আলোর উৎসবে শব্দদানবের তাণ্ডবে কাঁপল দীপাবলির কলকাতা

Decibel demon's data footprint on Diwali at Kolkata: রাত দশটার পর শব্দসীমা যেখানে ৪৫ ডেসিবেলের মধ্যে থাকা দরকার, বহুক্ষেত্রেই তা লঙ্ঘিত হয়েছে। এমনকী হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকাতেও ভাঙা হয়েছে নিয়ম।

Sohini Das
৩ মিনিট
আলোর উৎসবে শব্দদানবের তাণ্ডবে কাঁপল দীপাবলির কলকাতা

দীপাবলি আলোর উৎসব। যে যেমন করে পারে, নিজের চৌহদ্দিকে আলোকময় করে সাজিয়ে তোলার চেষ্টা করে। কিন্তু আলোয় সাজানোর ফাঁকে কীভাবে যেন কালীপুজো বা দীপাবলির ঠিক পরের দু-একদিনের আকাশ-বাতাসকে আমরা ভরিয়ে তুলি নানাবিধ দূষণে। এ বছরের দীপাবলিও তার ব্যতিক্রম ছিল না।

দূষণের এই ভয়াবহ প্রকোপ যে কেবল দিল্লিতেই তা কিন্তু নয়। খোদ কলকাতার বুকেই বাতাসের গুণগতমান খুব একটা প্রশংসা করার মতো নয়। প্রতিবছরই দিওয়ালির পর সেই খারাপের মাত্রাটা চড়তে থাকে আরও কয়েক গুণ। একা বায়ুদূষণে রক্ষে নেই, শব্দাসুর দোসর। এ বছর আবার এ রাজ্যে শব্দের সর্বোচ্চ মাত্রা বেড়েছে। ফলে এ বারের কালীপুজো ও দিওয়ালি জুড়ে ভালোই খেল দেখিয়েছে আতসবাজি ও শব্দবাজির যুগলবন্দি।

এ বছর সুপ্রিম কোর্টের তরফে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল বাজি পোড়ানোর। শুধু শীর্ষ আদালতই নয়, একই অবস্থান নিয়েছিল রাজ্য সরকারও। রাত দশটার পরে বাজি পোড়ানোয় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। কলকাতার সেন্ট্রাল পলিউশন কন্ট্রোল বোর্ডের তরফে জানানো হয়েছে, এসব নির্দেশকে তুড়ি মেরে উড়িয়েই তিলোত্তমার বুকে রাত দশটার পরেও সব ধরনের বাজি ফেটেছে দেদার। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মাঝরাতেই দেদার শব্দবাজির প্রভাব লক্ষ্য করা গিয়েছে বলেই জানিয়েছে পলিউশন কন্ট্রোল বোর্ড।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
অযোধ্যায় দীপাবলি উৎসবে প্রদীপের অবশিষ্ট তেল নিতে কাড়াকাড়ি, যোগীরাজ্যের 'অচ্ছে দিন' আসলে এই?

Ayodhya Deepotsav 22 lakh Diyas : "এরা বরং অবশিষ্ট তেল নদীতে ফেলে দেবে কিন্তু গরিবদের নিতে দেবে না," বলছেন তেল নিতে আসা শোভা।

বেশ কয়েকটি জায়গায় শব্দের মাত্রা রেকর্ড করেছিল তারা। তার ভিত্তিতেই একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে পলিউশন কন্ট্রোল বোর্ড। সেই রিপোর্ট অনুযায়ী, উত্তর কলকাতাক বাগবাজার এলাকায় সকাল সাড়ে ১২টা থেকেই শব্দবাজির দাপাদাপি লক্ষ্য করা গিয়েছে। সেখানে ওই ভরদুপুরে শব্দের মাত্রা ছিল ৮৮.৯ ডেসিবেলের কাছাকাছি। রাত দশটার সময় তা থমকে ছিল ৭৬-এ। ইএম বাইপাস সংলগ্ন দক্ষিণ কলকাতার পাটুলি এলাকায় কালীপুজোর দিন মধ্যরাতে শব্দের মাত্রা ছিল ৬৮.১ ডেসিবেল।

রাত দশটার পর শব্দসীমা যেখানে ৪৫ ডেসিবেলের মধ্যে থাকা দরকার, বহুক্ষেত্রেই তা লঙ্ঘিত হয়েছে। এমনকী হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকাতেও ভাঙা হয়েছে নিয়ম। হাসপাতাল এলাকাগুলিতে 'সাইলেন্ট জোন' হিসেবে ঘোষণা করে দেওয়া হয়েছিল আগেই। যার অর্থ হাসপাতালের ১০০ মিটারের মধ্যে এলাকায় মাইক বাজানো বা বাজি ফাটানো একেবারে নিষিদ্ধ। তবে সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য় করা হয়েছে বহু জায়গাতেই। উত্তর কলকাতার আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় সন্ধে সাড়ে আটটা নাগাদ শব্দমাত্রা ছিল ৬১.২ ডেসিবস। রাত দশটার পরেও ছিল ৬২.৬ ডেসিবল। রাত যত বাড়ে, শব্দের মাত্রাও বাড়ে। মধ্যরাতে ছিল ৬৩.৩ ডেসিবল। এসএসকেএম হাসপাতাল এলাকাতেও শব্দমাত্রা ৫১.৪ থেকে ৫১.৫ ডেসিবেলের মধ্যে ছিল। অথচ হাসপাতাল চত্বরগুলিতে রাতে অনুমোদিত শব্দের মাত্রা বেঁধে দেওয়া ছিল ৪০ ডেসিবেলে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ধোঁয়াটে ক্রিক রো-র ঝলমলে জলসা! কলকাতা কাঁপাত মস্তান ভানু বোসের কালীপুজো

Kalipuja of Mastan Bhanu Bose : কালীপুজোয় এক অন্য অর্থনীতির জন্ম! সুভেনিয়রে টাকা তোলার এমন মার্জিত মডেল তৈরির দাবিদার একমাত্র ভানু বোসই।

দক্ষিণ কলকাতার টলিগঞ্জ ও কসবার মতো এলাকায় শব্দের মাত্রা ছিল কালীপুজোর সন্ধেয় ৮৪.৫ থেকে ৮২ ডেসিবেলের মধ্যে। রাত বাড়লেও সেই শব্দমাত্রার বিশেষ তারতম্য দেখা যায়নি। তারাতলা এলাকা অবশ্য ছিল এর মধ্যে ব্যতিক্রম। বিকেল থেকেই ওই এলাকা ছিল বেশ শান্ত। বিকেল থেকেই শব্দের মাত্রা ঘোরাফেরা করেছে ৪৮ ডেসিবেলের মধ্যে। দীপাবলির রাতে কলকাতার সর্বোচ্চ শব্দমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ৯৮.৩ ডেসিবেল। তবে আশ্চর্যের ব্যাপার, কলকাতার বেশিরভাগ স্টেশনেই সবচেয়ে বেশি শব্দদূষণ হয়েছে রাত ১টা থেকে ২টোর মধ্যে। কেন্দ্রীয় পরিবেশ দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, রাত দশটা থেকে এগোরোটার এই সময়টার চেয়ে বেশি বাজি ফেটেছে রাত একটার পরেই।

শব্দের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ হয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন বহু এলাকার মানুষই। এখনও পর্যন্ত দীপাবলির রাতে ৪০টি অভিযোগ জমা পড়েছে কলকাতার বুকে। বেশিরভাগ অভিযোগই রাত দশটার পরে উচ্চগ্রামে মাইক বাজানো ও বাজি পোড়ানো নিয়ে। তেমনটাই জানিয়েছেন রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ড। গ্রিন প্ল্যাটফর্ম তথা সবুজ মঞ্চের কাছে কম করে হলেও ২০টি অভিযোগ জমা হয়েছে। রাত দশটার পরে শব্দের উৎপাত নিয়েই অভিযোগ মূলত। সবুজ মঞ্চের চেয়ারম্যান নব দত্ত জানান, শুধুমাত্র বাজি নয়, লাউড স্পিকার কালীপুজোর রাতের শব্দদানবের উৎপাতকে বাড়িয়ে তুলেছে আরও কয়েকগুণ। যা মোটেও কাঙ্ক্ষিত ছিল না আদপেই।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।