মাকড়সা দেখলেই পিটিয়ে মারছেন? কখনই বাড়ির মাকড়সা মারা উচিত নয় কেন জানেন?

Helpful Spiders at Home: মাকড়সা কিন্তু সাধারণত মানুষকে এড়িয়ে চলতেই পছন্দ করে। উল্টে মানুষই মাকড়সাদের জন্য অনেক বেশি বিপজ্জনক।

inscript
৩ মিনিট
মাকড়সা দেখলেই পিটিয়ে মারছেন? কখনই বাড়ির মাকড়সা মারা উচিত নয় কেন জানেন?

বাড়িতে, আপনি একা নন কখনই। না, পরিবারের মানুষ সদস্যদের কথা হচ্ছে না, এমনকী পোষ্যের কথাও না। আপনি ছাড়াও আপনার ঘরে কোণায় কোণায় রয়েছে এই প্রাণী জগতের বিবিধ প্রজাতি। নানা প্রকার কীটপতঙ্গ আপনার অনুমতি ছাড়াই থাকে আপনার ঘরে, বাথরুমেও আপনার গোপনীয়তা রক্ষা করতে দেয় না তারা। আপনি ভয় পান, বিরক্ত হন, ঘেন্নায় পিত্তি জ্বলে যায়। রাগে চটি ছুঁড়ে মারেন, কিছুতেই বাগে না আনতে পারলে ঝাঁটা, তাতেও কাজ না হলে উৎকৃষ্ট কীটনাশক। তবে আপনি কি জানেন, বাড়িতে কখনই মাকড়সা মারা উচিত না!

কেন এমন? মাকড়সা প্রকৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং আমাদের অভ্যন্তরীণ বাস্তুতন্ত্রের এক চরম গুরুত্বপূর্ণ জীব। মাকড়সা বিষাক্ত, মানুষ ভয়ও পায়। তাহলে হঠাৎ মাকড়সার ক্ষেত্রে এমন নরমভাবাপন্ন কেন হতে হবে মানুষকে? মানুষ মনে করে বাইরের বিশ্ব থেকে, তাদের নিজ নিজ বাসস্থানগুলি নিরাপদ। বহির্বিশ্বের যাবতীয় বিষাক্ত বিষয় থেকে নিরোধক হিসাবে কাজ করে তাদের ঘর। এই বিষমুক্ত, নিরাপদ ঘরেই অনেক ধরনের মাকড়সা পাওয়া যায়। কেউ কেউ দুর্ঘটনাক্রমে ঘরে চলে এসে আটকা পড়েছে, কেউ কেউ আবার স্বল্পমেয়াদি দর্শক হিসেবে রয়েছে। এদের মধ্যে অনেকেই আপনার বাড়িটি ভালোবেসে ফেলে। বাড়ির ভেতরে চুটিয়ে জীবনযাপন করে এবং আরও আরও মাকড়সার জন্ম দেয়। এই মাকড়সাগুলি সাধারণত আপনাকে তত ঘাঁটায় না, এরা কেউই আক্রমণাত্মক বা বিপজ্জনক নয়। উল্টে, এরা অন্য কীটপতঙ্গ খেয়ে আপনার নিরাপত্তাকে নিশ্চিত করে। কোনও কোনও মাকড়সা আবার অন্য মাকড়সাকেও খেয়ে নেয়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ব্ল্যাক উইডোকে গুঁড়ো করে নেশা! ভয়াবহ যে আসক্তি কাঁপিয়ে দিয়েছিল বিশ্বকে...

Black Widow Spider Drugs: ওই মহিলা ব্ল্যাক উইডো মাকড়সার দেহ গুঁড়ো করে ১০ মিলিলিটার পাতিত জলে মিশিয়ে তারপর ইনজেকশনে ভরে দেহে নেন।

উত্তর ক্যারোলিনার ৫০টি বাড়ির একটি সমীক্ষা করেন গবেষকরা, আমাদের বাড়ির মধ্যে, আমাদেরই সঙ্গে কোন কোন ধরনের মাকড়সা থাকে তার জন্য। গবেষকরা দেখেন, প্রত্যেকটি বাড়িতেই মাকড়সা রয়েছে এবং এদের সবচেয়ে সাধারণ প্রজাতিটি হচ্ছে কবওয়েব মাকড়সা এবং সেলার মাকড়সা। এই দুই ধরনের মাকড়সাই জাল তৈরি করে শিকার ধরার অপেক্ষায় থাকে। সেলার মাকড়সা কখনও কখনও তাদের জাল ছেড়ে নিজে শিকারের ছদ্মবেশে অন্য মাকড়সা শিকারের জন্য তাদের মাঝখানেও চলে যায়। বেশভূষা বদলে স্বজাতির ঘাড় মটকে খেয়ে আবার নিজ বাসায় ফিরে আসে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
তিনটি গিঁটে ষোলোটি খুন! কীভাবে 'স্পাইডার কিলার' হয়ে উঠেছিল এই 'আম আদমি'?

Spider Killer of Iran: বারো নম্বর খুনের পরে, রুক্ষ ইরানে বহুদিন পরে বৃষ্টি নেমেছিল। সাইদ ভেবেছিল, এ আসলে খোদার সমর্থন।

মাকড়সা খুবই সাধারণ শিকারী। যা খেতে উপযুক্ত, মাকড়সা তাই শিকার করে। তবে মাকড়সা নিয়ে বিবিধ গবেষণা বলছে, মাকড়সা নিয়মিতভাবে উপদ্রবী পোকামাকড় এবং রোগ বহনকারী পোকামাকড় ধরতে পারে বেশি, যার সবচেয়ে সহজতম উদাহরণ হচ্ছে মশা। এমনকী এমন এক প্রজাতির জাম্পিং স্পাইডার আছে যা সাধারণত আফ্রিকার বাড়িতেই মেলে, এরা রক্তে ভরা মশা খেতে পছন্দ করে। তাই মাকড়সাকে হত্যা করলে আখেরে আপনার ক্ষতিই। মাকড়সা আপনার অজান্তেই বাড়ির বিষাক্ত অন্য কীটপতঙ্গকে নির্মূল করে৷

হ্যাঁ, মাকড়সাকে ভয় পাওয়া স্বাভাবিক। এতগুলি ল্যাকপ্যাকে পা দেখে ঘাবড়ে যান অনেকেই। প্রায় সব মাকড়সাই বিষাক্ত, যদিও বেশিরভাগ প্রজাতির বিষই মানুষের দেহে তেমন কোনও সমস্যা সৃষ্টি করতে পারেই না। কীটতত্ত্ববিদরাও অনেকে আরাকনোফোবিয়ার (মাকড়সার ভয়) শিকার। তবে দীর্ঘদিন এই প্রাণীদের পর্যবেক্ষণ করে এবং কাজ করে তাঁরা ভয় কাটিয়ে উঠেছেন।

মাকড়সা যে আপনাকে দেখেই ঝাঁপিয়ে পড়ে এমন না। মাকড়সা কামড়ালেই আপনি তরতরিয়ে দেওয়াল বেয়ে উঠতে পারবেন, বা জাল ছুঁড়তে পারবেন তাও না। মাকড়সা কিন্তু সাধারণত মানুষকে এড়িয়ে চলতেই পছন্দ করে। উল্টে মানুষই মাকড়সাদের জন্য অনেক বেশি বিপজ্জনক। মাকড়সার কামড় অত্যন্ত বিরল। উইডো মাকড়সা এবং রেক্লুসের মতো কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রজাতি রয়েছে, তবে তাদের কামড়ও অস্বাভাবিক এবং খুব কমই সমস্যা সৃষ্টি করে।

তাই মাকড়সাকে আপনার বাড়ি, ফ্ল্যাট, গ্যারেজে বা যেখানেই দেখুন না কেন, রে রে করে তেড়ে যাবেন না। মেরে ফেলার পরিবর্তে তাকে ধরে রাখারই চেষ্টা করুন এবং পারলে বাইরে ছেড়ে দিন। ও অন্য কোথাও চলে যাবে, আপনারও মঙ্গল, তারও ভালো।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

জলবায়ু বদলেছে, নদীর প্রবাহ বদলেছে: ৩০ বছরের পুরনো ভারত-বাংলাদেশ গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তিতে কোন কোন পরিবর্তন দরকার?

A Flawed Pact of Farakka: ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে ১৯৯৬ সালের গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তির ৩০ বছরের মেয়াদ। বাংলাদেশের নদী বিশেষজ্ঞ মনজুর এ চৌধুরীর মতে, চুক্তিটি 'ত্রুটিপূর্ণ', এতে নেই গ্যারান্টি ক্লজ, নেই পরিবেশগত প্রবাহের হিসাব, নেই জলবায়ু পরিবর্তনের বিধান। তাঁর প্রস্তাব, তিন বছরের নতুন অন্তর্বর্তী চুক্তি হোক, তারপর নেপালকে যুক্ত করে তৈরি করা হোক ত্রিপাক্ষিক কাঠামো।

থালায় খাবার, নাকি বিষ? খাদ্যব্যবস্থার ভিতরে যেভাবে ঢুকছে কীটনাশক ও কর্পোরেট নিয়ন্ত্রণ

Poison on the Plate: বায়ার-মনসান্টো ও সিনজেনটার মতো 'বিগ সিক্স' কর্পোরেটের নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছে বিশ্বের বীজ বাজার। ২০২৩ সালে ভারতে ১০,৭৮৬ জন খাদ্য উৎপাদক কৃষক ও কৃষিশ্রমিকের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। ২৮ শতাংশ খাদ্য নমুনায় কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ পাওয়া যাচ্ছে। কৃষিকাজে ব্যবহৃত গ্লাইফোসেটকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ক্ষতিকারক ‘সম্ভাব্য কার্সিনোজেন’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, তবুও এর ব্যবহার থামেনি। অন্যদিকে, প্রচারের অন্তরালে সিকিম আমাদের দেশের প্রথম শতভাগ জৈব কৃষির রাজ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। সারা বিশ্বজুড়ে কৃষিবিদ বন্দনা শিবার ‘পয়জন-ফ্রি ফুড অ্যান্ড ফার্মিং ২০৩০’ অভিযানের ডাক আমাদের খাবারের থালাকে বিষমুক্ত করার আহ্বান জানাচ্ছে।

তেলের বদলে বিদ্যুৎ! আরব সাগরের তলায় ভারত-সৌদির ৯ বিলিয়ন ডলারের মহাপ্রকল্প

India Saudi Arabia submarine power link: আরব সাগরের তলদেশ দিয়ে ভারত ও সৌদি আরবের মধ্যে প্রস্তাবিত ২১০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সাবমেরিন বিদ্যুৎ সংযোগের একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হচ্ছে, যার ক্ষমতা থাকবে ৩ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের। প্রযুক্তি হিসাবে ব্যবহৃত হবে HVDC, এর ফলে প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ বিলিয়ন ডলার। আজ, ৫ অক্টোবর, দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে আলোচনা হবে প্রকল্পটির ব্যয় কমানো, অর্থায়ন মডেল ও ঝুঁকি ভাগাভাগি নিয়ে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, ভারতের ওয়ান সান ওয়ান ওয়ার্ল্ড ওয়ান গ্রিড প্রকল্প ও জি-২০ তে প্রস্তাবিত ইন্ডিয়া-মিডল ইস্ট-ইউরোপ ইকোনমিক করিডোরের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ এই প্রকল্পটিকে চিনের বেল্ট এন্ড রোড ইনিশিয়েটিভের বিকল্প হিসেবে দেখা যেতে পারে।

কয়লার দেশ হয়েও কেন বিদ্যুৎ সংকটে ভারত?

India's energy crisis 2026: হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হওয়ায়, ভারতের ৮০ শতাংশের বেশি জ্বালানি আমদানি ধাক্কা খেয়েছে। বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর এক সময় জ্বালানিক্ষেত্রে ‘ঘাটতি নেই’ বললেও সেপ্টেম্বরে স্বীকার করলেন, জ্বালানির পরিস্থিতি বর্তমানে ‘টানটান’। ৭৬টি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র সংকটজনক ভাবে মজুত করা কয়লায় চলছে। চলছে এলপিজির কালোবাজারি। ডিসকমগুলির বকেয়া জমে রয়েছে প্রায়, ৩,৩৩০ কোটি টাকা।

প্রকৃতির কোলে পিকনিক, শেষে প্লাস্টিকের পাহাড়: মানুষ কি সত্যিই প্রকৃতিকে ভালোবাসে?

Environmental Pollution: প্রশাসনের তরফে অতিরিক্ত দূষণ ছড়ানো কলকারখানা সিল করে দেওয়ার মতো প্রশাসনিক পদক্ষেপ হয়তো নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এতেই কি সমস্যার সমাধান মিলবে? কারণ জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ব্যক্তিগত যানবাহনের দাপট এবং বৈদ্যুতিন বর্জ্য। শ্রমবিমুখ হয়ে সবকিছু প্রস্তুত পাওয়ার মানসিকতা এবং দেশে সংস্কারের লড়াই না করে সহজে অন্য দেশে পাড়ি দেওয়ার প্রবণতাও স্পষ্ট। এই দায় এড়িয়ে কি সার্বিক সমাধান সম্ভব?

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

সিভিল সার্ভিস ছেড়ে বাঘের টানে রণথম্ভোরে, ৩৫ একর জমিতে তৈরি করলেন বন

Ranthambore tiger conservation: তাঁরা কেবল চেয়েছিলেন সংরক্ষিত বনের বাইরে বাঘেদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয় গড়ে তুলতে। তারপর কুড়ি বছর পর্যটন লজ থেকে যেটুকু আয় হতো, তার প্রায় সবটাই তাঁরা সঞ্চয় করতেন ভাদলাভে কৃষকদের কাছ থেকে এক এক করে জমি কেনার জন্য। প্রায় দুই দশক ধরে একটু একটু করে ৩৫ একরেরও বেশি জমি তাঁরা কিনে নেন, যার মোট খরচ ছিল সে সময়ের হিসাবে এক কোটি টাকারও বেশি।

জলবায়ু বদল শুধু প্রকৃতির বিপদ নয়, ভারতের অর্থনীতির ভিতও নড়বড়ে করে দিচ্ছে

climate change and economy: ১৯৯০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ২১টি উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতি খতিয়ে দেখে একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে এক চমকে দেওয়ার মতো তথ্য। দেখা যাচ্ছে, বার্ষিক গড় তাপমাত্রা যদি মাত্র ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসও বাড়ে, তবে দীর্ঘমেয়াদে সামগ্রিক উৎপাদন দক্ষতা কমে যায় প্রায় ৩.২২ শতাংশ।