সকল দেশের রানি যে দেশ

Children's Day: সেই আশ্চর্য সুন্দর দেশে থাকবে প্রচুর গাছপালা। আর থাকবে পাখি। যারা সকাল-বিকেল কিচিরমিচির করে বেড়াবে। সেই দেশে জীবজন্তু থাকবে আর তারা বাঁচবে সুরক্ষিত ভাবে।

Deveshi Chakraborty
২ মিনিট
সকল দেশের রানি যে দেশ

আচ্ছা, আমাদের দেশে কী কী আছে বলুন তো? ওহ, আপনি জানেন না! দাঁড়ান দাঁড়ান; আমিই বলছি তবে। হিসাবের খাতাটা নিয়ে একটু বসি তাহলে। এবার শুনুন... ওই তো এক বাক্স দলাদলি, দুই বাক্স মন্দির,এক বাক্স অন্য ধর্মের প্রতি হিংসা, আর বাকি আর যা আছে তা হল, পাইকারি দরে কেনা আইন-কানুন আর বেশ কিছু খুচরো আইন না মানা। ব্যাস এইসবই। এই সব নিয়েই আমাদের মস্ত দেশ। কী! এসব বলতেই সুকুমার রায়ের সেই 'একুশে আইন'-এর দেশটা চোখের সামনে ভেসে উঠল তো!

তবে এবার আসা যাক মূল কথায়। আমি কেমন দেশ চাই? সত্যি বলতে আমি যে রকমের দেশ চাই সেটা কিন্তু এসবের থেকে বেশ খানিকটা আলাদা। প্রথমেই যেটা বলব, আমি এমন একটি দেশ চাই যেখানে আছে ভরপুর সুখ শান্তি। আর সুখ থাকলে তবেই না থাকবে আনন্দ আর মজা। সেই দেশটি কিন্তু হবে খুব সুন্দর। যেখানে গরিব আর আদিবাসীরা রোজ দু'বেলার খাবার পাবে, পরনের পোশাক পাবে আর পাবে খেলার বন্ধু। আরও আছে দাঁড়ান দাঁড়ান। আদর করার লোক থাকবে, নিজেদের অধিকার থাকবে, পড়াশুনা করতে পারবে, আর বড় হয়ে ভালো কিছু করার স্বপ্ন বুকে থাকবে অন্তত তাঁদের। বিপদে-আপদে একে অপরের সাহায্য করবে এবং সাহায্য পাবে তাঁরা। সেই দেশে সবাই বিচার পাবে। আমাদের মতো আর কাউকে চার মাস ধরে বিচারের অপেক্ষায় থাকতে হবে না।

উন্নয়নের নামে গাছ কাটা হবে না আর সেই দেশে। সেই আশ্চর্য সুন্দর দেশে থাকবে প্রচুর গাছপালা। আর থাকবে পাখি। যারা সকাল-বিকেল কিচিরমিচির করে বেড়াবে। সেই দেশে জীবজন্তু থাকবে আর তারা বাঁচবে সুরক্ষিত ভাবে। কারণ দেশটা তো আসলে তাদেরও। সেই দেশে অনেক পুকুরও থাকবে, আর থাকবে মাছ আর জলজ প্রাণী। ব্যবসার নামে তারাও মারা পড়বে না। সেখানে ছোটরা বই পড়বে, মাঠে যাবে খেলতে। হ্যাঁ, খেলার মাঠ তো থাকতে হবেই, যে খেলার মাঠে সবাই মিলে একসঙ্গে খেলবে, প্রাণ ভরে খেলবে। মোবাইলকে না হয় একটু দূরে সরিয়েই রাখবে। পুকুর আর খেলার মাঠ বুজিয়ে বড়ো বড়ো বাড়ি উঠবে না। দেখনদারির বাহানা থাকবে না সেখানে। সবাই ভালো মানুষ হবে আর সবাই সবার খেয়াল রাখবে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
দুই শিশুকে চাপিয়ে সাইকেলে ১১,০০০ কিলোমিটার ঘুরছেন বাবা, যে ঘটনা অবাক করছে দেশকে

Cycling to Reduce Plastic Pollution: দমন ও দিউ থেকে লখনউ পর্যন্ত টানা ১১,০০০ কিলোমিটার সাইকেল চালিয়েছেন বাবা অনিল চৌহান, সঙ্গ ছাড়েনি দুই শিশু।

আমার মনে হয়, দেশ একটা পরিবার। আর সেখানে মন্ত্রীরা হল সেই পরিবারের প্রধান। তার পরিবারের কোনও ক্ষতি না হয়, সেটা দেখার কাজ তো তাঁদেরই। তা-ই কী করে টাকা সরানো যায়, সে কথা না ভেবে মন্ত্রী-আমলারা সবাইকে দেখবে আর সবার কথা ভাববে। সত্যি বলব? আমি এমন একটা স্বপ্নের দেশ চাই, যেখানে এই সমস্ত চাওয়া ভীষণ রকম সত্যি হবে। তবেই হয়তো আমাদের দেশ হয়ে উঠবে রঙিন, যেখানে দেখা মিলবে সাতটি রঙের। সেই দেশই হয়ে উঠবে সকল দেশের 'রানি', আমার জন্মভূমি।

দেবেশী চক্রবর্তী

ষষ্ঠ শ্রেণি

সেন্ট ক্ল্যারেট স্কুল

(পরিবারের সম্মতিক্রমে ছবি ব্যবহার করা হল)

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।