আকাশ থেকে নেমে আসে মৃত পাখির ঝাঁক, আজও রহস্যময় জটিঙ্গা

Jatinga Mystery: প্রায় একশো বছরের বেশি সময় ধরে জটিঙ্গা গ্রামের এই ঘটনা যে-কোনও রহস্য গল্পকে কঠিন প্রতিযোগিতা ছুড়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।

Raktim Dey
৩ মিনিট
আকাশ থেকে নেমে আসে মৃত পাখির ঝাঁক, আজও রহস্যময় জটিঙ্গা

জঙ্গলের মধ্যে একটি গ্রাম। সূর্যাস্তের কিছু সময় পর চারদিকে অন্ধকার জমাট বাঁধতে শুরু করেছে। এমন সময়ে ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি জঙ্গল থেকে গ্রামের দিকে উড়ে এল। গ্রামের বাড়িগুলির ওপর দিকভ্রান্তের মতো উড়তে শুরু করল তারা। তাদের মধ্যে কিছু পাখি উড়তে উড়তে গাছ অথবা বাড়ির দেওয়ালে ধাক্কা খেয়ে পড়েই মারা গেল। কিছু পাখি মাটিতে নেমে এল। তাদের যেন মানুষের হাতে ধরা পড়ার ভয় নেই অথবা মানুষের হাতে ধরা পড়ার থেকে ভয়ানক কিছু থেকেই তারা প্রাণ বাঁচিয়ে পালিয়ে এসেছে। তারা কেমন যেন আনমনা হয়ে রইল। মানুষ তাদের ধরুক অথবা ছেড়ে দিক, তার কিছুতেই যেন তাদের কিছু আসে না। সেই সময় কিছু মানুষ গ্রামের ওপর দিকভ্রান্তের মতো উড়তে থাকা পাখিগুলোকে লাঠি অথবা বাঁশ দিয়ে মারার চেষ্টা করছে। যদি কয়েকটা পাখি মারা যায়, তাহলে সেই পাখির মাংস খাওয়া হবে।

ঘটনা শুনে আজগুবি অথবা আপাতদৃষ্টিতে দেখে অলৌকিক ঘটনা বলে মনে হলেও প্রায় একশো বছরের বেশি সময় ধরে জটিঙ্গা গ্রামের এই ঘটনা যে-কোনও রহস্য গল্পকে কঠিন প্রতিযোগিতা ছুড়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।

আসামের ডিমা হাসাও জেলার হাফলং থেকে প্রায় কুড়ি কিলোমিটার দূরে অবস্থিত একটি গ্রামের নাম জটিঙ্গা। এই গ্রামের রহস্যময় গল্প শুরু হয় ১৯০৫ সাল নাগাদ। এক সন্ধ্যায় জটিঙ্গার গ্রামবাসীরা একটি হারিয়ে যাওয়া মোষ খুঁজতে বেরিয়েছিল। মশাল হাতে কিছুদূর খোঁজাখুঁজি করার পরেই ঘটেছিল এক হাড় হিম করা ঘটনা। তাদের মনে হয়েছিল, যেন তাদের চারিদিকে মরা পাখির বৃষ্টি শুরু হয়েছে। পাহাড় এবং জঙ্গলে ঘেরা গ্রামের গ্রামবাসীরা দেখেছিল যে, তাদের মাথার ওপর ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি উড়ে চলেছে এবং সেই ঝাঁক থেকে বহু পাখি মাটিতে পড়ে মরে যাচ্ছে অথবা মৃত অবস্থায় মাটিতে পড়ছে। ঘটনার ভয়াবহতায় আতঙ্কিত গ্রামবাসীরা এই ঘটনাকে অলৌকিক ঘটনা বলেই মনে করেছিল। তারা ভেবেছিল যে, আকাশ থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে মাটিতে পড়তে থাকা মরা পাখি আসলে অশুভ আত্মার কারসাজি। তাই হারিয়ে যাওয়া মোষের মায়া ত্যাগ করে তারা গ্রামের উদ্দেশ্যে ছুটেছিল। কয়েকদিনের মধ্যেই সব গ্রামবাসী গ্রাম ছেড়ে চলে গিয়েছিল।

জটিঙ্গা গ্রামের সেই গ্রামবাসীরা ছিলেন নাগা। তারা যখন গ্রাম ছেড়ে নতুন বাসস্থানের খোঁজে বেরিয়েছিল, তখন রাস্তায় তাদের সঙ্গে নার উপজাতির কিছু মানুষের দেখা হয়েছিল। নার উপজাতির সেই মানুষরাও নিজেদের নতুন বাসস্থান খুঁজছিল। নাগাদের দেওয়া ঘটনার বিবরণ তাদের কাছে খুব একটা বিশ্বাসযোগ্য ছিল না। তার থেকে অনেক বেশি আকর্ষণীয় ছিল নাগাদের ফেলে আসা গ্রামের ঠিকানা, যা তাদের নতুন বাসস্থানের খোঁজের সমাপ্তি ঘটাতে পারত। নাগা-দের থেকে শোনা ঘটনাকে ভয় না পেয়ে তারা নাগা-দের ফেলে আসা বাসস্থানকেই নিজেদের বাসস্থান বানাল। গ্রামের মানুষ বদলে গেলেও সেই আশ্চর্য ঘটনা আজও প্রত্যেক বছর যেন নিয়ম করেই ঘটে চলেছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
রহস্যময় বিস্ফোরণের শব্দ, সঙ্গে সবুজ আলো! যোধপুরের সেই রহস্যের কিনারা হয়নি আজও

Jodhpur Sonic Boom: যোধপুরের সেই শব্দের উৎস আজ অবধি খুঁজে পাওয়া যায়নি।

বহু বিশেষজ্ঞ আজ অবধি জটিঙ্গার এই ঘটনার বিভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। ড. সুধীন সেনগুপ্তর মতে, জটিঙ্গার এই ঘটনার পিছনে কারণ হিসেবে লুকিয়ে রয়েছে আবহাওয়া এবং বায়ুচাপের আকস্মিক পরিবর্তন, ভূচুম্বক এবং মাধ্যাকর্ষণের এক জটিল মিশ্রণ। বর্ষায় বেড়ে যাওয়া জলস্তর, ভৌগোলিক ফাটল, এই এলাকায় পাথরে থাকা উচ্চ-চৌম্বকশক্তিযুক্ত খনিজ পদার্থর উপস্থিতি পাখিদের স্নায়ুতন্ত্রের ওপর প্রভাব ফেলে এই ধরনের ঘটনা ঘটায়। জটিঙ্গার এই ঘটনা শুধুমাত্র বর্ষাকালেই ঘটে। অধিক বৃষ্টির ফলে জলস্তর বেড়ে থাকায় পাখিরা বিচলিত থাকে। তার সঙ্গে এই এলাকায় উল্লেখ্য বিভিন্ন কারণে তাদের স্নায়ুতন্ত্রের ওপর প্রভাব পড়ে এবং তারা অস্থির হয়ে ওঠে। তারা রাতের অন্ধকারে উড়তে শুরু করে। এই সময়ে চৌম্বকত্বর পরিবর্তন তাদের বায়ো কম্পাস বিকল করে দেয়। তখন হয় তারা দিকভ্রান্তর মতো একই এলাকায় উড়তে থাকে অথবা মাটিতে নেমে আসে। তার ফলে তারা সহজ শিকারে পরিণত হয়।

যদিও বিভিন্ন তথ্য এই রহস্যের ঘনঘটা আরও বাড়িয়ে তোলে। জটিঙ্গায় উড়ে আসা পাখিগুলি মাত্র দুই কিলোমিটার দূরে থাকা একটি গ্রামের দিকে উড়ে যায় না। তারা সবসময় নির্দিষ্ট একটা এলাকায় উড়তে থাকে। এছাড়া ধরা পড়া পাখিগুলি জাটিঙ্গা গিরিশিরার উত্তর থেকেই উড়ে আসে, দক্ষিণ দিক থেকে নয়। যদিও দক্ষিণ দিকেও প্রচুর পাখির বসবাস।

এই গ্রামে ধরা পড়া পাখিগুলি বেশিরভাগ স্থানীয় পাখি হলেও সব স্থানীয় পাখি এই আচরণ করে না। বিখ্যাত পক্ষীবিদ সেলিম আলি বলেছিলেন যে, জটিঙ্গাতে ধরা পড়া পাখিগুলি নিশাচর পাখি নয়। যে পাখিগুলি দিনের বেলায় জেগে থাকে, অন্ধকারে তাদের উড়তে শুরু করার বিষয়টাও সাধারণ নয়, ফলে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

একই সঙ্গে গ্রামবাসীদের হাতে পাখিদের মৃত্যু রুখতে একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন ডিভিশনাল ফরেস্ট অফিসার এইচ. পি. ফুকন। গ্রামের কিছু মানুষকে সঙ্গে নিয়ে তিনি তৈরি করেছিলেন বার্ড ওয়াচার ক্লাব। সেই ক্লাবের মাধ্যমে তিনি মানুষকে পরিবেশে পাখির প্রয়োজনীয়তা বুঝিয়েছিলেন। তার ফলে পাখি নিধনের সংখ্যা কমেছিল।

বর্তমানে জটিঙ্গাতে উড়ে আসা পাখির সংখ্যা কমেছে। যদিও এই অদ্ভুত ঘটনার সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা আজও পাওয়া যায়নি।

তথ্য ঋণ: দ‍্য ওয়াল, এই সময়

লিখেছেন
Raktim Dey
Raktim Dey
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

জলবায়ু বদলেছে, নদীর প্রবাহ বদলেছে: ৩০ বছরের পুরনো ভারত-বাংলাদেশ গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তিতে কোন কোন পরিবর্তন দরকার?

A Flawed Pact of Farakka: ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে ১৯৯৬ সালের গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তির ৩০ বছরের মেয়াদ। বাংলাদেশের নদী বিশেষজ্ঞ মনজুর এ চৌধুরীর মতে, চুক্তিটি 'ত্রুটিপূর্ণ', এতে নেই গ্যারান্টি ক্লজ, নেই পরিবেশগত প্রবাহের হিসাব, নেই জলবায়ু পরিবর্তনের বিধান। তাঁর প্রস্তাব, তিন বছরের নতুন অন্তর্বর্তী চুক্তি হোক, তারপর নেপালকে যুক্ত করে তৈরি করা হোক ত্রিপাক্ষিক কাঠামো।

থালায় খাবার, নাকি বিষ? খাদ্যব্যবস্থার ভিতরে যেভাবে ঢুকছে কীটনাশক ও কর্পোরেট নিয়ন্ত্রণ

Poison on the Plate: বায়ার-মনসান্টো ও সিনজেনটার মতো 'বিগ সিক্স' কর্পোরেটের নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছে বিশ্বের বীজ বাজার। ২০২৩ সালে ভারতে ১০,৭৮৬ জন খাদ্য উৎপাদক কৃষক ও কৃষিশ্রমিকের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। ২৮ শতাংশ খাদ্য নমুনায় কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ পাওয়া যাচ্ছে। কৃষিকাজে ব্যবহৃত গ্লাইফোসেটকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ক্ষতিকারক ‘সম্ভাব্য কার্সিনোজেন’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, তবুও এর ব্যবহার থামেনি। অন্যদিকে, প্রচারের অন্তরালে সিকিম আমাদের দেশের প্রথম শতভাগ জৈব কৃষির রাজ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। সারা বিশ্বজুড়ে কৃষিবিদ বন্দনা শিবার ‘পয়জন-ফ্রি ফুড অ্যান্ড ফার্মিং ২০৩০’ অভিযানের ডাক আমাদের খাবারের থালাকে বিষমুক্ত করার আহ্বান জানাচ্ছে।

তেলের বদলে বিদ্যুৎ! আরব সাগরের তলায় ভারত-সৌদির ৯ বিলিয়ন ডলারের মহাপ্রকল্প

India Saudi Arabia submarine power link: আরব সাগরের তলদেশ দিয়ে ভারত ও সৌদি আরবের মধ্যে প্রস্তাবিত ২১০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সাবমেরিন বিদ্যুৎ সংযোগের একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হচ্ছে, যার ক্ষমতা থাকবে ৩ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের। প্রযুক্তি হিসাবে ব্যবহৃত হবে HVDC, এর ফলে প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ বিলিয়ন ডলার। আজ, ৫ অক্টোবর, দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে আলোচনা হবে প্রকল্পটির ব্যয় কমানো, অর্থায়ন মডেল ও ঝুঁকি ভাগাভাগি নিয়ে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, ভারতের ওয়ান সান ওয়ান ওয়ার্ল্ড ওয়ান গ্রিড প্রকল্প ও জি-২০ তে প্রস্তাবিত ইন্ডিয়া-মিডল ইস্ট-ইউরোপ ইকোনমিক করিডোরের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ এই প্রকল্পটিকে চিনের বেল্ট এন্ড রোড ইনিশিয়েটিভের বিকল্প হিসেবে দেখা যেতে পারে।

কয়লার দেশ হয়েও কেন বিদ্যুৎ সংকটে ভারত?

India's energy crisis 2026: হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হওয়ায়, ভারতের ৮০ শতাংশের বেশি জ্বালানি আমদানি ধাক্কা খেয়েছে। বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর এক সময় জ্বালানিক্ষেত্রে ‘ঘাটতি নেই’ বললেও সেপ্টেম্বরে স্বীকার করলেন, জ্বালানির পরিস্থিতি বর্তমানে ‘টানটান’। ৭৬টি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র সংকটজনক ভাবে মজুত করা কয়লায় চলছে। চলছে এলপিজির কালোবাজারি। ডিসকমগুলির বকেয়া জমে রয়েছে প্রায়, ৩,৩৩০ কোটি টাকা।

প্রকৃতির কোলে পিকনিক, শেষে প্লাস্টিকের পাহাড়: মানুষ কি সত্যিই প্রকৃতিকে ভালোবাসে?

Environmental Pollution: প্রশাসনের তরফে অতিরিক্ত দূষণ ছড়ানো কলকারখানা সিল করে দেওয়ার মতো প্রশাসনিক পদক্ষেপ হয়তো নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এতেই কি সমস্যার সমাধান মিলবে? কারণ জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ব্যক্তিগত যানবাহনের দাপট এবং বৈদ্যুতিন বর্জ্য। শ্রমবিমুখ হয়ে সবকিছু প্রস্তুত পাওয়ার মানসিকতা এবং দেশে সংস্কারের লড়াই না করে সহজে অন্য দেশে পাড়ি দেওয়ার প্রবণতাও স্পষ্ট। এই দায় এড়িয়ে কি সার্বিক সমাধান সম্ভব?

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

সিভিল সার্ভিস ছেড়ে বাঘের টানে রণথম্ভোরে, ৩৫ একর জমিতে তৈরি করলেন বন

Ranthambore tiger conservation: তাঁরা কেবল চেয়েছিলেন সংরক্ষিত বনের বাইরে বাঘেদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয় গড়ে তুলতে। তারপর কুড়ি বছর পর্যটন লজ থেকে যেটুকু আয় হতো, তার প্রায় সবটাই তাঁরা সঞ্চয় করতেন ভাদলাভে কৃষকদের কাছ থেকে এক এক করে জমি কেনার জন্য। প্রায় দুই দশক ধরে একটু একটু করে ৩৫ একরেরও বেশি জমি তাঁরা কিনে নেন, যার মোট খরচ ছিল সে সময়ের হিসাবে এক কোটি টাকারও বেশি।

জলবায়ু বদল শুধু প্রকৃতির বিপদ নয়, ভারতের অর্থনীতির ভিতও নড়বড়ে করে দিচ্ছে

climate change and economy: ১৯৯০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ২১টি উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতি খতিয়ে দেখে একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে এক চমকে দেওয়ার মতো তথ্য। দেখা যাচ্ছে, বার্ষিক গড় তাপমাত্রা যদি মাত্র ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসও বাড়ে, তবে দীর্ঘমেয়াদে সামগ্রিক উৎপাদন দক্ষতা কমে যায় প্রায় ৩.২২ শতাংশ।