কতটা বিপজ্জনক 'অশনির চোখ'? ইয়াস-আমফানের মতোই ধ্বংসাত্মক হবে এই ঘূর্ণিঝড়?

আশপাশের অংশে ঝড়ের গতিবেগ সবচেয়ে বেশি হওয়ার দরুন স্থলভাগে প্রবেশ করার পর ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটাতে পারে এই চোখ। এই জন্যই তাকে ক্ষতিকারক বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

rudranjan
৩ মিনিট
কতটা বিপজ্জনক 'অশনির চোখ'? ইয়াস-আমফানের মতোই ধ্বংসাত্মক হবে এই ঘূর্ণিঝড়?

দিনকয়েক আগেই ঘূর্ণিঝড় ‘অশনি’ নিয়ে সতর্কতা জারি করেছিল আবহাওয়া দপ্তর, এবার তার মোকাবিলার জন্য জরুরি সমস্তরকম ব্যবস্থা নিতে উদ্যোগী হল প্রশাসন। সূত্র মারফৎ জানা যাচ্ছে, শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়ে ‘অশনি’ বর্তমানে পুরী থেকে ৭০০ কিলোমিটার দূরে এবং বিশাখাপত্তনম থেকে ৬০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। আবহাওয়া দপ্তর জানাচ্ছে, আপাতত ঘণ্টায় ২১ কিলোমিটার বেগে উপকূলের দিকে এগোচ্ছে ‘অশনি’। তবে স্থলভাগে প্রবেশ করলে ‘অশনি’ কতটা ক্ষয়-ক্ষতি করতে সক্ষম হবে, তা নির্ভর করবে তার চোখের অবস্থানের ওপর, এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কাকে বলে ঘূর্ণিঝড়ের 'চোখ'? তা এতটা ক্ষতিকারকই বা কেন? দেখে নেওয়া যাক।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যে কোনও শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রে অবস্থা করে এক গতিহীন অংশ। একেই বলা হয় ঘূর্ণিঝড়ের চোখ। এই চোখকে ঘিরে থাকে চক্ষুপ্রাচীর বা ‘আই ওয়াল’। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যে কোনও ঘূর্ণিঝড়ের চোখ আয়তনে প্রায় ৩০ থেকে ৬৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বড় হতে পারে। তার চক্ষুপ্রাচীরের প্রধান উপাদান নিথোস্ত্র্যাটাস মেঘ। সাধারণত এই চোখের পার্শ্ববর্তী অংশেই ঝড়ের গতিবেগ সবচেয়ে বেশি হয়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের নাম কেন 'অশনি'? নামের মধ্যেই কি লুকিয়ে বিপদের পূর্বাভাস?

এবার মার্চে ঘূর্ণিঝড় অশনি ধেয়ে আসার সম্ভাবনা ছিল প্রবল। তবে মার্চ মাসের চেয়ে এপ্রিলে ঘূর্ণিঝড় হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

যে কোনও সমুদ্রের তাপমাত্রা ২৬ ডিগ্রির বেশি হলে তৈরি হয় নিম্নচাপ। তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে সমুদ্রের জল বাষ্পীভূত হয়ে ওপরের দিকে উঠতে থাকে। এর ফলে সমুদ্রের ওপর সৃষ্টি হয় এক বায়ুশূন্য স্থানের। তারপর এই বায়ুশূন্য স্থানকে পূরণ করার চেষ্টা করে আশপাশের শীতল বাতাস। এই শীতল বাতাসের গতি বৃদ্ধির ফলেই তৈরি হয় ঘূর্ণিঝড়। ঝড়ের ঘূর্ণনগতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাকে কেন্দ্র করে একটা চোখ তৈরি হয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আপাতভাবে শান্ত হলেও ঘূর্ণিঝড়ের চোখই তার সবচেয়ে ক্ষতিকারক অংশ। আশপাশের অংশে ঝড়ের গতিবেগ সবচেয়ে বেশি হওয়ার দরুন স্থলভাগে প্রবেশ করার পর ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটাতে পারে এই চোখ। এই জন্যই তাকে ক্ষতিকারক বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

২০২০ সালে দীঘা এবং সুন্দরবনের পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে আছড়ে পড়ে ঘূর্ণিঝড় ‘আমফান’। সেবার ঘূর্ণিঝড়ের চোখ ছিল বঙ্গোপসাগরের খুব কাছাকাছি। সেই কারণেই বিস্তর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গে। সূত্র মারফৎ জানা যায়, কেবলমাত্র পশ্চিমবঙ্গের উপকূলবর্তী অঞ্চলেই ‘আমফান’ থেমে থাকেনি। উড়িষ্যার বিভিন্ন এলাকায় ঘণ্টায় ৮০ থেকে ৯০ কিলোমিটার বেগে তা আছড়ে পড়েছিল। ইন্ডিয়া মেটিরিওলজিকাল ডিপার্টমেন্টে’র (আইএমডি) তথ্য অনুসারে, উড়িষ্যার জগতসিংপুর বা ভদ্রক অঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়ার সময় ঝড়ের গতিবেগ ছিল ১০০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা।

ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’-র চোখ ছিল উড়িষ্যার পুরী এবং ভুবনেশ্বরের কাছাকাছি। ২০১৯ সালে ১৭৫ থেকে ১৮৫ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা বেগে পুরীতে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় হয়ে আছড়ে পড়েছিল ‘ফণী’। আইএমডি-র মতে, উড়িষ্যার ওপর অবস্থান করার সময় ফণীর চোখের আয়তন ছিল আনুমানিক ৩০ থেকে ৫০ কিলোমিটার। আবহাওয়া দপ্তরের আধিকারিকরা জানিয়েছিলেন, ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী'-র তীব্রতার ফলে উড়িষ্যার ঢেঙ্কানল জেলায় আনুমানিক ১৯৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। ‘নিসর্গ’-র ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অবশ্য আমফান বা ফণীর তুলনায় কম ছিল। ২০২০ মহারাষ্ট্রের উপকূলবর্তী অঞ্চলে আছড়ে পড়া এই ঘূর্ণিঝড়ের চোখের অবস্থান ছিল আলিবাগের কাছাকাছি। মহারাষ্ট্রের পর গুজরাত হয়ে দমন ও দিউ দ্বীপের দিকে এগিয়েছিল নিসর্গ।

আবহাওয়াবিদরা জানাচ্ছেন, বর্তমানে গতি বাড়িয়ে বঙ্গোপসাগরের ওপর দিয়ে দ্রুত ধেয়ে আসছে অশনি। তবে তাঁদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে ‘অশনি’-র সরাসরি কোনও প্রভাব পড়বে না। ঝড়ের ফলে উত্তর ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনায় ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা করছেন তাঁরা। পশ্চিমবঙ্গের উপকূলবর্তী অঞ্চলগুলোতে ইতিমধ্যেই সরকারের পক্ষ থেকে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। প্রশাসনের তরফে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। ‘অশনি’ আদৌ কোনও অশনি সংকেত বয়ে নিয়ে আসছে কি না, তা সময় বলে দেবে।

লিখেছেন
rudranjan
rudranjan
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

সাত দিনের ব্যবধানে দুটো ঘূর্ণিঝড়: জলবায়ু পরিবর্তনের নতুন বাস্তবতা কি এটাই?

Climate change impact on cyclone: ২৮ অক্টোবরে অন্ধ্র উপকূলে আছড়ে পড়ে অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, ঠিক সাত দিন পর ৩ নভেম্বরে ল্যান্ডফল করে ‘মুরাসু’। আবহাওয়াবিদদের ভাষায়, এই পিঠোপিঠি ঝড়ের ঘটনাকে বলা হয় ‘ক্লাইমেটোলজিক্যাল অ্যানোমালি'। বঙ্গোপসাগরের এই ‘ওভার-এনার্জাইজড’ অবস্থাই, এখন জলবায়ু পরিবর্তনের নতুন বাস্তবতা।

কোথায় আছড়ে পড়ল ঘূর্ণিঝড় মুরাসু, কতটা ক্ষয়ক্ষতি, বাংলায় কী প্রভাব?

Cyclone Murasu: ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাব কাটতে না কাটতেই বঙ্গোপসাগরে তৈরি হয় ঘূর্ণিঝড় মুরাসু। মঙ্গলবার ভোরে অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলে আছড়ে পড়ে শক্তিশালী এই ঘূর্ণিঝড়। নেল্লোর, প্রকাশম ও বাপটলা জেলায় গাছ উপড়ে পড়েছে, নিচু এলাকা জলমগ্ন হয়েছে। তামিলনাড়ু ও ওড়িশাতেও ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা জারি হয়েছে। বাংলায় কতটা প্রভাব ফেলবে মুরাসু?

ভুটানে হড়পা বানের জেরে উত্তরবঙ্গে আতঙ্ক, কী পরিস্তিতি এখন?

Bhutan Flash Flood: ভুটানের শিনতাফু হ্রদ ভেঙে হড়পা বানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাস্তা ও পর্যটনকেন্দ্রের পরিকাঠামো। বন্যার আশঙ্কায় আলিপুরদুয়ারের কুমারগ্রামে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরানোর উদ্যোগ নেয় প্রশাসন। শুক্রবার সকালে সংকোশ নদীর জলস্তর না বাড়ায় কিছুটা স্বস্তি ফেরে। পরিস্থিতি এখন কেমন?

মাত্র ১০০ বই থেকে ১০ হাজার! অসমের চা-বাগানের শিশুদের ভবিষ্যৎ গড়ছেন অনিন্দিতা

Assam Library Initiative: মাত্র ১০০টি বই নিয়ে ২০২০ সালে অসমের চা-বাগান এলাকার শিশুদের জন্য লাইব্রেরি শুরু করেছিলেন অনিন্দিতা গগৈ। আজ তিনটি লাইব্রেরিতে বইয়ের সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। পরিবারের ৪০ লক্ষ টাকারও বেশি বিনিয়োগে এগিয়ে চলেছে এই উদ্যোগ। কীভাবে শিশুদের পড়াশোনা ও সৃজনশীলতার সুযোগ তৈরি করছেন অনিন্দিতা?

Cyclone Arnab: কোথায় আছড়ে পড়ল অর্ণব, কতটা ক্ষয়ক্ষতি? বাংলায় কতটা প্রভাব?

Cyclone Arnab: অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলে আছড়ে পড়েছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব। ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া, ভারী বৃষ্টি ও জল জমার জেরে বিপর্যস্ত একাধিক এলাকা। ৮৪ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরানো হয়েছে। বাংলার কোন কোন জেলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস, আর কতটা প্রভাব পড়তে পারে ঘূর্ণিঝড়ের?

অ্যানথ্রোপিকের মতো এআই সংস্থাগুলি যেভাবে হয়ে দাঁড়াচ্ছে জলবায়ু সংকটের কারণ

The AI Carbon Bill: অ্যানথ্রোপিকের আইপিও ফাইলিংয়ে জলবায়ু পরিবর্তনকে বড় ব্যবসায়িক ঝুঁকি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলো। ডেটা সেন্টার ঠান্ডা করতে বিদ্যুৎ-জলের ব্যয় বাড়ছে। ২০২৫-এ ডেটা সেন্টারগুলিতে ঘণ্টা প্রতি বিদ্যুৎ ব্যবহার, ৪৪৮ টেরাওয়াটে পৌঁছবে।

লুলার জয়ের পরেও কেন স্বস্তিতে নেই 'পৃথিবীর ফুসফুস' আমাজন?

lula's amazon policy: প্রথম পর্বে পিছিয়ে থাকার পর, কুড়ি দিনে এক কোটিরও বেশি ভোট বাড়িয়ে লুলা দা সিলভা চতুর্থবার ব্রাজিলের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেন। লুলার আমলে, আমাজনের জঙ্গল উজাড় হওয়া ৭১% কমেছে, তবু আইনসভায় ডানপন্থীদের শক্তিবৃদ্ধি হওয়ায়, আমাজনের সংকটজনক সীমার খুব কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ার আশঙ্কা রয়ে গেলই।

ঘূর্ণিঝড় অর্ণব : কোথায় রয়েছে, বাংলায় কতটা দুর্যোগের আশঙ্কা?

Cyclone Arnab: বঙ্গোপসাগরে শক্তি বাড়িয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে অর্ণব। বুধবার অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে এই ঝড়। সরাসরি বাংলায় আঘাত না হানলেও মঙ্গলবার থেকে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। উত্তরবঙ্গেও বৃষ্টি হতে পারে। কোন কোন জেলায় দুর্যোগের আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি?