সুনীলের জন্য পড়ে আছে অনন্ত মাঠ

Sunil Chhetri: ম্যাচের শেষ মুহূর্তে যখন সুনীল মাঠ ছাড়ার জন্য এগিয়ে আসেন, স্টেডিয়াম কাঁপছিল করতালিতে।

Sourish Das
৪ মিনিট
সুনীলের জন্য পড়ে আছে অনন্ত মাঠ

ভারতীয় ফুটবলের আকাশের সবথেকে উজ্জ্বল নক্ষত্র সুনীল ছেত্রী তাঁর আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের শেষ ম্যাচটা খেললেন যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে, কুয়েতের বিরুদ্ধে। এই ম্যাচ নিছকই খেলা নয়, এ এক যুগের সমাপ্তি এবং নতুন প্রজন্মের উত্থানের সূচনা। স্টেডিয়ামে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের সময় মাঠ কাঁপছিল সুনীলের ভক্তদের উদ্দাম উল্লাসে। ম্যাচ ঠিকই, তবে ফলাফল যেন গৌণ! এ তো সুনীলের দিন, এমন একজন মানুষের দিন, যিনি তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে ভারতীয় ফুটবলকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।

সুনীল ছেত্রী। ৮৪টি আন্তর্জাতিক গোল, ১৯ বছরের দীর্ঘ কেরিয়ার, অগণিত রেকর্ড — অর্জনের তালিকা অনন্ত। তবে তার চেয়েও বড় ছিল দলের প্রতি ভালোবাসা এবং অনুপ্রেরণার শক্তি। সুনীল একজন আইকন, সুনীল একজন টিম ম্যান। নিজের সেরাটা দিয়ে দেশকে প্রতিকূল পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ দেখিয়েছেন সুনীল। একটা সময় ছিল যখন ভারতের ফুটবলের কোথাও কোনও কদর ছিল না বললেই চলে। সেখান থেকে ভারতীয় ফুটবলকে বিশ্বের মানচিত্রে একটা সম্মানজনক জায়গায় নিয়ে এসেছেন সুনীল। ভারতের ফুটবলের উত্থানে যদি কোনও খেলোয়াড়ের অবদান সবথেকে বেশি থাকে, তিনি সুনীল ছেত্রী।

কুয়েতের বিরুদ্ধে ভারত গোলশূন্য ড্র করলেও, এই ম্যাচে সুনীলের খেলা ছিল দেখার মতো। অন্যান্য যে কোনও ভারতীয় স্ট্রাইকারের থেকে ভালো গোল করার দক্ষতা রয়েছে সুনীল ছেত্রীর পায়ে। সুযোগ সন্ধানী সুনীল তাঁর আন্তর্জাতিক ফুটবল কেরিয়ারে বহু অভাবনীয় এবং অবিশ্বাস্য গোল করেছেন। ৩৯ বছরের সুনীল বিশ্বের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় বর্তমানে লিওনেল মেসি এবং ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর ঠিক পরেই। ভারতের অন্য কোনও ফুটবলারেরই এই রেকর্ড নেই।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
১১ জন ফুটবলারকেই পাহাড়ের চুড়োয় দাঁড় করিয়ে গুলি করে মেরেছিল হিটলারের দল

Football and Hitler: খেলার আগেই তাদের শাসানি দেওয়া হয়েছিল, ‘যদি জিতিস, তাহলে মরবি’, ফলে তারা পরিণতি বুঝেই ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে আর খিদের জ্বালায় কাতর হয়ে হারবে বলেই মাঠে নেমেছিল।

২০১১ সালটা ছিল সুনীল ছেত্রীর জীবনের সবথেকে ভালো সময়। এই বছরই নিজেকে ভারতীয় দলের সেরা স্ট্রাইকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছিলেন সুনীল। গোল সংখ্যার দিক থেকেও এটাই ছিল সুনীল ছেত্রীর সবথেকে ভালো বছর। এই বছরে মোট ১৩ টি গোল করেছিলেন তিনি ভারতের হয়ে। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে একার দক্ষতায় দলকে সাফল্য এনে দিয়েছিলেন। এক টুর্নামেন্টে সাতটি গোল করে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছিলেন। এই একই বছর এএফসি এশিয়া কাপেও দক্ষিণ কোরিয়া এবং বাহারিনের বিরুদ্ধে গোল করে ভারতকে সাফল্য এনে দিয়েছিলেন সুনীল ছেত্রী।

ভারতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে ২০১৮ সালে নিজের সেরা পারফরমেন্স দিয়েছিলেন সুনীল ছেত্রী। এই একই বছরে তিনি একাধিক মাইলফলক অর্জন করেছিলেন। একের পর এক নজির গড়ে, তখন তিনি হয়ে উঠছিলেন ভারতীয় ফুটবলের সব থেকে ভরসাযোগ্য খেলোয়াড়। সারা দুনিয়ার সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক গোলদাতাদের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে নিজেকে নিয়ে যেতে পেরেছিলেন সুনীল। সেই বছর ইন্টার কন্টিনেন্টাল কাপে সুনীল ছেত্রীর হ্যাটট্রিকের ফলে চিনের তাইপেকে হারায় ভারত। সেই টুর্নামেন্টের প্রতি ম্যাচেই গোল করেছিলেন সুনীল ছেত্রী। ফাইনাল ম্যাচে তাইপেকে হারিয়ে টুর্নামেন্ট জিতে নেয় ভারত। আর টুর্নামেন্টের সেরা হন সুনীল ছেত্রী।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
উড়ন্ত গোল করতে করতেই মারাত্মক সংঘর্ষ, বাইসাইকেল কিক কেড়েছিল ফুটবলারের প্রাণ

History of Football Bicycle Kick : চিলের তালকাহুয়ানো বন্দরের মাঠে রামোন উনসাগা বল নিয়ে এই কসরতের আবিষ্কর্তা।

এরপরে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি সুনীলকে। ২০১৮-তে যে ফর্ম নিয়ে তিনি শুরু করেছিলেন, সেই একই ফর্ম তিনি চালিয়ে গিয়েছেন কেরিয়ারের শেষ ম্যাচ পর্যন্ত। ২০১৯ সালে আগের বছরের থেকেও বেশি টুর্নামেন্ট খেলেন সুনীল ছেত্রী। একের পর এক ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ গোল করে তিনি ভারতীয় দলের সবথেকে নির্ভরযোগ্য ফুটবলার হয়ে ওঠেন। ২০১৯ সালে এএফসি এশিয়ান কাপে থাইল্যান্ডের বিরুদ্ধে তাঁর দু'টি গোলের ফলেই ম্যাচটি ৪-১ গোলে জিতে নিয়েছিল ভারত। ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপেও তাজাকিস্তানের বিরুদ্ধে দু'টি গোল করেছিলেন সুনীল ছেত্রী।

২০২১ সালে ধারাবাহিকভাবে স্ট্রাইকার এবং অধিনায়ক হিসেবে একের পর এক গোল করেছিলেন সুনীল। সেই সময় সুনীল একেবারে পরিণত ফুটবলার। ১৬ বছরের অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি সেই সময় ভারতীয় ফুটবলের সত্যিকারের ক্যাপ্টেন। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে সুনীলের নেতৃত্বে সেবছর দুর্দান্ত পারফর্ম করে ভারত। পুরো চ্যাম্পিয়নশিপে তিনিই হন ম্যান অফ দ্য টুর্নামেন্ট। সেই টুর্নামেন্টে পাঁচটি গোল করেছিলেন তিনি এবং সবক'টিই ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মলদ্বীপের বিরুদ্ধে জোড়া গোল করে ভারতকে জিতিয়েছিলেন সুনীল। এছাড়া বাংলাদেশ এবং নেপালের বিরুদ্ধেও গোল করেন সুনীল ছেত্রী। বিশ্বকাপ বাছাই পর্বেও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে জোড়া গোল করেছিলেন সুনীল এবং জিতিয়েছিলেন ভারতকে।

২০২৩ সালে যখন তিনি মাঠে নামছেন, সেই থেকেই অবসর নিয়ে জল্পনা চরমে ওঠে। তখন সুনীলের বয়স ৩৮। এত বেশি বয়স পর্যন্ত সাধারণত কোনও ফুটবলারকেই খেলতে দেখা যায় না। আর কতদিন তিনি মাঠে থাকবেন, কতদিন পর্যন্ত তাঁকে ভারতের জার্সিতে দেখা যাবে, তাঁর গোলের সেঞ্চুরি হবে কিনা, তাঁর উত্তরসূরি কারা হতে পারেন, এসব প্রশ্ন উঠতে থাকে তখনই। কিন্তু বয়স যে শুধু সংখ্যা মাত্র, তা বারবার প্রমাণ করে দিয়েছেন সুনীল ছেত্রী। ইচ্ছেশক্তি এবং ফিটনেস দিয়ে নিজের দলকে বারবার জিতিয়েছেন সুনীল। ২০২৩ সালে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জীবন-মরণ ম্যাচে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করে ভারতকে কাঙ্খিত জয় এনে দিয়েছিলেন সুনীল। এই পাকিস্তানের বিরুদ্ধেই গোল করে আন্তর্জাতিক কেরিয়ার শুরু করেছিলেন তিনি। এছাড়াও নেপাল এবং কুয়েতের বিরুদ্ধে এই চ্যাম্পিয়নশিপে দুরন্ত কিছু গোল করেন সুনীল। কিরগিজস্তান এবং মালয়েশিয়ার বিরুদ্ধে বন্ধুত্বপূর্ণ ম্যাচেও গোল আসে সুনীলের পা থেকে। এছাড়াও ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দু'টি গোল করেছিলেন সুনীল। তবে সেবছর ওই টুর্নামেন্টে ভালো ফল করতে পারেনি ভারত।

কুয়েতের ম্যাচ ছিল এই সমস্ত সফরের শেষ। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে যখন সুনীল মাঠ ছাড়ার জন্য এগিয়ে আসেন, স্টেডিয়াম কাঁপছিল করতালিতে। চোখে জল, মুখে হাসি নিয়ে সতীর্থদের জড়িয়ে ধরেন সুনীল। সুনীল ভারতীয় ফুটবলের আশার প্রতীক, অনুপ্রেরণার মূর্তি। কত যুদ্ধ জিতেছেন, কত অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন! লাখ লাখ তরুণের স্বপ্নকে জল-হাওয়া দিয়েছেন অক্লান্ত পরিশ্রম করে। সুনীল মাঠ ছাড়ালেন, তবে স্থান শূন্য থাকবে না। নতুন প্রজন্মের তারকা ফুটবলাররা এগিয়ে আসছেন তাঁরই পদাঙ্ক অনুসরণ করে। সুনীল ছেত্রী তাঁদের স্বপ্ন দেখিয়েছেন, লড়াই শিখিয়েছেন, বিশ্বাস জাগিয়েছেন। সুনীলের জন্য অনন্ত মাঠ পড়ে আছে, অনন্ত পথ। তিনি হেঁটে যাচ্ছেন আলোর দিকে।

লিখেছেন
Sourish Das
Sourish Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

নারী টেস্টে এত অনীহা কেন, লর্ডসের ইতিহাসও বদলাবে না সেই ছবি?

Women’s Test Cricket: লর্ডসে ভারতের নারী ক্রিকেট দলের ঐতিহাসিক জয় নারী টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ বদলানোর সুযোগ এনে দিয়েছে? এত সাফল্য ও জনপ্রিয়তার পরও কেন এই ফরম্যাটে নিয়মিত ম্যাচ নেই?

শিব-পরশুরামের যুদ্ধবিদ্যা কালারিপায়াট্টু থেকেই জন্ম কুংফুর!

Kalaripayattu Indian Martial Art: ভারতীয় পৌরাণিক ঐতিহ্যে কালারিপায়াট্টুকে স্রেফ যুদ্ধের কৌশল হিসেবে দেখা হয়নি, বরং এটিকে মানব শরীরের অভ্যন্তরীণ প্রাণশক্তিকে জাগিয়ে তোলার এক মহান সাধনা বলে মনে করা হয়।

দু'হাজার বছর পুরনো ‘আত্য পাত্যা’: এই খেলাই শিখিয়েছিল যুদ্ধের কৌশল!

Atya Patya Traditional Indian Game: আনুমানিক ১০০ থেকে ৩০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে রচিত প্রাচীন তামিল সাঙ্গম সাহিত্য ‘নাটতৃণৈ’-তে এই খেলার প্রথম লিখিত প্রমাণ পাওয়া যায়। অতএব, এই খেলার বয়স প্রায় দুই হাজার বছরেরও বেশি। সেখানে বলা আছে, প্রাচীন চোল রাজবংশের সেনারা যুদ্ধক্ষেত্রে যাওয়ার আগে নিজেদের ক্ষিপ্রতা, দ্রুত দৌড়ানোর ক্ষমতা আর শরীরকে এক নিমেষে বাঁকানোর চপলতা বাড়াতে এই খেলায় মেতে উঠত।

১৬ বছর পর ফের ভারতের পথে ললিত মোদী

Lalit Modi return to India: দীর্ঘ সময় পর দিল্লির আপিল ট্রাইব্যুনাল তাঁর বিরুদ্ধে থাকা আর্থিক অনিয়মের বড় অভিযোগ ও জরিমানা বাতিল করে দেওয়ার পরেই এই আলোচনার সূত্রপাত। সোশ্যাল মিডিয়ায় ললিত মোদী নিজেই স্পষ্ট করেছেন, সমস্ত বড়সড় আইনি জটিলতা কাটার পর ২০২৬ সালের শেষ দিকে অথবা ২০২৭-এর শুরুতেই ফের তিনি ভারতে পা রাখতে চলেছেন।

গোলের আড়ালে ঘৃণার খেলা: ২০২৬ বিশ্বকাপে ট্রাম্প, ফিফা আর ফুটবলের পরাজয়

Trump FIFA World Cup: এই বিশ্বকাপ শুধুই একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়; মাঠের লড়াই ছাপিয়ে তা হয়ে উঠেছে ভূ-রাজনীতি, বর্ণবিদ্বেষ এবং বাণিজ্যিক আধিপত্যের এক জটিল ময়দান।

একটা রাজপুত্তুর যার মুকুট হারিয়ে গিয়েছে

Lionel Messi Retirement: তিনটে ফাইনালের বোঝা। একে একে ছেড়ে যায় সহযোদ্ধারা। রক্তাক্ত মাসচেরানো চলে যান, কুন আগুয়েরোর অসুখ... তবু লিও পড়ে থাকে, আমরা পড়ে থাকি আর কিছুদিন। বৃত্ত সম্পূর্ণ করতে প্রয়োজন ছিল একজন স্ক্যালোনির, তিনি সেটুকু সেতু নির্মাণের দায়িত্ব নিলেন। আমরা অপেক্ষা করলাম লুসাইলে। আমরা তো কবেই হেরে গিয়েছিলাম, সৌদি আরব শুধু চিনিয়ে দিয়েছিল আশপাশটা।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬: যেভাবে ১৫ বিলিয়ন ডলারের ব্যবসায় পরিণত হল ফুটবল

FIFA Revenue 2026: 'কুইন্টেট প্রাইভেট ব্যাংক'-এর সাম্প্রতিক একটি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, শেয়ারবাজারের দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের অনুঘটক হওয়ার চেয়ে বিশ্বকাপ আসলে একটি শক্তিশালী স্বল্পমেয়াদি বাণিজ্যিক উদ্দীপক হিসেবেই বেশি কাজ করে। ফিফা, সম্প্রচারকারী সংস্থা, স্পোর্টসওয়্যার ব্র্যান্ড এবং আতিথেয়তা (হসপিটালিটি) ক্ষেত্রগুলি বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় করলেও, কোম্পানির শেয়ারের দামে সেই ইতিবাচক প্রভাব দীর্ঘ সময় ধরে রাখা বেশ কঠিন।

যখন ইউরোপে নারীরা গৃহবন্দি, তখন অসমে মেয়েরা খেলছিলেন ধোপখেল

Dhop Khel Assam: আহোম রাজাদের রাজপ্রাসাদ থেকে বিহুর মেঠো মাঠ—অসমের মাটিতে একসময় গমগম করত ধোপখেলের আওয়াজ। ফুটবল, কাবাডি আর দূরন্ত নিশানার এই অদ্ভুত রোমাঞ্চকর খেলাটি শুধু পুরুষদের বীরত্ব প্রমাণের লড়াই ছিল না; যখন ইউরোপে নারীদের জীবন ছিল চার দেওয়ালে বন্দি, তখন অসমে মেয়েরাও মাঠে নেমে মেতে উঠতেন ধোপখেলে।