SBI-এর কাছে সমস্ত বন্ডের আলফা-নিউমারিক নম্বর চাইল সুপ্রিম কোর্ট, কী এই ইউনিক কোড?

Electoral Bonds Case: শীর্ষ আদালত এসবিআইকে বলেছে, নির্বাচনী বন্ডের বিশদ বিবরণ-সহ সমস্ত তথ্য প্রকাশ করতে হবে তাদের। যার মধ্যে থাকতে হবে আলফা-নিউমেরিক্যাল একটি ইউনিক নম্বর।

Sohini Das
৩ মিনিট
SBI-এর কাছে সমস্ত বন্ডের আলফা-নিউমারিক নম্বর চাইল সুপ্রিম কোর্ট, কী এই ইউনিক কোড?

ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা হয়ে গিয়েছে। অধিকাংশ রাজ্যে প্রার্থীতালিকাও ঘোষণা হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যেই। আর ঠিক ভোটের আগেই ইলেক্টোরাল বন্ড দুর্নীতি মামলায় বারবার সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা খাচ্ছে বিজেপি। গত ফেব্রুয়ারি মাসেই মোদি সরকারের ইলেক্টোরাল বন্ড প্রকল্পকে বেআইনি বলে ঘোষণা করে দেয় সুপ্রিম কোর্ট। ইলেক্টোরাল বন্ড সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য এসবিআইয়ের কাছ থেকে নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করারও নির্দেশ দেয় শীর্ষ আদালত। নানা টালবাহানার পরে শেষপর্যন্ত সেই তথ্য জমা করেছে ভারতীয় স্টেট ব্যাঙ্ক। ইতিমধ্যে তা উঠেছে নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটেও। কে কত টাকা দিয়েছে এবং কোন কোন দল টাকা পেয়েছে, তা এতদিনে দিনের আলোর মতোই স্পষ্ট। তবে কোন দল কোন কোন সংস্থা বা ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা পেয়েছে, তা জানা যায়নি ওই তথ্য থেকে। সোমবার সুপ্রিম-শুনানিতে সেই তথ্যও চেয়েছে শীর্ষ আদালত। আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে হলফনামা-সহ সেই তথ্য দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এসবিআই-কে। আর সেই তথ্য উঠবে ইলেকশন কমিশনের ওয়েবসাইটেও।

সোমবারই সুপ্রিম কোর্টে ইলেক্টোরাল বন্ড সংক্রান্ত একটি শুনানিতে এই ব্যাপারটি স্পষ্ট করে দিয়েছে প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়ের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের একটি বেঞ্চ। শীর্ষ আদালত এসবিআইকে বলেছে, নির্বাচনী বন্ডের বিশদ বিবরণ-সহ সমস্ত তথ্য প্রকাশ করতে হবে তাদের। যার মধ্যে থাকতে হবে আলফা-নিউমেরিক্যাল একটি ইউনিক নম্বর। সেই ইউনিক নম্বরই নাকি বলে দেবে ইলেক্টোরাল বন্ড যারা কিনছেন এবং যে রাজনৈতিক দল সেই টাকা অনুদান হিসেবে পাচ্ছে, তাদের মধ্যেকার যোগাযোগ। কী আসলে এই আলফা-নিউমারিক্যাল নম্বর, যা প্রকাশ্যে এলেই মিটবে সব ধোঁয়াশা।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
নির্বাচনী বন্ডের নামে কীভাবে তোলাবাজি চক্র চালাচ্ছিল মোদি-শাহের বিজেপি?

Electoral Bond Donation Scam: মেঘা ইঞ্জিনিয়ারিং, সীমান্তে সড়ক এবং পরিকাঠামো তৈরির বরাত পাওয়া এই সংস্থার সঙ্গে আবার টিভি ৯ বলে একটি সংবাদ মাধ্যমের যোগসাজশ রয়েছে।

প্রতিটি বন্ডের জন্য একটি করে ইউনিক আলফা-নিউমারিক কোড বরাদ্দ করা হয়েছে এসবিআইয়ের তরফে। প্রতিটি বন্ডের উপরে যা মুদ্রিতও রয়েছে। তবে খালি চোখে তা দেখা যায় না। নির্দিষ্ট ধরনের অতিবেগুনি আলোতেই দৃশ্যমান হয় এই সংখ্যা। আর সেই নম্বরই এবার এসবিআইকে প্রকাশ্যে আনতে বলা হয়েছে। জানা গিয়েছে, বন্ডের ক্রেতা ও বন্ডের মাধ্যমে অনুদানপ্রাপকের মধ্যেকার সংযোগ সূত্রই হচ্ছে এই ইউনিক নম্বর।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কোটি কোটি টাকা বন্ডের নামে রাজনৈতিক দলের বেইমানি এখনও সহ্য করে যাবেন?

Electoral Bond Donation: যারা শাসক দলকে টাকা দিচ্ছে তারাই যে সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করছে, সেটা বুঝতে পারছেন কি? বুঝতে পারছেন আপনি আমি আসলে নির্বাচনী ব্যবস্থায় গৌণ?

এখনও পর্যন্ত এসবিআই ইলেকশন কমিশনকে যে তথ্য দিয়েছে, তা থেকে কে কত টাকার বন্ড কিনেছে, তা স্পষ্ট। পাশাপাশি মোট বন্ডের থেকে কোন কোন রাজনৈতিক দল কত টাকা পেয়েছে, তা-ও স্পষ্ট। তবে কোন দলকে কোন সংস্থা বা ব্যক্তি কত টাকা দিয়েছে, তা জানা যাচ্ছে না এসবিআইয়ের দেওয়া তথ্য থেকে। এবার সেই সম্পর্কিত তথ্য পাওয়ার একমাত্র জায়গা হচ্ছে ওই ইউনিক আলফা-নিউমারিক নম্বর। যা সকলের সামনে তুলে ধরতে চাইছে সুপ্রিম কোর্ট। শুধু আলফা-নিউম্যারিক নম্বরই নয়, একই সঙ্গে যদি কোনও বন্ডের সিরিয়াল নম্বর থেকে থাকে, তা প্রকাশ্যে আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এসবিআইকে।

এসবিআই শীর্ষ আদালতকে জানিয়েছে, তারা সিস্টেমে আলফা-নিউমারিক কোড নথিভুক্ত রাখেনি। ২০১৭ সালে ইলেক্টোরাল বন্ড প্রকল্প পরিকল্পনার সময়ে অর্থসচিব ছিলেন যিনি, সেই সুভাষ চন্দ্র গর্গের তরফে জানানো হয়েছিল, যে এই ইউনিক আলফা-নিউমারিক কোডটি আদতে নিরাপত্তার জন্য তৈরি করা হয়েছে। ফলে বন্ড বিক্রয়ের সময়ে তা নথিভুক্ত করা হয়নি ব্যাঙ্কের রেকর্ডে। তবে সোমবার সুপ্রিম কোর্টকে এই নম্বর প্রকাশ করতেই হবে। ১৫ ফেব্রুয়ারির রায়ে শীর্ষ আদালতের তরফে বন্ড কেনার তারিখ, ক্রেতাদের নাম ও যে যে রাজনৈতিক দল ওই বন্ড থেকে প্রাপ্ত টাকা গ্রহণ করেছে, সেই তথ্য প্রকাশ করতে বলা হয়েছিল। তবে বাকি তথ্য দিলেও কতগুলি বন্ড কেনা হয়েছে বা তার থেকে প্রাপ্ত টাকা গ্রহণ করা হয়েছে, সেই তথ্য় প্রকাশ করেনি এসবিআই। এবার সেই নির্দেশই দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আগামী ১৯ মার্চ ওই মামলার ফের শুনানি বলেও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে শীর্ষ আদালতের তরফে।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

কেন তুলে দিতে হচ্ছে মাদ্রাসা কমিশন? প্রশ্ন শিক্ষামহলের

West Bengal decides to merge Madrasah Service Commission: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৫ অক্টোবরের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।

আমার উৎসব, ওঁদের আরও একটা দীর্ঘ কাজের দিন

Durga Puja for Gig Workers: গিগ কর্মীদের দুর্গাপুজোর চার দিন কীভাবে কাটে? বাড়তি উপার্জনের আশায় ব্যক্তিগত আনন্দ, উৎসবের আমেজ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানোর সময় থেকে কতটা বিসর্জন দিতে হয় তাঁদের?

বাংলাদেশে রবীন্দ্র-বিরোধিতা নিয়ে কী বলছেন বুদ্ধিজীবীরা?

Tagore graffiti vandalism Bangladesh: বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? বুদ্ধিজীবীরা কী বলছেন?

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? সরকার বদলায়, কেন বদলায় না মন?

Rabindranath Tagore Targeted in Bangladesh: বাংলাদেশে বারবার কেন নিশানা হচ্ছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর? হাসিনা থেকে ইউনূস, সরকার বদলালেও কেন থামছে না তাঁর সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার মুছে ফেলার চেষ্টা? জাতীয় সঙ্গীতের স্রষ্টাকেই কেন বারবার প্রত্যাখ্যানের মুখে পড়তে হচ্ছে?

যন্তর মন্তরে ঢুকে বিক্ষোভ, পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে সিজেপি-র দুই নেতা

Jantar Mantar protest: যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের জেরে সিজেপি নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠাল আদালত। নির্বাচন কমিশন, এসআইআর এবং প্রতিবাদের অধিকার ঘিরে বাড়ছে বিতর্ক।

দিল্লিতে মহিলা বিক্ষোভকারীদের হেনস্থার অভিযোগ, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে উঠছে যে সব প্রশ্ন

Delhi protest: দিল্লিতে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ ঘিরে মহিলা আন্দোলনকারীদের একাংশ পুলিশের বিরুদ্ধে হেনস্থা ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন। এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা ও প্রতিবাদের অধিকার নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন।

২৩ দিনের অনশন থেকে জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন, রাজপথই নেহা বোরার হয়ে ওঠার সাক্ষী

Neha Bora: ২৩ দিন ধরে অনশন করে যেমন তিনি সংবাদমাধ্যমের নজরে এসেছিলেন, তেমনই সম্প্রতি দিল্লির রাজপথে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও তাঁকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।