শিখতেন স্বামী বিবেকানন্দও, কেমন আছে বাঙালির কুস্তির আখড়াগুলো?

অসিতবাবুর আরও দাবি, তাঁরা হাল ছাড়ছেন না। টোকিও অলিম্পিক্সে স্বর্ণপদক জয়ের পর থেকে তিনি এবং কুস্তিগিররা আবারও নতুন উৎসাহে লড়াইয়ে নেমে পড়েছেন।

Ravhali Biswas
৭ মিনিট
শিখতেন স্বামী বিবেকানন্দও, কেমন আছে বাঙালির কুস্তির আখড়াগুলো?

প্রতিদিন ভোরবেলা ফুলের বাজার এবং কলকাতার বিখ্যাত হাওড়া ব্রিজের মধ্যবর্তী ঘাটে, আপনি ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় শৈলিতে একদল পুরুষের প্রশিক্ষণ এবং কুস্তি দেখতে পাবেন তাঁদের সকালের রুটিনে প্রায় চার ঘণ্টা ব্যয় করে কেউ ব্যায়াম এবং স্ট্রেচিং করছেন, কেউ মুগুর ভাঁজছেন, আবার কেউ বা ডন বৈঠক দিচ্ছেন। তারপর কুস্তি লড়াই এবং অবশেষে হুগলি নদীতে আনুষ্ঠানিক স্নান। এইভাবেই চলে আসছে তাঁদের জীবনযাত্রা, তাঁরা বাংলার কুস্তিগির।

প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে কুস্তি এবং মল্লযুদ্ধর এক দীর্ঘ এবং জটিল ইতিহাস রয়েছে। এর অনেক ঐতিহ্যগত ধরন, যার মধ্যে রয়েছে টিকে থাকা, দলগত কুস্তি ইত্যাদি। মহাভারতের কুস্তিগির ভীমের অসীম সাহস আর বাহুবলের কথা অজানা নয়। মল্লযোদ্ধা ভীম এবং জরাসন্ধের মধ্যে সংঘর্ষের বর্ণনা আজও উপভোগ্য। আধুনিক কুস্তির ইতিহাসের জনপ্রিয়তা শুরু হয় উনিশ শতকে, এই খেলাটি কুড়ি শতকের দিকে অসাধারণ জনপ্রিয়তা পায়। দুইয়ের দশকে, ক্রীড়া প্রতিযোগিতার একটি ফর্ম হিসেবে কুস্তি দেখানো হয়, যা এখন পেশাদার কুস্তি হিসেবে পরিচিত। আমাদের মহাকাব্যে কুস্তি ‘মল্লযুদ্ধ’ হিসেবে পরিচিত। মল্লযুদ্ধে শুধু পুরুষ নয়, মহিলাদেরও অংশগ্রহণ ছিল। ভারতে প্রথম কুস্তি চর্চা শুরু হয় বরোদাতে। মহারাজা নৃপেন্দ্রনারায়ণের উদ্যোগে ১৮৯২-'৯৪ সালে প্রথম বিশ্ব কুস্তি প্রতিযোগিতা শুরু হয় এবং সেখানে জিতে করিম বক্স বিশ্বের শ্রেষ্ঠ কুস্তিগিরের খেতাব লাভ করেন।

বলাই বাহুল্য, বাংলাতেও এর প্রভাব কম ছিল না। কিন্তু তা মধ্যবিত্ত বাঙালি হিন্দু সমাজের মধ্যে ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করেনি। তখনও পর্যন্ত কুস্তিকে পাঞ্জাবি মুসলমানদের একচেটিয়া বলে মনে করা হত। বিংশ শতাব্দীর দুই ও তিনের দশকে প্রধানত গোবর গুহর সাফল্যেই মধ্যবিত্ত বাঙালি হিন্দু সমাজের মধ্যে কুস্তির প্রচলন হয়। ব্রিটিশ শাসনের শেষ পর্বে কলকাতা-সহ বাংলার বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছিল কুস্তির আখড়া বা ব্যায়ামাগার। বাংলার বিপ্লবী দল তাদের শরীরচর্চার অন্যতম মাধ্যম হিসেবে নতুন করে এই খেলার অনুশীলন শুরু করেন। দেশাত্মবোধকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে ‘অনুশীলন সমিতি’। সেখানে শরীরচর্চা এবং আত্মরক্ষার প্রয়োজনে কুস্তির আখড়া তৈরি হয়। জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতেও নিয়মিত কুস্তিচর্চার প্রচলন ছিল। রবীন্দ্রনাথের ‘জীবনস্মৃতি’ গ্রন্থে তিনি লিখেছেন, "ভোরে অন্ধকার থাকিতে উঠিয়া লংটি পরিয়া প্রথমেই এক কানা পালোয়ানের সঙ্গে কুস্তি করিতে হইত। তাহার পরে সেই মাটি মাখা শরীরের উপরে জামা পরিয়া পদার্থবিদ্যা, মেঘনাদবধ কাব্য, জ্যামিতি, গণিত, ইতিহাস, ভূগোল শিখিতে হইত।"

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
আসলে কলকাতার বয়স কত? যে ইতিহাস ছিল আড়ালে

শুধু ব্রিটিশ-পূর্ব কলকাতার নামই নয়, কলকাতার বহুবাজার পাড়ারও উল্লেখ পাচ্ছি জনৈক কৃষ্ণদাসের 'নারদপুরাণ' কাব্যে।

মাঠে নামার আগে একটা ফর্ম দেওয়া হলো। তাতে কিছু তথ্য লিখতে হবে। যতীন্দ্রচরণ গুহ চিমটি মেরে কাগজটুকু নিলেন, একে একে লিখতে শুরু করলেন- ওজন: ২৩০ পাউন্ড। গলা: ২০ ইঞ্চি। হাতের গোছা: ১৫ ইঞ্চি। কব্জি: পৌনে ৯ ইঞ্চি, বুক: ৫০ ইঞ্চি, বুক (ফোলালে) ৫২ ইঞ্চি, ঊরু: ৩৩ ইঞ্চি, পায়ের ডিম: সাড়ে ১৮ ইঞ্চি। শরীরের এমন বর্ণনা দেখেই যে কেউ ভাবতে পারেন, এ তো বিদেশি কোনও বডিবিল্ডার! না, তিনি একজন বাঙালি কুস্তিগির। বাংলায় কুস্তির জয়জয়কার আন্তর্জাতিক স্তরে, বা বলা যায় বিশ্বের দরবারে বাঙালির মুখোজ্জ্বল করার দায়ভার যিনি নিয়েছিলেন, তাঁর নাম না করলেই নয়, তিনি হলেন গোবর গুহ (যা ব্রিটিশ কালে গুহ থেকে গোহ হয়), তার প্রকৃত নাম যতীন্দ্রচরণ গুহ। তাঁর হাত ধরেই বাংলায় কুস্তির প্রবেশ। গোবর গোহের জন্ম ১৮৯২ সালের ১৩ মার্চ, এক দোলপূর্ণিমার দিনে কলকাতার মসজিদবাড়ি স্ট্রিটের এই বিখ্যাত কুস্তিগির পরিবারে। ছোটবেলায় তাঁর নাদুসনুদুস চেহারা দেখে পিতামহ অম্বুবাবু তাঁকে রসিকতা করে ‘গোবরের ড্যালা’ বলতেন। সেই থেকে তাঁর ডাকনাম হয় গোবর। গোবর গুহর পিতামহের পিতামহ শিবচরণ গুহ আধুনিক বাংলাদেশের প্রথম আখড়াটি স্থাপন করেন হোগোলকুঁড়িয়ায়। বর্তমান শোভাবাজার মসজিদবাড়ি স্ট্রীটে। তাঁর পিতামহ অম্বিকাচরণ গুহ-কে বাংলাদেশে আখড়া সংস্কৃতির পথিকৃৎ বলে মনে করা হয়। পিতা রামচরণ গুহ এবং কাকা ক্ষেত্রমোহন গুহ বা খেতুবাবুও ছিলেন নামকরা কুস্তিগির। প্রথম জীবনে তাঁদের কাছেই কুস্তির প্রাথমিক শিক্ষা নিয়েছিলেন গোবর গুহ। স্বামী বিবেকানন্দ, স্বামী ব্রহ্মানন্দ ও বাঘাযতীন, সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত, মান্না দে প্রমুখ আসতেন তাঁর আখড়ায় কুস্তি শিখতে। পরবর্তীকালে তাঁদেরই আখড়াতে কর্মরত বিখ্যাত কুস্তিগির খোলসা চৌবে ও রহমানি পালোয়ানের কাছে তাঁর অনুশীলন শুরু হয়। তাঁর কুস্তির ইতিহাস শুনলে বোঝা যায়, একজন বাঙালি কীভাবে আমেরিকার মাটিতে ধরাশায়ী করেছেন তাবড় শ্বেতাঙ্গ কুস্তিগিরদের। এহেন মানুষটিকে নিয়েই সে-সময় আমেরিকায় মস্ত স্টোরি বেরোল ‘ক্যানসাস সিটি পোস্ট’ পত্রিকায় এই হেডিং-সহ: “Invasion of ‘Hindu Menace’ breeds fear among madmen.” হিন্দু আক্রমণে কুস্তিগিররা থরহরিকম্প।

১৯১০ সালে ১৮ বছর বয়সে লন্ডনে জন বুল সোসাইটি আয়োজিত বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের অন্যতম প্রতিনিধি নির্বাচিত হন গোবর গুহ। ১৯১২ সালে দ্বিতীয়বার ইউরোপ ভ্রমণের সময় তিনি স্কটল্যান্ডের শ্রেষ্ঠ কুস্তিগির ক্যাম্পবেলকে পরাজিত করেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরে গোবর গুহ ১৯২০ সালে সান ফ্রানসিসকো-তে বিশ্ব পেশাদার কুস্তি প্রতিযোগিতায় তৎকালীন লাইট হেভিওয়েট বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন অ্যাড সান্টেলকে পরাজিত করেন। ১৯৪৪ সালে গোবর গুহ পেশাদার কুস্তি থেকে অবসর গ্রহণ করেন।

গোবর ভারতীয় কুস্তিকে বিশ্বের দরবারে এক উচ্চ স্থানে নিয়ে গিয়েছিলেন। কথিত ছিল, তিনি খাবারের সঙ্গে সোনা আর রূপোর গুঁড়ো মিশিয়ে খেতেন গায়ের জোর বাড়ানোর জন্য! বিষয়টি নিয়ে আমেরিকান সাংবাদিকরা লেখালেখিও করেছেন। তিনি ভারতীয় কুস্তির রীতিতে বহু নতুন প্যাঁচের উদ্ভাবন করেন। তাঁর উদ্ভাবিত ধোঁকা, টিব্বি, গাধানেট, ঢাক, টাং, পাট, ধোবা পাট, কুল্লা, রদ্দা, নেলসন ইত্যাদি ভারতীয় কুস্তি রীতিতে সংযোজিত হয়। তাঁর সর্বাধিক প্রচলিত পদ্ধতি হল রদ্দা। গোবর গুহর আখড়ায় কুস্তি করতে আসা ব্যায়ামবীরদের মধ্যে রয়েছেন নীলমণি দাস, বিষ্ণুচরণ ঘোষ, মনোহর আইচ, মনোতোষ রায়। প্রত্যেকেই আসতেন তাঁর আখড়ায়। ১৯৫২ অলিম্পিকে ব্রোঞ্জ-জয়ী কুস্তিগির খাশাবা দাদাসাহেব যাদব গোবর গুহর আখড়াতেই কুস্তির পাঠ নিয়েছিলেন। গোবর গুহর ছাত্রদের মধ্যে ছিলেন বনমালী ঘোষ, জ্যোতিষচরণ ঘোষ ও বিশ্বনাথ দত্ত।

এই গেল অতীতের কুস্তির ইতিহাস। বর্তমান কালের দিকে তাকালে দেখা যায়, কলকাতা শহরের ঐতিহ্যশালী আখড়াগুলো আর আগের মতো নেই। ঐতিহ্যপূর্ণ গোবর গোহর আখড়ায় এখন আর জিম ছাড়া কিছু হয় না। অথচ গত জাতীয় ক্রীড়াতেও বাংলা কুস্তিতে অংশগ্রহণের যোগ্যতা অর্জন করেছে। বর্তমানে সর্বভারতীয় কুস্তি সংস্থার সহ-সভাপতি, রাজ্য কুস্তি সংস্থার সচিব অসিত সাহা জানালেন, “কলকাতার অধিকাংশ আখড়ার অস্তিত্ব বিলীন হয়ে গেলেও এখনও টিকে আছে বড়বাজার তারাসুন্দরী পার্ক, জোড়াবাগান, প্রসন্নকুমার ঘাটের মতো কয়েকটি আখড়া। মুর্শিদাবাদ, জলপাইগুড়ি-সহ উত্তরবঙ্গের কয়েকটি আখড়া বাংলার কুস্তিকে এখনও বাঁচিয়ে রেখেছে। যদিও অনুশীলন ছাড়া এই সব মাটির আখড়ায় প্রতিযোগিতা সংগঠিত করা যায় না। বাংলায় প্রচুর স্টেডিয়াম নির্মাণ হয়েছে, কিন্তু যে খেলা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পদক তুলে আনছে, তার স্থান নেই সেখানে।” তাঁর আরও মত, "কুস্তিগিরদের চাকরি আর আগের মতো নেই বলে অনেকেই কুস্তি ছেড়ে অন্য পেশার সাথে যুক্ত হচ্ছেন।" এ-দেশের কুস্তির পথপ্রদর্শক গোবর গোহ তাঁর শেষ জীবনে হয়তো জানতেই পারেননি সময়ের সঙ্গে বদল ঘটেছে বিশ্ব কুস্তির ধরনে, ব্যাকরণে, নিয়মকানুনেও। বর্তমানে মল্লবীর আর জিমন্যাস্টদের চেহারা খুব আলাদা কিছু নয়। আগেকার সুবিশাল খাবারের থালায় থরে থরে সাজানো প্রচুর খাবারের বদলে এখন নিয়ন্ত্রিত পরিমিত খাবার। তিন ঘণ্টার ম্যারাথন কুস্তির বদলে মাত্র ৬ মিনিটের লড়াই। পয়েন্টের বিচারে এখন জয়-পরাজয়ের নিষ্পত্তি।

কলকাতার বুকে অবস্থিত এক কুস্তি আখড়ার গুরুজির থেকে জানা যায়, "কুস্তিগিরদের জন্য সরকারি সমর্থনের ইতিহাস আছে; এমনকী, জাতীয় স্তরের পঞ্চম স্তরের কুস্তিগিরকেও সরকারি রেলে চাকরির প্রস্তাব দেওয়া হবে। এটি অলিম্পিক মান প্রতিযোগিতার প্রতিশ্রুতির অংশ। প্রকৃতপক্ষে, মিশ্র মার্শাল আর্টের কিছু অনুশীলনকারী আখড়ার প্রতি আকৃষ্ট হয়েছে, কারণ এর আরও ভারসাম্যপূর্ণ শাসনব্যবস্থা এবং রাষ্ট্রীয় সমর্থনের সুযোগ রয়েছে। তবে, উদ্বেগ রয়েছে যে, পশ্চিমবঙ্গে রাজ্যের সমর্থন অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় অনেক কম।"

সম্প্রতি ২০২১ সালের ১০ অক্টোবর মুক্তি পেয়েছে ‘গোলন্দাজ’, সেই ছবিতে অভিনেতা দেবকে কুস্তি প্রশিক্ষণ দিয়েছেন জাতীয় স্তরের প্রাক্তন কুস্তিগির শুভদীপ ভৌমিক। পেশায় তিনি অটোচালক; টালিগঞ্জের রাস্তায় সবাই তাঁকে ‘সানি’ বলে চেনে। তাঁর কথায়, স্বপ্ন ছিল, চেয়ারে বসে চাকরি করবেন। পূরণ হয়নি। বেছে নিতে হয়েছে অটোচালকের আসন। স্বপ্ন ছিল, দেশের হয়ে কুস্তি লড়বেন আন্তর্জাতিক আসরে। পূরণ হয়নি, হবেও না। জাতীয় স্তরে গিয়েই থামাতে হয়েছে লড়াই। স্বপ্ন ছিল, এরিনার চারপাশে থাকা সমর্থকদের উল্লাসের মধ্যে কুস্তি লড়বেন। পূরণ হয়নি। টালিগঞ্জ-যাদবপুর রুটের অটোচালক সানি তাই ‘গোলন্দাজ’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য নায়ক দেবকে কুস্তির প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। হারিয়ে যেতে বসা ভালো নামটা শেষবার কুস্তির সার্টিফিকেটে লেখা হয়েছিল ২০১৮ সালে। করোনাকালের আগে সেটাই ছিল শেষ রাজ্য-স্তরের প্রতিযোগিতা। সেবার প্রথম হয়েছিলেন সানি। রাজ্য-সেরা সানি একবার জাতীয় স্তরে লড়েছেন বাংলার হয়ে। তবে মেডেল আসেনি। পঞ্চম হয়েছিলেন। সানি বললেন, "কুস্তি আমি ভুলতে পারিনি। আসলে এই খেলা এমনই যে শরীর আর মন তার সঙ্গে মিশে যায়। ছেড়ে থাকা যায় না। এখন কয়েকটা জায়গায় কোচিং করাই।" সানি আরও বলেন, "কুস্তিতে এখন কোনও সুযোগ নেই, তা বলাই বাহুল্য। রেলেও আর সেভাবে নিয়োগ হয় না। আসলে কুস্তি চালিয়ে যেতে অনেক খরচ। ঘি, মাখন, ডিম থেকে ফল, ফুড সাপ্লিমেন্ট লাগে নিয়মিত। কোচিং নেওয়ারও খরচ অনেক। সেইসব টানার জন্যই চাকরিটা আমি সাপোর্ট হিসেবে চেয়েছিলাম, হয়নি। এখন অটো চালিয়ে যে রোজগার হয় তাতে কুস্তি নিয়ে বড় স্বপ্ন দেখা আর সম্ভব নয়।" কুস্তির প্যাঁচপয়জার ধোবি পছাড়, ধোপার মতো করে প্রতিপক্ষকে আছাড় মারা; সব মন দিয়ে শিখেছিলেন সানি। নায়কের সঙ্গে ক্যামেরার সামনে কুস্তিও লড়েছেন। কিন্তু বারবার স্বপ্ন দেখে ধাক্কা খাওয়া সানি এখন খুবই সতর্ক। মুখে ‘বেশ আছি’ বললেও মনের মধ্যে যে তাঁর দুঃখ জমে আছে, তা বুঝতে বাকি থাকে না।

ভবিষ্যতের কথা হয়তো হলফ করে বলা যায় না কিন্তু এটা বলতেই হয় যে, গোবরবাবু বেঁচে থাকলে হয়তো বাংলার মাটি থেকেই অলিম্পিক্সের স্বর্ণপদক আসত। কুস্তির ইতিহাসে গোবরবাবুর গুরুত্ব কতখানি, তা মাপা সম্ভব নয়। গোবরবাবুর বন্ধু, বিজ্ঞানী ও এসরাজ বাজিয়ে সত্যেন্দ্রনাথ বসু তাঁর ‘গোবরস্মরণে’ গ্রন্থে বলেছেন, "সত্যিই তো, এত বড় মল্ল বাংলায় তো আর হল না। শেষ বয়সে এটাই বড় আফসোস রয়ে গেল তাঁর। জুডো, ক্যারাটের শখ হল বাঙালি ছেলে-ছোকরাদের মধ্যে, কিন্তু ডন-কুস্তির হাল ধরল না কেউ।" অসিতবাবুর আরও দাবি, তাঁরা হাল ছাড়ছেন না। টোকিও অলিম্পিক্সে স্বর্ণপদক জয়ের পর থেকে তিনি এবং কুস্তিগিররা আবারও নতুন উৎসাহে লড়াইয়ে নেমে পড়েছেন। তাঁদের আশা, সরকারি সুনজর পাবে একসময়ে জনপ্রিয়তার শিখরে থাকা এই কুস্তি‌।

লিখেছেন
Ravhali Biswas
Ravhali Biswas
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

নারী টেস্টে এত অনীহা কেন, লর্ডসের ইতিহাসও বদলাবে না সেই ছবি?

Women’s Test Cricket: লর্ডসে ভারতের নারী ক্রিকেট দলের ঐতিহাসিক জয় নারী টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ বদলানোর সুযোগ এনে দিয়েছে? এত সাফল্য ও জনপ্রিয়তার পরও কেন এই ফরম্যাটে নিয়মিত ম্যাচ নেই?

শিব-পরশুরামের যুদ্ধবিদ্যা কালারিপায়াট্টু থেকেই জন্ম কুংফুর!

Kalaripayattu Indian Martial Art: ভারতীয় পৌরাণিক ঐতিহ্যে কালারিপায়াট্টুকে স্রেফ যুদ্ধের কৌশল হিসেবে দেখা হয়নি, বরং এটিকে মানব শরীরের অভ্যন্তরীণ প্রাণশক্তিকে জাগিয়ে তোলার এক মহান সাধনা বলে মনে করা হয়।

দু'হাজার বছর পুরনো ‘আত্য পাত্যা’: এই খেলাই শিখিয়েছিল যুদ্ধের কৌশল!

Atya Patya Traditional Indian Game: আনুমানিক ১০০ থেকে ৩০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে রচিত প্রাচীন তামিল সাঙ্গম সাহিত্য ‘নাটতৃণৈ’-তে এই খেলার প্রথম লিখিত প্রমাণ পাওয়া যায়। অতএব, এই খেলার বয়স প্রায় দুই হাজার বছরেরও বেশি। সেখানে বলা আছে, প্রাচীন চোল রাজবংশের সেনারা যুদ্ধক্ষেত্রে যাওয়ার আগে নিজেদের ক্ষিপ্রতা, দ্রুত দৌড়ানোর ক্ষমতা আর শরীরকে এক নিমেষে বাঁকানোর চপলতা বাড়াতে এই খেলায় মেতে উঠত।

১৬ বছর পর ফের ভারতের পথে ললিত মোদী

Lalit Modi return to India: দীর্ঘ সময় পর দিল্লির আপিল ট্রাইব্যুনাল তাঁর বিরুদ্ধে থাকা আর্থিক অনিয়মের বড় অভিযোগ ও জরিমানা বাতিল করে দেওয়ার পরেই এই আলোচনার সূত্রপাত। সোশ্যাল মিডিয়ায় ললিত মোদী নিজেই স্পষ্ট করেছেন, সমস্ত বড়সড় আইনি জটিলতা কাটার পর ২০২৬ সালের শেষ দিকে অথবা ২০২৭-এর শুরুতেই ফের তিনি ভারতে পা রাখতে চলেছেন।

গোলের আড়ালে ঘৃণার খেলা: ২০২৬ বিশ্বকাপে ট্রাম্প, ফিফা আর ফুটবলের পরাজয়

Trump FIFA World Cup: এই বিশ্বকাপ শুধুই একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়; মাঠের লড়াই ছাপিয়ে তা হয়ে উঠেছে ভূ-রাজনীতি, বর্ণবিদ্বেষ এবং বাণিজ্যিক আধিপত্যের এক জটিল ময়দান।

একটা রাজপুত্তুর যার মুকুট হারিয়ে গিয়েছে

Lionel Messi Retirement: তিনটে ফাইনালের বোঝা। একে একে ছেড়ে যায় সহযোদ্ধারা। রক্তাক্ত মাসচেরানো চলে যান, কুন আগুয়েরোর অসুখ... তবু লিও পড়ে থাকে, আমরা পড়ে থাকি আর কিছুদিন। বৃত্ত সম্পূর্ণ করতে প্রয়োজন ছিল একজন স্ক্যালোনির, তিনি সেটুকু সেতু নির্মাণের দায়িত্ব নিলেন। আমরা অপেক্ষা করলাম লুসাইলে। আমরা তো কবেই হেরে গিয়েছিলাম, সৌদি আরব শুধু চিনিয়ে দিয়েছিল আশপাশটা।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬: যেভাবে ১৫ বিলিয়ন ডলারের ব্যবসায় পরিণত হল ফুটবল

FIFA Revenue 2026: 'কুইন্টেট প্রাইভেট ব্যাংক'-এর সাম্প্রতিক একটি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, শেয়ারবাজারের দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের অনুঘটক হওয়ার চেয়ে বিশ্বকাপ আসলে একটি শক্তিশালী স্বল্পমেয়াদি বাণিজ্যিক উদ্দীপক হিসেবেই বেশি কাজ করে। ফিফা, সম্প্রচারকারী সংস্থা, স্পোর্টসওয়্যার ব্র্যান্ড এবং আতিথেয়তা (হসপিটালিটি) ক্ষেত্রগুলি বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় করলেও, কোম্পানির শেয়ারের দামে সেই ইতিবাচক প্রভাব দীর্ঘ সময় ধরে রাখা বেশ কঠিন।

যখন ইউরোপে নারীরা গৃহবন্দি, তখন অসমে মেয়েরা খেলছিলেন ধোপখেল

Dhop Khel Assam: আহোম রাজাদের রাজপ্রাসাদ থেকে বিহুর মেঠো মাঠ—অসমের মাটিতে একসময় গমগম করত ধোপখেলের আওয়াজ। ফুটবল, কাবাডি আর দূরন্ত নিশানার এই অদ্ভুত রোমাঞ্চকর খেলাটি শুধু পুরুষদের বীরত্ব প্রমাণের লড়াই ছিল না; যখন ইউরোপে নারীদের জীবন ছিল চার দেওয়ালে বন্দি, তখন অসমে মেয়েরাও মাঠে নেমে মেতে উঠতেন ধোপখেলে।