মুখাগ্নি সেরেই বন্দে ভারতের উদ্বোধন! কেন বাংলায় ৭,৮০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করল কেন্দ্র?

Narendra Modi Vande Bharat Express: কলকাতায় আসতে পারেননি, তবে মায়ের মুখাগ্নি সেরে আহমেদাবাদ থেকেই বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের পতাকা নাড়িয়েছেন নরেন্দ্র মোদি।

Madhurima Dutta
৩ মিনিট
মুখাগ্নি সেরেই বন্দে ভারতের উদ্বোধন! কেন বাংলায় ৭,৮০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করল কেন্দ্র?

বাংলায় বিনিয়োগ। সেই কোন কালে 'পূর্বে তাকাও' কর্মসূচি নিয়েছিল শাসকেরা, ব্রিটিশ হোক বা বিজেপি- বাংলা চিরকালই সম্ভাবনার ভাঁড়ার। আর ফেলো কড়ি মাখো ভোটের সমীকরণ বলছে, এই সূত্র কোনও দিনই সেভাবে ব্যর্থ হয়নি। তাই উন্নয়নে টাকা ঢেলে মন জয়ের প্রাচীন অথচ শাশ্বত রীতি মেনেই এগোচ্ছে কেন্দ্র। মা প্রয়াত হয়েছেন, ফলে কলকাতায় সশরীরে হাজির হতে পারলেন না প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কিন্তু শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গে ৭,৮০০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের উন্নয়ন প্রকল্পের সূচনা তিনি শুরু করে দিয়েছেন। অর্থাৎ বাংলায় ৭.৮০০ কোটি বিনিয়োগ করছে বিজেপি শাসিত কেন্দ্র সরকার। ৭,৮০০ কোটি, একই দিনে! কী কী উন্নয়নের মুখ দেখতে চলেছে বাংলা?

হাওড়া এবং নিউ জলপাইগুড়িকে সংযোগকারী বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের সূচনা তিনি করে দিয়েছেন। কলকাতায় আসতে পারেননি, তবে মায়ের মুখাগ্নি সেরে আহমেদাবাদ থেকেই পতাকা নাড়িয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। হাওড়া থেকে নিউ জলপাইগুড়ির মাঝে নতুন এই ট্রেনটি বোলপুর-শান্তিনিকেতন, মালদা টাউন, বারসই স্টেশনে দাঁড়াবে। বুধবার ছাড়া সপ্তাহের ৬ দিনই চলবে বন্দে ভারত এক্সপ্রেস। এছাড়াও কলকাতা মেট্রোর জোকা-তারাতলা সম্প্রসারিত অংশের সূচনা করেছেন নরেন্দ্র মোদি। হাওড়া-নিউ জলপাইগুড়ি বন্দে ভারত এক্সপ্রেস ও জোকা-তারাতলা মেট্রোর পাশাপাশি রেলের চারটি প্রকল্প চালু করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৈঁচি-শক্তিগড় তৃতীয় লাইন তৈরি করতে ৪০৫ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। ডানকুনি-চন্দনপুর চতুর্থ লাইন নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৫৬৫ কোটি টাকা। নিমতিতা-নিউ ফরাক্কা ডবল লাইন তৈরিতে খরচ হয়েছে ২৫৪ কোটি টাকা এবং আমবাড়ি ফালাকাটা-নিউ ময়নাগুড়ি-গুমানিহাট ডাবলিং প্রকল্পের জন্য খরচা হয়েছে ১,০৮০ কোটি টাকা। সেই সঙ্গে নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনের সংস্কারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনও হওয়ার কথা, যার জন্য খরচ করা হয়েছে ৩৩৫ কোটি টাকারও বেশি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
স্কুলে যাননি কোনওদিন, তবু চিকিৎসা করতেন! মোদির প্রয়াত মা হীরাবেনের যে জীবন অজানাই

Heeraben Modi Passes Away: নরেন্দ্র মোদির মা নিজে কখনও স্কুলে যাননি, তবুও তিনি তাঁদের গ্রামের একজন ডাক্তার ছিলেন।

বেহালা মেট্রো নিয়ে যাবতীয় খিল্লি-ঠাট্টার অবসান ঘটেছে নরেন্দ্র মোদির হাত ধরে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর মেট্রোর মুখ দেখলেন বেহালার বাসিন্দারা। জোকা-এসপ্ল্যানেড মেট্রো প্রকল্পের (পার্পল লাইন) জোকা-তারাতলা অংশের মেট্রোকে সবুজ পতাকা দেখিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই প্রায় ৬.৫ কিলোমিটারের অংশে মোট ছয়টি স্টেশন পড়ছে- জোকা, ঠাকুরপুকুর, সখেরবাজার, বেহালা চৌরাস্তা, বেহালা বাজার এবং তারাতলা। এই সার্বিক প্রকল্পের খরচ পড়েছে ২,৪৭৫ কোটি টাকা। এই নয়া মেট্রো প্রকল্পের জেরে সরশুনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ অংশের মানুষের সুবিধা হবে বেশ অনেকটাই।

জোকায় প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয় করে ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার অ্যান্ড স্যানিটেশন তৈরি করা হয়েছে। গোটা দেশের জলসম্পদকে পরিচ্ছন্ন রাখা, নিকাশির সুব্যবস্থা করার মতো কাজ এই কার্যালয় থেকেই করা হবে। অর্থাৎ সর্বভারতীয় কাজটাই পরিচালিত হবে কলকাতায় বসে। ২,৫৫০ কোটিরও বেশি মূল্যের একাধিক পয়ঃনিষ্কাশন পরিকাঠামো প্রকল্পের উদ্বোধনের কথাও জানা গিয়েছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মোদি নন, বাজপেয়ীই প্রকৃত বিজেপি! অটল বিহারীর স্মৃতিসৌধে গিয়ে কোন বার্তা দিলেন রাহুল?

Bharat Jodo Yatra: বাজপেয়ী নিজেই একবার একটি সাক্ষাত্কারে জানিয়েছিলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসা করাতে তাঁকে কীভাবে সাহায্য করেছিলেন রাজীব গান্ধী।

গঙ্গা নদী ও তার শাখা নদীগুলিকে দুষণমুক্ত করার জন্য এবং নদীগুলি পুনরুজ্জীবনের বিষয়েও উদ্যোগী হয়েছে ন্যাশনাল গঙ্গা কাউন্সিল। গঙ্গাকে দুষণমুক্ত করতে একাধিক কেন্দ্রীয় নিকাশি প্রকল্পের সূচনার কথা জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর দফতর। প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গঙ্গাকে পরিচ্ছন্ন রাখতে সাতটি নিকাশি প্রকল্পের সূচনা করবেন মোদি। ৯৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬১২ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ২০টি নিকাশি প্রকল্পেরও সূচনা করা হবে। এই প্রকল্পগুলি নবদ্বীপ, বজবজ, কাঁচরাপাড়া, উত্তরপাড়া-কোতরং, হালিশহর ব্যারাকপুর সহ একাধিক পুরসভাতে কাজ করবে বলে জানা গিয়েছে।

২০২৩-এর গোড়ার দিকেই পঞ্চায়েত নির্বাচন পশ্চিমবাংলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হতে চলেছে নিঃসন্দেহে, আর ঠিক তার পরের বছরই লোকসভা নির্বাচন। ২০২২-এর শেষ দিক থেকেই তাই বাংলার জল-হাওয়া বুঝতে এক ফোঁটা জমিও ছাড়ছে না বিজেপি। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, শুক্রবার হিরাবেন মোদির মৃত্যু না হলে বাংলায় এসে এই সব ক'টি প্রকল্পের উদ্বোধন করতেন মোদি, আর তাতে স্বচক্ষে বুঝতে পারতেন রাজনৈতিক হাওয়া মোরগের অবস্থা। তিনি আসতে পারেননি বলে এই এত টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বেশ খানিকটা প্রচারের আলো হারিয়েছে ঠিক কথাই, তবে তা বিফলে যেতে দেবে না শাসকদল। 'ড্যামেজ কন্ট্রোলের' শুরুটা হবে নতুন বছরের গোড়া থেকেই। উল্লেখ্য, বন্দে ভারতের মতো ট্রেন, এবং বেহালা মেট্রোর মতো বিষয় কলকাতা আর রাজ্য দুই ক্ষেত্রেই শহুরে উন্নয়নের ধারণার সঙ্গে খাপের খাপ মিলে যায়। তাই, ২০২২-এর শেষটা বিজেপির অনুকূলে, বলাই যায়। ২০২৪-অবধি বাংলায় বিনিয়োগের বহর কতটা বাড়ে, আর তাতে বঙ্গবাসীর ভোটের পাত্র ছলকে পড়ে কী না এই প্রশ্নের উত্তর দেবে সময়ই।

লিখেছেন
Madhurima Dutta
Madhurima Dutta
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।