ব়্যাটহোল মাইনিং কী? এ পথেই কি উদ্ধার হবেন সুড়ঙ্গে বন্দি শ্রমিকেরা?

Uttarakhand Tunnel Rescue Operation: ইতিমধ্যেই উত্তরকাশির ওই সিল্কিয়ারা সুড়ঙ্গের কাছে এসে পৌঁছেছে ব়্যাট হোল মাইনিং বিশেষজ্ঞরা। সুড়ঙ্গের বেশ কিছুটা পথ ওই ব়্যাট হোল মাইনিং করে করে এগোনোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

Sohini Das
৩ মিনিট
ব়্যাটহোল মাইনিং কী? এ পথেই কি উদ্ধার হবেন সুড়ঙ্গে বন্দি শ্রমিকেরা?

উত্তরাখণ্ডের উত্তরকাশী জেলার সিল্কিয়ারা সুড়ঙ্গে এখনও বন্দি ৪১ জন শ্রমিক। তাঁদের উদ্ধারকাজে কোনও খামতি রাখেনি সরকার। সব রকমের আয়োজন, প্রস্তুতি ও কৌশল সত্ত্বেও উদ্ধারের পথে যেন বারবার কাঁটা। দিল্লি থেকে উড়িয়ে আনা মার্কিন খনন যন্ত্র ভেঙে পড়ে সুড়ঙ্গের ভিতরে ঢুকেই। ব্লেডটিই ভেঙে যায় সেই যন্ত্রের চৌপাট হয়ে যায় সমস্ত পরিকল্পনা। সেই ড্রিলিং মেশিনের ধ্বংসাবশেষ সুড়ঙ্গ থেকে বের করে আনতেই লেগে গিয়েছে অনেকটা সময়। এবার মেশিন নির্ভরতা থেকে সরে এসে সনাতন পদ্ধতিতেই শ্রমিকদের উদ্ধারের চেষ্টা করছে উদ্ধারকারী দল। আপাতত ব়্যাট হোল মাইনিংয়ের মাধ্যমেই শ্রমিকদের কাছে পৌঁছানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তার জন্য ইতিমধ্যেই উত্তরকাশির ওই সিল্কিয়ারা সুড়ঙ্গের কাছে এসে পৌঁছেছে ব়্যাট হোল মাইনিং বিশেষজ্ঞরা। তাদের পর্যবেক্ষণেই সুড়ঙ্গের বেশ কিছুটা পথ ওই ব়্যাট হোল মাইনিং করে করে এগোনোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ঝাঁসি থেকে এসে পৌঁছেছেন প্রসাদী লোধি। তিনি একজন ব়্যাট হোল মাইনিং কর্মী। খননের যন্ত্রপাতি নিয়ে তিনি ওই পাইপের মধ্যে প্রবেশ করবেন, এবং সুড়ঙ্গের ভিতরে জড়ো হয়ে থাকা ধ্বংসস্তূপ সরানোর চেষ্টা করবেন, যাতে শ্রমিকদের কাছে পৌঁছনোর রাস্তাটা পরিষ্কার করা যায়।

প্রসাদী লোধির প্রায় দশ বছরের অভিজ্ঞতা এই কাজে। মূলত দিল্লি ও আহমেদাবাদেই কাজ করেছেন তিনি। তবে এমন মানুষ উদ্ধারের কাজ তাঁর জীবনে প্রথম। প্রসাদী জানিয়েছিলেন, "আমাদের কাজে তেমন কোনও ভয়ের কিছু নেই। এখানে পাইপ প্রায় ৮০০ মিলিমিটার চওড়া। আমরা ৬০০ মিলিমিটারেও এই কাজ করেছি।" ভিতরে প্রায় ১২ মিটার অংশ জুড়ে রয়েছে ওই ধ্বংসস্তূপ। যদি গোটাটাই মাটি হয়ে থাকে, তাহলে আশা করা যাচ্ছে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পরিষ্কার করে ফেলা যাবে সেগুলি। তবে ওই ধ্বংসাবশেষের মধ্যে যদি পাথর থাকে, তাহলে সময় বেশি লাগার কথা।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ফেল মার্কিন যন্ত্র, ১৬ দিন পরে শ্রমিকদের উদ্ধারে যে পথে এগোচ্ছে উদ্ধারকারী দল...

Uttarkashi Tunnel Collapse: বিপদের উপর বিপদ! আগে ধ্বংসাবশেষ সরানোর ছিল, এরপর সুড়ঙ্গের ভিতরে আটকে যায় ক্ষতিগ্রস্ত অগার মেশিনটি। সেটিকে বের করার প্রক্রিয়ায় লাগছে বেশ খানিকটা সময়।

প্রসাদির সঙ্গেই ঘটনাস্থলে এসেছেন তাঁর মতোও আরও কয়েকজন ব়্যাট হোল মাইনিং শ্রমিক। ঝাঁসি থেকে আসা বিপিন রাজপুত এই পেশায় জড়িতে দু-তিন বছর ধরেই। মেঘালয়ের মতো এলাকাগুলি থেকে কয়লা খননের কাছে ব্যবহার করা হয় এই বিশেষ পদ্ধতি। যেখানে সরু, লম্বা টানেলের থেকে কোনও কিছু বের করে আনার জন্য খনন কাজ চালানো হয়। তবে এক্ষেত্রে একসঙ্গে অনেকে কাজ করতে পারেন না। একেকবারে এক জন করে শ্রমিকই পৌঁছতে পারেন ওই সুড়ঙ্গে। সাধারণত গর্ত খোঁড়ার পর দড়ি বা বাঁশের মই ব্যবহার করে কয়লাখনি অবধি পৌঁছনো হয়। এরপক বেলচা, ঝুড়ি এসবের মাধ্যমে তুলে আনা হয় কয়লা। এখানেও ঠিক সেই পদ্ধতিই ব্যবহার করা হচ্ছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
১২ দিন পর অবশেষে মুক্তি! কীভাবে সুড়ঙ্গ থেকে বের করা হচ্ছে ৪১ শ্রমিককে?

Uttarakhand tunnel collapse : শ্রমিকদের বের করে আনার জন্য চওড়া ওই পাইপ ধ্বংসাবশেষের মধ্য দিয়ে ঠেলে ঢোকানো হয়েছে।

ইতিমধ্যেই প্রসাদী, বিপিনরা নিজেদের কাজ শুরু করেছেন। বেশ খানিকটা জায়গা পরিষ্কারও করে ফেলেছেন বলে খবর। সব ঠিক থাকলে মঙ্গলবার বিকেলেই শ্রমিকদের উদ্ধার নিয়ে সুখবর মিলতে পারে। এমনিতে এই ধরনের ব়্যাটহোল মাইনিংয়ের ক্ষেত্রে বেশ খানিকটা ঝুঁকি থেকেই যায়। সরু পথ, তার উপর মাটির নিচে অক্সিজেন কম এবং বিষাক্ত গ্যাস বেশি। সাধারণত দুর্ঘটনার সংখ্যাও এই কাজে অনেকটাই বেশি। তা সত্ত্বেও জীবিকার প্রয়োজনে অনেকেই এই কাজ করতে বাধ্য হন।

আপাতত উত্তরকাশির শ্রমিক উদ্ধারে আশার আলো এই ব়্যাটহোল মাইনিং শ্রমিকরাই। এখন দেখা যাক, এই ইঁদুররের গর্ত দিয়েই বেরিয়ে আসতে পারেন কিনা প্রায় ২০ দিন ধরে অন্ধকার সুড়ঙ্গে আটকে থাকা ৪১জন শ্রমিক। যদিও তাদের কাছে নিয়মিত খাবার, জল ও ওষুধপত্র পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। পাঠানো হচ্ছে অক্সিজেন। উদ্ধারের পর শ্রমিকদের যাতে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া যায়, তার জন্য় উত্তরকাশীর সুড়ঙ্গের সামনে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে ৪১টি অ্যাম্বুল্যান্স। যাতে রয়েছে অক্সিজেনের সুবিধা।

উত্তরকাশীর সিল্কিয়ারা সুড়ঙ্গে বন্দি শ্রমিকদের মধ্যে রয়েছেন এ রাজ্যের হুগলির দুই বাসিন্দাও। খুব শিগগিরই ঘরের ছেলে ঘরে ফিরবেন, সেই আশাতেই বুক বেঁধেছেন সমস্ত শ্রমিকদের পরিবার। একই সঙ্গে প্রার্থনা করছেন সমগ্র দেশবাসী।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের আগে যে ভুলগুলি এড়ানো জরুরি

Stock Market Psychology: শেয়ারবাজারে একজন বিনিয়োগকারীর সবচেয়ে বড় সমস্যা অনেক সময় সে নিজেই। আজকের তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক বাজারে এই পর্যবেক্ষণের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। কারণ এখন সমস্যা তথ্যের অভাব নয়, বরং তথ্যের অতিরিক্ত প্রবাহ।

মহাবিশ্বকে বুঝতে গিয়ে সমাজকে ভুলে যাননি অশোক সেন

পিএইচডির প্রথম প্রায় তিন বছর তাঁর গবেষণায় কোনো কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতিই হয়নি। চারদিকে শুধু স্থবিরতা। বেশিরভাগ শিক্ষার্থী যেখানে এমন পরিস্থিতিতে ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন বা হতাশ হয়ে পড়েন, অশোক সেন তা করেননি।

মেষ নয়, হায়াডিস? ভ্যান গগের ‘স্টারি নাইট’ নিয়ে কী বলছে নতুন গবেষণা?

The Starry Night mystery: এর আগে দীর্ঘকাল ধরে ধারণা করা হতো যে ভ্যান গগের আঁকা ছবিটির উপরের অংশটি মেষ রাশির কোনো তারামণ্ডল। তবে, সায়েন্টিফিক রিপোর্টস জার্নালে প্রকাশিত 'দ্য অ্যাকচুয়াল স্কাই অফ ভ্যান গগস স্টারি নাইট: এ মাল্টিডিসিপ্লিনারি রিঅকনস্ট্রাকশন' নামক গবেষণাটিতে বলা হয়েছে, ভ্যান গগের ছবির কেন্দ্রীয় পাঁচ তারার বিন্যাস মেষ রাশির সঙ্গে নয়, বরং হায়াডিস নক্ষত্রপুঞ্জের সঙ্গে নিখুঁতভাবে মেলে।

ডার্কওয়েবে SBI-র তথ্য ফাঁস, কতটা সুরক্ষিত আপনার সঞ্চয়? যা জানাচ্ছেন সাইবার বিশেষজ্ঞ

সন্দীপ সেনগুপ্তের পরামর্শ, যাঁদের তথ্য ফাঁস হয়েছে বলে আশঙ্কা রয়েছে, তাঁদের আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। তিনি এমনকি ব্যাঙ্কে রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বর পরিবর্তন এবং নতুন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলার কথাও বলেছেন।

আইনস্টাইনের কাল্পনিক পরীক্ষা এবার বাস্তবে, কোয়ান্টাম জগতের কণা-তরঙ্গ রহস্যের কী হলো?

Einstein Bohr quantum debate: সম্প্রতি ১০০ বছর আগের আইনস্টাইনের সেই কাল্পনিক পরীক্ষাটি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অব চায়না (USTC)-এর বিখ্যাত কোয়ান্টামবিজ্ঞানী জিয়ান-উই প্যান (Jian-Wei Pan) এবং তাঁর সহকর্মীরা ল্যাবরেটরিতে বাস্তবে রূপ দিয়েছিলেন।

AI-এর যুগে মানুষ কি নিজের বুদ্ধিটাই মেশিনের হাতে তুলে দিচ্ছে?

Artificial Intelligence: ছোটবেলায় অনেকেই ভাবত রোবট এসে মানুষের কায়িক শ্রমের কাজগুলি করে দেবে। মানুষ অবসর পেয়ে গান শুনবে, কবিতা লিখবে কিংবা বারান্দায় বসে কফি খাবে। বাস্তবে দেখা গেল ঠিক তার উল্টো চিত্র। রোবট এখন কবিতা লিখছে, ছবি আঁকছে আর কোড তৈরি করছে। অন্যদিকে মানুষ সকাল থেকে রাত ল্যাপটপের সামনে বসে শিখছে প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং।

মহাকাশে রওনা নাসার টেলিস্কোপের, বদলে দিতে পারে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি?

NASA’s Roman Space Telescope: নাসার নতুন ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ বদলে দেবে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি? হাবল ও জেমস ওয়েবের পর কেন প্রয়োজন হলো এই নতুন মহাকাশ-চোখের? ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জি, গ্যালাক্সি ও এক্সোপ্ল্যানেট সম্পর্কে কি নতুন তথ্য দেবে রোমান? মহাবিশ্বের প্রসারণের ইতিহাস বুঝতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে এই অত্যাধুনিক টেলিস্কোপ?

সৌরপৃষ্ঠ আসলে কেমন? ৩৩ বছর পর মিলল উত্তর

Sun’s surface mystery: সূর্যের পৃষ্ঠকে এতদিন দূর থেকে তুলোর মতো নরম ও শান্ত দেখালেও, তা কি সত্যিই এমন? বিশ্বের বৃহত্তম সৌর টেলিস্কোপ ড্যানিয়েল কে ইনোয়ের তোলা সর্বোচ্চ-রেজোলিউশনের ছবিতে দেখা গেল ছোট ছোট হিংস্র প্লাজমার ঘূর্ণি। ৩৩ বছর আগে করা জোয়ান কার্পেনের সেই ভবিষ্যদ্বাণী কি অবশেষে সত্যি প্রমাণিত হলো? এই আবিষ্কার কি বদলে দেবে সৌরপৃষ্ঠ সম্পর্কে ধারণা?