবার সেই রাজ্যসরকারই টাটার কাছে জমি ফেরত চায়। ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের দাবি, সালিশি আদালতের রায় আদলে বাম সরকারের বিরুদ্ধে গিয়েছে, তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে নয়। বাম সরকারের অপেশাদারিত্বের কারণেই এই গোটা জটিলতা। যার ফল ভুগতে হচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারকে।

২০০৬ সালের কথা। বিধানসভা ভোটে জিতে টাটা গাড়ি কারখানা প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। টাটাকে সেই বাবদ ১০০০ একর জমি দেওয়া হয়। সম্মিলিত বিক্ষোভের মুখে সেই কারখানা শেষমেশ হল না সিঙ্গুরে। ক্ষমতায় এসে তৃণমূল সরকার টাটার কাছে জমি ফেরত চেয়ে পাঠায়। সেই জমি ফেরত দিতে সম্মত হয় টাটা, কিন্তু তার বদলে ক্ষতিপূরণ দাবি করে। যার মধ্যে ছিল টাটার বিনিয়োগ করা অর্থও। টাটার প্রস্তাবে সরকার রাজি না হওয়ায় মামলা গড়ায় আদালতে।

আর সেখানেই মুখ পুড়েছে রাজ্য সরকারের। এবার হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্ট- দু'পথে হাঁটার পথই খোলা রয়েছে রাজ্যের কাছে। মঙ্গলবার সালিশি আদালতের নির্দেশ এসে পৌঁছেছে নবান্নের কাছে। জানা গিয়েছে, এই নির্দেশ পাওয়ার পরেই মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী বিষয়টি দেখছেন। তবে মোটামুটি জানা যাচ্ছে, এই বিপুল টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে আপত্তি রয়েছে রাজ্যসরকারের। তবে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে এখনও কিছু জানা যায়নি।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।