শীতে ভোর ৪ টে থেকে ৬ টার মধ্যেই ঘটে বেশিরভাগ হার্ট অ্যাটাক! কীভাবে আটকাবেন?

Winter Heart Attacks: প্রচণ্ড ঠান্ডায় যেহেতু খুব একটা তেষ্টা পায় না তাই অনেকেই পর্যাপ্ত জল খান না এবং নিজেকে সঠিক মাত্রায় হাইড্রেট করেন না।

inscript
৩ মিনিট
শীতে ভোর ৪ টে থেকে ৬ টার মধ্যেই ঘটে বেশিরভাগ হার্ট অ্যাটাক! কীভাবে আটকাবেন?

শৈত্য প্রবাহে কাবু দেশের অনেক অংশই, বিশেষ করে উত্তর ভারত। শুধু তো অস্বাভাবিক শৈত্যপ্রবাহ নয়, শীত ডেকে আনছে মৃত্যুও! শুধুমাত্র উত্তর প্রদেশের কানপুরেই হার্ট এবং ব্রেন স্ট্রোকে ৯৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। কানপুরের লক্ষ্মীপত সিংহানিয়া ইনস্টিটিউট অব কার্ডিওলজি অ্যান্ড কার্ডিয়াক সার্জারির তথ্য বলছে, গত সপ্তাহে ৭২৩ জন হৃদরোগী হাসপাতালের জরুরি এবং বহির্বিভাগে এসেছিলেন। শীতে প্রতিবারই বেড়ে যায় হার্ট অ্যাটাক এবং কোল্ড স্ট্রোক। কোনও রকম আভাস ছাড়াই বন্ধ হয়ে যেতে পারে হৃদস্পন্দন, হঠাৎ।

সাডেন কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট আসলে কী?

হঠাৎ হৃৎপিণ্ডের বৈদ্যুতিক সিস্টেমের ত্রুটি ঘটলে এবং বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট ঘটে। এতে হৃৎপিণ্ড বিপজ্জনকভাবে দ্রুত স্পন্দিত হতে থাকে যার ফলে শরীরের ভেন্ট্রিকলগুলি কাঁপতে পারে। এই ঘটনাটিকে ডাক্তারি পরিভাষায় বলে ভেন্ট্রিকুলার ফাইব্রিলেশন। যখন এমনটা ঘটে তখন হার্ট পর্যাপ্ত অক্সিজেনযুক্ত রক্ত পাম্প করতে পারে না। ফলে শরীরের বাকি অংশে রক্ত পৌঁছয় না। লক্ষণ দেখা দেওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যেই মৃত্যুও ঘটতে পারে ওই ব্যক্তির।

শীতের সকালে হার্ট অ্যাটাক কেন ঘটে?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
এই কনকনে শীতে প্রাণ কাড়ছে কোল্ড স্ট্রোক! কোন উপসর্গগুলি দেখলেই সতর্ক হবেন?

Cold Stroke: ১৯৭০-১৯৮০ সালের তুলনায় ভারতে কোল্ড স্ট্রোকে মৃত্যুর হার দ্বিগুণ হয়েছে।

১। সার্কাডিয়ান ছন্দ: শরীরের সার্কাডিয়ান ছন্দে সমস্যা হতে পারে। এই নাম খটমটো হলেও আসলে ব্যাপারটা হলো যাকে আমরা সাধারণত আমাদের অভ্যন্তরীণ বডি ক্লক বলে থাকি। এটি আমাদের জেগে থাকা এবং ক্লান্তির সময় নিয়ন্ত্রণ করে। এটি সারা দিন ধরেই ওঠানামা করে। যদি শরীরের মধ্যে কিছু রাসায়নিক পদার্থ বেড়ে যায় তাহলে তার সাপেক্ষে এই ছন্দও ওঠানামা করে। যখন সার্কাডিয়ান ছন্দে সমস্যা হয়, তখন এই রাসায়নিকগুলির ভারসাম্যহীনতা দেখা দিতে পারে। গবেষকরা বলছেন, সকাল ৬.৩০ টার দিকে সার্কাডিয়ান সিস্টেম রক্তে PAI-1 কোশ বাড়ায়। এই কোশ রক্তের জমাট বাঁধা বন্ধ করে দেয়। রক্তে PAI-1 কোশ যত বেশি, রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি ততই বেশি যা হার্ট অ্যাটাকের দিকে নিয়ে যেতে পারে। এটি সাধারণত ভোর ৪টে থেকে ৬ টার মধ্যেই ঘটে।

২। উচ্চ রক্তচাপ: শরীরের মূল অংশগুলিকে উষ্ণ রাখতে এবং হৃদপিণ্ডকে আরও রক্ত পাম্প করতে উত্তেজিত করতে রক্তনালীগুলি সংকুচিত হয়, যা রক্তচাপ বাড়ায়। যদি আপনার শরীর একটি নির্দিষ্ট রক্তচাপের পরিসরে অভ্যস্ত হয়, তবে বাহ্যিক উদ্দীপনায় সাড়া দিতে গিয়ে এটি অদ্ভুতভাবে ওঠানামা শুরু করে, ফলে সামঞ্জস্য নষ্ট হয়। তাই, যদি প্রতি মিনিটে আপনার হৃদস্পন্দন বা পালস রেট ওঠানামা করতে থাকে তাহলে ঠান্ডা আবহাওয়ায় বাইরে যাবেন না কোনওভাবেই। বাড়ির ভিতরে থাকুন এবং আরামদায়ক পশমের কাপড় পরুন।

৩। বায়ু দূষণ: বায়ুর মানের সূচক বা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স ৪৫০-এর বেশি মানেই শ্বাস-প্রশ্বাসের সময় স্বাভাবিক বায়ু প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করে এমন কণাগুলিই শ্বাসের মাধ্যমে আপনার দেহে ঢুকে যাচ্ছে। এটি রক্ত জমাট বাঁধিয়ে ফেলে। দূষক পদার্থ শরীরের টিস্যুতে প্রদাহ সৃষ্টি করে এবং প্লেটলেটগুলিও প্রদাহের সঙ্গে জুড়ে যায়, যার ফলে শ্বাসকষ্ট হয় এবং রক্ত জমাট বাঁধে।

৪। জল কম খাওয়া: অনেকেই বুঝতে পারেন না, কিন্তু প্রচণ্ড ঠান্ডায় যেহেতু খুব একটা তেষ্টা পায় না তাই অনেকেই পর্যাপ্ত জল খান না এবং নিজেকে সঠিক মাত্রায় হাইড্রেট করেন না। এর ফলে ডিহাইড্রেশনের গুরুতর সমস্যা দেখা দেয়, রক্তের পরিমাণ কম হয়, রক্ত আঠালো হয়ে যায় এবং জমাট বাঁধার আশঙ্কা দেখা দেয়। পর্যাপ্ত পরিমাণে জল খান, কখনই অতিরিক্ত খাবেন না কারণ কম তাপমাত্রায় ঘামের অভাব মানেই ফুসফুসে অতিরিক্ত তরল জমা হতে পারে যা কার্ডিও-ভাস্কুলার সিস্টেমে চাপ ফেলতে পারে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
নাক ডাকিয়ে ঘুম মানেই সুখনিদ্রা নয়! মৃত্যুকে রোজ রাতে ডেকে আনছে আপনার ছোট্ট ভুলই

Snoring Problem: অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া ঘুমের সময় ঘণ্টায় কমপক্ষে ২০ থেকে ৩০ বার শ্বাস-প্রশ্বাসে বাধা সৃষ্টি করে।

৫। সূর্যালোকের অভাব এবং ভিটামিন ডি হ্রাস: সূর্যালোকের অনুপস্থিতিতে আমাদের দেহ ভিটামিন ডি সংশ্লেষণ করতে পারে না। একটা পর্যায়ের পরে হৃদপিণ্ডে স্কার টিস্যু তৈরিতে বাধা পড়ে।

কীভাবে ঠেকাবেন হার্ট অ্যাটাক?

১। সপ্তাহে অন্তত একবার আপনার রক্তচাপ পরীক্ষা করান। সম্ভব হলে ২৪-ঘণ্টার বিভিন্ন সময় নিজের রক্তচাপের মাত্রা দেখতে পারেন৷

২। শীতে বাইরে যাওয়ার সময় সঠিক পোশাক পরুন।

৩। ঘরের বাইরে ব্যায়ামের বদলে বাড়ির ভিতরে ব্যায়াম করুন শীতে। ট্রেডমিল এবং যোগব্যায়াম করতে পারেন। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনেই তা করুন। বয়স্কদের ক্ষেত্রে ট্রেডমিলের তুলনায় স্ট্যাটিক সাইকেল চালানোই ভাল কার্ডিও-ভাস্কুলার ব্যায়াম। এতে হাঁটুতে কম চাপ পড়ে। সাইকেল চালালে হৃদরোগের হারও কমতে পারে।

৪। শীতকালীন চেক-আপ গ্রীষ্মকালের চেয়েও বেশি জরুরি, তাই কার্ডিওলজিস্টের পরামর্শ মেনে চলুন।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

চিনির বিকল্প স্টেভিয়া! ঘরের বাগানে রাখা যায় যে ‘মধু পাতা’

Stevia benefits: গাছ থেকে সদ্য তোলা কাঁচা পাতা কিংবা রোদে শুকিয়ে নেওয়া পাতা সরাসরি চা বা যেকোনো পানীয়ের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়। এতে চিনির মতো একই রকম মিষ্টতা পাওয়া যায়। স্টিভিয়ার নির্যাস থেকে তৈরি মিষ্টান্ন ডায়াবেটিস রোগীরা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধির ঝুঁকি থাকে না বললেই চলে।

ফুটপাথের ধারের সেই খাবার যেভাবে হয়ে উঠল কলকাতার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

Kolkata Street food history: সুতানুটি-গোবিন্দপুর-কলিকাতার শ্রমজীবী মানুষের তৃপ্তির জন্য জন্ম হয়েছিল ফুটপাতের খাবারের। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের 'সংবাদ প্রভাকর' থেকে হুতোম প্যাঁচার নকশা, এফএও সমীক্ষা থেকে এফএসএসএআই আইন হয়ে ২০২৫ সালে রাসেল স্ট্রিটে প্লাস্টিক-মুক্ত ফুড হাবের জন্ম। কলকাতার স্ট্রিট ফুড আজও এই শহরের প্রাণ। এই শহরের অন্যতম ঐতিহ্য।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি কেন আরশোলার মৃত্যুতে দুঃখ পেয়েছিলেন?

Sanae Takaichi cockroach story: ঘটনাটি আপাতদৃষ্টিতে খুব সাধারণ। সরকারি বাসভবনে গভীর রাতে একা কাজ করতে গিয়ে তিনি একটি আরশোলা দেখতে পেয়েছিলেন। সচরাচর আরশোলা দেখলে তিনি চিৎকার করে ওঠেন, কিন্তু সেদিন তিনি সেটিকে মারেননি।

স্ট্রেস কি সবসময় খারাপ? কখন স্বাভাবিক চাপ হয়ে ওঠে মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি?

mental stress: একটি ইঁদুরের উপর পরীক্ষা করতে গিয়ে তারা দেখেছেন, একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত ইঁদুরটির মধ্যে স্ট্রেস বাড়ানোর সঙ্গে তার কাজকর্মের মান আরও উন্নত হয়েছে। কিন্তু নির্দিষ্ট সীমা পার করবার পর পরই তার ফলাফল করার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা ক্রমশ কমতে কমতে শেষে সেটা প্রায় শূন্যতে নেমে গিয়েছে।

নিজের সর্বস্ব দিয়ে হাসপাতাল গড়েছিলেন রাধাগোবিন্দ কর

History of RG Kar Medical College and Hospital: আজ যে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল বারবার খবরের শিরোনামে, তার দীর্ঘ ইতিহাস কী? কে ছিলেন রাধাগোবিন্দ কর, যিনি নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে গরিব মানুষের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল গড়ে তুলেছিলেন? প্লেগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বাংলায় চিকিৎসাবিজ্ঞান চর্চা ও সমাজসেবায় তাঁর অবদান আজ কতটা মনে রাখা হয়েছে?

হিরোশিমা-নাগাসাকির আগুন থেকে বেঁচে যাঁরা, কেমন ছিল তাঁদের পরের জীবন?

Hiroshima, Nagasaki: বিস্ফোরণের বহু বছর পর এমিকোর ঘরে মেয়ে এল, আর তারও পর জন্ম নিল এমিকোর নাতনি কাজুমি কুওয়াহারা। নবজাতক নাতনিকে দেখে চিকিৎসকেরা পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, "এই বাচ্চা তিন দিনের বেশি বাঁচবে না।" জিনের ভিতরে লুকিয়ে থাকা কোনো অজানা দুর্বলতা যেন জন্ম থেকেই জাপটে ধরেছিল ছোট কাজুমিকে।

কেন কম ঘুমেও কেউ সুস্থ, কেউ হারাচ্ছেন স্মৃতি? জানালেন গবেষকরা

sleep deprivation and brain health: গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে AQP4 (Aquaporin-4) নামে একটি জিন। এই জিনকে অনেকটা মস্তিষ্কের 'সাফাই কর্মী' বলা যায়। আমরা যখন গভীর ঘুমে থাকি, তখন মস্তিষ্কে শুরু হয় এক বিশেষ পরিষ্কার করার কাজ। সারাদিনে জমে থাকা বর্জ্য এবং আলঝাইমার্স রোগের সঙ্গে যুক্ত ক্ষতিকর প্রোটিন এই সময় ধীরে ধীরে শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে। আর সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজে বড় ভূমিকা পালন করে AQP4 জিন।