হাসিনাশাহির অবসান চেয়ে ফের মৃত্যু! কোন পথে এগোচ্ছে ঢাকার লং মার্চ?

Bangladesh Long March: যাত্রাবাড়ী থানা এলাকায় ব্যাপক পুলিশ নেমেছে। সাঁজোয়া যানও দেখা গেছে। সেখানে সংঘর্ষে ইতিমধ্যেই ৩ জন মারা গেছেন।

inscript
২ মিনিট
হাসিনাশাহির অবসান চেয়ে ফের মৃত্যু! কোন পথে এগোচ্ছে ঢাকার লং মার্চ?

বাংলাদেশ নতুন করে উত্তপ্ত। হাসিনাশাহীর অবসান চাইছে বাংলাদেশের বিপুল অংশের মানুষ। এত কম সময়ে এত সাধারণ মানুষের মৃত্যু, মুক্তিযুদ্ধের পর আর দেখেনি পড়শি দেশ। রবিবার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। বাংলাদেশ জুড়ে এই নতুন করে হানাহানিতে প্রাণ গিয়েছে প্রায় ১০০ জনের। মানিকগঞ্জে রবিবার আহত হয়েছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের নেতা তায়েবুর রহমান ওরফে টিপু। রাতেই ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এই অবস্থাতেই সোমবার ঢাকার উদ্দেশ্যে লং মার্চের ডাক দেয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। আর সোমবার আবারও সাধারণ মানুষের মিছিলে কাঁদানে গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড ছুঁড়েছে পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, রবিবার সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডের অদূরে মানরা এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেন আন্দোলনকারীরা। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও জনতার সঙ্গে যোগ দেন বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরাও। সাড়ে ১১টা নাগাদ বিক্ষোভকারীরা মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ট্রাফিক বক্সসহ কয়েকটি জায়গায় ভাঙচুর করেন। এরপরই পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ও রাবার বুলেট ছোড়ে। তাতে আন্দোলনকারীদের বেশ কয়েকজন আহত হন। আন্দোলনকারীরা কিছুটা পিছু হটলেই যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা আন্দোলনকারীদের ধাওয়া করেন। তাঁদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাও অংশ নেন। দুই পক্ষের সংঘর্ষেই আওয়ামী লীগের নেতা তায়েবুর রহমানের মাথায় আঘাত লাগে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ঢাকা কাঁপাবে আম জনতার লং মার্চ! আরও নির্মম মৃত্যু, হিংসা দেখতে হবে বাংলাদেশকে?

Long March To Dhaka: লংমার্চ করে ঢাকায় আসা জনতা সকাল ১১ টা থেকেই বিভিন্ন স্থানে অবস্থান শুরু করবে।

সোমবারই আবার টোটাল ইন্টারনেট শাটডাউনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাত দিনের মাথায় ফের রবিবার ফোর–জি নেটওয়ার্ক বন্ধ করা হয়। পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত ফোর-জি নেটওয়ার্ক বন্ধ থাকবে বাংলাদেশজুড়ে। বন্ধ আছে ফেসবুক, টিকটক, টেলিগ্রামের মতো সোশ্যাল মিডিয়া পরিষেবাও।

সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা অসহযোগ কর্মসূচির পর সোমবার লং মার্চের ডাক দেওয়া হয়। রবিবারই কেবল এই হিংসায় ১০১ জনের প্রাণ গেছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে যে লংমার্চ মঙ্গলবার হওয়ার কথা ছিল তা সোমবারই করার কথা জানান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ। এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে সকাল ১০টা নাগাদ ঢাকার কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে জড়ো হন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পড়ুয়ারা। পুলিশ তাদের সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার গ্যাসের শেল ছুঁড়ে সরিয়ে দেয়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়েরও কিছু পড়ুয়া রবিবার রাতেই শহিদ মিনারে অবস্থান শুরু করলে, রাতেই পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার গ্যাস ছুঁড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পড়ুয়ারা পালিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজে আশ্রয় নেন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
নতুন করে মৃত্যু মিছিল বাংলাদেশ! "ছাত্র নয়, সব সন্ত্রাসবাদী", কেন বলছেন হাসিনা?

Bangladesh Protest: এখন আর নয় দফা দাবি নয়, একটিই মাত্র দাবিতে লড়ছে আন্দোলনকারী। বাংলাদেশ জুড়ে আওয়াজ উঠছে— হাসিনা সরকারের পদত্যাগ চাই।

চানখারপুল দিয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে আসা আন্দোলনকারীদের চানখারপুল মোড়েই পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার গ্যাসের শেল ছুঁড়ে সরিয়ে দেয়। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, ঢাকার যাত্রাবাড়ি এলাকায় হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় মেনেছেন। এই মানুষদের ঠেকাতে যাত্রাবাড়ী থানা এলাকায় ব্যাপক পুলিশ নেমেছে। সাঁজোয়া যানও দেখা গেছে। সেখানে সংঘর্ষে ইতিমধ্যেই ৩ জন মারা গেছেন। ঢাকার সায়েন্স ল্যাব এলাকায় পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া করে, পাল্টা ধাওয়া করে বিক্ষোভকারীরাও।

নারায়ণগঞ্জে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশ ও ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীদের সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড ও শিমরাইল এলাকা অবরোধ করেছেন আন্দোলনকারীরা। টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে মহাসড়কে অবস্থান শুরু করেন আন্দোলনকারীরা। রামপুরা বিজ্রের কাছ থেকে পুলিশ এসে সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান সোমবার বেলা তিনটেয় জনগণের উদ্দেশে বক্তব্য রাখবেন। অন্তত বেলা ৩টে পর্যন্ত জনসাধারণকে হিংসতা পরিহার করে ধৈর্য ধরার অনুরোধ করেছে বাংলাদেশ সরকার।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।