মাথা নাড়ানো মানেই সম্মতি! কোথা থেকে বাংলায় এল 'হ্যাঁ' শব্দটি?

Origin of Yes Word in Bengali: হ্যাঁ-কে আরবিতে বলে 'নাম'। ল্যাটিনে বলে 'ইটা' আর ফরাসিতে বলে 'উই'।

Asit Das
৪ মিনিট
মাথা নাড়ানো মানেই সম্মতি! কোথা থেকে বাংলায় এল 'হ্যাঁ' শব্দটি?

এবারের আলোচ্য শব্দ 'হ্যাঁ' বা 'হাঁ'। এটি যে অব্যয়, সে ব্যাপারে সব অভিধানই একমত। হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বঙ্গীয় শব্দকোষ হাঁ-এন্ট্রিতে জানাচ্ছে, 'অব্য[আঁ- হাঁ, হি হাঁ, ঠ হাং, 'হ'(ঢাকা); Dravidian- 'am' yes(Caldwell, 579]। অর্থ, ১ স্বীকার, সম্মতি। ২ আহ্বানে উত্তর দেওয়ার শব্দ ৩ সম্বোধন।

হাঁ মানে যে মুখব্যাদানও হয়, তা তিনি অন্যত্র বলেছেন।

দ্রাবিড়ীয় ব্যুৎপত্তির কথা লিখতে গিয়ে কল্ডওয়েল সাহেবের কথা লিখেছেন হরিচরণ। বস্তুত কল্ডওয়েল, গুন্ডার্ট আর কিটেলের অধ্যাবসায় আর গবেষণা ছাড়া বাংলায় প্রচলিত দ্রাবিড় শব্দগুলির হদিশ পাওয়া যেত না। Rev. R Caldwell তাঁর বই 'A Comparative Grammar of The Dravidian or South Indian Family of Languages-এ বিস্তারিতভাবে সব কিছু লিখেছেন বাংলায় তথা সংস্কৃত ভাষায় দ্রাবিড় শব্দের প্রাচুর্যের কারণ ব্যাখ্যা করে। তেমনই Rev. H Gundert তাঁর প্রবন্ধ 'On the Dravidian Element in Sanskrit (Journal of the German Oriental Society) লিখে আমাদের দ্রাবিড়যোগ সুনিশ্চিত করেছেন। আর এক সাহেব Rev. F. Kittel তাঁর লিখনশলাকা 'On the Dravidian Element in Sanskrit Dictionaries(Indian Antiquary, January 1873) দিয়ে বাঙালির দক্ষিণী জ্ঞানচক্ষু উন্মীলিত করেছেন।

গবেষকরা জানাচ্ছেন, বাংলাভাষায় প্রচলিত দ্রাবিড় শব্দগুলির মধ্যে দু'শোর মতো শব্দ এসেছে সংস্কৃতের মাধ্যমে, তৎসম ও তদ্ভব রূপে। এই শব্দগুলি মূলত সাহিত্যের শব্দ। এই গোত্রের শব্দ দ্রাবিড় থেকে সংস্কৃতে গৃহীত হয়েছিল অনেক আগে, বৈদিককালের সূচনা থেকেই গ্রহণ-প্রক্রিয়া শুরু হয়। ঋগ্বেদে মোট সাতাশটি দ্রাবিড় শব্দ পাওয়া গেছে। রামায়ণ-মহাভারতের যুগেও দ্রাবিড় থেকে শব্দগ্রহণ অব্যাহত ছিল, তা চলেছে আধুনিক কাল পর্যন্ত। কল্ডওয়েল, গুন্ডার্ট, কিটেল তাঁদের নিজ নিজ তালিকা দেন দ্রাবিড় থেকে গৃহীত শব্দের। পরবর্তীকালে অধ্যাপক টি বারো আরও কিছু শব্দের সন্ধান পান। সংস্কৃতবাহিত হয়ে বাংলায় আসা শব্দগুলি ছাড়াও আরও প্রচুর সংখ্যক দ্রাবিড় শব্দ বাংলায় প্রচলিত। এগুলি বাংলায় প্রবিষ্ট হয়েছে বাঙালির দ্বিভাষিক পর্বে। পাশাপাশি দু'টি ভাষায় কথা বলার ফলে আর্যভাষীদের মুখের ভাষায় প্রচুর সংখ্যক দ্রাবিড় শব্দ ঢুকে যায় আর দ্রাবিড়ভাষী জনগোষ্ঠী বঙ্গে এসে আর্যভাষা পুরোপুরি গ্রহণ করলে তাঁদের নিজ আদিভাষার অনেক শব্দ নতুন গৃহীত আর্যভাষায় স্থান পায়। এই ভাবেই বাংলাভাষার দ্রাবিড়সম্পৃক্তি ঘটেছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
সেনানায়ক জন্ম দিলেন আস্ত বাংলা শব্দ? যেভাবে এল 'জাঁদরেল' শব্দটি

Bengali Word Origin: শব্দটি হিন্দি সিনেমার সংলাপে প্রায়শই ব্যবহৃত হয়। জানদার নামক হিন্দি শব্দটি কী করে বাংলায় জাঁদরেল হয়ে গেল, এটাই বিরাট ধাঁধা।

যাই হোক, মূল বিষয়ে ফেরা যাক। হ্যাঁ বা হাঁ শব্দটি যে দ্রাবিড়মূল তা দৃঢপ্রত্যয়ের সঙ্গে জানিয়েছেন হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়। জ্ঞানেন্দ্রমোহন দাস অবশ্য অতটা আত্মবিশ্বাসী হতে পারেননি। তিনি হাঁ-শব্দের ব্যুৎপত্তিতে লিখেছেন, [সং হর্ম্ম (হাই) > হা, হাঁ] অর্থ, ১ বি, মুখব্যাদান ২ অব্যয়, স্বীকারোক্তি ৩ স্মরণার্থে ৪ নিবারণার্থ ৫ ডাকে সাড়া দিবার শব্দ ৬ অবধারণে, সন্দেহমোচনে, নিশ্চয়ে। ৭ আত্মপ্রসাদলাভে, সন্তোষ বা তৃপ্তি অর্থে। অর্থাৎ সকলপ্রকার হাঁ বা হ্যাঁ-য়ের পশ্চাতেই তিনি সংস্কৃত হর্ম্ম বা তদ্ভব হাই দেখেছেন।

সংসদ বাংলা অভিধান হাঁ বা হ্যাঁ শব্দের কোনও ব্যুৎপত্তির ঝুটঝামেলায় যেতে চায়নি। অব্যয়বাচক শব্দ বলে পাশ কাটিয়ে যাওয়া হয়েছে। সংসদ অভিধান লিখেছে, "হাঁ, হ্যাঁ অব্য. সম্মতি স্বীকৃতি প্রভৃতিসূচক সাড়া; সত্যতা। অর্থাৎ নেতির বিপরীত জবাবসূচক।"

বাংলাদেশের বাংলা আকাডেমির আধুনিক বাংলা অভিধান (জামিল চৌধুরী সম্পাদিত) হাঁ শব্দের ব্যুৎপত্তিতে লিখেছে, "হাঁ [হি.] অব্য. ১ সম্মতিজ্ঞাপক শব্দ ২. সাড়া ৩ যাথার্থ্য সঠিকতা প্রভৃতি জ্ঞাপক শব্দ ৪ ঘনিষ্ঠ সম্বোধনে ব্যবহৃত শব্দ।" অর্থাৎ দ্রাবিড় ব্যুৎপত্তি মানেননি অভিধানকার। অভিধানকার হিন্দিকে মাথায় স্থান দিয়েছেন। হিন্দিতে শব্দটি কোন ভাষা থেকে এসেছে, তা নিয়ে কিন্তু অভিধানকারের মাথাব্যথা নেই। মুখব্যাদান অর্থে অন্য 'হাঁ' বাংলা প্রচলিত থেকে এসেছে বলে জানানো হয়েছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
সংক্রামক রোগ থেকে জন্ম আলস্যের? কীভাবে এল 'কুঁড়ে' শব্দটি?

Bengali Word Origin: প্রত্যেকেই কোনও না কোনও ভাবে শব্দটিকে কুষ্ঠরোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে ভেবে নিয়েছেন।

গোলাম মুরশিদ সম্পাদিত 'বিবর্তনমূলক বাংলা অভিধান'-এ হাঁ শব্দের অস্তিত্ব নেই। সবই হা। হা[ধন্যাত্মক] বি, হতবুদ্ধি অবস্থা। "বিবি হা শব্দ নির্গত করিয়া হাঁ করিয়া রইলেন। ভবানী ১৮২৮। ২ অব্য অনুতাপ ও নৈরাশ্যব্যঞ্জক শব্দ।'হা মূঢ় মনুষ্য! তুমি কি ইহার অপেক্ষা আর শ্রেষ্ঠতর কৌশল মনেতেও কল্পনা করিতে পার"? অক্ষয়, ১৮৪৪। ৩ অব্য সম্বোধনে।৩ অ সম্বোধনে। হা বিধাতা, ছেলেবেলা হতেই এমন দুর্বল হৃদয় লইয়া...(রবীন্দ্র, ১৮৭৫)।

অদ্ভুত ব্যাপার, সম্মতি অর্থে হ্যাঁ শব্দের কোনও উল্লেখ নেই এই অভিধানে। তাহলে বিবর্তনের ফলে সম্মতিপ্রদানসূচক শব্দটি কি নৈরাশ্যব্যঞ্জক হয়ে উঠেছে এখানে? নাকি অন্য কোনও গূঢ় ব্যঞ্জনা আছে? মোহাম্মদ হারুন রশিদ সংকলিত আরবি -ফারসি- উর্দু- বাংলা অভিধানে হাঁ শব্দটির অস্তিত্ব নেই। হ্যাঁ-কে আরবিতে বলে 'নাম'। ল্যাটিনে বলে 'ইটা' আর ফরাসিতে বলে 'উই'।

সবচেয়ে কাছাকাছি উচ্চারণ অবশ্য আর্মেনিয়ান ভাষায়। সেখানে হাঁ বা হ্যাঁ-র সমার্থক শব্দ 'আয়ো'। আয়ো থেকে আঁ হয়ে তা থেকে হ্যাঁ বা হাঁ হয়ে যেতেই পারে। ভারত তথা বাংলায় আর্মেনিয়ানদের অস্তিত্ব কয়েক হাজার বছরের। এ বঙ্গে মুর্শিদাবাদের সৈদাবাদে একটি, চুঁচুড়ায় একটি, কলকাতায় তিনটি ও পুরুলিয়ায় একটি আর্মেনিয়ান চার্চ এখনও বহাল তবিয়তে রয়েছে। পটলের 'ডোলমা' তো বাঙালির ভাষা-হেঁশেলে আর্মানিরাই ঢুকিয়েছিল। কলকাতায় ব্রিটিশপূর্ব আর্মেনিয়ান কলোনির কথা লিখে গেছেন আর্মেনিয়ান ঐতিহাসিক তথা গবেষক মেসরোভ জ্যাকব শেথ। আচার্য সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ও সেই মতের সমর্থক ছিলেন। তাই আর্মেনিয়ান 'আয়ো' থেকে আঁ হয়ে হ্যাঁ তথা হাঁ হওয়ার সম্ভাবনা থেকেই যায়।

অশোক মুখোপাধ্যায়ের সমার্থ শব্দকোষে হ্যাঁ শব্দটির প্রতিশব্দগুলি হল, "আচ্ছা, বিলক্ষণ, অবশ্যই, নিশ্চয়ই, ঠিক আছে, আচ্ছা বেশ"। সংস্কৃত 'অস্তু' থেকে অচ্ছ হয়েই নাকি আচ্ছা। এমনটাই জানাচ্ছে সংসদ বাংলা অভিধান। জ্ঞানেন্দ্রমোহন দাসের অভিধান কিন্তু বলছে [সং.প্রাকৃত='যা ইচ্ছা'] থেকেই এসেছে আচ্ছা।

এই আচ্ছা-র রূপভেদ আছে। প্রাদেশিক উচ্চারণে 'আইচ্ছা' যেমন হয়, তেমনি 'হাচ্ছা'-ও হয়। সাহিত্যিক সন্দীপন চট্টোপাধ্যায় তাঁর ক্রীতদাস ক্রীতদাসী, সমবেত প্রতিদ্বন্দ্বী, কলেরার দিনগুলিতে প্রেম, স্বর্গের নির্জন উপকূলে ইত্যাদি গ্রন্থে সংলাপের মধ্যে কখনও কখনও আচ্ছার জায়গায় 'হাচ্ছা' শব্দটি ব্যবহার করেছেন। এটাকে সন্দীপনী কেতা বা স্টাইল বলে উড়িয়ে দেওয়া যাবে না। পশ্চিমবঙ্গীয় 'ঘটি' উচ্চারণে এটা হতে পারে। সন্দীপনবাবু নিজেও এ-বঙ্গীয় ছিলেন, হাওড়ায় জন্মেছিলেন। এ দেশিয় কথ্যভাষায় তাঁর জ্ঞান অপরিসীম। আচ্ছা থেকে হাচ্ছা হয়ে তা থেকে সংক্ষেপে হাঁ বা হ্যাঁ হয়েছে কিনা সেটাও ভেবে দেখা দরকার।

তবে সবচেয়ে প্রণিধানযোগ্য মতটি পাওয়া যাচ্ছে ড. সত্যনারায়ণ দাশের লেখা 'বাংলায় দ্রাবিড় শব্দ (ব্যুৎপত্তিকোষ)' অভিধানটিতে। হাঁ, এই অব্যয় শব্দটি এসেছে কন্নড় বা গৌড়া কন্নড় 'হাঁ' শব্দ থেকে। অর্থ সম্মতিসূচক অভিব্যক্তি। দ্রাবিড় জনগোষ্ঠীর গৌড়া সম্প্রদায়ও এ বঙ্গে এসেছিল হাজার হাজার বছর আগে। তারাই হাঁ-নামক সম্মতিজ্ঞাপক শব্দটিকে বাংলায় নিয়ে আসে। শব্দটি অস্ট্রিকভাষী বাঙালি সাদরে গ্রহণ করে।

লিখেছেন
Asit Das
Asit Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

ক্লাইভের মুখে দুগ্গা দুগ্গা, কেমন ছিল শোভাবাজার রাজবাড়ির প্রথম দুর্গাপুজো

Shobhabazar Rajbari Durgapuja: শোভাবাজারের গর্ব সাবেকী এক চালার প্রতিমা। প্রতিমা শিল্পী, মোদক, ঢাকি বংশ পরম্পরায় জড়িয়ে আছেন এই পুজোর সঙ্গে। দশমীর পুজোর অন্যতম নিয়ম ‘কনকাঞ্জলি প্রথা’। লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০২১ সালের ১১ অক্টোবর।

জিতাষ্টমী থেকে শুরু দেবীর আরাধনা, ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির পুজো চলে পনেরো দিন

Jhargram Rajbari Durga Puja: রাজপুতানার ফতেহপুর সিক্রি থেকে আসা চৌহান বংশের ক্ষত্রিয় বীর সর্বেশ্বর সিংহ চৌহান। মুঘল সেনাপতি মানসিংহের বাংলা অভিযানের সময় তিনি জঙ্গলখণ্ডে আসেন। স্থানীয় জংলি মাল রাজাকে দ্বন্দ্বযুদ্ধে পরাজিত করে তিনি এই জঙ্গলমহলে নিজের রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। নামের সঙ্গে জুড়ে নেন 'মল্লদেব' উপাধি। আর ঘন জঙ্গলে ঘেরা সেই জায়গার নাম দেন ঝাড়গ্রাম।

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

থিম নেই, জাঁকজমক নেই: মানুষের ভালবাসায় গড়া আমার গ্রাম কেশাতড়ার দুর্গাপুজো

Keshatara village Durga Puja: পুজোর সম্পূর্ণ খরচ বহন করেন গ্রামের মানুষই। ইদানীং সরকারি অনুদান মেলে ঠিকই, কিন্তু পুজোর ভোগের চালটা আজও আসে গ্রামের মানুষের দেওয়া টাকা থেকেই।

দুর্গা মুখ তুলে তাকাবেন হকারদের দিকে?

Durga Puja Economy in Bengal: কর্পোরেট পুঁজির প্রভাব, অসংগঠিত অর্থনীতির সংকট, হকার উচ্ছেদ এবং ধর্মীয় বিধিনিষেধের আবহে কতটা সুরক্ষিত থাকবে শারদোৎসবের নিজস্ব চরিত্র? পুজোর জৌলুস বাড়লেও নাগরিক স্বাধীনতা, শিল্পের স্বতঃস্ফূর্ততা এবং সাধারণ মানুষের জীবিকার জায়গা ক্রমশ সংকুচিত হবে?

দুর্গাপুজোর উৎসব, অসুরের শোক: বাংলার ইতিহাসে কার জয়, কার পরাজয়?

Mahishasur Puja: ২০১১-র পুরুলিয়া পার করে ২০১৪-র মালদার গাজল। নিত্যানন্দ হেমব্রমরা শুরু করলেন অসুর আন্দোলন। ততদিনে উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলে অসুর পুজোর সংখ্যা ৬৫০ ছাড়িয়েছে। কেউ মূর্তি বানিয়ে মহিষাসুর স্মরণ করেন, কেউ ফ্লেক্স বানিয়ে আলোচনা সভা।

প্রতিদিন বদলায় মেনু, বদলায় খাবারের দাম: তবু স্বাদে অটুট কলকাতার সিদ্ধেশ্বরী আশ্রম

Hotel Siddheswari Ashram: সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে চোখ পড়বে সুবিশাল মেনু বোর্ডে, যাতে মুদ্রিত আছে হোটেলটির সামগ্রিক খাদ্য সমাহার। বোর্ডটিতে সেই দিনের প্রাপ্ত পদের পাশে চকখড়িতে হাতে লেখা সেই দিনের দাম। আর অতি অবশ্যই বাংলা ও ইংরাজিতে লেখা থাকে তারিখ।

যে দুর্গাবাড়ির পঞ্চমুণ্ডির আসনে আজও বসেন দেবী, সেখানেই একদিন শপথ নিতেন বিপ্লবীরা

Gangarampur Durgabari,: তন্ত্রশাস্ত্র অনুসারে, পঞ্চমুণ্ডি আসন সাধারণ কোনো বেদি নয়। পাঁচটি নির্দিষ্ট খুলি বা করোটি—যেমন চণ্ডাল বা ডোমের, শিয়ালের, বেজি বা নেউলের, বিষধর সাপের এবং হনুমানের খুলি মাটির নিচে নির্দিষ্ট নিয়মে পুঁতে এই আসন তৈরি করা হয়।