কেন দেশে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি আনতে বদ্ধপরিকর মোদি সরকার? নেপথ্যে কোন পরিকল্পনা?

The Uniform Civil Code: ২০২৩ সালের জুলাই মাসে মোদি এক জনসভায় বলেছিলেন, একই পরিবারের সদস্যদের যেমন ভিন্ন নিয়ম হতে পারে না, তেমনই একই দেশের নাগরিকদের মধ্যে আলাদা আইন থাকা ঠিক নয়। অভিন্ন দেওয়ানি বিধি সকল সম্প্রদায়ের জন্য এক আইনের কথা বলে।

Tanvia Barua
৫ মিনিট
কেন দেশে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি আনতে বদ্ধপরিকর মোদি সরকার? নেপথ্যে কোন পরিকল্পনা?

সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের জন্মদিনে অর্থাৎ 'রাষ্ট্রীয় একতা দিবসে' গুজরাটে স্ট্যাচু অব ইউনিটির সামনে বক্তৃতা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি । এ বার সেদিনই ছিল দীপাবলি। প্রধানমন্ত্রী এই সুযোগে শুভেচ্ছাবার্তার পাশাপাশি ফের তাঁর বক্তৃতায় মনে করিয়ে দিলেন এক দেশ-এক ভোট এবং অভিন্ন দেওয়ানি বিধির কথা। একই সঙ্গে বার্তা দিলেন শহুরে নকশাল দমনেরও। এ ছাড়াও বক্তৃতায় উঠে এসেছে এক দেশ-এক স্বাস্থ্যবিমা, এক দেশ-এক করকাঠামো, এক দেশ-এক পরিচয়পত্রের মতো বিষয়গুলি। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট বলেছেন, জাতীয় ঐক্যের স্বার্থে এগুলি জরুরি। তবে স্ট্যাচু অব ইউনিটিকে সাক্ষী রেখে প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তৃতায় রাজনীতির ছাপ রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞদের অনেকেই মনে করছেন। বিজেপি এবং আরএসএস-এর বহুদিনের লক্ষ্য অভিন্ন দেওয়ানি বিধি এবং এক দেশ-এক নির্বাচন কার্যকর করা। আগামী দিনে বিজেপি সরকার যে এই পরিকল্পনার দিকেই এগোচ্ছে, তাঁরই ইঙ্গিত দিলেন এদিন প্রধানমন্ত্রী। আর তার পর থেকেই আবার এই বিধিগুলি নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়ে গিয়েছে। এর আগেও মোদি দেওয়ানি বিধির পক্ষে সমর্থন জানিয়েছিলেন। এমনকী সুপ্রিম কোর্টও এই বিধি প্রণয়নের কথা বলেছে। আইনটিতে কী থাকবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। কিন্তু এই আইনের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিশ্লেষণ করা জরুরি।

২০২৩ সালের জুলাই মাসে মোদি এক জনসভায় বলেছিলেন, একই পরিবারের সদস্যদের যেমন ভিন্ন নিয়ম হতে পারে না, তেমনই একই দেশের নাগরিকদের মধ্যে আলাদা আইন থাকা ঠিক নয়। অভিন্ন দেওয়ানি বিধি সকল সম্প্রদায়ের জন্য এক আইনের কথা বলে। এই আইন অনুযায়ী, বিবাহ, বিবাহ-বিচ্ছেদ, দত্তক, উত্তরাধিকারের মতো ব্যক্তিগত বিষয়-সহ সকল ক্ষেত্রেই সব সম্প্রদায়ের জন্য একটি বিধি থাকবে। প্রথম যখন এই আইন আনার কথা হয়েছিল, তখন থেকেই দেশের ছোট-বড় প্রায় সব দলই এই নিয়ে মতামত জানিয়েছিল। অনেক দল যেমন এই নীতি প্রণয়ন করার প্রস্তাবকে সমর্থন জানিয়েছে, অনেকেই আবার এই প্রস্তাবের ঘোর বিরোধিতা করেছে।

সংবিধান বিশেষজ্ঞদের অনেকের দাবি, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করতে যে সকল যুক্তি দেওয়া হয়েছে তা অসার এবং ভিত্তিহীন। কারণ ভারতের সংবিধান দেশের নাগরিকদের মধ্যে বিশেষ বিশেষ গোষ্ঠীকে বিশেষ ধরনের সুবিধা দিয়েছে। দেশবাসীদের ঐক্যবদ্ধ রাখার স্বার্থেই সংবিধান প্রতিষ্ঠাতারা এটা করেছিলেন। যেমন— সংবিধানে ভারতের বিভিন্ন এলাকাকে আলাদা মর্যাদা দেওয়া হয়েছে, তেমনই আবার বিভিন্ন সম্প্রদায় তাদের রীতিনীতি অনুযায়ী আলাদা আইনের মর্যাদা পেয়েছে। বিশেষজ্ঞদের দাবি, দেশের এই বৈচিত্র্য ধরে রাখতে পারলে তবেই জাতীয় ঐক্য থাকবে। দেশের সংখ্যালঘু এবং আদিবাসীরা যদি নিজস্ব আইন মেনে দেশে বাস করতে পারে তবেই বৈচিত্র্য রক্ষা করা যাবে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
রাজ্যবাসীর মতামত শিকেয়, 'অভিন্ন দেওয়ানি বিধি' পাশে প্রথম উত্তরাখণ্ড

Uniform Civil Code Bill tabled in Uttarakhand: দেশ জুড়ে যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে এত বিতর্ক, উত্তরাখণ্ডের বিধানসভায় পাশ হয়ে গেল সেই ইউনিফর্ম সিভিল কোড।

এই আইন সংবিধান স্বীকৃত মানবধিকার সংক্রান্ত আইনকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। কেউ কেউ মনে করেন, এই নীতি আনাই হচ্ছে মুসলমানদের টার্গেট করে। যেমন, বাল্যবিবাহ রোধের নামে প্রচুর মুসলমান নারী-পুরুষকে জেলে ভরেছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। বিজেপি শাসিত অসমের মুখ্যমন্ত্রীর যুক্তি, বাল্যবিবাহ রোধে ইউনিফর্ম সিভিল কোড আনছে অসম সরকার। এর আগে অসমে বিজেপি সরকার মুসলমানদের বিবাহ এবং বিচ্ছেদের শরিয়ত আইন (মুসলিম বিবাহ আইন) বাতিল করেছে। কিন্তু শরিয়ত আইনে বিবাহ এবং বিচ্ছেদের অধিকার ভারতীয় সংবিধান মুসলমানদের দিয়েছে। ওই রাজ্যে এখন মুসলিমদের বিবাহ এবং বিচ্ছেদ হয় স্পেশ্যাল ম্যারেজ অ্যাক্টে। এখানে বলে রাখা দরকার, ১৯৫৪ সালে প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর আমলে হিন্দু ম্যারেজ অ্যাক্টের সমান্তরালে স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্ট আনা হয়েছিল। যারা ধর্মীয় আইন মেনে বিয়ে করতে চান না বা ভিন্ন ধর্মে বিয়ে করতে চান, এই আইন ছিল তাঁদের জন্য। এখন সেই আইনকে মোদি সরকার মুসলমানদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করবে না, সেই আশঙ্কা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

'অভিন্ন দেওয়ানি বিধি'র তীব্র বিরোধিতা করেছিল অল ইন্ডিয়া পার্সোনাল ল বোর্ড। তাদের যুক্তি ছিল, 'সংখ্যাগরিষ্ঠর বেঁধে দেওয়া নৈতিকতার' মাপকাঠিতে সংখ্যালঘুদের অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া যায় না। ভারতের মুসলমানদের এটি সবচেয়ে প্রভাবশালী এবং গুরুত্বপূর্ণ ল বোর্ড। এটি ভারতের মুসলমানদের ব্যক্তিগত আইনের কাস্টডিয়ান বা হেফাজতকারী হিসেবে পরিচিত। ২০২৩ সালের জুলাই মাসেই এই বোর্ড আইন কমিশনের কাছে তাদের বক্তব্য লিখিত আকারে দিয়েছিল। ল বোর্ড তাদের সদস্যদের নিয়ে দীর্ঘ বৈঠক করে তাদের মতামতের ১০০ পাতার খসড়া তৈরি করেছিল। এই কমিটির কেন্দ্রীয় মুখপত্র এস কিউ আর ইলিয়াস বিবিসিকে বলেন, 'আমরা বলেছি দেশের সাংবিধানিক কাঠামোতে যেখানে এই ধর্মীয় পরিচয় রক্ষার কথা বলা হয়েছে, তখন ভারতের মুসলিমরা কিছুতেই মেনে নেবেন না যে সেই পরিচয়টা লুপ্ত হয়ে যাক।'

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কোনও ধর্মের জন্য আর আলাদা বিধি নয়! অভিন্ন দেওয়ানি বিধির নামে কী চাইছেন মোদি?

Uniform Civil Code: যে দেশে ১৪.২% মুসলমানের বাস, সেখানে ভারতের লোকসভায় নির্বাচিত মুসলমান সাংসদ ৫ শতাংশেরও কম।

উত্তরাখণ্ডেও এই আইন রয়েছে। উত্তরাখণ্ড সরকারের দাবি, ইউনিফর্ম সিভিল কোডে নাকি নারীর অধিকার সুনিশ্চিত করা হয়েছে। কিন্তু বিলটি কার্যকর হবার আগেই নারী অধিকার কর্মীরা এই আইনের বিরোধিতা করেছিলেন। উত্তরাখণ্ডের মহিলা সংগঠন একটি যৌথ বিবৃতিতে দাবি জানিয়েছিল, এই আইন কার্যকর হবার পূর্বে যেন বিলটি আলোচনার জন্য একটি স্থায়ী কমিটি বা নির্বাচন কমিটির কাছে পাঠানো হয়। কিন্তু তখন কোনও দাবি না মেনেই আইনটি চালু করা হয়। মহিলা সংগঠনগুলির দাবি, এই নীতি নারীর ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য এবং পছন্দের অধিকার খর্ব করবে।

২০২৩ সালের জুন মাসে গোয়ার এক সম্পত্তি সংক্রান্ত মামলার শুনানির সময় শীর্ষ আদালত ওই রাজ্যকে অভিন্ন দেওয়ানি বিধির এক 'উজ্জ্বল উদাহরণ' বলে উল্লেখ করেছিল। সুপ্রিম কোর্ট জানায়, সংবিধান প্রণেতারা ভারতের জন্য একটি অভিন্ন দেওয়ানি বিধির কথা বলেছিলেন, কিন্তু তা প্রণয়ন করা হয়নি। উল্লেখ্য,সংবিধানের ৪৪ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে,ভারতের জনগণের জন্য একটি অভিন্ন দেওয়ানি বিধি তৈরির চেষ্টা করবে রাষ্ট্র। তবে বিশেষজ্ঞদের অনেকের মতে, সংবিধানে উল্লেখিত অন্যান্য নির্দেশমূলক বিধিগুলির তুলনায় এটি অনেকটাই দুর্বল। তখন গণপরিষদের সদস্য বি.আর.আম্বেদকর বলেছিলেন, এই আইনকে সরকার যেন এমন ভাবে ব্যবহার না করে, যার জন্য মুসলমানেরা আন্দোলন করতে বাধ্য হয়। আল্লাদি কৃষ্ণস্বামী অভিন্ন দেওয়ানি বিধির পক্ষে থাকলেও তাঁর মতে, কোনও সম্প্রদায় যদি এই আইনের বিরোধিতা করে তবে এই আইন প্রণয়ন করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না।

উল্লেখ্য, হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ, জৈন, পারসি, ইহুদি এবং শিখ সকল ধর্মেই পৃথক আইন রয়েছে। যেহেতু আইনটিতে কী থাকবে তা এখনও স্পষ্ট নয়, তাই বাকি ধর্মের আইনে কী পরিবর্তন হবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। কিন্তু মোদি সরকারের অতীতের প্রায় প্রতিটি পদক্ষেপই যেহেতু মুসলিম ধর্মবলম্বীদের বিরুদ্ধে ছিল, তাই পর্যবেক্ষকদের অনেকেই আশঙ্কা করছেন, মুসলিমদের শায়েস্তা করতেই আবার এই আইন আনতে চাইছে বিজেপি সরকার। যেমন, সিএএ-এর মতো আইনেও শুধুমাত্র মুসলিমদের কথাই উল্লেখ নেই। মুসলিমদের সিএএ-তে বাদ রাখার বিষয়ে, হিন্দুত্ববাদী সরকার প্রকাশ্যে যুক্তি দিয়েছে, মুসলিমরাই একসময় তিন দেশের (আফগানিস্তান, পাকিস্তান, বাংলাদেশের) হিন্দুদের ওপর নিপীড়ন চালিয়েছিল। বিশেষজ্ঞদের দাবি— কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের তরফে এই আইন নিয়ে হিন্দুদের 'প্রধান্য দেওয়ার' ন্যারেটিভ সেট করানো হচ্ছে। বলে রাখা ভাল, সাংসদদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ এবং তাঁদের সহায়ক শক্তি নীতিনির্ধারণ করে।

শাসকগোষ্ঠী নিজেই 'ধর্মনিরপেক্ষ' দেশের মানুষদের ধর্মীয় বিভেদ, বিদ্বেষের দিকে ঢেলে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে বারবার। বিজেপি সরকার একটি ধর্মনিরপেক্ষ দেশের ক্ষমতা পেলেও তাদের ধর্মীয় পরিচয় যে ত্যাগ করতে পারেনি এই অভিযোগ নতুন নয়। এটি দলের সদস্যরা নিজেরাই প্রকাশ্যে বলেও থাকেন। ভারতের সংবিধান অনুসারে, সংসদীয় গণতন্ত্রে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলিকে ধর্মনিরপেক্ষ হতে হবে। এই শর্ত লঙ্ঘন করলে ১৯৮৯ সালের 'রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল অ্যাক্টে'র ২৯-এর ধারায় ওই রাজনৈতিক দলের স্বীকৃতি খারিজ করার বিধানও আছে। তবুও বার বার 'ধর্মনিরপেক্ষ'র আদর্শ ভঙ্গ হচ্ছেই। শেষে প্রশ্ন থাকছেই, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কি ভারতের নাগরিকদের ব্যক্তিগত অধিকারের সাংবিধানিক নিশ্চয়তা অমান্য করছে না?

লিখেছেন
Tanvia Barua
Tanvia Barua
7 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।