বগল বাজাতে বাজাতে তাঁর ছবি দেখা যায় না! গোদারের সিনেমা কেন দেখবে মানুষ?

Jean-Luc Godard: আজকের আধুনিক তথাকথিত বাজারি ছবিতে গোদারের কোনও ভূমিকা নেই? অবশ্যই আছে।

Kaushik Majumder
৩ মিনিট
বগল বাজাতে বাজাতে তাঁর ছবি দেখা যায় না! গোদারের সিনেমা কেন দেখবে মানুষ?

কেন গোদার চারটি আকাডেমিক মানুষের কঠিন আলোচনায় থেকে যাবেন? কেন দুর্বোধ্য বোঝাতে তপন সিংহ গল্প হলেও সত্যি-তে তাঁর নাম ব্যবহার করবেন? গোদার চাইতেন না তিনি সবার হয়ে উঠুন। না। এক্কেবারে না। বরং পড়াশুনো না করে শুধু ছবি দেখার আর বগল বাজাতে বাজতে একই সঙ্গে কাপরা আর তাঁর ছবি যাতে না দেখা যায় সেই চেষ্টা চিরজীবন চালিয়ে গেছেন। তাহলে কি আজকের আধুনিক তথাকথিত বাজারি ছবিতে গোদারের কোনও ভূমিকা নেই? অবশ্যই আছে।

গোদারকে কেউ পছন্দ করে না। করতে পারে না। তিনি নিজেই চাননি দর্শক তাঁকে ভালোবাসুক বা তাঁর কাজকে ভালবাসুক। বরং চেয়েছিলেন এমন কাজ করতে যাতে ভালবাসা না থাকলেও তাঁকে শ্রদ্ধা করতে বাধ্য হয় সবাই। সমস্যাটা তাঁর না সমালোচকদের। সত্যজিৎ রায় তাঁর “A Word About Godard,” এ একেবারে স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন,

“Now, I don’t like Godard too. But then, ‘like’ is a word I seldom use to describe my feeling about truly modern artists. Do we really like Pablo Picasso, or Claude-Michel Schönberg, or Eugène Ionesco, or Alain Robbe-Grillet? We are variously provoked and stimulated by them, and our appreciation of them is wholly on an intellectual level. Liking suggests an easy involvement of the senses, a spontaneous ‘taking to’, which I doubt if the modern artist even claims from his public. The trouble, really, is not with Godard, but with his critics— or, at least, a good many of them– who are constantly trying to fit a square peg into a round whole. With any other art, I would have said with confidence that Godard would win in the end. But in the ruthless and unserious world of commercial cinema that he has to operate, I have my doubts.”

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
১৬ বছরেই গলায় চরম মাদকতা! 'স্নো হোয়াইট'-এর পর কোথাও কেন গলা দিলেন না গায়িকা?

Snow White and Seven Dwarfs: প্রচুর অফার এসেছিল। তবু “স্নো হোয়াইট”-এর পর আর কোথাও গলা দেননি কাসেলোটি। বলতেন " I don't want to spoil the illusion of Snow White"।

কী করেছিলেন গোদার? ক্যামেরার জার্কি মুভমেন্ট আর জাম্প কাটের মতো কঠিন কঠিন শব্দের বাইরে? গোদার প্রথম শিখিয়েছিলেন, সিনেমা একটা আলাদা শিল্প মাধ্যম। আর সেই মাধ্যমটা মানুষের তৈরি। ঠিক সেই জন্যই যেমন ইম্প্রেসনিস্টদের ছবিতে প্রকৃতি অন্য ভাবে ধরা দেয়, পিকাসোর কিউবিজমে মানুষের আকার বদলে যায় বারে বারে, সিনেমাও তেমন এক মাধ্যম যার দ্বারা নতুন এক ভাষা তৈরি করা যায়, সিনেমার ভাষা। তাঁর ছবি সারাক্ষণ নানা বিষয় নিয়ে ভাবতে থাকে, তা নিয়ে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য/প্রশ্ন রাখতে থাকে। অজস্র উদ্ধৃতি আসতে থাকে। আসে একের পর দৃশ্যের কোলাজ। যত দিন গেছে সিনেমার টেক্সট আর ইমেজারির সঙ্গে সঙ্গে গল্পকে এক অদ্ভুত স্যুরিয়াল জায়গায় নিয়ে যেতে চেয়েছেন তিনি। সেখানে সবসময় যে কিছু ঘটবেই তার কোনও মানে নেই। নদীর ধারে একলা বসে গান কি আর কাউকে শোনানোর জন্য? গোদারের ছবিও নিজের নতুন ব্যাপ্তি পেতে থাকে। গোদার তৈরি করে চলেন এমন এক পৃথিবী যেখানে “যেখানে প্রেম নেই, ভালোবাসা নেই– মানুষ শুধু ইমেজ, ইমেজ আর ইমেজ নির্মিত যন্ত্র। গোদারের ছবির শেষ ইমেজে প্রজেক্টরের রোল থেকে ফিতে শেষ হয়ে যাওয়ার মতো করে মানুষ পরস্পরের থেকে হাত সরিয়ে নেয়– পর্দাজুড়ে পড়ে থাকা ধূসর মরুভূমি শুধু– ধবধবে সাদা বিছানার চাদর।”

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
একের পর এক হিট, তবু কেন গান লিখতে চাননি বলিউডের বিদ্রোহী কবি কাইফি আজমি?

Kaifi Azmi: ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর লিখেছিলেন দীর্ঘ কবিতা “রাম কি দুসরি বনবাস” নামে। সবাই প্রকাশ করতে মানা করেছিল। তবুও, বড্ড একগুঁয়ে ছিলেন লোকটা।

নিজের কথা বলার জন্য গল্প, কবিতা, গান, ছবির মতোই এ ভাষা অনন্য। এ ভাষায় যে কথা বলে গেছেন গোদার অন্য কোনওভাবে তা বলা সম্ভব ছিল না। আর এই ব্যাপারটা মাথার খুলি ফুটো করে ঢুকিয়ে দিতে পেরেছিলেন তিনি। হয়তো প্রথমবার। তাই যখনই দেল তোরো রিয়েলিজম আর ফ্যান্টাসিকে মেশাতে যান, মার্টিন স্কোরসসে যখন মাফিয়াদের নিয়ে মিন স্ট্রিট বানান, বা ডেভিড নিউম্যান লিখতে বসেন বনি এন্ড ক্লাইডের মতো সুপারহিট ছবির চিত্রনাট্য, পিছনে ছায়া ফেলে দাঁড়িয়ে থাকেন গোদার। এক অদ্ভুত অস্বস্তি থেকে চরিত্রদের চামড়ার ভিতরে ঢুকে পড়া। তিনিই তো শিখিয়েছেন। যে অস্বস্তি প্রতি মুহূর্তে আমাদের হয় কাঞ্চনজঙ্ঘা ছবি দেখতে গেলে। গোদারই বুঝিয়েছেন ক্যামেরা কাঁপতেই পারে। আমি তাও ট্র্যাক শট না করে হ্যান্ড হেল্ড ক্যামেরায় ছবি তুলব। কলকাতা ৭১-এর মৃণাল তারই প্রয়োগ করেছেন সফলভাবে। ক্রমাগত লং মিড আর ক্লোজ শটে দর্শককে শান্ত হয়ে বসতে দেননি এক মুহূর্তের জন্য।

কিছুদিন আগেই সেই দুরন্ত ভদ্রলোক কেমন অদ্ভুত শান্ত হয়ে শুয়ে পড়েছেন। আর শোবার পড়েও রোজ রোজ নাড়িয়ে দিচ্ছেন হাজার হাজার সিনেমাপ্রেমীদের। Rest in Conflict, Mon Godard.

লিখেছেন
Kaushik Majumder
Kaushik Majumder
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।