ডেলিভারি কর্মীর অসভ্যতা! জোম্যাটোয় খাবার অর্ডার করে শিউরে ওঠা অভিজ্ঞতা মহিলার

Zomato Food Delivery: যিনি ডেলিভারি দিতে এসেছিলেন তাঁর নাম শ্বেতাং জোশী। এই ডেলিভারি এজেন্ট বারবার তাঁর নিজের পায়ের দিকে ইশারা করে দেখাতে চাইছিলেন যে তিনি আঘাত পেয়েছেন।

inscript
৩ মিনিট
ডেলিভারি কর্মীর অসভ্যতা! জোম্যাটোয় খাবার অর্ডার করে শিউরে ওঠা অভিজ্ঞতা মহিলার

অনলাইনে বাড়িতে বসে খাবার আনিয়ে নেওয়ার সুযোগ ব্যবহার করেননি, এই সময়ে এমন মানুষ পাওয়া দুষ্কর। বিশেষ করে একা থাকেন যারা, বা বাড়িতে থেকেই কাজ করেন যারা, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই সুবিধাটা নিয়ে থাকেন। অথচ কতটা নিরাপদ একজন ফুড ডেলিভারি এজেন্টের থেকে খাবার নেওয়া? বিশেষ করে একা মহিলাদের ক্ষেত্রে? কোনও দুর্যোগের সময়, বৃষ্টিতে বা অসুস্থতায় অ্যাপের মাধ্যমে খাবার আনিয়ে নিতে গিয়ে বিপদে কি পড়েননি কোনও মহিলা? সাম্প্রতিক একজন মহিলার অভিজ্ঞতা স্তব্ধ করে দেয়। আরজি কর হাসপাতালে মহিলা চিকিৎসকের ধর্ষণ ও হত্যার বিচারের দাবিতে ক্ষুব্ধ সারা দেশই। মেয়েদের রাত দখলের আন্দোলন চলছে। আর এমন রাতেই মেয়েদের বিপদ ঠিক কোথায় কোথায় ঘাপটি মেরে থাকতে পারে অপ্রত্যাশিতভাবে, সেই শিউরে ওঠা অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন আহমেদাবাদের এক মহিলা। জোম্যাটোর ডেলিভারি এজেন্ট যৌন হেনস্থা করেছেন তাঁকে, অদ্ভুত সেই হেনস্থা!

আহমেদাবাদে প্রবল বৃষ্টি চলছে। এরই মধ্যে মঙ্গলবার গভীর রাতে কফি অর্ডার করেন এক মহিলা। এমন তুমুল বর্ষণে ডেলিভারিতে দেরি হচ্ছিল স্বাভাবিকভাবেই। তাতে অসুবিধা ছিলও না। পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে ওই মহিলা অপেক্ষাই করছিলেন। অবশেষে ওই ডেলিভারি কর্মী মহিলার অর্ডার নিয়ে হাজিরও হন। তারপর যা ঘটে, তা অপ্রত্যাশিত! ওই মহিলা নিজের এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, ডেলিভারি দিতে এসে ওই কর্মী দেরি হওয়ার জন্য ক্রমাগত ক্ষমা চাইছিলেন। হাসতে হাসতে এতবার ক্ষমা চান ওই কর্মী যে বিষয়টা অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে মহিলার কাছে। এমন বর্ষণের রাত, সারা দেশেই অদ্ভুত ভয়ের পরিস্থিতি- এই সবের কথা মাথায় আসাতে আরও অস্বস্তি বেড়ে যায়। তাও ওই মহিলা বিষয়টিকে গুরুত্ব না দেওয়ারই চেষ্টা করেন।

তিনি জানিয়েছেন, যিনি ডেলিভারি দিতে এসেছিলেন তাঁর নাম শ্বেতাং জোশী। এই ডেলিভারি এজেন্ট বারবার তাঁর নিজের পায়ের দিকে ইশারা করে দেখাতে চাইছিলেন যে তিনি আঘাত পেয়েছেন। পায়ের কোথায় আঘাত লেগেছে তা দেখতে ওই মহিলা নিজের মোবাইলের ফ্ল্যাশ লাইট জ্বালান। মহিলার অভিযোগ, তিনি দেখতে পান ওই ডেলিভারি কর্মী নিজের যৌনাঙ্গ উন্মুক্ত করে রেখেছেন। অভিযোগ, ওই অবস্থাতেই হাসতে হাসতে ডেলিভারি কর্মী মহিলাকে বলতে থাকেন, "ম্যাম, প্লিজ হেল্প কর দো"!

please everyone help me :(

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
আরজি কর হত্যা: যে প্রশ্নগুলি রয়েই গেল

RG Kar Rape Murder Case: যদি মেনেও নিই যে অচৈতন্য দেহ পাওয়া গিয়েছিল। তাহলে কি সেমিনার রুমে সবাই দাঁড়িয়েছিলেন মেয়েটা কখন মরে যাবে তা দেখবার জন্য?

— heer ᶻ 𝗓 𐰁 .ᐟ (@heerkaunhai)

মহিলা জানিয়েছেন, তিনি অবিলম্বে ঘটনাটি জোম্যাটোকে জানান কিন্তু কোম্পানি যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তা আরও অসংবেদনশীল। সংস্থার তরফে যে মহিলা ফোন ধরেন, তিনি জানান, তারা দুই পক্ষের পরিস্থিতিই শুনবেন। অর্থাৎ অভিযোগকারিণী এবং ডেলিভারি পার্টনারের বয়ান শুনবেন তারা। মহিলা লিখছেন, "রাত ১ টার সময় কেউ কেনই বা বিপদে না পড়লে জোম্যাটোর কাস্টমার কেয়ারে ফোন করবে? না আমি টাকা ফেরত চাইছি না অন্য কিছু চাইছি! আমি শুধু চেয়েছিলাম অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। কিন্তু একজন মহিলা হয়েও যেভাবে 'অপেক্ষা করতে' বলা হয় সেই আচরণ অত্যন্ত বিরক্তিকর।"

এমনকী এই বিষয়ে পরবর্তীতে জোম্যাটো আর কল ব্যাকও করেনি। ফলে জরুরি পরিস্থিতিতে বাইরে থেকে খাবার অর্ডার করা কতটা অনিরাপদ একজন মহিলার কাছে, এই প্রশ্ন উঠছেই। বহুক্ষেত্রেই হয়তো অনেক মহিলাই এমন হেনস্থার শিকার হচ্ছেন অথচ অভিযোগ না জানিয়ে এড়িয়ে যাচ্ছেন। পরে অবশ্য ওই মহিলা জানান, জোম্যাটো তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করে। ডেলিভারি কর্মীর কাজ গিয়েছে এবং তাঁর লাইসেন্সও বাতিল করা হয়েছে। যদিও এই ঘটনায় আরও অনিরাপদ বোধ করছেন তিনি। এই ধরনের অ্যাপের কর্মীরা ক্রেতার বাড়ির ঠিকানায় যেহেতু খাবার পৌঁছে দেন, ফলে কখনও সেই ঠিকানাতে আবারও বিপদ এসে হাজির হতেই পারে। সংস্থা নিজের মতো পদক্ষেপ করে শাস্তির বন্দোবস্ত করবে ঠিকই কিন্তু তাতে মহিলার নিরাপত্তার প্রশ্নটি ধামাচাপাই পড়ে যাবে। রাত দখল তো দূর অস্ত! একা বাড়িতে নিজের পছন্দের খাবার খাওয়ার নিরাপত্তাটুকুও নেই একজন মহিলার এই দেশে!

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।