নিজের রায় গিললেন বিচারপতি! কেন ববিতাকে চাকরি দিয়েও ফের কাড়লেন অভিজিৎ?

Abhijit Ganguly SSC Scam: পরেশ অধিকারীর কন্যা অঙ্কিতা অধিকারী বেআইনিভাবে শিক্ষকতার চাকরি পেয়েছেন বলে অভিযোগ করেছিলেন ববিতা সরকার।

inscript
২ মিনিট
নিজের রায় গিললেন বিচারপতি! কেন ববিতাকে চাকরি দিয়েও ফের কাড়লেন অভিজিৎ?

মন্ত্রীকন্যার চাকরি কেড়ে দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। আন্দোলন করে নিজের চাকরি ছিনিয়ে নিয়েছিলেন ববিতা সরকার। এবার ববিতার চাকরি কেড়ে অন্য একজনকে দিলেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। রাজ্যে ক্রমেই জটিল থেকে জটিলতর হচ্ছে শিক্ষক নিয়োগের মামলা। এক ধাক্কায় চাকরি যাচ্ছে ৩৬ হাজার মানুষের, কখনও আবার কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করে তুমুল লড়াই করে পাওয়া চাকরি ফের হারাচ্ছেন প্রার্থী। ববিতা সরকারের আন্দোলন ও চাকরি পাওয়া, পাশাপাশি তৃণমূলের মন্ত্রী পরেশ অধিকারীর মেয়ে অঙ্কিতা অধিকারীর অন্যায্য চাকরি যাওয়া নিয়ে হইচই হয়েছিল বেশ। অঙ্কিতা অধিকারীর চাকরি কেড়ে সেই চাকরি দেওয়া হয়েছিল ববিতা সরকারকে। ববিতার সেই চাকরি বাতিল করার নির্দেশ দিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। মধ্যশিক্ষা পর্ষদকে ববিতার চাকরি বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছেন অভিজিৎ। ববিতার চাকরি এবার পাবেন অনামিকা রায়।

পরেশ অধিকারীর কন্যা অঙ্কিতা অধিকারী বেআইনিভাবে শিক্ষকতার চাকরি পেয়েছেন বলে অভিযোগ করেছিলেন ববিতা সরকার। মামলা হয়। মামলায় জিতে যান ববিতা, অঙ্কিতাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে ববিতাকে সেই চাকরি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। শুধু তাই নয়, অঙ্কিতা অধিকারী যতদিন চাকরি করেছিলেন ততদিনের বেতনও পান ববিতা। সেই ববিতার চাকরি কেন কেড়ে নেওয়া হলো ৬ মাসের মধ্যেই? হাইকোর্ট নিজেরই রায় নিজেই গিলতে বাধ্য হলো কেন?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কেন সরানো হল বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে?

Justice Abhijit Gangopadhyay removed : টালমাটাল পরিস্থিতিতে যখন ক্রমেই অন্ধকার ঘনিয়ে আসছে ঠিক তখনই যেন নতুন আলোর পথযাত্রী হিসেবে এলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়, তাহলে এবার কী হবে আন্দোলনকারীদের?

ববিতা সরকারের চাকরি বাতিল করার দাবি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেন এসএসসি পরীক্ষার্থী অনামিকা রায়। অনামিকার অভিযোগ, ববিতা নিজের স্নাতকস্তরের নম্বর বাড়িয়ে দেখিয়েছেন যার ফলে তাঁর ‘অ্যাকাডেমিক স্কোর’ বেড়ে গিয়েছে। ববিতার আবেদনপত্র অনুযায়ী, স্নাতকস্তরে ববিতা মোট ৮০০ নম্বরের মধ্যে ৪৪০ নম্বর পেয়েছিলেন অর্থাৎ ৫৫%। ববিতা দেখিয়েছেন তিনি ৬০% নম্বর পেয়েছেন।

অনামিকা রায় কলকাতা হাইকোর্টে সরাসরি মামলা করেন। ৫৫% নম্বরের ভিত্তিতে ববিতা যোগ্য প্রার্থীর তালিকাতে অনেকটাই নিচে নেমে যাবেন। তাঁর উপরে, তাঁর চেয়ে বেশি নম্বর পাওয়া অনেকেই রয়েছেন যাদের এই চাকরি পাওয়ার যোগ্যতা বেশি। বলাবাহুল্য হাইকোর্ট নিজের রায় ভুল দিয়েছে। আর মধ্যশিক্ষা পর্ষদও যাচাই করেনি। ববিতার র‍্যাঙ্কিং নেমে যাওয়াতে সেই জায়গাতে উঠে এসেছেন অনামিকা রায়। ববিতার চাকরির যোগ্য প্রার্থী বা দাবিদার।

কোচবিহারের মেখলিগঞ্জের ইন্দিরা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে চাকরি করতেন অঙ্কিতা। পরেশ অধিকারীর কন্যার সেই চাকরি পান ববিতা। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষিকা হিসাবে যোগ দেন তিনি। ববিতার সেই চাকরি পেলেন শিলিগুড়ির বাসিন্দা অনামিকা রায়। ববিতা যেমন অঙ্কিতা অধিকারীর টাকা পেয়েছিলেন, তেমনই ববিতাকেও টাকা ফেরত দিতে হবে অনামিকাকে। বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় নির্দেশ দিয়েছেন, আগামী ৬ জুনের মধ্যে ববিতাকে ১৫ লক্ষ টাকা হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে জমা দিতে হবে। আগামী বুধবারের মধ্যে তাঁকে ১১ লক্ষ টাকা দিতে হবে। তবে এই টাকা চাকরির বেতন নয়। এই টাকা অঙ্কিতার চাকরি যাওয়ার পর ববিতার পাওয়া টাকা। মোট ১৫ লক্ষ ৯২ হাজার ৮৪৩ টাকা ফেরত দিতে হবে ববিতাকে। এদিকে টাকা পয়সা পেয়ে ববিতা ইতিমধ্যেই কিনে ফেলেছেন গাড়ি। তাই এক্ষুণি এত টাকা দেবেন কীভাবে? টাকা ফেরতের জন্য ৩ মাস সময় চেয়েছেন ববিতা। তবে এর পরবর্তী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ববিতা অংশ নিতে পারবেন বলে জানিয়েছেন বিচারপতি।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

কেন তুলে দিতে হচ্ছে মাদ্রাসা কমিশন? প্রশ্ন শিক্ষামহলের

West Bengal decides to merge Madrasah Service Commission: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৫ অক্টোবরের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।

আমার উৎসব, ওঁদের আরও একটা দীর্ঘ কাজের দিন

Durga Puja for Gig Workers: গিগ কর্মীদের দুর্গাপুজোর চার দিন কীভাবে কাটে? বাড়তি উপার্জনের আশায় ব্যক্তিগত আনন্দ, উৎসবের আমেজ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানোর সময় থেকে কতটা বিসর্জন দিতে হয় তাঁদের?

বাংলাদেশে রবীন্দ্র-বিরোধিতা নিয়ে কী বলছেন বুদ্ধিজীবীরা?

Tagore graffiti vandalism Bangladesh: বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? বুদ্ধিজীবীরা কী বলছেন?

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? সরকার বদলায়, কেন বদলায় না মন?

Rabindranath Tagore Targeted in Bangladesh: বাংলাদেশে বারবার কেন নিশানা হচ্ছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর? হাসিনা থেকে ইউনূস, সরকার বদলালেও কেন থামছে না তাঁর সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার মুছে ফেলার চেষ্টা? জাতীয় সঙ্গীতের স্রষ্টাকেই কেন বারবার প্রত্যাখ্যানের মুখে পড়তে হচ্ছে?

যন্তর মন্তরে ঢুকে বিক্ষোভ, পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে সিজেপি-র দুই নেতা

Jantar Mantar protest: যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের জেরে সিজেপি নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠাল আদালত। নির্বাচন কমিশন, এসআইআর এবং প্রতিবাদের অধিকার ঘিরে বাড়ছে বিতর্ক।

দিল্লিতে মহিলা বিক্ষোভকারীদের হেনস্থার অভিযোগ, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে উঠছে যে সব প্রশ্ন

Delhi protest: দিল্লিতে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ ঘিরে মহিলা আন্দোলনকারীদের একাংশ পুলিশের বিরুদ্ধে হেনস্থা ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন। এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা ও প্রতিবাদের অধিকার নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন।

২৩ দিনের অনশন থেকে জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন, রাজপথই নেহা বোরার হয়ে ওঠার সাক্ষী

Neha Bora: ২৩ দিন ধরে অনশন করে যেমন তিনি সংবাদমাধ্যমের নজরে এসেছিলেন, তেমনই সম্প্রতি দিল্লির রাজপথে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও তাঁকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।