ফের চিতা মৃত্যুর ঘটনা কুনোয়, অসুস্থতা নাকি অন্য কিছু, কেন অকালে মারা যেতে হল স্ত্রী চিতাটিকে?

Cheetah died: কুনোয় মৃত্যু স্ত্রী চিতার, প্রজননের সময় বাজেভাবে জখম হয় সে, কিন্তু কেন? ঠিক কী ঘটেছিল সেদিন?

Kankana Mukherjee
৩ মিনিট
ফের চিতা মৃত্যুর ঘটনা কুনোয়, অসুস্থতা নাকি অন্য কিছু, কেন অকালে মারা যেতে হল স্ত্রী চিতাটিকে?

চিতা বাঘ। পশুদের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুতগামী। একটা সময় ভারতের অভয়ারণ্যে ছিল এদের অবাধ বিচরণ। যদিও সময়ের সঙ্গে বদল আসে পরিস্থিতিতে। ক্রমেই নেই হয়ে যাওয়া পশুদের তালিকায় জায়গা করে চিতারা। ভারতে চিতা বিলুপ্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হয় বেশ কিছু বছর আগে থেকেই। ২০০৯ সালে প্রথম আফ্রিকান চিতা আনার পরিকল্পনা করা হয় যদিও তার বাস্তবায়নে প্রায় এক দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে যায়। অতঃপর ২০২১ সালে নভেম্বর মাসে চিতা আনার পরিকল্পনা করা হলেও করোনা মহামারীর কারণে আবারও পিছিয়ে যায় কাজ। অবশেষে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে শুরু হয় এই প্রক্রিয়া। আবারও ভারতে চিতাদের চরাচর নিয়ে আশাবাদী দেশের বন বিভাগ।

মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে বেশ কিছু সংখ্যায় চিতা আনা হয় মধ্যপ্রদেশের কুনো ন্যাশনাল পার্কে। এর আগে নামিবিয়া থেকে আটটি চিতা আনা হয়েছিল এখানে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে সেই তালিকায় জুড়তে যায় আরও এক ডজন চিতা। ভারতীয় বায়ুসেনার বিশেষ বিমানে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে চিতাদের কুনো ন্যাশনাল পার্কে নিয়ে আসা হয়। এখানেই শেষ নয় আগামী পাঁচ বছরে বিভিন্ন ধাপে মোট পঞ্চাশটি চিতাবাঘ নামিবিয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে এ দেশে নিয়ে আসা হবে বলে জানানো হয়েছে ইতিমধ্যেই। একটা সময় এদেশেও চিতাদের সংখ্যা নেহাৎ কম ছিল না। পরবর্তীতে জলবায়ু পরিবর্তন এবং আরও বেশ কিছু কারণের জেরে আজ প্রায় সত্তর বছর হল বিলুপ্তির তালিকায় এরা। এখন দেশের হাতে গোনা কয়েকটি চিড়িয়াখানার খাঁচা ছাড়া আর দেখা যেত না চিতাকে। তাই এই পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়াতেই আবারও নতুন করে এ দেশকে চিতাদের বাসযোগ্য করে তোলার সফর শুরু হয়েছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ক্যান্সারের গন্ধ কেমন? মানুষের ক্যান্সার শুঁকে বলে দিতে পারে এই প্রাণীরা!

Ants Can Smell Cancer : কুকুরকেও মেলানোমা, স্তন এবং গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল ক্যান্সার, ম্যালেরিয়া এবং পারকিনসন সহ বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারের গন্ধ নেওয়ার প্রশিক্ষণ দেওয়া যেতে পারে।

চিতাদের এদেশে নিয়ে আসার পর থেকে শিরোনামে থেকেছে তারা। তাদের পরিচর্যা থেকে শুরু করে জীবনযাপন সব নিয়ে আলোচনা চলেছে। এদিকে মাস ঘুরতে না ঘুরতেই প্রকাশ্যে আসে, কুনো ন্যাশনাল পার্কে জোড়া চিতা মৃত্যুর খবর। এত আড়ম্বর করে যে চিতা পুনর্বাসন প্রকল্পের আয়োজন করা হল, তাহলে তার মধ্যেই কোনও খাদ্য রয়ে গেল, কেন মাস ঘুরতে ঘুরতে মারা যেতে হল দুটি চিতাকে? এইসব প্রশ্নের উত্তর অবশ্য মধ্যপ্রদেশের কুনো পালপুর অরণ্যে আফ্রিকা থেকে আনা ২০টি চিতার মধ্যে ২টির মৃত্যুকে ‘স্বাভাবিক ঘটনা’ বলে চিহ্নিত করা হয়েছিল সে দেশের ‘বন, মৎস্য ও পরিবেশ দফতরের’ রিপোর্টে।

ওই রিপোর্টে জানানো হয়, উন্মুক্ত প্রকৃতিতে মাংসাশী প্রাণীদের পুনর্স্থাপনের ক্ষেত্রে এই মৃত্যুর হার একেবারেই প্রত্যাশিত। গত ২৭ মার্চ কুনোয় প্রথম মৃত্যু হয়েছিল নামিবিয়া থেকে আনা ৫ বছরের স্ত্রী চিতা শাসার। এরপর ২৪ এপ্রিল মারা যায় দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আনা পুরুষ চিতা উদয়। মধ্যপ্রদেশ বনবিভাগের চিকিৎসকেরা জানিয়েছিলেন, কিডনিতে সংক্রমণের কারণে শাসার মৃত্যু হয়েছে। অন্য দিকে উদয়ের মৃত্যুর কারণ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছিল, ‘কার্ডিয়ো পালমোনারি ফেলিওর’-কে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বিলুপ্তির ৭০ বছর পর ফের ভারতের মাটিতে এক ডজন চিতা, ভারসাম্য রক্ষায় যে পদক্ষেপ করল ভারত

12 cheetahs at kuno National park : ভারতীয় বায়ুসেনার বিশেষ বিমানে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে চিতাদের আজই কুনো ন্যাশনাল পার্কে নিয়ে আসা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে ট্যুইটার বার্তায়।

কিন্তু এই দুই মৃত্যুর পর সম্প্রতি ফের একটি চিতা মৃত্যুর ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। আবারও কী কারণে মারা গেল একটি চিতা সেই নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে উঠে আসে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। এবার আর অসুস্থতা আসল কারণ নয়, সঙ্গমের সময় সংঘর্ষে মারা যায় চিতাটি। প্রসঙ্গত, এই নিয়ে তৃতীয় চিতা মারা গেল কুনো ন্যাশনাল পার্কে।

সম্প্রতি মারা যাওয়া চিতাটির নাম দাক্ষা। এটি একটি মহিলা চিতাবাঘ। জানা যায়, পূর্ণবয়স্ক একট8 চিতার সঙ্গে সঙ্গমের সময় আরও একটি পুরুষ চিতার সংঘর্ষ বাঁধে। এ যেন এক্কেবারে ত্রিকোণ প্রেমের গল্প। দুই পুরুষ চিতা বায়ু ও অগ্নির মধ্যে সংঘর্ষ হয় এবং তার জেরেই জখম হয় দাক্ষা। ন্যাশনাল পার্কের আধিকারিকদের তরফে জানানো হয় গত মঙ্গলবার সকালে পার্কের মধ্যে আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখতে পাওয়া যায় দাক্ষাকে। সঙ্গে সঙ্গেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। চিকিৎসার বন্দোবস্ত করা হলেও বাঁচানো যায় না মহিলা চিতাটিকে। অতঃপর দুপুর বারোটা নাগাদ মারা যায় দাক্ষা।

কুনো জাতীয় উদ্যানে কার্যত চিতাদের গ্যাংওয়ার হয় মঙ্গলবার। মধ্য প্রদেশের চিফ কনজারভেটর জে এস চৌহান জানান, পুরুষ চিতার হিংস্রতাই মৃত্যুর আসল কারণ। অন্যদিকে বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞদের একাংশেরও দাবি, চিতাদের মধ্যে নাকি সঙ্গমের সময় এমন হিংস্র প্রবণতা আগেও বেশ কয়েকবার লক্ষ্য করা গেছে। তাই এটি নতুন কিছুই নয়। তবে এ নিয়ে আগামীতে আরও সতর্ক থাকতে হবে বনবিভাগকে।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

সিভিল সার্ভিস ছেড়ে বাঘের টানে রণথম্ভোরে, ৩৫ একর জমিতে তৈরি করলেন বন

Ranthambore tiger conservation: তাঁরা কেবল চেয়েছিলেন সংরক্ষিত বনের বাইরে বাঘেদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয় গড়ে তুলতে। তারপর কুড়ি বছর পর্যটন লজ থেকে যেটুকু আয় হতো, তার প্রায় সবটাই তাঁরা সঞ্চয় করতেন ভাদলাভে কৃষকদের কাছ থেকে এক এক করে জমি কেনার জন্য। প্রায় দুই দশক ধরে একটু একটু করে ৩৫ একরেরও বেশি জমি তাঁরা কিনে নেন, যার মোট খরচ ছিল সে সময়ের হিসাবে এক কোটি টাকারও বেশি।

জলবায়ু বদল শুধু প্রকৃতির বিপদ নয়, ভারতের অর্থনীতির ভিতও নড়বড়ে করে দিচ্ছে

climate change and economy: ১৯৯০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ২১টি উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতি খতিয়ে দেখে একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে এক চমকে দেওয়ার মতো তথ্য। দেখা যাচ্ছে, বার্ষিক গড় তাপমাত্রা যদি মাত্র ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসও বাড়ে, তবে দীর্ঘমেয়াদে সামগ্রিক উৎপাদন দক্ষতা কমে যায় প্রায় ৩.২২ শতাংশ।

নেপাল বিপর্যয়ের ক্ষতিপূরণ দেবে কে?

Climate Justice for nepal: ২৬ অগাস্ট লাংটাং লিরুং-এর হিমবাহ ধসে নেপালের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিপর্যয়—নিহত ১,৩৪৪, নিখোঁজ ৪,৮৮৭। পুনর্গঠনে প্রয়োজন ৪-৫ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ডে আছে মাত্র ৮২২ মিলিয়ন ডলার।নেপালের দাবি, চিন-ভারত-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক দায় আছে। জলবায়ু ন্যায়বিচারের প্রশ্ন এখন আন্তর্জাতিক কাঠগড়ায়।

নেপালের হড়পা বান থেকে বেঁচে ফিরলেন যাঁরা, তাঁদের চোখে ২৬ অগাস্ট

Nepal flash floods 2026: ২৬ অগাস্ট, ২০২৬-এ নেপালের হড়পা বানে ধ্বংসস্তূপের মাঝেও কিছু মানুষ বেঁচে ফিরেছেন। কেউ এক কাপ চায়ের বিরতির জন্য, কেউ গাড়ির একটা রিভার্স গিয়ারের কারণে, কেউ ডালপালা ছড়ানো একটা আমগাছ আঁকড়ে ধরে, আবার কেউ কেবল ১৫ সেকেন্ডের দৌড়ে ছিনিয়ে এনেছেন নিজের শ্বাস। মৃত্যু খুব কাছ থেকে অনুভব করে ফেরা সেই মানুষগুলির অভিজ্ঞতায় রইল রাসুয়া আর নুয়াকোটের সেই সকালের কথা।

হিমালয়ের বরফ গলছে দ্বিগুণ হারে, নেপালের বিপর্যয়ের বিজ্ঞান কী বলছে?

Nepal Flood 2026: বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে দিয়েছিলেন, ৪৫০০ থেকে ৬০০০ মিটার উচ্চতার মধ্যে থাকা হিমবাহ অঞ্চলের অন্তত ৭৮ শতাংশ উচ্চতা-নির্ভর উষ্ণায়নের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। পাঁচ মাস পর সেই সতর্কবাণীই যেন সত্যি হয়ে উঠল নেপালের উপত্যকায়।

ছয় দশকে কতটা সফল ভারত-নেপাল গান্ডাকচুক্তি?

Gandak dam history: নেপালের হিমবাহ থেকে পাথর ধসের পর জল নেমেছে ত্রিশূলী-কালীগণ্ডক হয়ে বিহারে। বাল্মীকিনগর বাঁধের ৩৬টি গেট খুলে প্রাণ বাঁচল বহু মানুষের। কিন্তু, ১৯৫৯ সালের গান্ডাক চুক্তি কি সত্যিই নেপাল ভারত দুই দেশের ‘সমন্বিত স্বার্থ’ রক্ষা করল? নেপালের তরাইয়ে জল মেলে না, ক্ষতিপূরণ মেলে না কৃষকদের। ৬০ বছরের পুরনো বাঁধ প্রকল্পকে নিয়েও নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।

নেপালের বন্যায় সবচেয়ে বেশি বিপন্ন মহিলারাই, ঝুঁকিতে ১.৬ লক্ষ নারীর জীবন

Nepal Flash Floods: নেপালের ভয়াবহ হড়পা বানে প্রায় ১.৬ লক্ষ নারীর জীবন ঝুঁকিতে। বন্যার পর তাঁদের সামনে কী কী স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, খাদ্য ও জীবিকার সংকট তৈরি হয়েছে? রাষ্ট্রপুঞ্জের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, নারীদের সুরক্ষায় কী পদক্ষেপ জরুরি?