আদৌ কি টিকায় নির্মূল হয় এই রোগ? কীভাবে মানব শরীরে প্রথম প্রবেশ করেছিল এইডস?

World AIDS Vaccine Day : AIDS সেরে যাবে? HIV-র ভ্যাকসিন আবিষ্কার, গবেষকদের এই দাবির নেপথ্যে লুকিয়ে আছে কোন সত্যি?

inscript
৩ মিনিট
আদৌ কি টিকায় নির্মূল হয় এই রোগ? কীভাবে মানব শরীরে প্রথম প্রবেশ করেছিল এইডস?

এইডস, মানব দেহে বাসা বাঁধা ভয়ংকর সংক্রামক রোগগুলির মধ্যে অন্যতম হল এটি। এই রোগের HIV ভাইরাস প্রথমেই শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে আঘাত করে। শুধু ক্যান্সার নয়, এইডসও এমন একটি ব্যাধি যা শরীরে একবার প্রবেশ করলে ধীরে ধীরে সমস্ত অঙ্গ বিকল করে দিতে থাকে, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা একেবারে নষ্ট করে দেয়। এমনকী এইডস-এ আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে। বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে ক্রমেই ঊর্ধ্বমুখী এইডস আক্রান্ত রোগীদের সংখ্যা। বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে এই রোগ।

সময়টা ১৮০০ শতকের শেষ দিকে, মানুষের শরীরে প্রথম লক্ষণ মেলে এইডস-এর। কিন্তু কীভাবে এটি মানব দেহে প্রবেশ করল সেই বিষয়ে গবেষকদের দাবি, মধ্য আফ্রিকায় এক শিম্পাঞ্জির দেহে প্রথম খোঁজ মেলে HIV ভাইরাসের। তার পর সেখান থেকেই আসে মানবদেহে। এখানে উল্লেখ্য যে, এই মুহূর্তে এইচআইভি বা এইডসের কোন নিরাময় নেই এবং এই অবস্থার জন্য কোনও জেনেটিক চিকিৎসাও নেই।

এইডস আসলে কী?

এইচআইভি হল এক ধরনের ভাইরাস। যার পুরো নাম হিউম্যান ইম্যুনোডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস। AIDS অর্থাৎ Acquired Immuno Deficiency Syndrome, যা এই HIV ভাইরাস থেকে সংক্রামিত হয়। এই রোগে আক্রান্ত মানুষকে এইচআইভি পজিটিভ (HIV+) বলা হয়। এই ভাইরাসের প্রধান কাজ হল, মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে অকেজো করে ফেলা। এইডসে আক্রান্ত ব্যক্তির ইমিউন সিস্টেম একেবারে দুর্বল হয়ে যাওয়ার কারণে রোগীর শরীরে অন্যান্য রোগও সহজেই বাসা বাঁধতে পারে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
অজান্তেই ধেয়ে আসছে মৃত্যু! কেন নীরবে হার্ট অ্যাটাকের শিকার হচ্ছেন ডায়াবেটিস আক্রান্তরা

Heart Disease in Diabetics : আপনার ছোট্ট ভুল অজান্তেই ডেকে আনছেন না তো মৃত্যুকে? জানুন ডায়াবেটিসের সঙ্গে হার্ট অ্যাটাকের আসল যোগাযোগ কোথায়...

বিভিন্ন কারণে এইচআইভি ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করতে পারে, যেমন -

১. যৌন মিলন এই রোগ সংক্রমণ প্রধান কারণ। এই রোগে আক্রান্ত কোনও ব্যক্তির সঙ্গে কোনও একজন সুস্থ মানুষ যৌন মিলনে লিপ্ত হলে ছড়াতে পারে এইডস।

২. নেশার সময় একই সিরিঞ্জের মাধ্যমে অনেককে মাদক গ্রহণ করতে দেখা যায়। এর ফলে যদি একজনের শরীরে এইডস থেকে থেকে, তাহলে অজান্তেই তা অন্যদের শরীরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
অসম্ভব যন্ত্রণা হচ্ছে পেটে, ফ্যাটি লিভার নয় তো! জানেন কোন কোন খাবার উপযুক্ত এই রোগে?

Fatty Liver : কোন কোন খাবার পাতে রাখলে ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত রোগীরা ভালো থাকবেন? কী বলছে সমীক্ষা?

৩. সংক্রমিত ব্যক্তির দেহে প্রবেশ করা ইনজেকশনের সিরিঞ্জ, অস্ত্রোপচারের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি সুস্থ ব্যক্তির দেহে ব্যবহার করা হলে সেখান থেকে রোগ ছড়ায়।

৪. HIV আক্রান্তের মাড়ির ক্ষত ও দেহের ক্ষত থেকে নিঃসৃত লালা এবং রস থেকে এই ভাইরাস ছড়াতে পারে।

৫. এছাড়াও রক্ত, বীর্য, ভেজাইনাল সিক্রিয়েশন, অ্যানাল ফ্লুইড, ব্রেস্ট মিল্ক থেকেও এই ভাইরাস ছড়াতে পারে বলেই দাবি চিকিৎসকদের।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজ প্রতি বছর ১৮ মে বিশ্ব এইডস ভ্যাকসিন দিবস বা এইচআইভি ভাইরাস অ্যাওয়ারনেস দিবস পালন করে। ১৮ মে পালিত হওয়া এই দিবসটির মূলে রয়েছে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন-এর দেওয়া এক ভাষণ। জানা যায়, ১৯৯৭ সালে ১৮ মে মরগ্যান স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সভায় তৎকালীন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টন বক্তৃতা দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি এই রোগ নির্মূল করার জন্য ভ্যাকসিনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। ঠিক তার পরের বছর অর্থাৎ ১৯৯৮ সালের ১৮ মে প্রথম বিশ্ব এইডস ভ্যাকসিন দিবস পালিত হয়। সেই থেকেই এই দিনটি প্রতি বছর পালিত হয়ে আসছে। এই দিনটি পালনের মূল উদ্দেশ্য হল মানুষের মধ্যে এইচআইভি রোগ সংক্রমণ এবং এর টিকা ও চিকিৎসা নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।

তবে চিকিৎসা বিজ্ঞানে আসতে পারে যুগান্তকারী সাফল্য আনতে একটি গবেষকদল নতুন এক ভ্যাকসিন তৈরি করেছে যা এইচআইভি-এইডস নিরাময় করতে পারে বলেই দাবি তাদের। টেল আভিভ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্য জর্জ এস ওয়াইজ ফ্যাকাল্টি অফ লাইফ সায়েন্সেস-এর স্কুল অফ নিউরোবায়োলজি, বায়োকেমিস্ট্রি এবং বায়োফিজিক্সের একটি দলের নেতৃত্বে আয়োজিত হয় এই বিশেষ গবেষণাটি। গবেষণায় উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। তাঁরা ইঞ্জিনিয়ারিং-টাইপ বি শ্বেত রক্তকণিকা দ্বারা তৈরি একটি একক ভ্যাকসিনের মাধ্যমে প্রাথমিক সাফল্য পেয়েছে যা এইচআইভি-নিরপেক্ষ অ্যান্টিবডি তৈরি করতে ইমিউন সিস্টেমকে সক্রিয় করে। গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয় নেচার জার্নালে। পাশাপাশি গবেষকরা জানান, এটি এখনও কোনও চূড়ান্ত নিরাময়ের হদিশ দিতে পারেনি তবে চিকিৎসা এবং ইনজেকশনের মাধ্যমে ভাইরাসকে পরাস্ত করার দিশা দেখিয়েছে এই গবেষণা।

প্রসঙ্গত, এই বি কোষ হল এক ধরনের শ্বেত রক্তকণিকা যা ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি করে। বি কোষগুলি রক্ত ​​​​এবং লিম্ফ্যাটিক সিস্টেমে যায় এবং সেখান থেকে ছড়িয়ে পড়ে শরীরের বিভিন্ন অংশে। যখন ইঞ্জিনিয়ারিং বি কোষগুলি ভাইরাসের মুখোমুখি হয়, তখন ভাইরাস তাদের সহজেই উদ্দীপিত করে যার জেরে কোষগুলি বিভাজিত হয়ে যায়। আর এটাই রোগ সংক্রমণের মূল কারণ। তবে আগামী দিনে এই গবেষণা এবং আবিষ্কৃত ফলাফল এইচআইভি সহ আরও বেশ কিছু সংক্রামক রোগ, যেগুলির চিকিৎসা নিয়ে মানুষের মধ্যে এখনও ধোঁয়াশা সম্পূর্ণ কাটেনি, তাদের নিরাময় সম্ভব বলেই আশার আলো দেখিয়েছেন গবেষকরা।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

চিনির বিকল্প স্টেভিয়া! ঘরের বাগানে রাখা যায় যে ‘মধু পাতা’

Stevia benefits: গাছ থেকে সদ্য তোলা কাঁচা পাতা কিংবা রোদে শুকিয়ে নেওয়া পাতা সরাসরি চা বা যেকোনো পানীয়ের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়। এতে চিনির মতো একই রকম মিষ্টতা পাওয়া যায়। স্টিভিয়ার নির্যাস থেকে তৈরি মিষ্টান্ন ডায়াবেটিস রোগীরা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধির ঝুঁকি থাকে না বললেই চলে।

ফুটপাথের ধারের সেই খাবার যেভাবে হয়ে উঠল কলকাতার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

Kolkata Street food history: সুতানুটি-গোবিন্দপুর-কলিকাতার শ্রমজীবী মানুষের তৃপ্তির জন্য জন্ম হয়েছিল ফুটপাতের খাবারের। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের 'সংবাদ প্রভাকর' থেকে হুতোম প্যাঁচার নকশা, এফএও সমীক্ষা থেকে এফএসএসএআই আইন হয়ে ২০২৫ সালে রাসেল স্ট্রিটে প্লাস্টিক-মুক্ত ফুড হাবের জন্ম। কলকাতার স্ট্রিট ফুড আজও এই শহরের প্রাণ। এই শহরের অন্যতম ঐতিহ্য।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি কেন আরশোলার মৃত্যুতে দুঃখ পেয়েছিলেন?

Sanae Takaichi cockroach story: ঘটনাটি আপাতদৃষ্টিতে খুব সাধারণ। সরকারি বাসভবনে গভীর রাতে একা কাজ করতে গিয়ে তিনি একটি আরশোলা দেখতে পেয়েছিলেন। সচরাচর আরশোলা দেখলে তিনি চিৎকার করে ওঠেন, কিন্তু সেদিন তিনি সেটিকে মারেননি।

স্ট্রেস কি সবসময় খারাপ? কখন স্বাভাবিক চাপ হয়ে ওঠে মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি?

mental stress: একটি ইঁদুরের উপর পরীক্ষা করতে গিয়ে তারা দেখেছেন, একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত ইঁদুরটির মধ্যে স্ট্রেস বাড়ানোর সঙ্গে তার কাজকর্মের মান আরও উন্নত হয়েছে। কিন্তু নির্দিষ্ট সীমা পার করবার পর পরই তার ফলাফল করার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা ক্রমশ কমতে কমতে শেষে সেটা প্রায় শূন্যতে নেমে গিয়েছে।

নিজের সর্বস্ব দিয়ে হাসপাতাল গড়েছিলেন রাধাগোবিন্দ কর

History of RG Kar Medical College and Hospital: আজ যে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল বারবার খবরের শিরোনামে, তার দীর্ঘ ইতিহাস কী? কে ছিলেন রাধাগোবিন্দ কর, যিনি নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে গরিব মানুষের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল গড়ে তুলেছিলেন? প্লেগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বাংলায় চিকিৎসাবিজ্ঞান চর্চা ও সমাজসেবায় তাঁর অবদান আজ কতটা মনে রাখা হয়েছে?

হিরোশিমা-নাগাসাকির আগুন থেকে বেঁচে যাঁরা, কেমন ছিল তাঁদের পরের জীবন?

Hiroshima, Nagasaki: বিস্ফোরণের বহু বছর পর এমিকোর ঘরে মেয়ে এল, আর তারও পর জন্ম নিল এমিকোর নাতনি কাজুমি কুওয়াহারা। নবজাতক নাতনিকে দেখে চিকিৎসকেরা পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, "এই বাচ্চা তিন দিনের বেশি বাঁচবে না।" জিনের ভিতরে লুকিয়ে থাকা কোনো অজানা দুর্বলতা যেন জন্ম থেকেই জাপটে ধরেছিল ছোট কাজুমিকে।

কেন কম ঘুমেও কেউ সুস্থ, কেউ হারাচ্ছেন স্মৃতি? জানালেন গবেষকরা

sleep deprivation and brain health: গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে AQP4 (Aquaporin-4) নামে একটি জিন। এই জিনকে অনেকটা মস্তিষ্কের 'সাফাই কর্মী' বলা যায়। আমরা যখন গভীর ঘুমে থাকি, তখন মস্তিষ্কে শুরু হয় এক বিশেষ পরিষ্কার করার কাজ। সারাদিনে জমে থাকা বর্জ্য এবং আলঝাইমার্স রোগের সঙ্গে যুক্ত ক্ষতিকর প্রোটিন এই সময় ধীরে ধীরে শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে। আর সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজে বড় ভূমিকা পালন করে AQP4 জিন।