কেন 'নয়ে নবগ্রহ' থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল বেচারা প্লুটোকে, জানেন?

Pluto Planet: প্লুটো যে এত অদ্ভুত তার নেপথ্যে আরও কিছু কারণ আছে। এর পাঁচটি চাঁদের একটিও আসলে বামন গ্রহকে প্রদক্ষিণ করে না।

Madhurima Dutta
৩ মিনিট
কেন 'নয়ে নবগ্রহ' থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল বেচারা প্লুটোকে, জানেন?

নয়-এ নবগ্রহ। কত কত কাল ধরে পৃথিবী জানে তার ৮ ভাইবোন। এই ভাইবোনেরাও জানে তারা গ্রহ। হঠাৎ, বলা নেই কওয়া নেই, হারাধনের নয়টি সন্তানের পরিবার থেকে বের করে দেওয়া হলো একটিকে। ১৭ বছর আগে, ২৪ অগাস্ট, ২০০৬-এ ইন্টারন্যাশনাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিয়ন (IAU) এমন এক সিদ্ধান্ত নেয় যা সৌরজগতকে চিরতরে পরিবর্তন করে দেয়। IAU-এর সদস্যরা ভোটাভুটি করে ঠিক করেন, 'গ্রহ' শব্দটি দ্বারা জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা ঠিক কী বোঝেন। সেই ভোটাভুটিতে বেচারা প্লুটো যায় হেরে। প্লুটোকে বলা হলো, তুমি বামন গ্রহ। সুতরাং সৌরজগতে ঠাঁই নেই। হারাধনের আটটি সন্তান নিয়েই সংকুচিত হলো পরিবার। কিন্তু সব ব্যাটাকে ছেড়ে প্লুটোকেই কেন বাদ দেওয়া হলো সংসার থেকে?

তার আগে জানা যাক, ঠিক কী কী হলে একটি গ্রহ 'গ্রহ' হয়ে ওঠে। IAU যে সম্ভাব্য সংজ্ঞাগুলি দিচ্ছিল তাতে অন্যান্য নক্ষত্রের চারপাশের গ্রহগুলি বা এক্সোপ্ল্যানেট, যে গ্রহগুলি তাদের মূল নক্ষত্র তন্ত্র থেকে বাদ পড়েছে তার কথা ছিল। অবশেষে প্রাগে দশ দিনের সম্মেলনের শেষ দিনে, গ্রহের বর্তমান সংজ্ঞাটি পেশ করা হয়, ভোটাভুটি চলে এবং সংজ্ঞাটি অনুমোদিত হয়। একটি গ্রহকে 'গ্রহ' হতে গেকে তিনটি শর্ত পূরণ করতে হয়। গ্রহটি অবশ্যই সূর্যকে প্রদক্ষিণ করবে। তাই সমস্ত এক্সোপ্ল্যানেট এবং দুর্বৃত্ত গ্রহগুলি পড়ল বাদ। গ্রহটিকে হাইড্রোস্ট্যাটিক ভারসাম্যে পৌঁছাতে হবে, মানে এটি মোটামুটি গোলাকার হওয়া প্রয়োজন। এবং পরিশেষে, প্রধান মহাকর্ষীয় বস্তু হয়ে কক্ষপথ পরিষ্কার রাখতে হবে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
পৃথিবীর মতো দেখতে এই গ্রহ থেকেই আসছে রহস্যময় তরঙ্গ! শেষ হবে প্রাণের সন্ধান?

Mysterious Signal from Earth Like Planet : সেখানেও ঘুরে বেড়াচ্ছে আমাদেরই মতো অজানা প্রাণীরা? আপাতত সেই সম্ভাবনার দিকেই নজর রাখছেন বিজ্ঞানীরাও।

তাহলে কেন প্লুটো বাদ পড়ল?

প্লুটো এই তৃতীয় কাজটি করে না। প্লুটোর কক্ষপথ স্পষ্ট নয়, প্লুটো আংশিকভাবে নেপচুনের সঙ্গে এর কক্ষপথটি ভাগ করে নেয়। কিন্তু প্লুটোপন্থীরা দাবি করেন যে, পৃথিবী, মঙ্গল, বৃহস্পতি এবং নেপচুনের কক্ষপথও সাফ নয়। কিন্তু যদি আমরা চাঁদকে বাদ দিই, পৃথিবী তার কক্ষপথ অতিক্রমকারী অন্যান্য গ্রহাণুগুলির তুলনায় ১.৭ মিলিয়ন গুণ বেশি ভারী। প্লুটো তাদের থেকে মাত্র ০.০৭ গুণ ভারী। বিজ্ঞানীরা একমত হলেন। এতকাল ধরে সংসারে থাকা ছোট সন্তানটিকে বাদ দিলেন। গ্রহের শ্রেণিবিন্যাসে বিরাট পরিবর্তন ঘটল সেবার। প্লুটোকে দু'টি নতুন শ্রেণির বস্তুর প্রথম উদাহরণ হিসাবে দেখা হতে থাকল। অর্থাৎ প্লুটোই হয়ে উঠল প্রথম বামন গ্রহ এবং প্লুটয়েড।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
সত্যিই অন্য গ্রহে যাওয়া যায় এই রহস্যময় আলো পেরিয়ে? মেরুপ্রভার আসল সত্যিটা কী?

Northern lights or Aurora Borealis: এর সৃষ্টির প্রকৃত কারণ ও কেন সময়ের সঙ্গে এরা বদলে যায়- সেসব কারণ খুঁজতে বছরের পর বছর ধরে গবেষণা চলেছে।

তবে বিতর্কের ওপ্রান্তে থাকা বিজ্ঞানীরা বলতে থাকলেন, সংজ্ঞাটি নিখুঁত নয় মোটেও। গ্রহগুলিকে আমরা কেবল গ্রহ হিসাবে দেখি না, মাঝেসাঝেই অতিরিক্ত বিশেষণ দিয়ে সেই গ্রহের সংজ্ঞা নির্ধারিত করা হয়। গ্রহকে পাথুরে, গ্যাসীয় দৈত্য, বরফ দৈত্য ইত্যাদি নামেও ডাকা হয়। তাই হয়তো বামন শব্দটিও একদিন 'গ্রহ' সংজ্ঞার বিবেচনায় আসতেই পারে। বামনগ্রহকে ভিন্ন বস্তু হিসেবে না দেখে 'গ্রহ'-র একটি উপশ্রেণি ভাবা যেতে পারে। ২০১৫ সালে প্লুটো পরিদর্শনকারী নিউ হরাইজনসের প্রধান বিশ্লেষক অ্যালান স্টার্নের কথা মাথায় রেখেই এই শব্দটি তৈরি করা হয়েছিল। স্টার্ন আসলে প্লুটোকে আবার গ্রহ হওয়াতেই চায়।

প্লুটো যে এত অদ্ভুত তার নেপথ্যে আরও কিছু কারণ আছে। এর পাঁচটি চাঁদের একটিও আসলে বামন গ্রহকে প্রদক্ষিণ করে না। তারা সবাই প্লুটোর বাইরের একটি বিন্দুকে প্রদক্ষিণ করে এবং এর সবচেয়ে বড় চাঁদ ক্যারনই এর জন্য দায়ী। ক্যারনের ব্যাস প্লুটোর প্রায় অর্ধেক এবং এর ভরের প্রায় এক-অষ্টমাংশ। এটি এত বড় যে এই পথের ব্যারিসেন্টার, মানে যে বিন্দুটির চারপাশে একটি কক্ষপথে রয়েছে, আসলে প্লুটোর পৃষ্ঠ থেকে ৯৬০ কিলোমিটার দূরে। এটি সত্যিই বামন গ্রহ থেকে অনেক দূরে, এটির ব্যাসার্ধের প্রায় ৮৩ শতাংশ।

আমাদের সৌরজগতে আর নয়টি গ্রহ হবে না। এর কারণ এরিস। এরিস একটি বামন গ্রহ যার নাম স্ট্রাইফ অ্যান্ড ডিসকর্ডের দেবীর নামে দেওয়া হয়েছে। এটি প্লুটোর চেয়ে বেশি বৃহদায়তন এবং সামান্য ছোট। তাহলে যদি প্লুটো এককালে গ্রহ হতে পারে, এরিস কেন নয়? মাইক ব্রাউন, চ্যাড ট্রুজিলো এবং ডেভিড রবিনোভিটস এই এরিসকে আবিষ্কার করেন এবং একে দশম গ্রহ বলে অভিহিত করা হয়।

IAU ঠিক পরের বছরই নয়া রেজোলিউশন নেয়। তাতে আমাদের সৌরজগতে আটটি গ্রহ আছে বলা হয়। তবে বামন গ্রহ সেরেস, প্লুটো, এরিস, হাউমিয়া এবং মেকমেককে যোগ করে আমাদের সব মিলে অন্তত ১৩টি গ্রহ আছে। বিজ্ঞানীদের অনুমান সূর্য থেকে অনেক দূরে একটি বিশাল বড় গ্রহ রয়েছে যা আমরা এখনও দেখিনি। অধরা এই নবম প্ল্যানেটের অনুসন্ধান চলছে।

লিখেছেন
Madhurima Dutta
Madhurima Dutta
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

AI-এর যুগে মানুষ কি নিজের বুদ্ধিটাই মেশিনের হাতে তুলে দিচ্ছে?

Artificial Intelligence: ছোটবেলায় অনেকেই ভাবত রোবট এসে মানুষের কায়িক শ্রমের কাজগুলি করে দেবে। মানুষ অবসর পেয়ে গান শুনবে, কবিতা লিখবে কিংবা বারান্দায় বসে কফি খাবে। বাস্তবে দেখা গেল ঠিক তার উল্টো চিত্র। রোবট এখন কবিতা লিখছে, ছবি আঁকছে আর কোড তৈরি করছে। অন্যদিকে মানুষ সকাল থেকে রাত ল্যাপটপের সামনে বসে শিখছে প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং।

মহাকাশে রওনা নাসার টেলিস্কোপের, বদলে দিতে পারে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি?

NASA’s Roman Space Telescope: নাসার নতুন ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ বদলে দেবে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি? হাবল ও জেমস ওয়েবের পর কেন প্রয়োজন হলো এই নতুন মহাকাশ-চোখের? ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জি, গ্যালাক্সি ও এক্সোপ্ল্যানেট সম্পর্কে কি নতুন তথ্য দেবে রোমান? মহাবিশ্বের প্রসারণের ইতিহাস বুঝতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে এই অত্যাধুনিক টেলিস্কোপ?

সৌরপৃষ্ঠ আসলে কেমন? ৩৩ বছর পর মিলল উত্তর

Sun’s surface mystery: সূর্যের পৃষ্ঠকে এতদিন দূর থেকে তুলোর মতো নরম ও শান্ত দেখালেও, তা কি সত্যিই এমন? বিশ্বের বৃহত্তম সৌর টেলিস্কোপ ড্যানিয়েল কে ইনোয়ের তোলা সর্বোচ্চ-রেজোলিউশনের ছবিতে দেখা গেল ছোট ছোট হিংস্র প্লাজমার ঘূর্ণি। ৩৩ বছর আগে করা জোয়ান কার্পেনের সেই ভবিষ্যদ্বাণী কি অবশেষে সত্যি প্রমাণিত হলো? এই আবিষ্কার কি বদলে দেবে সৌরপৃষ্ঠ সম্পর্কে ধারণা?

৩ অগাস্ট থেকে বদলে যাচ্ছে শেয়ার বাজারের নিয়ম!

Stock Market India: নতুন ব্যবস্থার অধীনে শেয়ার বাজার বন্ধের সময়কে তিনটি আলাদা অংশে ভাগ করা হয়েছে। তবে নন-এফএন্ডও (Non-F&O) স্টকগুলির ক্ষেত্রে আগের মতোই বিকেল ৩:৩০টা পর্যন্ত স্বাভাবিক লেনদেন চালু থাকবে, এতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। কিন্তু এফএন্ডও স্টকগুলির ক্যাশ মার্কেটে প্রতিদিন একটানা লেনদেন চলবে বিকেল ৩:১৫ মিনিট পর্যন্ত।

আইআইটি-র দুই প্রাক্তনীর বৈদ্যুতিক কৃষিযন্ত্রে একরপ্রতি খরচ মাত্র ৪০ টাকা

Electric Power Tiller: বাজারে যেসব ট্র্যাক্টর পাওয়া যায়, তা হয় বিশাল বড় জমির উপযোগী, না হয় কেনা ও চালানো দুটোই খুব ব্যয়বহুল। ভারতে ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ কৃষকের জমিই ছোট ও খণ্ড-বিখণ্ড, যেখানে বড় যন্ত্র ঢোকানোই সম্ভব নয়। আবার চিন থেকে আমদানি করা ছোট ছোট সস্তা মেশিনগুলিতে যন্ত্রাংশ ও সার্ভিসিংয়ের চূড়ান্ত সমস্যা তৈরি হয়। তাই বিদেশ থেকে আমদানির কথা না ভেবে, আইআইটি বোম্বের দুই প্রাক্তনী ঐশ্বর্য রামকৃষ্ণন ও কেদার গোখলে সিদ্ধান্ত নেন খাঁটি দেশীয় প্রযুক্তিতে ভারতের মাটির উপযোগী সমাধান তৈরি করার।

মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেও উষ্ণ থাকে সোনাম ওয়াংচুকের বাড়ি

Sonam Wangchuk House: সোনম ওয়াংচুক মানেই পাহাড়ঘেরা লাদাখের ছবি, বরফে ঢাকা জীবন আর নতুন এক ভাবনার আলো। পেশায় তিনি একজন প্রকৌশলী, শিক্ষাবিদ এবং উদ্ভাবক। কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে তিনি যেন রূপকথার সেই মানুষটি, যিনি পাহাড়ের রুক্ষ জীবনের কঠিন সমস্যাগুলিকে বিজ্ঞানের সহজ ছোঁয়ায় অত্যন্ত সহজ করে তুলেছেন।

মহাকাশে মিলল চিনির সন্ধান, কেন গুরুত্বপূর্ণ এই আবিষ্কার?

natural sugar in space: ছায়াপথের কেন্দ্রের একটি আণবিক মেঘে প্রথমবারের মতো প্রকৃত মনোস্যাকারাইড ‘এরিথ্রুলোজ’-এর সন্ধান পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। এই আবিষ্কার জানাচ্ছে, নক্ষত্র ও গ্রহ তৈরির আগেই মহাকাশে জটিল জৈব অণু তৈরি হতে পারে। ফলে পৃথিবীতে প্রাণের উৎপত্তি এবং মহাবিশ্বে জীবনের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে গবেষণার আগ্রহ বেড়েছে।

কর্মদক্ষতা মাপল এআই, চাকরি হারালেন কর্মীরা? মেটার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মামলা

Meta mass layoffs: কর্মীদের ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত কি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নেবে? মেটার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় অভিযোগ, এআই-নির্ভর মূল্যায়নের কারণে মাতৃত্বকালীন ও চিকিৎসাজনিত ছুটিতে থাকা কর্মীরা অন্যায্যভাবে চাকরি হারিয়েছেন।