মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সকলের অ্যাকাউন্টে ব্লু টিক: কতটা বদলাবে এলন মাস্কের ট্যুইটার?

Piya Saha
৩ মিনিট
মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সকলের অ্যাকাউন্টে ব্লু টিক: কতটা বদলাবে এলন মাস্কের ট্যুইটার?

অবশেষে জল্পনার অবসান। শেষ পর্যন্ত এলন মাস্কের ঝুলিতেই এল ট্যুইটার। ৪৪ বিলিয়ন ডলারের বদলে ট্যুইটারের একশো শতাংশ শেয়ারের মালিক হলেন এলন মাস্ক। কিছুদিন আগেও তাঁর বোর্ডে যোগ দেওয়া নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, এ-বছরের এপ্রিল মাসের শুরুতেই ২২ হাজার কোটি টাকায় অ্যাপটির ৯% অংশীদারি কিনেছিলেন টেসলা-র অধিকর্তা। তবে মাস্কের দাবি, তিনি ট্যুইটারের অংশীদার হওয়ার সময় ভেবেছিলেন, এটি বাকস্বাধীনতার অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠবে। কিন্তু বিনিয়োগের পর সে ভুল ভেঙে গেছে। তাই ব্যক্তিগত মালিকানাধীন সংস্থা হিসেবে এর বদল ঘটানোই তাঁর প্রধান লক্ষ্য।

শেষ কয়েক বছর ধরেই মাইক্রো ব্লগিং সাইটটির ইউজার-সংখ্যা যে হারে কমেছে, তাতে হ্রাস পেয়েছে সংস্থার বাজারদরও। মাত্র ১% ভারতবাসী এই মুহূর্তে ট্যুইটার ব্যবহার করেন। বিশ্বজুড়ে বহু মানুষ ট্যুইটার ব্যবহার করলেও ফেসবুক বা অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়ার তুলনায় তা অনেক কম। মাস্ক নিজে কিছুদিন আগে প্রশ্ন তুলেছিলেন, ফলোয়ার বেশি থাকা সত্ত্বেও বহু তারকা বছরে একটি বা দু'টি-র বেশি ট্যুইট করেন না, তবে কি ট্যুইটারের দিন শেষ হতে চলছে? এই অবস্থায় অনেকেই মনে করছেন, ৪৪ বিলিয়ন ডলার অর্থ একটু বেশিই হয়ে গেল বোধহয়। কিন্তু বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি এ-ব্যাপারে একেবারেই চিন্তিত নন। বরং বাজার ধরতে একাধিক নতুন ফিচার সংযোজনের কথাও জানিয়েছেন মাস্ক।তিনি বলেন, "ট্যুইটারকে আরও ভালো করে গড়ে তুলব। আরও নতুন ফিচার যোগ করা হবে। এতে মানুষদের বিশ্বাস আরও বাড়বে।" নতুন কী কী ফিচার যোগ হতে পারে ট্যুইটারে? একবার চোখ বোলানো যাক সেইদিকে।

১. মতপ্রকাশের স্বাধীনতা

মার্চ মাসের শেষে এলন মাস্ক ট্যুইটার ব্যবহারকারীদের সরাসরি প্রশ্ন করেন, গণতন্ত্রের জন্য বাকস্বাধীনতা অত্যন্ত জরুরি, আপনি কি মনে করেন ট্যুইটার এই নীতি মেনে চলে? উত্তরে ৭০% মানুষের জবাব ছিল- না। কিছু কিছু উত্তরদাতা সংস্থাটিকে কিনে নেওয়ার পরামর্শও দেন। এরপরেই ট্যুইটারের শেয়ার কেনার কথা প্রকাশ্যে আসে। একশো শতাংশ শেয়ার কেনার পর ধনকুবের নিজেই তাঁর ট্যুইটার হ্যান্ডেলে জানিয়েছেন, "বাকস্বাধীনতা গণতন্ত্রের মূল স্তম্ভ। ট্যুইটার একটি ডিজিটাল টাউন স্কোয়ার, যেখানে মানবতার ভবিষ্যৎ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলি নিয়ে মত বিনিময় হয়।" তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর সবচেয়ে বড় সমালোচকও যেন ট্যুইটারে থাকেন। এরই প্রকৃত অর্থ হল বাকস্বাধীনতা।২. 'এডিট' বাটন সংযোজন

একই কায়দায় ট্যুইটারে এডিট বাটনের সংযোজন নিয়েও প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন ব্যবহারকারীদের উদ্দেশ্যে। উত্তরে ৭৪% মানুষ জানিয়েছেন, হ্যাঁ। বাকি ২৬% শতাংশ মানুষ বলেছেন, না এডিট বাটনের প্রয়োজন নেই। ফলে মনে করা হচ্ছে যে, নতুন রূপে ট্যুইটার এলে তাতে পোস্ট এডিট করার অপশন যুক্ত হতে পারে। তবে উত্তরদাতাদের অনেকে বলেছেন, এক্ষেত্রে কেউ ট্যুইট এডিট করে বদলালে, তার যেন উল্লেখ থাকে পোস্টে। তাহলেই কোনও অসুবিধে থাকার কথা নয়। অন্য এক ব্যবহারকারী বলেছেন, দু'টি কাজ করা যেতে পারে। এডিট কথাটি উল্লেখের পাশাপাশি ট্যুইট করার সময় থেকে ১০ মিনিটের মধ্যে সেই পরিবর্তন করা সম্ভব হবে এবং পরিবর্তনের নোটিফিকেশন পৌঁছে যাবে তাঁর অনুরাগীদের কাছে। এর উত্তরে মাস্ক নিজেই বলেছেন, বিষয়টি বিবেচনাযোগ্য। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে, ট্যুইটারকে ঢেলে সাজাতে চলেছেন এলন মাস্ক।

৩. স্বচ্ছ অ্যালগরিদম ব্যবস্থা

স্বচ্ছ অ্যালগরিদম ব্যবস্থা নিয়ে আসতে চলেছেন এলন মাস্ক। এর ফলে কোন ট্যুইট কী পরিমাণে ছড়াবে, তা স্পষ্ট দেখা যাবে। অন্য কোনও অজানা ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করার প্রয়োজন হবে না এক্ষেত্রে। স্বচ্ছ অ্যালগরিদম ব্যবস্থার মাধ্যমে যে-কোনও সময় দেখে নেওয়া যাবে, কোন ট্যুইট কত মানুষের কাছে পৌঁছে গেছে।

৪. ভুয়া অ্যাকাউন্টের ইতি

ভুয়া অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে জনমত গড়ে তোলার দিন শেষ হতে চলেছে মাস্কের ট্যুইটারে। এজন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার করা হবে বলেও জানা গেছে। তিনি নিজে ট্যুইট করে জানিয়েছিলেন, ৬৯.৪২০% পরিসংখ্যানই ভুল। এই বিষয়ে মাস্কের বক্তব্য, বিশেষ কোনও মতবাদ ছড়িয়ে দিতে বা নির্দিষ্ট কোনওদিকে জনমত তৈরির চেষ্টায় ইদানীং ‘বট্ অ্যাকাউন্ট’ ব্যবহার করার প্রবণতা রয়েছে। ফলে একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর করা একটি ট্যুইটই ঘুরিয়েফিরিয়ে ভিন্ন মানুষের অ্যাকাউন্ট থেকে দেখা যায়। আপাতদৃষ্টিতে মনে হয়, বহু মানুষ একই মত পোষণ করছেন।কিন্তু মাস্কের হাতে শেষ হতে চলেছে সেই চালাকি।

৫. ব্লু টিক সবার অ্যাকাউন্টে

মাস্কের সময় প্রতি ট্যুইটার ব্যবহারকারীই যাচাই করা, অর্থাৎ ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টের অধিকারী হতে চলেছেন। মাস্কের মতে, প্রতিটি অ্যাকাউন্ট ভেরিফায়েড হওয়া প্রয়োজন। এর ফলে মাধ্যমের স্বচ্ছতা বজায় থাকবে। তাই প্রতিটি ট্যুইটার ব্যবহারকারী পাবেন ‘ব্লু-টিক’, যা ভুয়া অ্যাকাউন্ট রুখতে সহায়ক হবে।

লিখেছেন
Piya Saha
Piya Saha
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।