তাঁরই হৃদপিণ্ড সাজানো শোকেসে! ১৬ বছর পর মিউজিয়ামে দেখতে গেলেন মহিলা

Heart on Display in Museum: নিজেরই দেহের মধ্যেকার অঙ্গ হঠাৎ করে কাচের শোকেসে সাজানো দেখার অভিজ্ঞতা অদ্ভুত।

inscript
২ মিনিট
তাঁরই হৃদপিণ্ড সাজানো শোকেসে! ১৬ বছর পর মিউজিয়ামে দেখতে গেলেন মহিলা

হৃদয়ের শব্দ তো শুনতে পান গহিন স্তব্ধতায়। মাঝেমাঝে বিশেষ মুহূর্তে সেই হৃদয়েই দোলা লাগে, উথালপাথাল হয়, কখনও মেঘ করে আসে কালো। এসবই ঘটে, কিন্তু আপনি দেখতে পান না। কেবল অনুভবই ভরসা। কারণ, দেহের গভীরে কী যে ঘটছে বাইরে থেকে দেখা মুশকিল। আমাদের শরীর চালায় যে সমস্ত কলকব্জা তা বাইরে থেকে কেউই দেখতে পান না। কোনও অসুখ বিসুখে অস্ত্রোপচার অবধি গড়ালে তার দর্শন মিললেও মিলতে পারে। কেমন হবে, যদি আপনি জীবিত অবস্থাতেই আপনার দেহের অভ্যন্তরের অঙ্গগুলি দেখতে পান? যদি আপনারই হৃদয় খুলে বাইরে রেখে দেওয়া হয় আপনার দেখার জন্য? অবিশ্বাস্য নয় মোটেও। একজন মহিলা নিজের হৃদয় দেখেছেন এক জাদুঘরে! ২২ বছর বয়সে হার্ট ট্রান্সপ্লান্ট হয়েছিল তাঁর। পুরনো সেই হৃদপিণ্ড রাখা আছে লন্ডনের হান্টেরিয়ান মিউজিয়ামে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীনই জেনিফার সাটন বুঝতে পেরেছিলেন, সামান্য ব্যায়াম করতে গেলেও বেশ অসুবিধা হচ্ছে তাঁর। চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে, পরীক্ষা করে দেখা যায় কার্ডিওমায়োপ্যাথি রয়েছে তাঁর। এটি এমন এক বিরল অবস্থা যেখানে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হার্টের প্রকোষ্ঠগুলি শক্ত হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে রোগীর বেঁচে থাকার জন্য হার্ট ট্রান্সপ্লান্ট ছাড়া গতি নেই। জেনিফারের স্বাস্থ্যের দ্রুত অবনতি হতে থাকে। শেষমেশ ২০০৭ সালে একজন দাতা মেলে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বাবাকে বাঁচাতে মাত্র ১৭ বছরেই অঙ্গদান! দেশের সর্বকনিষ্ঠ অঙ্গদাত্রী হিসেবে যে নজির দেবনন্দার

Youngest Organ Donor in India : আর কেউ আসুক বা না আসুক, সে আসবে। বাবাকে বাঁচাতে নিজের লিভারের অংশ দান করবে সে।

সফল হার্ট ট্রান্সপ্লান্টের পরে জেনিফার সাটনই রয়্যাল কলেজ অব সার্জনসকে একটি বিশেষ অনুমতি দেন। জন্ম থেকে যে হৃদপিণ্ডটি তাঁর ছিল, তা জনসমক্ষে প্রদর্শন করার অনুমতি দেন তিনি। হার্টের অবস্থা এবং অঙ্গ দান সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির আশায় এই অভিনব পন্থা নেন যুবতী জেনিফার। বিষয়টা যতটা সহজ মনে হচ্ছে, ততটা মোটেও না। নিজেরই দেহের মধ্যেকার অঙ্গ হঠাৎ করে কাচের শোকেসে সাজানো দেখার অভিজ্ঞতা অদ্ভুত।

জেনিফার সাটন সেই সময়, বিবিসিকে বলেছিলেন, "ব্যাপারটা বেশ সুন্দর – এটা খানিক আমার বন্ধুর মতো। আমাকে ২২ বছর ধরে বাঁচিয়ে রেখেছিল সে এবং আমি সত্যিই ওই হৃদপিণ্ড নিয়ে বেশ গর্বিত। আমি আমার জীবদ্দশায় কাচের জারে অনেক কিছুই দেখেছি কিন্তু নিজের হার্ট- এটা ভাবাটাই আসলে খুব অদ্ভুত। "

২০০৭ সালে প্রথম প্রদর্শিত হয়েছিল এই হৃদপিণ্ড। প্রথমবার নিজের হৃদয় নিজের দেহের বাইরে দেখার অভিজ্ঞতাটিকে 'পরাবাস্তব' বলে মনে হয়েছিল জেনিফারের। যে হৃদয়টিকে বদলে না ফেললে জেনিফার বাঁচতেন না, সেটিকে সামনে থেকে দেখা অত্যন্ত উদ্ভট এবং খুব অদ্ভুত। হৃদপিণ্ডের শক্ত হয়ে যাওয়া প্রকোষ্ঠগুলিকে স্পষ্ট দেখে বিচলিতও হয়ে পড়েছিলেন জেনিফার। চল্লিশ ছুঁতে চলেছেন এখন জেনিফার, মাঝে মাঝেই নিজের ফেলে আসা হৃদয় দেখেন তিনি। অঙ্গদানও এখন আগের থেকে কিঞ্চিৎ বেড়েছে পরিমাণে। নিজের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই অন্যদেরকে অঙ্গদানে উৎসাহ যোগাচ্ছেন তিনি। আর তাঁর সেই হৃদয়টি বর্তমানে রাখা রয়েছে হান্টেরিয়ান মিউজিয়ামে, সুদৃশ্য শোকেসে।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

চিনির বিকল্প স্টেভিয়া! ঘরের বাগানে রাখা যায় যে ‘মধু পাতা’

Stevia benefits: গাছ থেকে সদ্য তোলা কাঁচা পাতা কিংবা রোদে শুকিয়ে নেওয়া পাতা সরাসরি চা বা যেকোনো পানীয়ের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়। এতে চিনির মতো একই রকম মিষ্টতা পাওয়া যায়। স্টিভিয়ার নির্যাস থেকে তৈরি মিষ্টান্ন ডায়াবেটিস রোগীরা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধির ঝুঁকি থাকে না বললেই চলে।

ফুটপাথের ধারের সেই খাবার যেভাবে হয়ে উঠল কলকাতার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

Kolkata Street food history: সুতানুটি-গোবিন্দপুর-কলিকাতার শ্রমজীবী মানুষের তৃপ্তির জন্য জন্ম হয়েছিল ফুটপাতের খাবারের। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের 'সংবাদ প্রভাকর' থেকে হুতোম প্যাঁচার নকশা, এফএও সমীক্ষা থেকে এফএসএসএআই আইন হয়ে ২০২৫ সালে রাসেল স্ট্রিটে প্লাস্টিক-মুক্ত ফুড হাবের জন্ম। কলকাতার স্ট্রিট ফুড আজও এই শহরের প্রাণ। এই শহরের অন্যতম ঐতিহ্য।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি কেন আরশোলার মৃত্যুতে দুঃখ পেয়েছিলেন?

Sanae Takaichi cockroach story: ঘটনাটি আপাতদৃষ্টিতে খুব সাধারণ। সরকারি বাসভবনে গভীর রাতে একা কাজ করতে গিয়ে তিনি একটি আরশোলা দেখতে পেয়েছিলেন। সচরাচর আরশোলা দেখলে তিনি চিৎকার করে ওঠেন, কিন্তু সেদিন তিনি সেটিকে মারেননি।

স্ট্রেস কি সবসময় খারাপ? কখন স্বাভাবিক চাপ হয়ে ওঠে মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি?

mental stress: একটি ইঁদুরের উপর পরীক্ষা করতে গিয়ে তারা দেখেছেন, একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত ইঁদুরটির মধ্যে স্ট্রেস বাড়ানোর সঙ্গে তার কাজকর্মের মান আরও উন্নত হয়েছে। কিন্তু নির্দিষ্ট সীমা পার করবার পর পরই তার ফলাফল করার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা ক্রমশ কমতে কমতে শেষে সেটা প্রায় শূন্যতে নেমে গিয়েছে।

নিজের সর্বস্ব দিয়ে হাসপাতাল গড়েছিলেন রাধাগোবিন্দ কর

History of RG Kar Medical College and Hospital: আজ যে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল বারবার খবরের শিরোনামে, তার দীর্ঘ ইতিহাস কী? কে ছিলেন রাধাগোবিন্দ কর, যিনি নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে গরিব মানুষের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল গড়ে তুলেছিলেন? প্লেগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বাংলায় চিকিৎসাবিজ্ঞান চর্চা ও সমাজসেবায় তাঁর অবদান আজ কতটা মনে রাখা হয়েছে?

হিরোশিমা-নাগাসাকির আগুন থেকে বেঁচে যাঁরা, কেমন ছিল তাঁদের পরের জীবন?

Hiroshima, Nagasaki: বিস্ফোরণের বহু বছর পর এমিকোর ঘরে মেয়ে এল, আর তারও পর জন্ম নিল এমিকোর নাতনি কাজুমি কুওয়াহারা। নবজাতক নাতনিকে দেখে চিকিৎসকেরা পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, "এই বাচ্চা তিন দিনের বেশি বাঁচবে না।" জিনের ভিতরে লুকিয়ে থাকা কোনো অজানা দুর্বলতা যেন জন্ম থেকেই জাপটে ধরেছিল ছোট কাজুমিকে।

কেন কম ঘুমেও কেউ সুস্থ, কেউ হারাচ্ছেন স্মৃতি? জানালেন গবেষকরা

sleep deprivation and brain health: গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে AQP4 (Aquaporin-4) নামে একটি জিন। এই জিনকে অনেকটা মস্তিষ্কের 'সাফাই কর্মী' বলা যায়। আমরা যখন গভীর ঘুমে থাকি, তখন মস্তিষ্কে শুরু হয় এক বিশেষ পরিষ্কার করার কাজ। সারাদিনে জমে থাকা বর্জ্য এবং আলঝাইমার্স রোগের সঙ্গে যুক্ত ক্ষতিকর প্রোটিন এই সময় ধীরে ধীরে শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে। আর সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজে বড় ভূমিকা পালন করে AQP4 জিন।