দলের জেতা-হারার থেকেও জরুরি বিরাট, রোহিতদের ব‍্যক্তিগত গৌরব?

Team India, World T20: এশিয়া কাপে ভারতের ব্যর্থতার কারণ এবং ফলাফলকে অন্য চোখে দেখা যাক।

Pratik
১২ মিনিট
দলের জেতা-হারার থেকেও জরুরি বিরাট, রোহিতদের ব‍্যক্তিগত গৌরব?

এশিয়া কাপ থেকে ভারতের বিদায়

প্রতিক্রিয়া ১

কিচ্ছু ভাববেন না। আমাদের সেরা দল তো খেলেনি। সেরা বোলার জসপ্রীত বুমরা চোটের জন্য বিশ্রামে ছিল, ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টিতে তো খেলবে। সঙ্গে থাকছে টি-টোয়েন্টি স্পেশালিস্ট হর্ষল প্যাটেল। সে-ও চোটের কারণে এশিয়া কাপ খেলেনি। তার ওপর টুর্নামেন্টের মাঝখানেই আমাদের ভরসা অলরাউন্ডার রবীন্দ্র জাদেজা চোট পেয়ে বেরিয়ে গেল। এভাবে জেতা যায়?

প্রতিক্রিয়া ২

বিরাট কোহলি শেষমেশ ৭১ নম্বর সেঞ্চুরিটা করে ফেলেছে। আর চিন্তা নেই। এবার তো রানের বন্যা বইবে। বিরাট যেমন খেলছে খেলে যাক, ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টি আমরা ঠিক জিতে যাব। এশিয়া কাপ জিতিনি তো হয়েছে কী? বিরাট তো সেঞ্চুরি করেছে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কাউন্সিলের র‍্যাঙ্কিং অনুযায়ী বিশ্বের এক নম্বর টি-টোয়েন্টি দল ভারত এশিয়ার ছ'টা দলের মধ্যে তিন বা চারে শেষ করায় মোটামুটি এই দু'রকম প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। আজকাল এসব ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞে আর ভক্তে বিশেষ তফাত হয় না। নগদ নারায়ণ বিশেষজ্ঞদের মধ্যেও ভক্তি সঞ্চার করেছেন। যেসব বিশেষজ্ঞ এখনও ভক্তির কাছে আত্মসমর্পণ করেননি, তাঁদেরও সোশ‍্যাল মিডিয়ার ভক্তকুলকে ভয় করে চলতে হয়। ট্রোলরা খাঁটি সাম্যবাদী, কাউকে ছাড়ে না। এই লেখায় আমরা ওপরের দুই প্রতিক্রিয়াকেই পাশ কাটিয়ে এশিয়া কাপে ভারতের ব্যর্থতার কারণ এবং ফলাফলকে তৃতীয় রকমে দেখার চেষ্টা করব।

প্রথমত, বুমরা যে এই মুহূর্তে বিশ্বের সেরা দু'-তিনজন বোলারের মধ্যে পড়েন তা নিয়ে তর্কের অবকাশ নেই। ফলে এশিয়া কাপে তাঁর অনুপস্থিতি এবং আসন্ন ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টিতে উপস্থিতিতে যে অনেকখানি তফাত ঘটবে সেকথা ঠিকই। কিন্তু মুশকিল হলো, তিনি এত তাড়াতাড়ি নিজের সেরা ফর্ম ফিরে পাবেন কি না, তা বলা শক্ত। যে কোনও চোট সারিয়ে ফেরার পরেই প্রথম কিছুদিন বোলারদের মধ্যে একই জায়গায় আবার চোট পাওয়ার আশঙ্কা কাজ করে। সে আশঙ্কা কাটে বেশ কিছু ওভার বল করা হলে। নেটে বল করে স্বচ্ছন্দ হয়ে গেলেও ম্যাচ খেলার চাপ অন্য। সেই চাপ অনেক সময় সদ্য সেরে ওঠা শরীর নিতে পারে না। ফলে ম্যাচ প্র্যাকটিস দরকার। কিন্তু ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টির আগে আর মাত্র ছ'টা টি-টোয়েন্টি খেলবে ভারত। সঙ্গে তিনটে একদিনের ম্যাচ। সবকটা ম্যাচেই কি খেলবেন বুমরা? সেটাও কি যথেষ্ট? কেউ হলফ করে বলতে পারবে না। সুতরাং, বুমরা এসে পড়েছেন বলেই সব জাদুর মতো ঠিক হয়ে যাবে ভেবে নিলে তাঁর প্রতিই অবিচার করা হবে।

দ্বিতীয়ত, হর্ষল প্যাটেল। তাঁর ওপর, হঠাৎই দেখা যাচ্ছে, অনেকের প্রবল ভরসা। সে ভরসার কারণ অবশ্যই গত দুই বছরের আইপিএলে তাঁর বোলিং। হর্ষল ভারত বা সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর পিচে নিঃসন্দেহে একজন গুরুত্বপূর্ণ বোলার তাঁর গতির হেরফের, নিখুঁত লাইন লেংথ এবং বৈচিত্র্যর জন্য। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার পিচ নয়ের দশকের তুলনায় মন্থর হয়ে এলেও দু'-আড়াই মাসব্যাপী আইপিএলে শেষের দিকে পিচগুলো যতটা ‘ক্লান্ত’ হয়ে পড়ে, সেরকম হবে না। অস্ট্রেলিয়ায় সাধারণত সমান বাউন্সের পিচ হয়, বল নির্বিঘ্নে ব্যাটে আসে। ঘণ্টায় ১৩০-৩৫ কিলোমিটার গতিতে বল করা হর্ষল সেখানে প্রতিপক্ষর ব্যাটারদের কতটা সমস্যায় ফেলতে পারবেন, তা বলা মুশকিল। ওরকম পিচে ভুবনেশ্বর কুমার আর হর্ষল একই ধরনের বোলার হয়ে পড়তে পারেন। পরপর দুটো ম্যাচে ১৯তম ওভারে একগাদা রান দিয়ে ফেলায় এখন ভুবনেশ্বর অনেকেরই চক্ষুশূল, কিন্তু আসলে টি-টোয়েন্টিতে তাঁর গুরুত্ব অপরিসীম। এই ফরম‍্যাটে সারা পৃথিবীতে খুব বেশি বোলার নেই, যাদের গোটা কেরিয়ারে ইকনমি রেট, অর্থাৎ ওভার পিছু রান দেওয়ার হার, সাতের নিচে। সহজাত স‍্যুইং বোলার ভুবনেশ্বরের আরেকটা গুণ, তিনি নিয়মিত উইকেট নেন। সাতাত্তর ম্যাচে তাঁর ঝুলিতে ৮৪টা উইকেট, গড় মাত্র ২১.৭৩।

হর্ষল প‍্যাটেল

আসলে এশিয়া কাপ দেখিয়ে দিল, পেস ব্যাটারি নিয়ে গত কয়েক বছরে বিরাট আর রবি শাস্ত্রী যতই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে থাকুন, আমাদের হাতে এখনও খুব বেশি বিকল্প নেই। আবেশ খানকে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, তিনি মোটেই সুবিধা করতে পারেননি। আশা জাগিয়েছেন বাঁ-হাতি অর্শদীপ সিং, তাই ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টির দলেও জায়গা পেয়েছেন। কিন্তু তাঁরও মূল অস্ত্র স্লোয়ার এবং ইয়র্কার। বুমরা বাদে আমাদের সত্যিকারের গতিময় বোলার নেই। এবারের আইপিএল-এ দ্রুততম বোলারদের অন্যতম ছিলেন সানরাইজার্স হায়দরাবাদের উমরান মালিক। অথচ তাঁর ওপর নির্বাচকদের বা ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টের বিশেষ ভরসা নেই। তাই জুন-জুলাই মাসে আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে দুটো (প্রথম ম্যাচে মাত্র এক ওভার বল করার সুযোগ পেয়েছিলেন), ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে একটা ম্যাচ খেলানোর পর আর সুযোগ দেওয়া হয়নি। বেগতিক দেখে বিশেষজ্ঞরা হঠাৎ মহম্মদ শামি-র নাম জপতে শুরু করেছিলেন। কিন্তু শামির গতি আর স‍্যুইং দুটোই থাকলেও তিনি টি-টোয়েন্টিতে মোটেই নির্ভরযোগ্য নন। সতেরোটা টি-টোয়েন্টি ম্যাচে তাঁর উইকেটসংখ্যা মাত্র ১৮। উইকেট-পিছু ৩১.৫৫ রান খরচ করেন আর ওভার-পিছু প্রায় দশ (৯.৫৪) রান দিয়ে ফেলেন। সেই কারণেই বোধহয় শেষমেশ তাঁকে স্ট্যান্ডবাই হিসেবে রাখা হয়েছে ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টির জন্য। মূলত স‍্যুইং বোলার দীপক চহরের ওপরেও তার চেয়ে বেশি ভরসা নির্বাচক বা টিম ম্যানেজমেন্টের নেই দেখা গেল।

স্পিন বোলিংয়ের অবস্থা তুলনায় ভাল। জাদেজা চোটের কারণে আপাতত হারিয়ে গেলেও আমাদের সাদা বলের সেরা স্পিনার যজুবেন্দ্র চহল আছেন, রবিচন্দ্রন অশ্বিনও মন্দ ফর্মে নেই দেখা গেল। আর আছেন অক্ষর প্যাটেল। ব্যাটের হাতটাও ভাল হওয়ার কারণে হয়তো শেষ পর্যন্ত চহলের পাশে দ্বিতীয় স্পিনারের জায়গাটা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তিনিই নেবেন। কিন্তু ভুবনেশ্বরের উনিশ-বিশ আর ঋষভ পন্থের রান আউট করতে না পারার ঘাড়ে সব দোষ চাপিয়ে দিয়ে যে সত্য ধামাচাপা দিয়ে দেওয়া হচ্ছে, তা হলো এশিয়া কাপে ভারতের ব্যর্থতার আসল কারণ ব্যাটিং। ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টি নিয়ে সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার কারণও ব্যাটিংই।

আফগানিস্তান ম্যাচের বাহাদুরি দেখে না-ভোলাই ভালো। আগের দিন টুর্নামেন্টে টিকে থাকার ম্যাচে প্রচণ্ড স্নায়ুর চাপ নিয়ে শেষ বল পর্যন্ত লড়েছিলেন আফগান ক্রিকেটাররা। বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ক্রিকেট বোর্ড শারজা-য় আইপিএল ম্যাচের আয়োজন হলে আপত্তি করে না, কিন্তু জাতীয় দলকে সেখানে খেলতে দেবে না। তাই চালচুলোহীন আফগানদের পরপর দু'দিন দুটো আলাদা জায়গায় খেলতে হলো। আগের দিন শারজা-য়, পরের দিন দুবাইতে। স্বভাবতই তাঁরা শারীরিক বা মানসিকভাবে ভারতীয় দলের বিরুদ্ধে লড়াই করার অবস্থাতেই ছিলেন না। অন্যদিকে গুরুত্বহীন ম্যাচে ভারতীয়দের ওপর প্রত্যাশা বা স্নায়ু– কারও চাপই ছিল না। ফলে ওই ম্যাচের ২১২ রান দিয়ে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
টি-টোয়েন্টির রমরমায় ক্রিকেটাররা এখন কর্পোরেট চাকুরে?

ক্রিকেটারদের এবার একশো ভাগ কর্পোরেট চাকুরে হয়ে ওঠার দিন শুরু হতে যাচ্ছে।

বাকি সব ম্যাচেই কিন্তু ব্যাটিং একগাদা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সুপার ফোরের পাকিস্তান ম্যাচে প্রথম ছ'ওভারে ৬০ পেরিয়ে যাওয়ার পরে এবং প্রথম তিন ব্যাটারের একজন (বিরাট) শেষ ওভার পর্যন্ত খেলে যাওয়া সত্ত্বেও ভারত দুশো পেরোতে পারেনি। একবার শক্ত ম্যাচ জিতিয়ে দিয়েছেন বলেই হার্দিক পান্ডিয়া রোজ জেতাবেন, তা হতে পারে না। সুপার ফোরের ম্যাচের দিন তিনি পাঁচ বলের বেশি টেকেননি। যিনি শেষ কয়েক ওভারে ব্যাটিংয়ের বিশেষজ্ঞ হিসেবে দলে জায়গা পেয়েছেন, সেই দীনেশ কার্তিক গ্রুপের পাকিস্তান ম্যাচে খেলতে পেয়েছিলেন একটা বল, হংকংয়ের বিরুদ্ধে ব্যাট করার সুযোগই পাননি। অথচ এই ম্যাচে তাঁকে খেলানো হলো না। খেললেন ঋষভ পন্থ, যিনি টেস্টে অসাধারণ, একদিনের ক্রিকেটেও অসাধারণ হয়ে ওঠার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। কিন্তু ৫৮টা টি-টোয়েন্টি খেলা হয়ে গেল, এখনো পায়ের নিচে মাটি পাননি। দল তাঁকে দিয়ে ঠিক কী করাতে চায়, তা-ও পরিষ্কার নয়। ইংল্যান্ড সফরে মাত্র একবার তাঁকে দিয়ে ইনিংস শুরু করানো হলো, তারপর আবার মিডল অর্ডারে ঠেলে দেওয়া হলো। তরুণ দীপক হুডা আদ্যন্ত টপ অর্ডার ব্যাটার। এ-পর্যন্ত মোটে বারোটা ম্যাচ খেলেছেন, তার মধ্যেই শতরান করে বসে আছেন। গড় ৪১.৮৫, স্ট্রাইক রেট– যা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ– দেড়শোরও বেশি। তাঁকে গোটা টুর্নামেন্টে খেলানো হলো নিচের দিকে। ইদানীং, যিনি মাঠে নামলেই প্রতিভার বিচ্ছুরণে হাঁ হয়ে যেতে হয়, সেই সূর্যকুমার যাদবও সুপার ফোরের পাকিস্তান ম্যাচে সফল হননি। সে অবস্থায় বিরাট করেছেন ৪৪ বলে ৬০ রান, স্ট্রাইক রেট ১৩৬.৩৬। সংখ্যাগুলো যে যথেষ্ট ভালো, তার প্রধান কারণ বিরাটের চোখধাঁধানো রানিং বিটুইন দ্য উইকেটস। কিন্তু মনে রাখা ভালো, সপ্তম ওভারে ব্যাট করতে নেমে শেষ ওভারের চতুর্থ বল অবধি ব্যাট করেও বিরাট মেরেছেন মাত্র চারটে চার আর একটা ছয়।

শ্রীলঙ্কা ম্যাচের ব্যাটিং সম্পর্কে তো যত কম কথা বলা যায় তত ভালো। অধিনায়ক রোহিত আর কিছুটা সূর্যকুমার ছাড়া বাকি সবাই ব্যর্থ। রানটা যে যথেষ্ট হয়নি, তা তো ফলেই প্রমাণিত। এমনকী, হংকং ম্যাচেও সূর্যকুমার ২৬ বলে ৬৮ রান না করলে বিরাটের ৫৯ (মাত্র একটা চার, তিনটে ছয়) সত্ত্বেও ভারতের রান ১৫০-৬০ অবধি গিয়ে আটকে যেত। ম্যাচের স্কোরবোর্ড প্রমাণ করছে, ব্যাপারটা মোটেই স্বস্তিদায়ক হতো না।

অর্থাৎ, গত বছরের ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টিতে ঠিক যে যে রোগ ভারতীয় দলকে ভুগিয়েছিল, এখনো সেসবের ওষুধ পাওয়া যায়নি। এই এক বছরে ভারত বেশকিছু টি টোয়েন্টি খেলেছে। তাতে চোট, বিশ্রাম ইত্যাদি নানা কারণে এশিয়া কাপ এবং ওয়ার্ল্ড টি টোয়েন্টির দলে জায়গা না পাওয়া অনেক ক্রিকেটার খেলেছেন। ঈশান কিষণ, সঞ্জু স্যামসন, ঋতুরাজ সিংরা যে সেই সুযোগগুলোর একেবারেই সদ্ব্যবহার করতে পারেননি তা-ও নয়। তাহলে অবস্থার পরিবর্তন হল না কেন? না হওয়ার কারণটা খুব সহজ। আপনার অসুখ করল, ডাক্তার এলেন, কী কী ওষুধ খেতে হবে লিখে দিয়ে গেলেন। তারপর দোকান থেকে ওষুধ কিনে আনা হলে যদি আপনি শরৎচন্দ্রের ‘অভাগীর স্বর্গ’ গল্পের অভাগীর মতো ওষুধগুলো মাথায় ঠেকিয়ে এককোণে ছুঁড়ে ফেলে দেন, তাহলে রোগ সারবে? ভারতীয় দলেরও একই অবস্থা।

  1. রোহিত শর্মা

কেএল রাহুল ইনিংস শুরু করতে যাবেন রোহিতের সঙ্গে এবং টেস্ট ওপেনারদের মত লম্বা ইনিংস খেলার দিকে মনোযোগ দেবেন। রোহিত তো পঞ্চাশ ওভারের ক্রিকেটেও পাওয়ার প্লে-র বিষম ঝড়ের বায়ে মারের সাগর পাড়ি দিতে নারাজ। বেশ কয়েক ওভার নেন সেট হয়ে নিতে, তারপর ভয়ভাঙা নায়ে ওঠেন। কুড়ি ওভারের খেলাতেও একই পথে চলেছেন এতদিন। ইংল্যান্ড সফরে টি টোয়েন্টি সিরিজে অন্যরকম পথ ধরেছিলেন, কিন্তু এশিয়া কাপের প্রথম দুই ম্যাচে পুনর্মূষিক ভব। তৃতীয় ম্যাচ থেকে অবশ্য পরিবর্তন দেখা গেছে। আবার পুরনো গলিতে ফেরত যাবেন কিনা সেটা এ মাসে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সিরিজেই টের পাওয়া যাবে। আর আছেন বিরাট। তিনি পঞ্চাশ ওভারের ব্যাটিংয়ের রাজা। সেখানে যে কায়দায় ইনিংস গড়েন, তা বদলাতে রাজি নন। এক-দুই রান নিয়ে স্কোরবোর্ড সচল রাখবেন, সেট হয়ে গেলে তবেই চার-ছয় মারার কথা ভাববেন।

টি-টোয়েন্টিতে যে সেট হওয়ার সময় নেওয়া চলে না, সেকথা এঁদের বলবে কে? বোর্ড প্রেসিডেন্ট সৌরভ গাঙ্গুলি, সেক্রেটারি জয় শাহ, নির্বাচক কমিটির প্রধান চেতন শর্মা বা কোচ রাহুল দ্রাবিড়– কারওরই ঘাড়ে অতগুলো মাথা নেই। কেন নেই?

বিরাট তো কেবল বড় ক্রিকেটার নন, তিনি গোটা ক্রিকেট দুনিয়ার বৃহত্তম ব্র্যান্ড। তাঁর ওপর বিপুল পরিমাণ টাকা লগ্নি হয়ে আছে। জিততে হবে বলে লগ্নিকারীদের হতাশ করা চলে না। বিরাট আর রোহিত যে-বয়সে পৌঁছেছেন, তাতে নিজেদের খেলার ধরন পাল্টে ফেলা হয়ত কঠিন। সেক্ষেত্রে ওষুধ হলো, তাঁদের জায়গায় অন্যদের সুযোগ দেওয়া। কিন্তু দু'জনেই বড় ব্র্যান্ড। অতএব ওষুধ জানা থাকলেও সে ওষুধ প্রয়োগ করা চলবে না। আর রাহুল? তিনি নিজে অতবড় ব্র্যান্ড নন বটে, কিন্তু তিনি আইপিএলে লখনৌ সুপার জায়ান্টসের অধিনায়ক। অন্তত আইপিএল ব্র্যান্ড-কে তো গুরুত্ব দিতে হবে। ব্র্যান্ডের যুক্তিতেই কার্তিককে খেলানোর চেয়ে পন্থকে খেলানো বেশি জরুরি। তিনিও এক আইপিএল দলের (দিল্লি ক্যাপিটালস) অধিনায়ক। হার্দিক আবার গুজরাত লায়নস-এর অধিনায়ক। এখন ফর্মে আছেন, যখন থাকবেন না, তখন তিনিও ব্র্যান্ডের সুবিধে নিশ্চয়ই পাবেন।

নব্বইয়ের দশকে জাতীয় দলের নির্বাচকদের প্রায় সব সভার আগে-পরেই খবরের কাগজে লেখা হতো আঞ্চলিক কোটার কথা। অমুকের ঘরোয়া ক্রিকেটে তেমন পারফরম্যান্স নেই, কিন্তু পূর্বাঞ্চলের কোটায় সুযোগ পেয়ে গেল। অথবা, তমুকের বাদ পড়া অনিবার্য ছিল, শেষমেশ পশ্চিমাঞ্চলের কোটায় টিকে গেল। এখনকার সংবাদমাধ্যম তখনকার মতো বোর্ডের প্রভাবমুক্ত হলে নির্ঘাত অমুক ব্র্যান্ডের কোটা, তমুক ফ্র্যাঞ্চাইজের কোটার কথা জানা যেত।

রোহিত-রাহুল-বিরাট-ঋষভদের গুণমুগ্ধরা বলতেই পারেন, এসব একেবারেই মনগড়া কথাবার্তা। ওঁরা নিজেদের যোগ্যতাতেই দলে আছেন। ব্র্যান্ড ভ্যালুর ভারে দলে ঢোকার কোনও প্রয়োজনই নেই। তাছাড়া ব্র্যান্ড ভ্যালু কি বোলারদের থাকে না? তাহলে বোলারদের সম্পর্কে এরকম মূল্যায়ন করছি না কেন?

আসলে ভারতে বোলাররা কোনোদিনই ব্যাটারদের মত জনপ্রিয় হন না। ফলে ব্র্যান্ড ভ্যালুতেও ব্যাটারদের ধারে কাছে পৌঁছতে পারেন না। শচীন তেন্ডুলকরের এক শতাংশ বিজ্ঞাপন চুক্তিও কোনওদিন অনিল কুম্বলে পাননি। যুবরাজ সিংয়ের চেয়ে ভারতীয় ক্রিকেটে জাহির খানের অবদান খুব কম নয়। কটা বিজ্ঞাপনে দেখেছেন তাঁকে? গত কয়েক বছরে ভারত তিন ধরনের ক্রিকেটেই যত ম্যাচ জিতেছে তাতে বিরাট, রোহিতের চেয়ে বুমরার অবদান নেহাত কম নয়। তবু তিনি এনডর্সমেন্টের দিক থেকে এখনো বেশ কয়েক মাইল পিছিয়ে।

অতএব, ব্যাটারদের আলোচনায় ফেরা যাক। ঋষভ এখন পর্যন্ত এমন কিছু করেননি টি-টোয়েন্টিতে, যা দিয়ে তাঁকে যেনতেনপ্রকারেণ দলে রাখা যুক্তিযুক্ত বলে প্রমাণ করা যায়। তিনি যদি বাঁহাতি ব্যাটার বলে অপরিহার্য হন, তাহলে তো বিশেষজ্ঞ ব্যাটার হিসাবেই খেলানো উচিত। হয় কার্তিক খেলবেন, নয় ঋষভ খেলবেন– এমন ব্যবস্থা কেন? অবশ্য ঋষভের এখনও বয়স কম, তাই আরও সুযোগ প্রাপ্য – এই যুক্তি দেওয়া চলে। কিন্তু রোহিত-রাহুল-কোহলি সমস্যা বিশদে আলোচনা করা প্রয়োজন। তাঁরা কাঁচা বয়স পেরিয়ে এসেছেন।

রাহুল ৬১ বার ভারতের হয়ে টি-টোয়েন্টি খেলতে নেমে ইতিমধ্যেই হাজার দুয়েক রান করে ফেলেছেন। কেরিয়ার স্ট্রাইক রেট ১৪০-এর বেশি, অর্থাৎ পর্যাপ্ত। কিন্তু বছর দুয়েক হল তিনি ওই টেস্টসুলভ ব্যাটিং শুরু করেছেন। কেবল ভারতের হয়ে নয়, এ বছরের আইপিএলেও তিনি ওভাবেই ব্যাট করেছেন। ঝুঁকি কমিয়ে ফেলায় ধারাবাহিকভাবে রান করে যাচ্ছেন বটে, কিন্তু যে স্ট্রাইক রেটে করছেন তা দলের কাজে আসে না প্রায়শই। ফলে নিজের যোগ্যতাতেই দলে থাকায় দলের কী লাভ হচ্ছে সে প্রশ্ন ওঠা উচিত।

রাহুল যে রোহিত আর বিরাটের স্তরের ব্যাটার নন তা নিয়ে কোনো তর্ক নেই। শেষ দুজন বিস্তর রান করেছেন টি টোয়েন্টিতে। গড়ের দিক থেকে বিরাট বিশ্বের এক নম্বর (৫১.৯৪)। মোট রানে রোহিত এক (৩৬২০), বিরাট দুই (৩৫৮৪)। অথচ রোহিতের টি টোয়েন্টি অভিষেকের পর থেকে ভারত ওয়ার্ল্ড টি টোয়েন্টি জিতেছে মাত্র একবার (২০০৭)। সেবার তিনি মিডল অর্ডারে ব্যাট করেছিলেন। বিরাটের অভিষেকের পর থেকে একবারও নয়। এমনকি সেমিফাইনালে পৌঁছতেও হিমসিম খেতে হয়েছে, ফাইনাল খেলা হয়েছে শুধু ২০১৪ সালে। কী করে হয় এমনটা? ফরম‍্যাটটা তো ব্যাটার নির্ভর। বিশ্বের সেরা দু'জন ব্যাটার ভারতের, অথচ ভারত কেন সুবিধা করতে পারে না? এর খানিকটা উত্তর পাওয়া যাবে স্ট্রাইক রেটের তালিকার দিকে তাকালে।

শুনতে অবিশ্বাস্য লাগবে, প্রথম তিনটে জায়গা দখল করে আছেন যথাক্রমে রোমানিয়া, হাঙ্গেরি আর বেলজিয়ামের তিন ব্যাটার।১ টেস্ট খেলিয়ে দেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে সবচেয়ে উপরে নাম আছে সূর্যকুমারের (১৭৩.২৯)। প্রথম পনেরো জনের মধ্যে টেস্ট খেলিয়ে দেশের প্রতিনিধি আর মাত্র তিনজন – নিউজিল্যান্ডের জেমস নিশাম (১৬৫.৮৪), তাঁর দেশেরই কলিন মানরো (১৫৬.৪৪) আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের আন্দ্রে রাসেল (১৫৬.০০)। তারপর বারবার নাম আসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটারদের। ২০০৭ সালের পরের ছটা ওয়ার্ল্ড টি টোয়েন্টির চারটেই এই তিন দেশের কেউ না কেউ জিতেছে। দক্ষিণ আফ্রিকার বেশ কয়েকজন ব্যাটারের নামও পাওয়া যায়। সূর্যকুমারের পর ভারতীয় নাম খুঁজতে খুঁজতে চলে যেতে হবে অনেক নিচে ৩৪ নম্বরে, যেখানে আছেন বীরেন্দ্র সেওয়াগ (১৪৫.৩৮)। আরও কয়েক ধাপ নামলে পাওয়া যাবে হার্দিকের নাম (১৪৪.৬৮)। রোহিত বা কোহলি – কেউই প্রথম পঞ্চাশেও নেই। এই তালিকাটা ব্যাটারদের ‘ক্লাস’ প্রমাণ করে না একেবারেই। যা প্রমাণ করে তা হল টি টোয়েন্টি ক্লাস ব্যাটিংয়ের জায়গা নয়, কম বলে যত বেশি সম্ভব রান করার জায়গা। সেটা করলে তবেই দল জেতার মত পরিস্থিতিতে পৌঁছয়, আর সেখানেই ভারতীয় ব্যাটাররা অনেক পিছিয়ে। রোহিত আর বিরাট তো বটেই।

এই দু'জনের পরিসংখ্যান খতিয়ে দেখলে আরও একটা দিক ধরা পড়ে। এমনিতে কোহলির কেরিয়ার স্ট্রাইক রেট ১৩৮.৩৭। কিন্তু পাঁচের বেশি দল খেলেছে এমন টুর্নামেন্টে (অর্থাৎ ওয়ার্ল্ড টি টোয়েন্টি এবং এশিয়া কাপ) তাঁর গড় প্রায় আশি হলেও স্ট্রাইক রেট নেমে আসে ১৩০.৩৯-এ।২ রোহিতের গড় ৩২ থেকে ৩৬-এ পৌঁছে যায়, কিন্তু স্ট্রাইক রেট ১৪০.৬৩ থেকে নেমে আসে ১৩৩.৭৩-এ।৩ অর্থাৎ দুজনেরই নৈপুণ্য দ্বিপাক্ষিক সিরিজে বেশি। অথচ টি টোয়েন্টিতে দ্বিপাক্ষিক সিরিজগুলোর আসলে কোনো গুরুত্ব নেই। সব দলই ওগুলোকে ব্যবহার করে ওয়ার্ল্ড টি টোয়েন্টির প্রস্তুতি হিসাবে। প্রমাণ চান? টাটকা প্রমাণ আছে। গত ওয়ার্ল্ড টি টোয়েন্টির কিছুদিন আগেই অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশে একটা সিরিজ খেলেছিল। সেই সিরিজ অস্ট্রেলিয়া শোচনীয়ভাবে হারে (৪-১)। এমনকি শেষ ম্যাচে মাত্র ৬২ রানে অল আউট হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু তাতে কী এসে গেল? ওয়ার্ল্ড টি টোয়েন্টি খেতাব জেতে অস্ট্রেলিয়াই, বাংলাদেশ গ্রুপ স্তরই পেরোতে পারেনি। এই কারণেই র‍্যাঙ্কিংয়ে কোন দল এক নম্বর তাতেও কিছু এসে যায় না।

এখন কথা হলো, ভারতীয় দলের দুই সেরা ব্যাটার, যাঁরা ব্যাট করেন একেবারে উপরের দিকে, তাঁদের স্ট্রাইক রেট যদি এত মাঝারি মানের হয়, তাহলে দল মোক্ষম ম্যাচে জেতে কী করে? জেতে না। ঠিক যে কারণে পাকিস্তানও বারবার এশিয়া কাপ ফাইনাল বা ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টি সেমিফাইনালের মত বড় ম্যাচে বারবার ব্যর্থ হয়। রোহিত-রাহুল-কোহলি বা পাকিস্তানের বাবর-রিজওয়ান যে ব্যাটিং করেন, তাতে আসলে যা হয়, তা হল সূর্যকুমারের মত ৩৬০ ডিগ্রি ব্যাটিংয়ে সিদ্ধহস্ত খেলোয়াড়দের উপর বেশি চাপ পড়ে। কার্তিকের মত ফিনিশাররা এক-দু বলের বেশি খেলারই সুযোগ পান না। অথচ টি টোয়েন্টিতে ঝুঁকি বর্জন করে লম্বা ইনিংস খেলার কোনো প্রয়োজনই নেই। কারণ এখানে ব্যাটিং দলকে পঞ্চাশ ওভারের খেলার অর্ধেকের চেয়েও কম বল খেলতে হয়, অথচ হাতে থাকে একই সংখ্যক উইকেট। ঝুঁকি না নিলে রান করে ব্যক্তিগতভাবে ধারাবাহিক হওয়া খুব কঠিনও নয়। কারণ ফিল্ডিং দলের অধিনায়ককে সারাক্ষণই রক্ষ্মণাত্মক থাকতে হয়, ক্যাচ নেওয়ার মত জায়গায় বেশি ফিল্ডার রাখা যায় না। বোলারদেরও ব্যাটারকে আউট করার চেয়ে চার-ছয় মারতে না দেওয়ার দিকেই বেশি মনোযোগ দিতে হয়।

আফগানিস্তান ম্যাচে দুশো স্ট্রাইক রেটে বিরাটের শতরান দেখার পরে এসব কথা অনেকেরই অবান্তর মনে হতে পারে। কেউ আশা করতেই পারেন, এতদিন ফর্মে ছিলেন না (বিরাট নিজে অবশ্য বলেন তিনি কোনওদিনই ফর্ম হারাননি, নিন্দুকে নিন্দে রটিয়েছে) বলে বিরাটের দ্রুত রান করতে সমস্যা হচ্ছিল। এশিয়া কাপে ফর্মে এসে গেছেন, এবার আফগানিস্তান ম্যাচের মত স্ট্রাইক রেটেই তিনি খেলবেন। কিন্তু সে গুড়ে বালি পড়ে যেতে পারে ক্রিকেট বোর্ডের ওয়েবসাইটের জন্য বিরাট রোহিতকে যে সাক্ষাৎকার৪ দিয়েছেন তা দেখলে। সেখানে বিরাট বলেছেন তিনি কোচেদের বলেই দিয়েছেন, ১০-১৫ বল খেলে নেওয়ার পর বাউন্ডারি মারার দিকে যাবেন। নিজের স্বাভাবিক খেলাই তিনি খেলবেন। সেই ছকের বাইরে যেতে গিয়েই সমস্যা হচ্ছিল। কবে যে তিনি বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তা অবশ্য ম্যাচের পর ম্যাচ স্ট্রাইক রেট দেখলে টের পাওয়া যাচ্ছে না। তবে যা-ই হোক, তিনি বলেছেন এশিয়া কাপে তিনি যেভাবে ব্যাট করতে চান টিম ম্যানেজমেন্ট তাঁকে সেভাবেই ব্যাট করতে দিয়েছে এবং তিনি নিজের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট। যোগ করেছেন, কেবল তিনি নয়, রাহুলকেও তিনি যেভাবে খেলতে স্বচ্ছন্দ বোধ করেন সেভাবে খেলতে দিলেই দলের পক্ষে ভালো হবে। রোহিতকেও বলেছেন, তুমি-আমি এতদিন খেলে ফেলেছি যে আমরা নিজেদের মত খেলতে পারলেই দলের পক্ষে ভাল। অর্থাৎ, অস্ট্রেলিয়ার মাঠে ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টিতেও লম্বা ইনিংস খেলার দিকেই তাঁদের নজর থাকবে। শয়ে শয়ে ব্র্যান্ড এবং লক্ষ লক্ষ ভক্ত পকেটে আছে, অতএব “সেই সত্য যা রচিবে তুমি,/ঘটে যা তা সব সত্য নহে।”

মুশকিল হলো, ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টিতে আফগানদের ক্লান্ত বোলিং পাওয়া যাবে না। ফলে লম্বা ইনিংস দুশো স্ট্রাইক রেটে খেলা একটু কঠিন হতে পারে। আরেকটি ঐতিহাসিক সত্য হল, অস্ট্রেলিয়া বড় শক্ত ঠাঁই। এশিয়ার উইকেটে দ্রুত রান করতে যে ব্যাটারের অসুবিধা হয়েছে, অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে তার রান করা সহজ হয়ে গেছে– এমন দৃষ্টান্ত খুব বেশি পাওয়া যায় না। ফলে ব্যাটিং নিয়ে নিশ্চিন্ত হওয়া যাচ্ছে না। দলের জেতা-হারার চেয়ে বিরাট, রোহিতদের ব্যক্তিগত গৌরব যদি আপনার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়, তাহলে অবশ্য আলাদা কথা।

তথ্যসূত্র:

১। https://stats.espncricinfo.com/ci/content/records/282920.html

২। https://stats.espncricinfo.com/ci/engine/player/253802.html?class=3;filter=advanced;orderby=default;template=results;tournament_type=5;type=batting

৩। https://stats.espncricinfo.com/ci/engine/player/34102.html?class=3;filter=advanced;orderby=default;template=results;tournament_type=5;type=batting

৪। https://www.bcci.tv/videos/5557294/dubai-delight-rohit-sharma-interviews-virat-kohli?tagNames=2022

লিখেছেন
Pratik
Pratik
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

নারী টেস্টে এত অনীহা কেন, লর্ডসের ইতিহাসও বদলাবে না সেই ছবি?

Women’s Test Cricket: লর্ডসে ভারতের নারী ক্রিকেট দলের ঐতিহাসিক জয় নারী টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ বদলানোর সুযোগ এনে দিয়েছে? এত সাফল্য ও জনপ্রিয়তার পরও কেন এই ফরম্যাটে নিয়মিত ম্যাচ নেই?

শিব-পরশুরামের যুদ্ধবিদ্যা কালারিপায়াট্টু থেকেই জন্ম কুংফুর!

Kalaripayattu Indian Martial Art: ভারতীয় পৌরাণিক ঐতিহ্যে কালারিপায়াট্টুকে স্রেফ যুদ্ধের কৌশল হিসেবে দেখা হয়নি, বরং এটিকে মানব শরীরের অভ্যন্তরীণ প্রাণশক্তিকে জাগিয়ে তোলার এক মহান সাধনা বলে মনে করা হয়।

দু'হাজার বছর পুরনো ‘আত্য পাত্যা’: এই খেলাই শিখিয়েছিল যুদ্ধের কৌশল!

Atya Patya Traditional Indian Game: আনুমানিক ১০০ থেকে ৩০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে রচিত প্রাচীন তামিল সাঙ্গম সাহিত্য ‘নাটতৃণৈ’-তে এই খেলার প্রথম লিখিত প্রমাণ পাওয়া যায়। অতএব, এই খেলার বয়স প্রায় দুই হাজার বছরেরও বেশি। সেখানে বলা আছে, প্রাচীন চোল রাজবংশের সেনারা যুদ্ধক্ষেত্রে যাওয়ার আগে নিজেদের ক্ষিপ্রতা, দ্রুত দৌড়ানোর ক্ষমতা আর শরীরকে এক নিমেষে বাঁকানোর চপলতা বাড়াতে এই খেলায় মেতে উঠত।

১৬ বছর পর ফের ভারতের পথে ললিত মোদী

Lalit Modi return to India: দীর্ঘ সময় পর দিল্লির আপিল ট্রাইব্যুনাল তাঁর বিরুদ্ধে থাকা আর্থিক অনিয়মের বড় অভিযোগ ও জরিমানা বাতিল করে দেওয়ার পরেই এই আলোচনার সূত্রপাত। সোশ্যাল মিডিয়ায় ললিত মোদী নিজেই স্পষ্ট করেছেন, সমস্ত বড়সড় আইনি জটিলতা কাটার পর ২০২৬ সালের শেষ দিকে অথবা ২০২৭-এর শুরুতেই ফের তিনি ভারতে পা রাখতে চলেছেন।

গোলের আড়ালে ঘৃণার খেলা: ২০২৬ বিশ্বকাপে ট্রাম্প, ফিফা আর ফুটবলের পরাজয়

Trump FIFA World Cup: এই বিশ্বকাপ শুধুই একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়; মাঠের লড়াই ছাপিয়ে তা হয়ে উঠেছে ভূ-রাজনীতি, বর্ণবিদ্বেষ এবং বাণিজ্যিক আধিপত্যের এক জটিল ময়দান।

একটা রাজপুত্তুর যার মুকুট হারিয়ে গিয়েছে

Lionel Messi Retirement: তিনটে ফাইনালের বোঝা। একে একে ছেড়ে যায় সহযোদ্ধারা। রক্তাক্ত মাসচেরানো চলে যান, কুন আগুয়েরোর অসুখ... তবু লিও পড়ে থাকে, আমরা পড়ে থাকি আর কিছুদিন। বৃত্ত সম্পূর্ণ করতে প্রয়োজন ছিল একজন স্ক্যালোনির, তিনি সেটুকু সেতু নির্মাণের দায়িত্ব নিলেন। আমরা অপেক্ষা করলাম লুসাইলে। আমরা তো কবেই হেরে গিয়েছিলাম, সৌদি আরব শুধু চিনিয়ে দিয়েছিল আশপাশটা।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬: যেভাবে ১৫ বিলিয়ন ডলারের ব্যবসায় পরিণত হল ফুটবল

FIFA Revenue 2026: 'কুইন্টেট প্রাইভেট ব্যাংক'-এর সাম্প্রতিক একটি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, শেয়ারবাজারের দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের অনুঘটক হওয়ার চেয়ে বিশ্বকাপ আসলে একটি শক্তিশালী স্বল্পমেয়াদি বাণিজ্যিক উদ্দীপক হিসেবেই বেশি কাজ করে। ফিফা, সম্প্রচারকারী সংস্থা, স্পোর্টসওয়্যার ব্র্যান্ড এবং আতিথেয়তা (হসপিটালিটি) ক্ষেত্রগুলি বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় করলেও, কোম্পানির শেয়ারের দামে সেই ইতিবাচক প্রভাব দীর্ঘ সময় ধরে রাখা বেশ কঠিন।

যখন ইউরোপে নারীরা গৃহবন্দি, তখন অসমে মেয়েরা খেলছিলেন ধোপখেল

Dhop Khel Assam: আহোম রাজাদের রাজপ্রাসাদ থেকে বিহুর মেঠো মাঠ—অসমের মাটিতে একসময় গমগম করত ধোপখেলের আওয়াজ। ফুটবল, কাবাডি আর দূরন্ত নিশানার এই অদ্ভুত রোমাঞ্চকর খেলাটি শুধু পুরুষদের বীরত্ব প্রমাণের লড়াই ছিল না; যখন ইউরোপে নারীদের জীবন ছিল চার দেওয়ালে বন্দি, তখন অসমে মেয়েরাও মাঠে নেমে মেতে উঠতেন ধোপখেলে।