বিজেপির সব হিসেব ঘেঁটে দিচ্ছেন রাহুল! কোন কৌশলে মোদিকে ঘাবড়ে দিচ্ছেন 'পাপ্পু'?

Rahul Gandhi: নরেন্দ্র মোদি পরের নির্বাচনে আর প্রতিদ্বন্দ্বিতা নাও করতে পারেন। সেক্ষেত্রে বিজেপিতে নেতৃত্বের সাময়িক শূন্যতা তৈরি হবেই

Sambit Pal
৫ মিনিট
বিজেপির সব হিসেব ঘেঁটে দিচ্ছেন রাহুল! কোন কৌশলে মোদিকে ঘাবড়ে দিচ্ছেন 'পাপ্পু'?

গান্ধিজির অহিংস সত্যাগ্রহ আন্দোলন সফল হওয়া নিয়ে একটি তত্ত্ব রয়েছে। যুদ্ধপ্রিয় ইংরেজদের কাছে এমন অহিংস আন্দোলন সিলেবাসের বাইরে ছিল। আপনি যখনই প্রতিপক্ষকে চেনা ছকের বাইরে নিয়ে যাবেন, তখনই সেই প্রতিপক্ষ খানিকটা হকচকিয়ে যাবে। গান্ধিজি ঠিক এটাই করেছিলেন। এমন অসহযোগ, সত্যাগ্রহ আন্দোলন ইংরেজরা প্রত্যাশা করেনি। ফলে তারা প্রথমে ঘাবড়েই গিয়েছিল। গান্ধি সাফল্য পেয়েছেন।

রাহুল গান্ধি অবশ্যই মহাত্মা গান্ধি নন কিন্তু সম্প্রতি তিনি শাসক শিবিরকে বার বার চেনা ছকের বাইরে নিয়ে গিয়ে ফেলছেন। সিলেবাসের বাইরে গিয়ে বিজেপির পক্ষে রাহুলের মোকাবিলা করা অনেক সময়েই মুশকিল হচ্ছে, অন্তত এখনও পর্যন্ত।

এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, রাহুল গান্ধি কংগ্রেস বা ইন্ডিয়া জোটকে সরকারে আনতে পারেননি। এ কথাও ঠিক যে রাহুলের দলের কাছে লোকসভায় মাত্র ৯৯টি আসন, যেখানে শুধু বিজেপির কাছেই ২৪০জন সাংসদ। বিজেপি একাই যেখানে প্রায় ৩৭ শতাংশ ভোট পেয়েছে এবারের নির্বাচনে, সেখানে কংগ্রেসের ভোট মাত্র ২১ শতাংশ। সুতরাং সংখ্যার বিচারে বিজেপি কংগ্রেসের থেকে এগিয়ে রয়েছে। ৫৪৩-এর মধ্যে ৯৯ পাওয়া কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধিকে নিয়ে নরেন্দ্র মোদি সংসদের মধ্যেই উপহাস করেছেন। মনে করিয়ে দিতে চেয়েছেন আগের নির্বাচনের থেকে ২০২৪ সালে তিনি ৬০টির মতো কম আসন পেলেও, চালকের আসনে তিনিই আসীন।

ঠিক। কিন্তু তিনি স্বীকার করুন বা না করুন, এই নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদির এবং বিজেপির যে নৈতিক পরাজয় হয়েছে, তা উপহাসে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। আর এই নৈতিক পরাজয়ে বিভিন্ন রাজ্যের বিজেপি-বিরোধী আঞ্চলিক দলগুলির মতোই রাহুল গান্ধির ভূমিকা রয়েছে। ছক ভাঙা খেলাতেই নৈতিক জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন রাহুল। আর ছক ভাঙা খেলাতেই বিজেপিকে বিপাকে ফেলছেন তিনি। 'আপ ক্রনোলজি সামঝিয়ে'!

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কোন পথে মণিপুর সমস্যার সমাধান? দিনভর সফর শেষে উপায় বাতলালেন রাহুল

Rahul Gandhi at Manipur: দিনভর মণিপুর সফরের পর রাহুল জানান, তিনি এ নিয়ে তৃতীয়বার মণিপুরে এলেন। তাঁর কথায়, "ভেবেছিলাম পরিস্থিতির উন্নতি দেখব। কিন্তু দুঃখের বিষয়, কোনো উন্নতি চোখে পড়ল না।"

২০১৪ এবং ২০১৯-এ রাহুল বনাম মোদির লড়াইয়ে গোহারা হেরেছিলেন রাহুল গান্ধি। নিজের দোষেই তিনি 'পাপ্পু' তকমা জুটিয়েছিলেন নিজের জন্য। মাঝেমাঝেই ছুটি কাটাতে বিদেশে চলে যাওয়ার জন্য 'যাযাবর রাজনীতিক' হিসেবেই পরিচিত হয়েছিলেন রাহুল। আর কংগ্রেসের সভাপতির পদ ছাড়ার পরে দলের কোনও দায়িত্বে না থাকতে চাওয়া বা সংসদেও দলের নেতার পদ না নেওয়ার মধ্যে দিয়ে তিনি যেন দায়িত্ব থেকে দূরে থাকতে চান বলে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে বারেবারে। বিজেপি কেন, বিজেপি-বিরোধী দলগুলিও রাহুলকে গুরুত্ব দিতে নারাজ ছিল।

যাঁর বা যাঁদের পরামর্শেই হোক রাহুল গান্ধি নিজেকে বদলেছেন ধীরে ধীরে। তাঁর প্রথম পদক্ষেপ যদি দু'টি ভারত-জোড়ো যাত্রা হয়, তবে দ্বিতীয় পদক্ষেপ হলো, নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সরাসরি ব্যক্তিত্বের লড়াইয়ে না গিয়ে পুরো আলেখ্য আদর্শগত এবং ইস্যুভিত্তিক লড়াইয়ে নিয়ে যাওয়া।

রাহুল নিজেও জানতেন, গোটা ভারত জুড়ে জনপ্রিয়তার বিচারে তিনি নরেন্দ্র মোদির ধারে কাছে আসতে পারবেন না। এবারের নির্বাচনে প্রথম ছক তিনি এটাই ভেঙেছিলেন। নিজের ইমেজ তৈরি করে, রাস্তায় রাস্তায় হেঁটে তিনি রাজনীতির বাইরে গিয়ে তাঁর আদর্শগত লড়াইয়ের কথা বলেছেন। হিন্দুত্ব জাতীয়তাবাদের বিরুদ্ধে সাংবিধানিক বহুত্ববাদের কথা বলেছেন। মুষ্টিমেয় পুঁজিপতির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ভালো থাকার বিষয়কে সামনে এনেছেন। ঘূণার রাজনীতির বিরুদ্ধে ভালোবাসার রাজনীতির কথা বলেছেন। সেখানে নিজের দলের সবাইকে পাশে পাননি। অনেক সতীর্থ দল ছেড়ে চলে গেছেন। তিনি তাঁদের আটকানোর চেষ্টাও করেননি। নিজের পথে অটল থেকেছেন।

নির্বাচনের আগে ইন্ডিয়া জোট নিয়েও একইরকম অবস্থান নিয়েছেন তিনি। দ্বিতীয় শক্তি হিসেবে উত্তরপ্রদেশে ও তামিলনাড়ুতে শক্তপোক্ত জোট করলেও তৃণমূলের সঙ্গে জোট করেননি। নিজের শর্তে ও পথে অনড় না থাকলে রাহুল যেনতেন প্রকারেণ তৃণমূলের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে জোট করেই ফেলতেন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
রাহুলের চাপে দিশেহারা মোদির একমাত্র হাতিয়ার অম্বেদকর, এমারজেন্সি?

Modi in Parliament: মঙ্গলবার ভাষণ দিতে গিয়ে মোদি বলেন, ‘‘এটা জরুরি অবস্থার ৫০ বছর। ক্ষমতাসীন শাসকের স্বৈরাচারী মানসিকতার কারণেই জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছিল। কংগ্রেস নির্দয়তার সব সীমা লঙ্ঘন করে গিয়েছিল সে সময়।

নির্বাচনী প্রচারে পিছিয়ে পড়া জাতির মানুষের সামনে আনার চেষ্টা, দেশের সম্পদের সুষম বণ্টন, বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধির মতো ইস্যুগুলিকে সামনে এনেছেন। নিজেকে নরেন্দ্র মোদির সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে তুলে ধরেননি। ফলে মোদির '৫৬-ইঞ্চি ছাতির' ইমেজ ও হিন্দু জাতীয়তাবাদের চেনা ছক উল্টে গেছে। মোদির হিন্দুত্বের বার্তা শুধু কিছু পকেটেই কাজ করেছে, সারা ভারত জুড়ে করেনি। এমনকী, উত্তরপ্রদেশেও হিন্দু-জাতীয়তাবাদের আলেখ্য কাজ করেনি।

যে মূলধারার মিডিয়া রাহুলকে গত দশ বছর শুধু আক্রমণই করে গেছে, সেই মূলধারার মিডিয়ার উপর রাহুল ভরসাই করেননি। বিকল্প মিডিয়া বেছে নিয়েছেন মানুষের কাছে বার্তা পৌঁছনোর জন্য। গোটা নির্বাচন পর্বে যখন নরেন্দ্র মোদি একের পর এক টিভি চ্যানেলে সাক্ষাৎকার দিয়ে চলেছেন, তখন রাহুল কিন্তু নিজেকে প্রচারের আলোয় রেখেছেন শুধু বিকল্প ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে। এখানেও তিনি ছক ভেঙেছেন।

নবনির্বাচিত লোকসভায় রাহুল গান্ধি দায়িত্ব নিতে পিছপা হননি। নির্বাচন শেষ হতে না হতেই রাহুল ইতালিতে ছুটি কাটাতে চলে যাবেন বলে যখন প্রচার হচ্ছিল, তখন তিনি বিরোধী জোটকে এক করা এবং নিজের দলের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়াতে প্রত্যক্ষ ভূমিকা নিয়েছেন। অনেকে যখন মনে করছিলেন যে রাহুল গান্ধি দায়িত্ব ছাড়াই ক্ষমতা ভোগ করতে ভালবাসেন, তিনি তখন লোকসভায় বিরোধী দলনেতার পদটি গ্রহণ করে সমালোচকদের মুখ বন্ধ করেছেন। নতুন লোকসভার প্রথম ভাষণে তিনি নিজের মতো করে সব ধর্মের অহিংস ভাবটি নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছেন ঠিকই কিন্তু তাঁর বক্তৃতার মাঝে প্রধানমন্ত্রী-সহ দুই প্রবীণ কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকেও দাঁড় করিয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে বাধ্য করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যদিও এখনও তাঁর চেনা ছকেই খেলার চেষ্টা করছেন। নিজেকে শক্তিশালী নেতা ও রাহুলকে 'বালকবুদ্ধি' বলে লড়াইয়ের সুর বাঁধতে চাইছেন কিন্তু সেই চেনা ছক বিশেষ কাজে লাগছে না।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ইন্দিরার জরুরি অবস্থার বিরোধিতা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন RSS পরিচালক

50 Years of Emergency: এই চিঠি এখনও দেখতে পাওয়া যায় মধুকর দেওরাসের নিজের লেখা, ‘হিন্দু সংগঠন অউর সত্তাবাদী রাজনীতি’ বইটির পরিশিষ্ট অংশে।

রাহুল গান্ধি এর আগেও মণিপুর গেছেন, কৃষক-ক্ষেতমজুরদের মাঝে গেছেন, বাজারে গিয়ে মুটে-মজদুরদের সঙ্গে কথা বলেছেন কিন্তু এখন লোকসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে তাঁর এই ছোট ছোট সফর বড় হয়ে উঠছে। আরও বড় হবে। বিরোধীরা প্রধানমন্ত্রীকে সংসদে মণিপুর নিয়ে মুখ খুলতে বাধ্য করেছে। এবার প্রধানমন্ত্রীকেও রাহুলের আলেখ্যর সঙ্গে তাল মেলাতে হবে। যদিও এখনও পর্যন্ত তিনি 'ভাঙব কিন্তু মচকাব না' অবস্থানই নিয়ে রেখেছেন।

তবে এখনই রাহুলকে ভবিষ্যতের প্রধানমন্ত্রী বা তিনি নরেন্দ্র মোদিকে পর্যুদস্ত করে দিয়েছেন — এমন বলার মতো জায়গা আসেনি। তিনি খুব সরু দড়ির উপর দিয়ে হাঁটছেন।

প্রথমত তিনি বিরোধী দলনেতা হিসেবে নিজেকে যতটা প্রচারের আলোয় রাখবেন ততই 'মোদি বনাম রাহুল' — এই চেনা আলেখ্য ফিরে আসবে। তুল্যমূল্য বিচারে তিনি নরেন্দ্র মোদিকে জনপ্রিয়তায় পিছনে ফেলে এগিয়ে যেতে পারবেন কিনা, তা নিয়ে এখনই মন্তব্য করার সময় আসেনি। কিন্তু বিরোধী দলনেতা হওয়ার পর তাঁর যেখানে সেখানে ছুটে যাওয়ার মাধ্যমে তিনি 'জনগণেরই নেতা' প্রমাণ করার চেষ্টায় থাকবেন রাহুল। অন্তত তাঁর ম্যানেজারেরা সেই চেষ্টাই করবেন।

দ্বিতীয়ত, তিনি সাংবিধানিক জাতীয়তাবাদকে পিছনে রেখে হিন্দুত্বের এক অন্য আলেখ্য তৈরির চেষ্টা করেছেন সংসদে দাঁড়িয়ে। বিজেপি যে সব হিন্দুদের প্রতিনিধিত্ব করে না এবং হিন্দুত্ব যে অহিংস, তা বোঝানোর চেষ্টা করতে গিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছেন। বিজেপি-আরএসএসের কাছে এটি একটি প্রিয় বিষয়। তিনি তাঁর গড়া হিন্দুত্বের ব্যাখ্যা দিয়ে সংঘ পরিবারের কঠিন আদর্শগত হিন্দুত্বের মোকাবিলা কীভাবে করবেন সেটা দেখতে হবে। কাজটি সহজ নয়।

তবে যেটা অনুমেয় তা হলো, নরেন্দ্র মোদি পরের নির্বাচনে আর প্রতিদ্বন্দ্বিতা নাও করতে পারেন। সেক্ষেত্রে এমন একজন শীর্ষ ও শক্তিশালী নেতার অনুপস্থিতিতে বিজেপিতে নেতৃত্বের সাময়িক শূন্যতা তৈরি হবেই। অমিত শাহ বা যোগী আদিত্যনাথকে দিয়ে বা হঠাৎই অন্য কাউকে সামনে এনে সেই শূন্যস্থান পূরণ করা বেশ কঠিন কাজ। অটলবিহারী বাজপেয়ীর পরে লালকৃষ্ণ আডবানিও সেই কাজটি ঠিক মতো করতে পারেননি। সেক্ষেত্রে রাহুল গান্ধির কাজটি সহজ হতে পারে।

কিন্তু এটাও মনে রাখতে হবে যে, রাহুল গান্ধি এখনও কংগ্রেসের একক শক্তিতে বিজেপিকে ছাপিয়ে যাওয়ার অবস্থায় নেই। সুতরাং তাঁকে ইন্ডিয়া জোটের ছায়াতেই থাকতে হবে। অবশ্যই যদি তিনি সরকার গড়ার স্বপ্ন দেখেন। সুতরাং শরিকদের সঙ্গে সদ্ভাব রেখে জোটধর্ম পালন তাঁকে করতেই হবে। সেখানে তাঁর 'কে থাকল বা কে গেল কুছ পরোয়া করি না' মনোভাব কাজে দেবে না।

তবে ১০ বছর পরে ভারতে বিরোধী জোট অনেক বেশি শক্তিশালী হয়েছে। আশা করা যায় রাহুল গান্ধিও ভারতের রাজনীতিকে চেনা ছকের বাইরে নিয়ে যেতে পারবেন। তবেই জমবে রাজনৈতিক খেলা। আপাতত বিজেপি রাহুল গান্ধিকে গিলতেও পারছে না আবার ফেলতেও পারছে না।

লিখেছেন
Sambit Pal
Sambit Pal
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আপত্তি, ১০ মাসে দুই কমিশনারের ১৪ বার প্রশ্ন

Election Commission SIR: এসআইআর ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন বলে দাবি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ফর্ম ৬ বদল, ভোটার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীয়করণ, পশ্চিমবঙ্গের আপিল এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি ফের আলোচনায়।