চামড়া কুঁচকে গেলেও পচে না! মমতাকে হাসিনার দেওয়া হাঁড়িভাঙা আমের ইতিহাস অবাক করবে

Bangladesh Haribhanga Mango: ২০২১ সালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ২,৬০০ কেজি আম উপহার পাঠান।

inscript
৩ মিনিট
চামড়া কুঁচকে গেলেও পচে না! মমতাকে হাসিনার দেওয়া হাঁড়িভাঙা আমের ইতিহাস অবাক করবে

এক দেশ অন্য দেশকে কী দেয়? সীমান্তে প্রহরা, নদীর জলের ভাগ বাঁটোয়ারা, আকাশসীমায় সতর্কতা, পর্যটন অথবা গুলিগোলা। তবে মাঝেসাঝে উপহারও আসে। পড়শি দেশ হলে, সৌহার্দ্য রক্ষায় ফল আসে। যেমন তেমন নয়, ফলের রাজা আসে সীমান্ত পেরিয়ে। একদেশের সঙ্গে অন্যদেশের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আদানপ্রদান হবে এমনটাই স্বাভাবিক। আর যে দেশের সংস্কৃতির অন্যতম অঙ্গই খাওয়াদাওয়া সেখানে খাদ্য ও পানীয়ই যে যোগ্যতম উপহার বলাই বাহুল্য। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সম্প্রতি ৬০০ কেজি আম উপহার পাঠিয়েছেন। উপহার হিসেবে আম পাঠানোর ঘটনা তো এই প্রথম নয়। গত বছরও হাসিনা আম পাঠান, হাসিনা প্রায় প্রতিবারই আম পাঠান। কখনও মোদিকে, কখনও মমতাকে। ২০২২ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা আর অসমের মুখ্যমন্ত্রীদের আম উপহার দেন শেখ হাসিনা। এছাড়াও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সব মুখ্যমন্ত্রীর কাছেই আম পাঠিয়েছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। পঞ্চায়েত নির্বাচনের আঁচ আর গ্রীষ্মকালীন তাপ- দুই দিকেই ফুটছে পশ্চিমবাংলা। এরই মাঝে এসেছে পড়শি দেশের মিঠে আম উপহার!

আসলে আম ঐতিহাসিকভাবেই এই দেশ ও অঞ্চলগুলির মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ রাজনৈতিক সম্পর্ককে মিষ্টিমুখ করার পথ দেখিয়েছে। রাজনৈতিক নেতারা হামেশাই আমকে উপহার হিসেবে ব্যবহার করেছেন কূটনৈতিক সদিচ্ছা এবং রাজনৈতিক হৃদ্যতা বাড়াতে। জওহরলাল নেহেরুও মাও সে তুংকে আম উপহার দিয়েছিলেন। সেই পথ ধরেই শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উপহার হিসেবে আম পাঠিয়েছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর শেখ হাসিনার সুসম্পর্ক রাজনীতির ময়দানে সকলেরই জানা। আম কেন, এই মাসখানেক পরে ইলিশের উপহারও আসবে। ইদ আর পুজোর সময় শাড়িও পাঠান মমতা।

পঞ্চায়েত নির্বাচন ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক হাওয়া গরম এই রাজ্যে। রাজনৈতিক বিতর্কের মুখ মিষ্টি করাতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হিমসাগর আম উপহার দিয়েছেন তাঁর রাজনৈতিক সখা এবং বিরোধীদের। আম বিনিময়ের এই ঐতিহ্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রে নতুন নয়। গত এক দশক ধরে এই ধরনের উপহার তিনি পাঠিয়েই থাকেন। গতবারই দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং কংগ্রেস নেত্রী সনিয়া গান্ধির কাছে আম উপহার পাঠিয়েছিলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেও দুর্গাপুজোর সময় মিষ্টি ও পাজামা পাঞ্জাবী উপহার দিয়েছেন মমতা।

দিন কয়েক আগে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্য থেকে উৎকৃষ্ট জাতের আম বড় বড় পাত্রে প্যাক করিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহ বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপহার হিসাবে পাঠান। ফজলি, হিমসাগর, ল্যাংড়ারা বাক্সে বাক্সে ভর্তি হয়ে পৌঁছে গিয়েছে 'ভিভিআইপি'-দের কাছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
আমও হতে পারে প্রাণঘাতী! সর্বোচ্চ আম খাওয়ার যে পরিমাণ বেঁধে দিলেন চিকিৎসকরা

Mango Health Hazards: যেহেতু আম ফ্রুক্টোজ সমৃদ্ধ, তাই এটি রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়াতে পারে।

২০২১ সালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ২,৬০০ কেজি আম উপহার পাঠান। বাংলাদেশি ট্রাক ভরে ভরে সীমান্ত ডিঙিয়ে এসেছিল ২৬০ বাক্স ভর্তি বিখ্যাত 'হাঁড়িভাঙা' আম। খেলা হিসেবে হাঁড়িভাঙা জনপ্রিয় তো বটেই। কিন্তু আমের এমন নাম কেন? আমের বিচিত্রতর নামের নেপথ্যে এক একখানা পিলেচমকানিয়া ইতিহাস রয়েছে। ভারতে, বিশেষ করে পশ্চিমবাংলায় যেমন হিমসাগর, ল্যাংড়া বা ফজলির রমরমা, বাংলাদেশে তেমন ফলের বাজার আলো করে থাকে হাঁড়িভাঙা। বিশ্ববিখ্যাত এই হাঁড়িভাঙা আমের জন্ম রংপুর জেলায়। সেই জেলার মিঠাপুকুর উপজেলায় হাঁড়িভাঙার ব্যাপক উৎপাদন।

আমটির নাম অবশ্য শুরুতেই হাঁড়িভাঙা ছিল না। প্রথম প্রথম মানুষ এই আম চিনত মালদিয়া নামে।শোনা যায়, নফল উদ্দিন পাইকার নামের এক ব্যক্তি নাকি মাটির হাঁড়ি দিয়ে ফিল্টার বানিয়ে এই আমের গাছে জল দিতেন। একদিন রাতে কেউ ওই মাটির হাঁড়িটি ভেঙে ফেলে। ওই গাছটিতে বিপুল পরিমাণ আম ধরত, স্বাদেও ব্যাপক সুস্বাদু। ওই আম বিক্রির জন্য বাজারে নিয়ে গেলে নফল উদ্দিন দেখেন লোকজন ওই আম সম্পর্কে জানতে চাইছেন, কিনছেন। নফল উদ্দিন বোঝেন যে গাছের হাঁড়িটি ভেঙেছে সেই গাছেরই আম এটি। সেই থেকে হাঁড়িভাঙা আম নামেই পরিচিতি পায় এই আম। মাত্র একটি গাছ থেকে শয়ে শয়ে কলমের চারা তৈরি করা হয়। রংপুরের সেই মূল গাছটি এখন বৃদ্ধ, বয়স ৬০ পেরিয়েছে বহুকাল হলো।

হাঁড়িভাঙা আম স্বাদে গন্ধে অতুলনীয়। চারা রোপনের পরের বছরেই মুকুল ধরে যায়, ফলে ব্যবসায়ীদের কাছেও এই আম চাষ লাভজনক। আকারের তুলনায় হাঁড়িভাঙা আম ওজনে বেশি, গড়ে ৩টি আমে ১ কেজি হয়। কোনও কোনও ক্ষেত্রে এক একটি আমের ওজন ৫০০/৭০০ গ্রামও হয়ে থাকে। এই আমে জেনেটিক পরিবর্তন করার কারণে আমের চামড়া কুঁচকে গেলেও আম পচে না।

রংপুরে এই আম প্রতি হেক্টর জমিতে পাওয়া যায় ১৬ মেট্রিক টনের মতো। ব্যাপকভাবে যার অধিকাংশই রপ্তানি হয়ে যায় অন্য দেশে। হাঁড়িভাঙা আম রপ্তানি হয় ভারত, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, সিঙ্গাপুর এবং মালয়েশিয়াতে। যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ইতালি, সৌদি আরব, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী এবং ওমানেও যায় বাংলাদেশের হাঁড়িভাঙা।

লিখেছেন
inscript
inscript
17 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

ডানাছাঁটা ট্রাম্প-নেতানিয়াহু, বিশ্ব রাজনীতি কোন দিকে যাবে?

Trump midterm defeat: আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির পরাজয় এবং ইজরায়েলের নির্বাচনে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানো—দুটি ঘটনাই আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই পরাজয়ের পর ইরান যুদ্ধের ভবিষ্যৎ কী হবে? আমেরিকা-ইজরায়েল সম্পর্কের সমীকরণ কি বদলাবে? আর বিশ্ব রাজনীতিতে তার প্রভাবই বা কতটা পড়বে?

ট্রাম্পের হারের ৫ কারণ: কেন মুখ ফিরিয়ে নিলেন মার্কিন ভোটাররা?

US Midterm Elections: আমেরিকার মিডটার্ম নির্বাচনে বড় ধাক্কা খেল ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি।জীবনযাত্রার খরচ বৃদ্ধি থেকে শুরু করে ট্রাম্পের নীতি—রিপাবলিকানদের ভরাডুবির পাঁচটি মূল কারণ কী কী?

পিস বন্ড কী, কেন দিতে হয়? নেহা বোরার আপত্তিতে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ঔপনিবেশিক আমলের আইন

Peace Bond: শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করলেই কি দিতে হবে পিস বন্ড? AISA-র জাতীয় সভাপতি নেহা বোরার আপত্তিতে নতুন করে বিতর্কে ঔপনিবেশিক আমলের প্রতিরোধমূলক আইন। ব্রিটিশ আমল থেকে স্বাধীন ভারত, CrPC থেকে BNSS—কীভাবে বদলেছে এই আইনি ব্যবস্থা? কেন কাউকে ১০ হাজার টাকার মুচলেকা দিতে বলা হয়? কী বলছে আইন?

রামলীলা ময়দানের সভায় ভিড় দেখাতে এআই ছবি? কতটা সত্যি?

Ramlila Maidan AI image controversy: দিল্লির রামলীলা ময়দানে ১ নভেম্বরের ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সমাবেশে ভিড় ও এআই ছবি ব্যবহার নিয়ে বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে বিতর্ক তুঙ্গে। ভাইরাল ছবিগুলোর সত্যতা কী?

আবের কাওয়াস: প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান মুসলিম মহিলা নিউ ইয়র্কের সিনেটে

Aber Kawas: নিউ ইয়র্কের ১২ নম্বর সিনেট ডিস্ট্রিক্ট থেকে জয়ী হয়ে ইতিহাস গড়লেন আবের কাওয়াস। নিউ ইয়র্ক স্টেট আইনসভায় তিনি প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান এবং প্রথম হিজাব পরিহিত মুসলিম মহিলা প্রতিনিধি।

প্রতিবেশীর ধর্ম দেখব না! গির্জায় হামলায় যা বলছে বাসন্তী

Basanti church: গির্জার সদস্য প্রদীপ মণ্ডল ইনস্ক্রিপ্টকে জানিয়েছেন, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ চার্চ অফ নর্থ ইন্ডিয়ার (CNI) বিশপ সুব্রত চক্রবর্তী পার্শ্ববর্তী এলাকার কয়েকটি গির্জার যাজকদের নিয়ে শান্তিপূর্ণ শোভাযাত্রা করে নারায়ণতলার নবনির্মিত গির্জায় পৌঁছন। তাঁদের স্বাগত জানাতে গির্জার ভিতরে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। প্রার্থনা শুরুর ঠিক আগে ৩০-৩৫ জনের একটি দল জোর করে গির্জায় ঢুকে পড়ে বলে দাবি তাঁর।

পাঁচ খুনের 'বদলা'? এবার গুয়াহাটিতে এনকাউন্টার পুলিশের

Guwahati Encounter: গুয়াহাটিতে হোটেলে ঢুকে পাঁচ জনকে খুনের অভিযোগে ধৃত ঘনকান্ত গগৈ পুলিশের গুলিতে নিহত। পুলিশের দাবি, হেফাজত থেকে পালিয়ে সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল সে। একই সময়ে মধ্যপ্রদেশের দেওয়াস ও ভোপালে পৃথক এনকাউন্টারে তিন অভিযুক্ত গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। কয়েক দিন আগেই বাংলায় গাইঘাটা ও সামশেরগঞ্জে দুই অভিযুক্তের মৃত্যু হয়েছিল।

আমেরিকার প্রথম মুসলিম সেনেটর, ট্রাম্পের ইসলামবিদ্বেষী প্রচারকে হারিয়ে ইতিহাস গড়লেন আবদুল এল-সায়েদ

Abdul El-Sayed: নির্বাচনের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর দলের একাধিক নেতা এল-সায়েদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ইসলামবিদ্বেষী প্রচার চালিয়েছিলেন। তাঁর ধর্মীয় পরিচয়কে সামনে এনে তাঁকে আমেরিকার নিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা হয়েছিল।