লোকসভা ভোট ও ফর্ম ১৭সি, যেভাবে কৌশলে তথ্য গোপন করছে নির্বাচন কমিশন

Election Commission Of India: আদালতে মামলা চলাকালীন ১৭সি না প্রকাশের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন যে যুক্তি দিয়েছিল তা শুধু অসঙ্গতই নয়, একই সঙ্গে অযৌক্তিক।

Suman Kalyan Moulik
৫ মিনিট
লোকসভা ভোট ও ফর্ম ১৭সি, যেভাবে কৌশলে তথ্য গোপন করছে নির্বাচন কমিশন

লোকসভা নির্বাচন প্রায় শেষের পথে। এই কদিনে বিভিন্ন রাজনৈতিক জোটের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা, পারস্পরিক কুৎসা, মিডিয়ার ভূমিকার মত বিষয়গুলো যেমন বিতর্ক তৈরি করেছে, তাকে সমানতালে পাল্লা দিয়েছে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের কার্যকলাপ ও তার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন। প্রথম দিকে এই বিতর্কের মধ্যে ছিল ইভিএম- ভিভিপ্যাটের গণনা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির দাবি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অসহযোগিতা,অযৌক্তিক এবং যন্ত্রণাদায়ক দীর্ঘ নির্বাচন সিডিউল, শাসক দলের প্রধান নেতৃত্বের (আরও নির্দিষ্ট করে বললে নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহের) লাগাতার ঘৃণা ভাষণের বিরুদ্ধে কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে কমিশনের অপরিসীম ব্যর্থতা ইত্যাদি। শেষ পর্বে গোটা বিষয়টা এসে দাঁড়াল একটি নির্বাচনী ফর্ম নিয়ে যার নাম ১৭সি। এই অলীক কুনাট্য রঙ্গের শেষ পরিণতি অবশ্য মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারের পক্ষে মঙ্গলজনকই হয়েছে। কিন্তু একথা অস্বীকার করার কোনও জায়গা নেই যে গোটা পর্বে নির্বাচন কমিশনের অদূরদর্শী আচরণ এবং সিদ্ধান্তহীনতা যেমন নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে তেমনই একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের এ হেন পরিণতি ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে সবার কাছে হাস্যকর করে তুলেছে।

মূল আলোচনায় প্রবেশের আগে ১৭সি ফর্ম নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা জরুরি। ভোটাররা না জানলেও নির্বাচন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেক কর্মী একথা জানেন, দু'টো নিদর্শ ভোট প্রক্রিয়া পরিচালনার জন্য সবচেয়ে জরুরি তার মধ্যে প্রথমটি হল ফর্ম ১৭সি, দ্বিতীয়টি অবশ্যই প্রিসাইডিং অফিসারের ডায়েরি। ১৭সি হল একটি বহুমুখী তথ্য সমৃদ্ধ নথি যা একটি বুথের ভোট সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্যের আধার। একটি বুথে কতজন ভোটারের নাম রয়েছে, তাদের মধ্যে কতজন ভোট দিলেন (রেজিস্টারে নথিভুক্ত ভোটার ও মেশিনে নথিবদ্ধ ভোট), টেন্ডার ভোটের সংখ্যা,ইভিএম ও ভিভিপ্যাটের নাম্বার, যে কাগজ দিয়ে মেশিনগুলো সিল করা হয়েছে তার ক্রমিক নাম্বার— এক কথায় ভোট সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য এই ফর্মে সংকলিত করেন প্রিসাইডিং অফিসার। এই ফর্মের কপি অন্তত ১২-১৫টি করা হয়। ভোট পর্ব সমাপ্ত হওয়ার পর প্রিসাইডিং অফিসার ফর্ম ১৭সি-এর কপি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বুথ এজেন্ট, সেক্টর অফিসারদের হাতে যেমন তুলে দেন, তেমনই ইভিএমে, রিসিভিং সেন্টারে এর কপি জমা করতে হয়। একটা বুথে কত ভোট পড়েছে সেই তথ্য, নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন স্তরে জমা হয়, একই সঙ্গে বুথ এজেন্টদের মাধ্যমে প্রার্থীরাও নির্দিষ্ট বুথের তথ্য জানতে পারে। ভোট গণনার দিন ইভিএম খোলার সময় কাউন্টিং এজেন্টরা নিজেদের হাতে থাকা ১৭সি এর তথ্যের সঙ্গে মেশিনে প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা মিলিয়ে নেন। তাই এই ১৭সি ছাড়া ভোট পর্ব অচল।

১৭সি সংক্রান্ত বিতর্কের প্রেক্ষাপট হিসাবে দু'টি বিষয়ের উল্লেখ করা দরকার। প্রথমটি হল ভারতীয় নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার সংক্রান্ত একটি মামলা, যা ২০১৯ সালে দায়ের করা হয়েছিল। জনস্বার্থ মামলাটি করেছিল অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস নামক একটি এনজিও এবং সহ-পিটিশনার হিসাবে ছিল আরেকটি এনজিও কমন কজ। সম্প্রতি ইলেক্টোরাল বন্ডের পাহাড় প্রমাণ দুর্নীতির পর্দাফাঁসের ঘটনা এদেরই জনস্বার্থ মামলার ফসল। নির্বাচনী সংস্কার সংক্রান্ত আরেকটি মামলা করেছিলেন তৃনমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। ভারতীয় বিচার ব্যবস্থা তার দীর্ঘসূত্রিতার কারণে কুখ্যাত। লোকসভা নির্বাচনের দিন ঘোষণার মধ্যেও এই মামলাগুলির শুনানি চলছিল। দ্বিতীয় বিষয়টি হলে এবার প্রথম দুই পর্বের ভোট শেষ হওয়ার পর ভোটদানের যে শতকরা হার ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন, তার দশদিন পর আবার যে চূড়ান্ত ভোটদানের হার ঘোষণা করে,তার মধ্যে খুব গুরুত্বপূর্ণ ফারাক। নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রদত্ত হিসাবে দেখা যাচ্ছে, প্রাথমিক হিসাব ও চূড়ান্ত হিসাবের মধ্যে ৫%-৬% বৃদ্ধি দেখা দিচ্ছে। অঙ্কের বিচারে সেই ভোটের সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৭০ লক্ষ। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির অভিযোগ, যে সমস্ত জায়গায় বিজেপির ফল খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে,সেখানেই রাতারাতি ভোটের পরিমাণ বেড়ে গেছে। এই নিয়ে মিডিয়ায় আলোচনা শুরু হওয়ার ফলে অবিলম্বে ১৭সি-তে নথিবদ্ধ ভোটের তথ্য জনসমক্ষে আনার দাবি আরও গতি পায়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
রক্ষকই কি ভক্ষক? লোকসভা ভোটের ময়দানে কতটা স্বচ্ছ নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা?

Election Commission: গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় উৎসব ভোট, আর সেই ভোট পরিচালনার দায় এবং দায়িত্ব যাদের হাতে, তারা কতটা সুচারু ভাবে পালন করছে তাদের ভূমিকা, উঠেছে নানা মহলে প্রশ্ন।

আদালতে মামলা চলাকালীন ১৭সি না প্রকাশের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন যে যুক্তি দিয়েছিল তা শুধু অসঙ্গতই নয়, একই সঙ্গে অযৌক্তিক। কমিশন জানিয়েছিল, ১৭সি-এর তথ্য প্রকাশ করা জটিল নয় কিন্তু সময়সাপেক্ষ। এই বক্তব্য রিটার্নিং অফিসারের হ্যান্ডবুকে যে কথা লেখা আছে,তার সম্পূর্ণ বিপরীত। হ্যান্ডবুকে লেখা আছে, ভোটপর্ব শেষ হওয়া মাত্র বুথের প্রিসাইডিং অফিসার 'ক্লোজ বাটন' টিপবেন এবং মোট ভোট যা দেখাবে তা নথিভুক্ত হয়ে রিটার্নিং অফিসারের কাছে জমা হবে। বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এস.ওয়াই.কুরেশি বলছেন: "There is no reason for delays in getting voter data. This data is in the system in real time.. within five minutes of the polling ending, all information is available. Now in this situation, the Election Commission is accountable for why so much time is being taken to finalize the data"। সোজা কথায়, কত ভোট পড়ল সে সম্পর্কিত চূড়ান্ত তথ্য প্রকাশ করতে এত সময় লাগার কথাই না।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কত ভোট পড়ল জানাতে এত দেরি! কারচুপি লুকোতে চাইছে নির্বাচন কমিশন?

Election Commission Voting Data: প্রতিটি লোকসভা কেন্দ্রের ভোটারদের সংখ্যা এবং সেই লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্ভুক্ত বিধানসভা কেন্দ্রগুলিও কমিশনের ওয়েবসাইটে দেখা যাচ্ছে না কেন?

সর্বোচ্চ আদালতে নির্বাচন কমিশন তাদের হলফনামায় আরও জানায়, ১৭সি-এর তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও আইনি বিধান নেই এবং এই ফর্ম নাগরিকদের হাতে গেলে তারা নানান ধরণের 'দুষ্টুমি' করতে পারে। কিন্তু যে কথাটা বলা হল না, তা হল এই তথ্য প্রকাশ করতে কোনও আইনি বাঁধা নেই। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় এমন কিছু নথি আছে যা জনসমক্ষে প্রকাশ করা যায় না (Section 93 of conduct of election rules, 1961)। এই তালিকায় আছে ব্যবহৃত ও অব্যবহৃত ব্যালট পেপার (টেন্ডার ভোটে কাজে লাগে), বিভিন্ন রঙিন পেপার স্লিপ, ভোটার তালিকার মার্কড কপি ইত্যাদি। কিন্তু সেই তালিকার মধ্যে ১৭সি আদতেই পড়ে না। আর দুষ্টুমির প্রশ্নটি অবান্তর কেননা রাজনৈতিক দলের বুথ লেভেল এজেন্টদের হাতে এই নথি থাকার কারণে ১৭সি-এর কপি সহজেই জোগার করা যেতে পারে। এই অস্বীকৃতি আসলে ভোট প্রক্রিয়ার ভরকেন্দ্রে যারা আছে অর্থাৎ ভোটারদের তথ্য জানার অধিকারকেই লঙ্ঘন করে। এক্ষেত্রে প্রাক্তন আইএএস অফিসার কান্নন গোপিনাথনের পর্যবেক্ষণ উল্লেখযোগ্য: "Secrecy sows the seeds of suspicion"।

এই বিতর্কে আদালতের কার্যকলাপও নানা ধরণের বিভ্রান্তির জন্ম দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের কাজ সংক্রান্ত এরকম একটা সাংবিধানিক মামলার কেন পাঁচ বছরের মধ্যে ফয়সালা হল না,সেই প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ। আরও আশ্চর্যের বিষয় হল মামলার গুরুত্ব অনুধাবন করে প্রধান বিচারপতি চন্দ্রচূড় মন্তব্য করেছিলেন, প্রয়োজনে রাত জেগেও মামলা শোনা হবে। বাস্তবে তা তো হলই না, বরং প্রধান বিচারপতি নিজেই গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে চলে গেলেন। অবসরকালীন বেঞ্চের বিচারপতি দীপঙ্কর চক্রবর্তী ও সতীশচন্দ্র শর্মা কোনও অন্তর্বর্তীকালীন রায় দিতে অস্বীকার করলেন কারণ তাঁদের মতে ভোট প্রক্রিয়ার মাঝপথে কোনও ধরনের আদালতের হস্তক্ষেপ নির্বাচনের মত বিশাল কর্মযজ্ঞকে ব্যাহত করতে পারে। অবশ্য গল্পটা এখানেই শেষ হল না। আদালতের আদেশ না থাকা সত্বেও ২৫ মে প্রথম পাঁচদফার ভোটদান সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য ( আসন পিছু) নির্বাচন কমিশন প্রকাশ করে দিল। কমিশনের বক্তব্য, যে ভাবে ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থাকে সংগঠিত ভাবে কলুষিত করার চেষ্টা হচ্ছে, তা আটকাতেই এই তথ্য প্রকাশ। কমিশনের এই যুক্তি হালে পানি পাচ্ছে না কারণ এই তথ্য প্রকাশ কমিশন আগেই করতে পারত।

১৭সি নিয়ে বিতর্কটার কারণ লুকিয়ে আছে বিগত নির্বাচনের ইতিহাসে। প্রথমেই বলে নেওয়া ভালো যে শতাংশ হিসাবে ভোটদানের হার কোন কাজেই আসে না। দরকার আসন পিছু ঠিক কত ভোট পড়েছে তার হিসাবটা। অ্যাসোসিয়েশন অন ডেমোক্রেটিক রিফর্মসের মামলায় দেখা যায় ২০১৯ সালের ভোটের ফলাফলে ভোটার টার্ন আউট রিপোর্ট ও ইভিএম মেশিনে গোনা ভোটের মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য থাকছে। নির্বাচন কমিশন আসনের ফলাফল ঘোষণার প্রায় ছয়মাস পর চূড়ান্ত হিসেব নিকেশ তৈরি করছে। এক্ষেত্রে কারণ হিসাবে রিটার্নিং অফিসারদের কাছ থেকে তথ্য আসার ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রিতার উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু প্রযুক্তির এই উন্নতির যুগে এই যুক্তি ধোঁপে টেকে না। এবারেই আমরা দেখলাম এত বিতর্কের পর প্রকৃত অর্থে তিন দিনের মধ্যে সমস্ত আসনের চূড়ান্ত ভোটদানের হিসেব কমিশন প্রকাশ করে দিল। এক্ষেত্রে আমাদের দাবি তোলা উচিত, আগামী দিনে বুথে ভোট প্রক্রিয়া সাঙ্গ হওয়ার পরে প্রিসাইডিং অফিসার ১৭সি-এর কপি বুথের দরজায় লাগিয়ে আসবেন যাতে সেই বুথের সমস্ত ভোটার প্রকৃত তথ্য সম্পর্কে অবহিত হতে পারেন। ১৭সি বিতর্ক শেষ বিচারে নাগরিকদের অধিকারের প্রশ্নে ইতিবাচক হলেও, কমিশনের অযোগ্যতার কারণে এক কুনাট্য রঙ্গের উদাহরণ হয়ে থাকল।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।