রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন কি মৃত?

Vladimir Putin Russia: ব্রিটিশ যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছিল পুতিন খুব অসুস্থ, সম্ভবত মৃতও। তবে মৃত্যু গোপন করার জন্য রাষ্ট্রপতির 'ডামি' ব্যবহার করা হচ্ছে।

Madhurima Dutta
৩ মিনিট
রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন কি মৃত?

ভ্লাদিমির পুতিন ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত, মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন? না কি থাইরয়েড ক্যান্সার? পেটের ক্যান্সারও হতে পারে আবার পারকিনসন্সও। রাষ্ট্রপতির ডিমেনশিয়া আছে, তিনি দৃষ্টিশক্তিও হারাচ্ছেন। সমস্ত দেহ আস্তে আস্তে সাড়া দেওয়া বন্ধ করে দিচ্ছে। আসলে পুতিনের ঠিক কী হয়েছে সেই তথ্য নির্ভর করছে কোন সংবাদ মাধ্যমের নোটিফিকেশন পাচ্ছেন আপনি তার উপর। কেউ কেউ বলছে বিভিন্ন রোগে মারাত্মকভাবে অসুস্থ রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি। কিছু কিছু সংবাদপত্র আবার বলছে ভ্লাদিমির পুতিন মারা গিয়েছেন। ব্রিটিশ যুক্তরাজ্যের সিক্রেট ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস MI6-এর এক গোয়েন্দা সূত্র ডেইলি স্টারকে গতবছরই জানিয়েছিল পুতিন খুব অসুস্থ, সম্ভবত মৃতও। তবে মৃত্যু গোপন করার জন্য রাষ্ট্রপতির 'ডামি' ব্যবহার করা হচ্ছে। ভ্লাদিমির পুতিন বেঁচে আছেন কিনা তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিও!। জেলেনস্কি প্রশ্ন তুলেছেন, "এখন কার সঙ্গে কথা বলব বুঝতে পারছি না। আমি নিশ্চিত নই যে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট এখনও বেঁচে আছেন কিনা।"

পুতিনের মৃত্যু সম্পর্কে গুজব এতদূর এবং এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে যে রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী সার্জেই ল্যাভরভ ফরাসি টেলিভিশন চ্যানেল TF1-এর একটি সাক্ষাত্কারে সব গুজব অস্বীকার করতে বাধ্য হন। তিনি জানান, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন প্রতিদিন জনসমক্ষে উপস্থিত হচ্ছেন। মানুষ তাঁকে টিভি পর্দায় দেখতে পাচ্ছেন, তাঁর বক্তৃতা পড়তে এবং শুনতে পারছেন। তিনি অসুস্থ বা মৃত হলে এসব কীভাবেই বা সম্ভব হতো?

সত্যিই তাই! পুতিন যে গুরুতর অসুস্থ তার কোনও যাচাইযোগ্য প্রমাণও হাতে নেই। তিনি মারা গেছেন কী না তাই নিয়েও নিশ্চিত হওয়ার উপায় নেই। সূত্রের খবর, সম্ভবত রাষ্ট্রপতির স্বাস্থ্য এবং সুরক্ষা বিষয়ে গোপনীয়তা ইচ্ছাকৃতভাবেই বাড়ানো হয়েছে। পুতিন কেমন আছেন সেই সম্পর্কে রাশিয়ারই একটি স্বাধীন সংবাদমাধ্যম কিছু নথি ফাঁস করেছে। পুতিনের ভ্রমণ সংক্রান্ত তথ্য তুলে এনে সেই সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে পুতিনের নিবিড় চিকিৎসা চলছে। ১ এপ্রিল প্রকাশিত একটি তদন্ত অনুসারে, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে তিনি প্রায়শই তাঁর কৃষ্ণ সাগরের বাসভবনে ঘুরতে যান। সেখানে তাঁর সঙ্গে যান একজন অঙ্কোলজি সার্জন এবং দু'জন অটোল্যারিঙ্গোলজিস্ট সহ সেরা চিকিৎসকদের একটি দল। যে ধরনের চিকিৎসা চলছে তা থাইরয়েড ক্যান্সারের চিকিত্সার মতোই খানিক। যদিও পুতিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এসব দাবিগুলোকে মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

৬৯ বছর বয়সী ভ্লাদিমির পুতিনের জীবন যাপন সবটাই রহস্যে মোড়া, বলা ভালো তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপ নিরাপত্তায় ঢাকা। শোনা যায়, কোথাও ভ্রমণে গেলে নিজস্ব শৌচালয়ও বয়ে নিয়ে যাওয়া হয় যাতে তাঁর দেহনিঃসৃত বর্জ্যটুকুও শত্রুপক্ষের হাতে না আসে। গত ২১ এপ্রিল প্রতিরক্ষা মন্ত্রী সার্জেই শোইগুর সঙ্গে একটি টেলিভিশন বৈঠকে হঠাৎই দেখা যায় পুতিন আসনে ঝুঁকে পড়ে প্রায় ১২ মিনিট ধরে সামনের টেবিলটি আঁকড়ে ধরে রয়েছেন। অনেকেরই অনুমান হাত কাঁপা লুকনোর চেষ্টা করছিলেন তিনি যা পারকিনসন্স রোগের সঙ্গেও জড়িত হতে পারে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ভয়াবহ মিসাইল রাশিয়ার হাতে! ইউক্রেনের পর পুতিনের টার্গেট কে?

পুতিনের বক্তব্য পরিষ্কার, জার্কনের মাধ্যমে এইসব ‘নিজেদের সিদ্ধান্ত নেওয়া শক্তিকেন্দ্র’-গুলোকে আক্রমণ করা যাবে কয়েক মিনিটের মধ্যে। সেই ক্ষমতা রাশিয়ার রয়েছে।

পশ্চিমের গোয়েন্দা সূত্রগুলি সাম্প্রতিক সময়ে পুতিনের চেহারা দেখে অনুমান করছে, তিনি ক্যান্সার বা স্নায়বিক রোগের জন্য স্টেরয়েড গ্রহণ করছেন। একইভাবে, গত ৯ মে মস্কোর রেড স্কোয়ারে বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজ দেখার সময় তাঁর হাঁটু ঢেকে রাখার জন্য কম্বল ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। হয়তো সবটাই সত্য বা সবটাই গুজব। হতেও পারে বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছেন এই স্বৈরশাসক।

পুতিনের স্বাস্থ্য নিয়ে এত গুজব কেন তা বোঝা খুব একটা দুষ্কর নয়। পুতিন কতকাল বাঁচবেন তার উপরেই নির্ভর করছে ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ, বিশ্বের রাজনীতি এবং রাশিয়ার অর্থনীতিও। যে রাষ্ট্রপতির শাসনামলে এতকাল ধরে যুদ্ধ চলতে পারে, এতকাল ধরে মানুষ উদ্বাস্তু হয়ে থাকতে পারে সেই শাসকের স্বাস্থ্য আর মৃত্যু সারা বিশ্বের কাছে স্বাভাবিকভাবেই গুরুত্বপূর্ণ।

রাশিয়ার সংবিধান অনুযায়ী, পুতিন মারা গেলে, প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিশুস্টিনকে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিতে হবে। তারপরে তিন মাসের মধ্যে নতুন নির্বাচন হবে। কিন্তু মিশুস্টিন মূলত একজন টেকনোক্র্যাট যার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা সামান্যই। যদিও রাশিয়ায় তিনি পুতিনের নিতান্তই অনুগত কর্মী, ফলে আশা করা যায় পুতিনের পদচিহ্নই তাঁর অনুপ্রেরণা। এমনও হতে পারে যে তিনি পুতিনের চেয়েও বেশি স্বৈরাচারী। মিশুস্টিনের নিকটতম প্রতিযোগীদের মধ্যে থাকতে পারেন নিরাপত্তা পরিষদের সচিব নিকোলাই পাত্রুশেভ, যাকে 'রাশিয়ার সবচেয়ে বিপজ্জনক ব্যক্তি' মনে করা হয়।

লিখেছেন
Madhurima Dutta
Madhurima Dutta
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আপত্তি, ১০ মাসে দুই কমিশনারের ১৪ বার প্রশ্ন

Election Commission SIR: এসআইআর ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন বলে দাবি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ফর্ম ৬ বদল, ভোটার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীয়করণ, পশ্চিমবঙ্গের আপিল এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি ফের আলোচনায়।

হুথিরা যেভাবে স্থানীয় বিদ্রোহী থেকে মধ্যপ্রাচ্যের শক্তিতে পরিণত হলো

Houthi Expansion in Yemen: ইয়েমেনে ফের কেন যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে? হুথিরা কীভাবে স্থানীয় জায়দি আন্দোলন থেকে শক্তিশালী সামরিক-রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হল? ইরানের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক কতটা গভীর? মোখা ও হানিশ দ্বীপপুঞ্জ দখলের পর কেন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বাব আল-মান্দাব? এই সংঘাতের প্রভাব কি শেষ পর্যন্ত বিশ্ব বাণিজ্য, জ্বালানি পরিবহণ ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে পড়বে?