কোন পরিবেশে বসে লিখতেন আগাথা ক্রিস্টি? বিশ্বখ্যাত সাহিত্যিকের এই অভ্যাস অবাক করবে

Agatha Christie writing Habits: আগাথা ক্রিস্টি তার মাথায় লেখার কোনও প্লট এলেই লিখে রাখতেন নোটবুকে। এই নোটবইটি কাছছাড়া করতেন না মোটেও।

inscript
৩ মিনিট
কোন পরিবেশে বসে লিখতেন আগাথা ক্রিস্টি? বিশ্বখ্যাত সাহিত্যিকের এই অভ্যাস অবাক করবে

কাজ করার জন্য একটা গোছানো পরিবেশ দরকার। সকাল সকাল ধূপের গন্ধ মাখা, রৌদ্রনিকানো ঘরে বসে কাজ শুরু করার আমেজই আলাদা। অথবা সান্ধ্যকালীন মেজাজ হলে, হালকা হলুদ আলো। সঙ্গে কফির ধোঁয়া ওঠা কাপ, হালকা শব্দে বাজছে প্রিয় গানখানি, প্রিয়তম রাগ! এমন গোছানো পরিবেশ পেলে কাজ করেও আরাম। আর যদি না পান? তাহলে কি সমস্ত কাজই পণ্ডশ্রম? যদি এমন রৌদ্রজ্জ্বল অফিস ডেস্ক না পান, এমন সান্ধ্যকালীন বৈঠকি মেজাজ না পান তাহলে কি কাজে ইতি? বিশ্ববিখ্যাত এমন কত মানুষই তো আছেন যারা এমন পরিবেশের কথা ভাবতেও পারেননি। নোংরা এঁদো গলিতে বসে, ঘাড় গুঁজেই কেটে গিয়েছে দিন। আর তাঁদের মস্তিষ্ক প্রসব করেছে বিশ্বকাঁপানো সমস্ত সাহিত্য, ছবি, আন্দোলন! এমনই একজন মানুষ ছিলেন আগাথা ক্রিস্টি। বিশ্বাস করতেন, বলতেন, যেকোনও জায়গায় কাজ করতে শিখুন, শিখতেই হবে।

কাজে নামার আগে সঠিক পরিবেশ খুঁজে পেতেই হবে, ধারণাটা আসলে কর্মবিমুখ করে। আমেরিকান সুরকার মর্টন ফেল্ডম্যান বলতেন, অনেক বছর ধরে তিনি একটা কথা বলে বেড়াতেন। "আমি যদি একখানা আরামকেদারা খুঁজে পাই তবে আমি মোজার্টকেও পিছনে ফেলে দেব!” কোনও কিছু লেখার আগে সমারসেট মওঘম একটি ফাঁকা সাদা দেওালের দিকে তাকিয়ে রইতেন। তাঁর মনে হতো, অন্য যে কোনও দৃশ্য, ঘটনা তার সামনে এলে খুব বিভ্রান্ত হবেন তিনি। অন্য অনেক শিল্পী এবং লেখকদের অভিজ্ঞতা বলে, নিজেকে কাটিয়ে উঠতে হবেই।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
অপরাধীর হাতেই রূপ পেল বিশ্বের সেরা গোয়েন্দা গল্প, আগাথা ক্রিস্টি যে কারণে অমর

বিভিন্ন সাহিত্যিক এই মেয়েটাকে নিয়েই কত গবেষণা-গ্রন্থ, কত নাটকীয় উপন্যাস লিখে ফেলেছে! মেয়েটা জীবনে আর কোনওদিন সেই দিনগুলোর কথা তোলেনি।

১৮১০-এর দশকে হ্যাম্পশায়ারের চাউটনে জেন অস্টেন যখন সাহিত্যের মধ্যগগনে, কীভাবে লেখালিখি করতেন তিনি জানলে অবাক হতে হয়! মূলত পারিবারিক যে বসার ঘর, সেখানেই লেখালিখি সারতেন তিনি। প্রায়ই তাঁর মা তার কাছেই বসে সেলাই করতেন। এত লোকজন আসত, এত বাধা, বাধ্য হয়ে তিনি বাজে কাগজে লিখতে শুরু করেন যা সহজেই লুকিয়ে রাখা যেতে পারত। আগাথা ক্রিস্টি লিখেছেন, সাংবাদিকদের সঙ্গে হরদম ঝামেলা লেগেই রইত! সাংবাদিকরা একটা বিষয় নিয়ে আবদার করতেন। ডেস্কে বসে লেখিকা লিখছেন, এমন একটা দৃশ্যের ছবি তুলবেনই তুলবেন! এ তো আচ্ছা ঝামেলা! ছবিটা তুলবেনই বা কোথায়! আগাথা ক্রিস্টির কাছে কোনও টেবিলই ছিল না! টাইপরাইটার টেবিলে রেখে যুত করে লেখালিখি করবেন, এমন পরিস্থিতিই ছিল না তার।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
প্রচারের প্রলোভন সাহিত্যের জন্য মারাত্মক : মিলান কুন্দেরা

Milan Kundera Interview: খোমেনি, মাও, স্তালিন- এরা বাম নাকি ডান? সর্বগ্রাসীবাদ বামও নয়, ডানও নয়। এই সর্বগ্রাসী সাম্রাজ্যের মধ্যে দুই-ই ধ্বংস হয়ে যাবে।

আগাথা ক্রিস্টি তার মাথায় লেখার কোনও প্লট এলেই লিখে রাখতেন নোটবুকে। এই নোটবইটি কাছছাড়া করতেন না মোটেও। লেবেল সহ নোটবুকগুলি যত্ন সহকারে গুছিয়ে রাখতেন। যদিও তিনি কোথায় কী লিখেছিলেন তা হারিয়ে ফেলতেন প্রায়ই কারণ ওই একই সময়ে হাফ ডজন নোটবুক ছিল তার। আগাথা তখন তাঁর প্লট নিয়ে ভাবতেন, ভাবতে ভাবতে এবং সংলাপ উচ্চস্বরে বলতে বলতে দীর্ঘ নির্জন পায়চারি করতেন। আগাথা বলতেন, রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতেই দুর্দান্ত সব ক্রাইম প্লট ভেবে ফেলতেন তিনি। পাশাপাশি খুঁটিয়ে পড়তেন খবর।

সত্যিই কি এইসব বাহ্যিক সমস্যা, শব্দের মধ্যে বসে নিবিড় কাজ করা, ভাবা সম্ভব? এই বিক্ষিপ্ততা থেকে নিরঙ্কুশ স্বাধীনতা মিললেই কি মনসংযোগ করা সম্ভব? একটি সমীক্ষা সম্প্রতি বলছে, কিছু শব্দ, যেমন কোনও কফি শপে চলতে থাকা গুঞ্জন আপনার কাজে মনোনিবেশ করতে সাহায্য করে বেশি। কিছু মানুষ যেমন নীরবে বা জীবনে অন্য কোনও অশান্তি থেকে মুক্ত হয়ে কাজ করতে ভালো পারেন, কিছুজনের আবার চরম অশান্ত পরিবেশই আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়ায়। সাংবাদিক রন রোজেনবাউম জোরে টিভি চালিয়ে যাবতীয় সৃজনশীল কাজ করেন। তিনি বলেন, কানের কাছে বা চারদিকে গাঁকগাঁক করে কোনও আওয়াজ হচ্ছে আর তার মধ্যে বসে তাঁকে নির্দিষ্ট কিছু করতে হচ্ছে, এর জন্য যে মনোযোগ দরকার তা আরও শক্তিশালী হয় প্রতিকূল পরিবেশে।

কিন্তু এখানে একটি বিষয় ভুলে গেলে চলবে না। নিখুঁত কর্মক্ষেত্র হলেই যে দক্ষ কাজ হবে এমন ভাবনা ভুল। কোনও 'নিখুঁত' রুটিন বা আচার মেনে চললেই যে আপনি মারকাটারি সৃজনশীল হয়ে উঠবেন এমন নয়। বিশেষ খাবার, বিশেষ স্নান, বিশেষ টেবিল, বিশেষ ল্যাপটপ, বিশেষ কাজের ঘর আপনাকে আরাম দিতে পারে ঠিকই, তবে শেষ কথা বলে প্রতিভা এবং কঠোর পরিশ্রমই। যে কোনও পরিস্থিতিকে নিজেকে রেখে নিজের লক্ষ্যে অবিচল থাকতে গেলে দুইটি বিষয়ই দরকার। পরিশ্রম আর জেদ! বাকিটা সহজ...

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

ক্লাইভের মুখে দুগ্গা দুগ্গা, কেমন ছিল শোভাবাজার রাজবাড়ির প্রথম দুর্গাপুজো

Shobhabazar Rajbari Durgapuja: শোভাবাজারের গর্ব সাবেকী এক চালার প্রতিমা। প্রতিমা শিল্পী, মোদক, ঢাকি বংশ পরম্পরায় জড়িয়ে আছেন এই পুজোর সঙ্গে। দশমীর পুজোর অন্যতম নিয়ম ‘কনকাঞ্জলি প্রথা’। লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০২১ সালের ১১ অক্টোবর।

জিতাষ্টমী থেকে শুরু দেবীর আরাধনা, ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির পুজো চলে পনেরো দিন

Jhargram Rajbari Durga Puja: রাজপুতানার ফতেহপুর সিক্রি থেকে আসা চৌহান বংশের ক্ষত্রিয় বীর সর্বেশ্বর সিংহ চৌহান। মুঘল সেনাপতি মানসিংহের বাংলা অভিযানের সময় তিনি জঙ্গলখণ্ডে আসেন। স্থানীয় জংলি মাল রাজাকে দ্বন্দ্বযুদ্ধে পরাজিত করে তিনি এই জঙ্গলমহলে নিজের রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। নামের সঙ্গে জুড়ে নেন 'মল্লদেব' উপাধি। আর ঘন জঙ্গলে ঘেরা সেই জায়গার নাম দেন ঝাড়গ্রাম।

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

থিম নেই, জাঁকজমক নেই: মানুষের ভালবাসায় গড়া আমার গ্রাম কেশাতড়ার দুর্গাপুজো

Keshatara village Durga Puja: পুজোর সম্পূর্ণ খরচ বহন করেন গ্রামের মানুষই। ইদানীং সরকারি অনুদান মেলে ঠিকই, কিন্তু পুজোর ভোগের চালটা আজও আসে গ্রামের মানুষের দেওয়া টাকা থেকেই।

দুর্গা মুখ তুলে তাকাবেন হকারদের দিকে?

Durga Puja Economy in Bengal: কর্পোরেট পুঁজির প্রভাব, অসংগঠিত অর্থনীতির সংকট, হকার উচ্ছেদ এবং ধর্মীয় বিধিনিষেধের আবহে কতটা সুরক্ষিত থাকবে শারদোৎসবের নিজস্ব চরিত্র? পুজোর জৌলুস বাড়লেও নাগরিক স্বাধীনতা, শিল্পের স্বতঃস্ফূর্ততা এবং সাধারণ মানুষের জীবিকার জায়গা ক্রমশ সংকুচিত হবে?

দুর্গাপুজোর উৎসব, অসুরের শোক: বাংলার ইতিহাসে কার জয়, কার পরাজয়?

Mahishasur Puja: ২০১১-র পুরুলিয়া পার করে ২০১৪-র মালদার গাজল। নিত্যানন্দ হেমব্রমরা শুরু করলেন অসুর আন্দোলন। ততদিনে উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলে অসুর পুজোর সংখ্যা ৬৫০ ছাড়িয়েছে। কেউ মূর্তি বানিয়ে মহিষাসুর স্মরণ করেন, কেউ ফ্লেক্স বানিয়ে আলোচনা সভা।

প্রতিদিন বদলায় মেনু, বদলায় খাবারের দাম: তবু স্বাদে অটুট কলকাতার সিদ্ধেশ্বরী আশ্রম

Hotel Siddheswari Ashram: সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে চোখ পড়বে সুবিশাল মেনু বোর্ডে, যাতে মুদ্রিত আছে হোটেলটির সামগ্রিক খাদ্য সমাহার। বোর্ডটিতে সেই দিনের প্রাপ্ত পদের পাশে চকখড়িতে হাতে লেখা সেই দিনের দাম। আর অতি অবশ্যই বাংলা ও ইংরাজিতে লেখা থাকে তারিখ।

যে দুর্গাবাড়ির পঞ্চমুণ্ডির আসনে আজও বসেন দেবী, সেখানেই একদিন শপথ নিতেন বিপ্লবীরা

Gangarampur Durgabari,: তন্ত্রশাস্ত্র অনুসারে, পঞ্চমুণ্ডি আসন সাধারণ কোনো বেদি নয়। পাঁচটি নির্দিষ্ট খুলি বা করোটি—যেমন চণ্ডাল বা ডোমের, শিয়ালের, বেজি বা নেউলের, বিষধর সাপের এবং হনুমানের খুলি মাটির নিচে নির্দিষ্ট নিয়মে পুঁতে এই আসন তৈরি করা হয়।