একই গুরুর শিষ্য! নীতীশ নিয়ে যা বললেন যোগেন্দ্র যাদব

Yogendra Yadav Bharat Jodo Nyay Yatra : "নীতীশ কুমারকে একটাই প্রশ্ন। এই খেলা আর কদ্দিন? এই আসনে তো কম দিন বসেননি। এবার আসন নিয়ে কি কেউ উপরে যায়?” প্রশ্ন যোগেন্দ্রর

inscript
৩ মিনিট
একই গুরুর শিষ্য! নীতীশ নিয়ে যা বললেন যোগেন্দ্র যাদব

তিনি বলেছিলেন, কংগ্রেসের ভারত জোড়ো যাত্রা আসলে দক্ষিণায়ন যাত্রা। দক্ষিণ থেকে উত্তরে ভারতকে ভালোবাসায় বাঁধার এই যাত্রা। ভারত জোড়ো যাত্রার দ্বিতীয় ধাপ, ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রাতে যোগ দিয়ে উত্তরবঙ্গকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া পক্ষেই সওয়াল করলেন রাজনৈতিক সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদব। ইনস্ক্রিপ্টের সঙ্গে কথাবার্তায় স্বরাজ অভিযানের প্রতিষ্ঠাতা যোগেন্দ্র বলছেন পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে উত্তরবঙ্গ এক বিশেষ এলাকা। এই এলাকার সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক প্রায় বছর পঁচিশের। বহুবারই ফলাকাটা, ধূপগুড়ি, জলপাইগুড়ি এসেছেন তিনি। তখন তাঁর সঙ্গী ছিলেন যুগল কিশোর রায়বীর। তিনি ছিলেন রাজবংশী, দলিত সমাজের মানুষ। তাঁর নেতৃত্বে বহু রাজনৈতিক শিক্ষা পেয়েছেন যোগেন্দ্র। এতকাল পরে নিজের শুরু সময়ের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে এই ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রা।

যোগেন্দ্র বলছেন, এই দেশে যদি প্রকৃত ন্যায়ের প্রয়োজন থাকে কোনও অঞ্চলের, তাহলে তা উত্তরবঙ্গ। উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক ন্যায় প্রয়োজন, আর্থিক ন্যায়, সামাজিক ন্যায় প্রয়োজন। যোগেন্দ্রর কথায়, "এই অঞ্চলটি যদি পুরো দেশে ২৪ ঘণ্টাও গুরুত্ব পায় তাহলেই আমার এখন মনে হয়, অনেক পাওয়া! দার্জিলিংয়ে ভোট কী হবে, নীতীশ কুমার কেন পালটি খেলেন, কার জোট, কী আসন ভাগাভাগি এসবের থেকে অনেক বড় বিষয় হচ্ছে, উত্তরবঙ্গের সমস্যা। আমাদের সেইদিকে নজর দিতে হবে।"

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ফালাকাটায় রাহুল গান্ধি? না পেলি আমাকে আর তোকেও আমি পেলাম না

Exclusive: প্রায় সাত হাজার স্থানীয় লোককে রাহুল গান্ধির 'ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রা'য় সামিল করার পরিকল্পনা ছিল স্থানীয় কংগ্রেসের। কথা ছিল, চা-বলয় থেকে শ্রমিকরা আসবেন। ছাত্র-যুব-মহিলাদের সঙ্গেও মুখোমুখি কথা বলবেন রাহুল।

যোগেন্দ্রর কথায়, সমাজকর্মীরা সবসময়ই চান মূল সমস্যা, বাস্তবের সমস্যাগুলিকে তুলে ধরতে। তারা চাইছেন এই অঞ্চলের, ভারতের, ন্যায়ের মূল সমস্যার জায়গাগুলি তুলে ধরতে। উত্তরবঙ্গ হচ্ছে বাংলার এমন এক জায়গা যা অর্থনৈতিক বঞ্চনায় ভুগেছে। এই অংশের রাজবংশী এবং অন্যান্য আদিবাসদের সঙ্গে সামাজিক চূড়ান্ত বৈষম্য হয়েছে। এই অঞ্চলে রাজনৈতিক বঞ্চনাও হয়েছে। ফলে যে ন্যায় যাত্রা রাহুলকে সামনে রেখে এগিয়ে চলেছে, সেই যাত্রা উত্তরবঙ্গের এই অংশকে বেছে নিয়েছে কারণ 'ন্যায়' শব্দটিই এখানে প্রহসন হয়ে উঠছে।

কিন্তু কংগ্রেস যেখানে একদিকে ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রা করছে, সেখানে ইন্ডিয়া জোটসঙ্গী নীতীশ কুমার ফেল দল বদলে ফেলে ইস্তফা দিয়ে দিয়েছেন। বিরোধীদের মধ্যে এই মতভেদ, এই আলগা বিষয়টিই কি বিজেপিকে আরও শক্তিশালী করছে না? যোগেন্দ্র ইনস্ক্রিপ্টের এই প্রশ্নের উত্তরে বলেন, “নীতীশ কুমার যা করলেন তাতে আমার ব্যক্তিগতভাবে একটা জায়গাতেই খারাপ লাগছে। নীতীশ কুমার আর আমি গুরুভাই। কিষণ পট্টনায়ক আমার গুরু, তিনিই নীতীশেরও রাজনৈতিক গুরু। আমরা দুজনেই তাঁর নেতৃত্বে রাজনীতির পাঠ শুরু করি। কিষণ পট্টনায়কের শিষ্য হিসেবে, গুরুভাই হিসেবে আমার লজ্জা হচ্ছে। নিজের রাজনৈতিক জীবনের একেবারে শেষলগ্নে এসে এমন জঘন্য কাজ করলেন তিনি! আমারই লজ্জা লাগছে ভাবতে। নীতীশ কুমারকে একটাই প্রশ্ন। এই খেলা আর কদ্দিন? এই আসনে তো কম দিন বসেননি। এবার আসন নিয়ে কি কেউ উপরে যায়?”

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
আবার প্রতারণা নীতীশের! যেভাবে এগোয় পল্টুরামের পাল্টির কিসসা

Nitish Kumar Resigns : এক দশকে এই নিয়ে পঞ্চম ডিগবাজি খেলেন নীতীশ। বিহারের পল্টুরাম বলছেন, বিরোধী জোটে কেউ নাকি কোনও কাজ করছিল না।

যোগেন্দ্র বলছেন, নিজের ও দলের নাম কালিমালিপ্ত করে আসলে নীতীশ নিজেই নিজেকে ছোট করেছেন। নীতিশের এই সিন্ধান্ত কি ইন্ডিয়া জোটের কাছে বড় ধাক্কা নয়? যোগেন্দ্র বিশ্বাস, ইন্ডিয়া জোটকে নীতীশ বিন্দুমাত্র সমস্যায় ফেলতে পারেননি। কারণ বহু সময় ধরে অনেকেই জানতেন এমনটা হতে চলেছে। "এই দেশ এখন যে অবস্থায় দাঁড়িয়ে তাতে আমার মনে হয় ভালোই হয়েছে। মানুষ জেনে যাক কে কে আসলে সাম্প্রদায়িক শক্তির পাশে রয়েছে আর কারা লড়াই করছে সত্যের। যারা এই সাম্প্রদায়িক শক্তিকেই ভেতরে ভেতরে পুষে রাখে তারা সবাই বাদ চলে যাক, আমি তো চাই এরা সবাই চলে যাক। তাহলে দেশ জানবে কারা খাঁটি"।

তবু, বিজেপির মতো সংগঠিত শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করা কি সহজ? বিজেপির বিরুদ্ধে কিছু বললেই ইডি-সিবিআইয়ের মতো কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাহলে উপায় কী? যোগেন্দ্র ইনস্ক্রিপ্টকে বলেন, “ইডি এখন বিজেপির নির্বাচনী বিভাগ। যখন এসব ঘটনা কোনও গণতন্ত্রে ঘটে তখন শেষ জবাব দেয় জনতাই। মানুষই এই সমস্ত অনাচারের যোগ্য উত্তর দেবে। তাই আমাদের মানুষদের সচেতন করতে হবে। সত্যকে মানুষের কাছে নিয়ে যেতে হবে, মানুষকে সত্যের কাছে নিয়ে যেতে হবে। এইটাই এই মুহূর্তে বিরোধীদের একমাত্র স্ট্র্যাটেজি।"

যোগেন্দ্র আরও বলেন, "প্রধানমন্ত্রী লাক্ষাদ্বীপ ঘোরেন, মণিপুর যান না। ইতিহাস যদি দেখি, বরাবরই কার কী অবস্থান তা শেষমেশ পরিষ্কার হয়েই যায়। আজ দেশ বুঝে গেছে আসলে দেশভক্ত কারা, আসলে কারা নয়। কারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে আর কারা একনায়কতন্ত্রে।" ন্যায় যাত্রা আসলে সত্যের যাত্রা। মিথ্যা আর ঘৃণার লড়াইয়ে কে সত্য অনুসন্ধানের সাহস রাখে, আর কারা এই অন্ধকারে নিজের আখের গোছাচ্ছে তা জনগণের কাছে স্পষ্ট হয়ে যাক, চাইছেন যোগেন্দ্র!

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।