চিনি থেকে সিগারেট! অবাক করবে চিনা বরদের এই আশ্চর্য বরপণ
China's Controversial Wedding Tradition: সম্প্রতি এমনই একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। যেখানে বরের গাড়ি আটকে আশ্চর্য দাবি জানাতে দেখা গিয়েছে গ্রামবাসীকে।

মেয়ের বিয়ে দিতে বরপক্ষকে মোটা অঙ্কের পণ দেওয়ার নজির এ দেশে কম নেই। এমনকী পণ দিতে না পারায় বউকে মারধর, এমনকী বধূহত্য়ার ঘটনাও বিরল নয়। বিয়ের অনুষ্ঠানের এ দেশে রয়েছে নানা আচার-অনুষ্ঠান। আইবুড়োভাত থেকে গায়ে হলুদ, নানা উৎসব-উদযাপনে মোড়া এ দেশের বিয়ে। শুধু এ দেশেই নয়, বিয়েকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন দেশেই রয়েছে বিভিন্ন রকম নিয়মকানুন। কোথাও বিয়ের আগে কাচের বাসন ভাঙার রেওয়াজ, কোথাও আবার কোথাও আবার বিয়ের আগে মাজতে হয় বাসন। তবে চিনের একটি প্রদেশের বিয়ের নিয়ম নাকি আশ্চর্য। সেখানে কনেকে বিয়ে করে বাড়ি নিয়ে যেতে হলে দিতে হয় আজব দাম।
অনেক সময়ই নতুন বরের কাছ থেকে নানা ধরনের আবদার করে থাকে তাঁর শ্যালিকারা। কখনও দোর ধরে টাকা চাওয়া হয়, তো কখনও শয্যা তুলে। তবে তিনের জিয়াংসু প্রদেশের তাইঝৌয়ের একটি গ্রামে কনে নেওয়ার জন্য বরকে দিতে হয় বিশেষ ট্যাক্স। না, শ্যালিকা বা কনেক বান্ধবীরা নয়, চিনের এই গ্রামে বরবাবাজিকে ছেঁকে ধরেন গোটা গ্রামের লোক। আর সেই গ্রামবাসীদের মধ্যে বেশিরভাগই নাকি বয়স্ক মানুষ।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Expensive Indian Weddings: ২০১৬ সালে, কর্ণাটকের প্রাক্তন মন্ত্রী জনার্ধন রেড্ডির মেয়ের বিয়েতে ৫০০ কোটিরও বেশি টাকা খরচ করা হয়েছিল।
সম্প্রতি এমনই একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। যেখানে বরের গাড়ি আটকে আশ্চর্য দাবি জানাতে দেখা গিয়েছে গ্রামবাসীকে। কনে ঘরে নিয়ে যেতে গেলে গ্রামবাসীদের হাতে দিতে হবে লাল খামে ভর্তি টাকা। না, টাকা দিলেই হবে না। তার সঙ্গে দিতে হবে চিনি বা সিগারেট। আর এই সব তত্ত্ব পেয়ে গ্রামবাসীরা সন্তুষ্ট হন, তবেই কনের কাছে যাওয়ার সুযোগ পাবে বর। যতক্ষণ না গ্রামবাসীরা খুশি হচ্ছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত ছাড় নেই বরবাবাজির। এমনকী বিয়ে বানচাল পর্যন্ত হয়ে যেতে পারে।

- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Store In The Sky: সমতল থেকে প্রায় ৩৯৩ ফুট উপরে দোকানটির অবস্থান। দূর থেকে দেখলে মনে হবে যেন পাহাড়টি আঁকড়ে কোনও মতে টিকে রয়েছে সেটি। একটু এদিক-ওদিক হলেই ঘটে যেতে পারে বিপদ।
স্থানীয় ম্যান্ডেরিন ভাষায় এই প্রথার নাম ল্যান মেন। যার বাংলা করলে দাঁড়ায় দরজা আটকে দাঁড়ানো। ভারতীয় বিয়েতেও কিন্তু এই দরজা ধরার চল রয়েছে। বিয়ে মানে তো কেবল মাত্র দু'টি মানুষের মিলন নয়, গোটা পরিবার, এবং গোটা সমাজের একত্রিত হওয়া। সেই ব্যাপারটার কথা মনে রেখেই চিনে এই প্রথা।
তবে যা খুশি দিলেই যে বরপক্ষ ছাড় পাবে তা কিন্তু নয়। ন্যূনতম অর্থের পরিমাণ বাঁধা রয়েছে এই রীতিতে। উপস্থিত গ্রামবাসীদের সংখ্যার উপরে নির্ভর করবে টাকার অঙ্ক। অনেক বেশি লোক থাকলে প্রতিটি প্যাকেটে একটি করে ইউয়ান থাকবে। এক ইউয়ান মানে ১৪টি মার্কিন সেন্ট। আর কম লোক থাকলে প্রতিটি লাল প্যাকেটে থাকতে হবে ১০ ইউয়ান করে। এমনটাই দস্তুর।
সোশ্যাল মিডিয়ায় এই দৃশ্য ভাইরাল হতেই চোখ কপালে তুলেছেন অনেকে। অনেকের মতে এ তো পুরোদস্তুর ডাকাতি। অনেকে আবার বলেছেন, এমন রেওয়াজ হলে তো নতুন প্রজন্মের ছেলেপুলেরা বিয়ে করতে ভয় পাবে। অবশ্য কেউ কেউ এমন আশ্চর্য রীতিকে সমর্থনও করেছেন। এ দেশে যে পণপথা ভয়াল এবং ভয়ঙ্কর, চিনের গ্রামে তার উল্টোপিঠ দেখতে পেয়ে খুশিই হয়েছেন তাঁরা।
















