গান্ধীকে পছন্দ ক‍রি না, কেন বলেছিলেন আম্বেদকর?

Mahatma Gandhi: ক্ষুব্ধ আম্বেদকর বলেছিলেন, "আমি আবারও জোর দিয়ে বলছি, আমি গান্ধীকে অপছন্দ করি, কারণ এই দেশের প্রতি প্রেম আমার বেশি।"

উপনিবেশে চলতি একটা বিশ্বাস আছে ভারতীয়রা একটু বেশি ভালো। অবশ্য অসভ্য বন্য আফ্রিকাবাসীর থেকে ভারতীয়রা সত্যিই এগিয়ে...

একথা বলছেন কে? না মহাত্মা গান্ধী! ১৮৯৩-এ দক্ষিণ আফ্রিকারই ন্যাটাল পার্লামেন্টে। ১৯০৪-এ তিনি প্রশাসনের কাছে আবেদন করছেন, "'কালো'-দের বসতি ভারতীয়দের থেকে একটু দূরে সরিয়ে দিন।" ১৯০৬ থেকে ১৯০৮ অবধি ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে সত্যাগ্রহ। বছরপাঁচেক পরে, ১৯১৩-তে একটা অদ্ভুত মিছিল হচ্ছে। 'শুধুমাত্র ভারতীয়দের' প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ মুছে ফেলাই তার লক্ষ্য। কৃষ্ণাঙ্গদের প্রতি এই ছিল যাঁর দৃষ্টিভঙ্গি, তাঁর দলিত চিন্তা যে প্রভূত সমালোচিত হবে দীর্ঘকাল, বলাই বাহুল্য। গান্ধী নিজে বৈশ্য। কাজেই আম্বেদকরের অভিজ্ঞতা তাঁর ছিল না। জাতপাতের সমস্যা নিয়ে তাঁর নিজস্ব কিছু বক্তব্য ছিল। শুভানুধ্যায়ী সন্দেহ নেই, কিন্তু আদতে তা কেমন? কী ছিল তার প্রভাব? চিন্তার ফলাফল কোনদিকে গড়াল? চিন্তা ফল না আনলে তা যত শুভই চেয়ে থাকুক, তার কোনও গুরুত্ব নেই। তবে আজকে এই আলোচনার আগে, একটি বিষয় আমাদের পরিষ্কার বুঝে নেওয়া উচিত, এই আলোচনা সামগ্রিক গান্ধীর বিচার নয়। একটি বিশেষ দৃষ্টিকোণ, একটি বিশেষ বিষয় নিয়ে তাঁর মতামতের আলোচনামাত্র।

১৯২১-এ একটি দলিত সম্মেলনে গান্ধী বলেছিলেন, অস্পৃশ্যতা খুবই বাজে একটা ব্যাপার। "যুধিষ্ঠির তো তাঁর কুকুর ছাড়া স্বর্গে ঢুকতেই চাননি। সেই যুধিষ্ঠিরের উত্তরসূরীরা অচ্ছুতদের বাদ দিয়ে স্বরাজ আনার কথা ভাবেন কেমন করে?" অচ্ছুত দলিতদের পক্ষে এই ভাষণ শোনা রীতিমতো শক্ত ছিল বোঝা যায়, যখন দেখি বাদবাকি বাক্যর আবর্জনা ছেঁটে ফেললে, দলিতদের সঙ্গে কুকুরের তুলনা দেওয়া হচ্ছে। এখন কেউ বলতেই পারেন, কুকুরটি তো ধর্ম। তবে দলিতদের গান্ধীজি ভারতের ধর্ম বলে মহিমান্বিত করলেন! তাতেও একইরকম দোষ হয়, যতটা দলিতদের 'হরিজন' বলে মহিমান্বিত করাতে। দলিতকে দলিত বলে স্বীকার না করলে, তাঁদের অবস্থান চিহ্নিত করা যায় না। তাঁদের সমস্যা চিহ্নিত করা যায় না। সেই কারণেই দেবীভজা একটা সমাজ সফলভাবে পিতৃতান্ত্রিক হতে পারে। ফলে গান্ধীর দলিতদের প্রতি আনুকূল্য সহানুভূতি হয়েই রয়ে গিয়েছিল, সমানুভূতি হতে পারেনি। বরং এতে সাবর্ণ শোষকদেরই লাভ হয়েছে বেশি।

গান্ধী জাতপাত ব্যবস্থাটাকেই উপড়ে ফেলার কথা যদিও ভাবেননি কখনও, তবে জাতপাতের বৈষম্য তাঁর পছন্দ ছিল না। আবার বর্ণাশ্রমের সমর্থক ছিলেন দীর্ঘদিন। মনে করতেন, এর সঙ্গে জাতিগত শোষণের কোনও সম্পর্ক নেই। তাঁর মহাবিপুল লেখালেখিতে এই নিয়ে এক এক জায়গায় এক একরকম মত পাওয়া যায়। কাজেই একটা নির্দিষ্ট ধারণায় পৌঁছনো খুব মুশকিল। এক সময় বলেছেন, বর্ণাশ্রম অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। প্রত্যেকের কাজের হিসেবেই তার পরিচিতি হওয়া উচিত। কিন্তু একটি বর্ণ অপরের থেকে উচ্চে অবস্থান করে, এমন ভাবাটা অত্যন্ত ভুল। এর কোনও শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা নেই। আর পঞ্চম বর্ণ হিসেবে অস্পৃশ্যদের আলাদা করে রাখার বিরোধী ছিলেন। তাদের শুদ্র বর্ণর অন্তর্ভুক্ত হিসেবেই ভাবতে ভালবাসতেন। মুশকিল হলো, এই চিন্তা যে আর্যায়নেরই একটা নতুন রূপ, তা তিনি মানতে নারাজ। অথচ ইতিহাস বলছে, শোষণের প্রাথমিক ধাপ শুরুই এই অন্তর্ভুক্তির মধ্যে দিয়ে। যাঁরা ছিল স্বাধীন আত্মনির্ভর জাতি, তাদের ওপর নিজেদের মলমূত্রর ভার চাপিয়ে দেওয়াই এই অন্তর্ভুক্তিকরণের উদ্দেশ্য ছিল।

আরও পড়ুন: তাঁকে ছাড়া অচল ছিলেন মহাত্মা গান্ধী, দেশ ভুলেছে মহাদেব দেশাইকে

প্রাক-ঔপনিবেশিক যুগে জাতব্যবস্থা জল-অচল ছিল না। বিভিন্ন পদ্ধতিতে ওপরে ওঠার বিভিন্ন সুযোগ ছিল। অবশ্যই সবার ওপরে ব্রাহ্মণ এবং সবার নিচে দলিত-অস্পৃশ্যরা। এই ব্যবস্থার নড়চড় ছিল না। কিন্তু মাঝের জাতগুলির মধ্যে অনবরত স্থান পরিবর্তন হতো। কেউ ব্রাহ্মণদের আচার-আচরণ নকল করে নিজেদের 'উঁচু জাত' প্রমাণ করতে চাইত, কেউ টাকা দিয়ে ব্রাহ্মণদের অনুমোদন কিনত। কিন্তু মুশকিল হলো, ঔপনিবেশিক আদমশুমারি এসে। আদমশুমারি প্রত্যেককে নিজের জায়গায় বেঁধে দিল। এই নিয়ে বহু ধরনের অসন্তোষ তৈরি হলো। ওঠানামার ব্যবস্থা থেকে বঞ্চিত হওয়ায় মাঝের জাতগুলি কেউ অত্যন্ত খুশি, আবার কেউ অত্যন্ত বিষণ্ণ। কিন্তু এই গোটা ব্যবস্থার মধ্যে দলিতদের কোনও ভূমিকা ছিল না। ঔপনিবেশিক শোষণের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা কৃষক আন্দোলনে বিভিন্ন জায়গায় তাদের দেখা গেল। আদিবাসীদেরও বিদ্রোহ দেখা গেল। ভারতের জাতীয়তাবাদ তারপর ছিনিয়ে নিল সাবর্ণেরা। বিংশ শতকে গান্ধীকে 'মহাত্মা' তৈরির নেপথ্যে ছিল ফের অন্তর্ভুক্তিকরণের নীতি। আন্দোলনে লোকটোক দরকার। রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর জন্যও লোক দরকার। মূলত মোবিলাইজেশন, অর্থাৎ ভিড় উৎপাদন, ভিড়ের শক্তিকে সাবর্ণ নেতাদের দ্বারা নিয়ন্ত্রণ ছিল এই 'মহাত্মা'-পূজা প্রবর্তনের মূল কারণ। জনগণের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকলে, দলিতদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকলে ঘাড় কংগ্রেসের নেতিয়েই থাকবে, তা বুঝতে পারছিল জাতীয়তাবাদীরা। কাজেই অহিংসা, গান্ধী ও গান্ধীজী, তথা মহাত্মার বোধন। গোটা দেশের বিক্ষিপ্ত আন্দোলন ও ক্রোধকে একটি নিয়ন্ত্রকের আওতায় এনে ব্যবহার করছিল কংগ্রেস। কিন্তু তাদের দুর্ভাগ্য, ঠিক এই প্রেক্ষাপটই একজন বাবাসাহেব আম্বেদকর গড়ে দিল। স্যুটবুক পরা তরুণ উকিল রাজনীতিতে যখন নামলেন, তখনই প্রমাদ গুনেছিল সাবর্ণ যৌথশক্তি। গান্ধীর মতে তাদের বিন্দুমাত্র অসুবিধা ছিল না। কিন্তু আম্বেদকর নিজে দলিত, কাজেই তাঁকে দিয়ে আর যাই হোক, দলিতশক্তি সাবর্ণদের দ্বারা পরিচালনার কাজটা খুব একটা সহজ হবে না— তারা বুঝতে পেরেছিল। অবশ্যম্ভাবীভাবে যার ফলাফল দেখা গেল আম্বেদকর-গান্ধী বিতর্কে।

১৯২৭-এ প্রথম মাহার সম্মেলন করে ফেলেছেন আম্বেদকর। অস্পৃশ্য এবং অব্রাহ্মণদের নিয়ে সংঘটিত এই সম্মেলন কংগ্রেসকে অস্বস্তিতে ফেলল। মূলত দলিতমুক্তির চিন্তাভাবনা আলোচিত হলো এই সম্মেলনে। ভারতের প্রেক্ষাপটে দলিতমুক্তি নিয়ে কাজ করতে গিয়ে আম্বেদকর অনুভব করলেন, দলিত নেতা ছাড়া দলিতদের মুক্তির পথে কেউ নেতৃত্ব দিতে পারবেন না। সাবর্ণ অবস্থানই সাবর্ণ শুভানুধ্যায়ীর সমানুভূতি গড়ে ওঠার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে। দলিতদের মন্দিরে ঢুকতে দেওয়া হবে না কেন— এই নিয়ে সত্যাগ্রহও শুরু করলেন তিনি।

অবশেষে ১৪ অগাস্ট, ১৯৩১। দুপুর দুটো। মুম্বাইয়ের মালাবার হিলের মণিভবনের চার তলায় গান্ধীর মুখোমুখি আম্বেদকর। গান্ধীই ডেকে পাঠিয়েছিলেন। গোলটেবিল বৈঠকের আগে আগে একটা শেষ চেষ্টা করতে মরিয়া কংগ্রেস। বলা বাহুল্য, সাধের 'হরিজন'দের মন্দিরে ঢোকার অধিকার দেওয়ায় গান্ধী এবং কংগ্রেস কারওরই মত ছিল না। সত্যাগ্রহ সমর্থনও করেননি তিনি। কিন্তু ব্রিটিশের সঙ্গে গোলটেবিল বৈঠক। দলিতদের প্রতিনিধি আম্বেদকর। তিনি দলিতদের আলাদা নির্বাচনের অধিকার চাইবেন। কাজেই গান্ধীর এই ডাক।

তখনও অবধি আম্বেদকর যে নিজে দলিত, সেকথা গান্ধী জানতেন না। ভেবেছিলেন, দলিতদের কোনও সাবর্ণ প্রতিনিধি হয়তো। গান্ধী জানিয়েছিলেন, আম্বেদকরের জন্মর আগে থেকেই অস্পৃশ্যতা নিয়ে ভাবছেন তিনি। স্কুলে পড়ার সময় প্রথম এই চিন্তা মাথায় আসে তাঁর। আর অস্পৃশ্যতার বিরুদ্ধে তিনিই কি কম প্রচার করেছেন? কংগ্রেসের কাজকর্ম অস্পৃশ্যতা শেষই করে ফেলেছে একরকম। এই নীতি কার্যকর করতে কত খরচা করেছে কংগ্রেস! বিশ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এই সমস্যা আদতে ধর্মীয় ও সামাজিক, এর সঙ্গে রাজনীতিকে মেশানোর দরকারটা কী? গান্ধী নিজে অবশ্য একজন অস্পৃশ্য মেয়েকে দত্তক নিয়েছিলেন। কিন্তু এইভাবে আলোচনা শুরু করায় আম্বেদকর ফেটে পড়লেন বিরক্তিতে। বললেন, কংগ্রেসের এই গোটা ব্যাপারটাই দেখনদারি। দরদ আন্তরিক হলে কংগ্রেস সভ্য হওয়ার প্রাথমিক শর্ত হতো, দলিতদের সঙ্গে বসে খাওয়া এবং প্রতি সাবর্ণ পরিবারে একজন দলিত অস্পৃশ্যকে রেখে মানুষ করা। কংগ্রেস এবং ইংরেজ, দলিতদের নিয়ে দুয়ের চিন্তাভাবনাতেই খুব একটা পার্থক্য নেই। এত দয়ার প্রয়োজন নেই, দলিতদের আত্মসম্মানবোধ আছে। তারা কারও দয়ার আশায় বসে নেই। প্রচুর ধুলোই তো 'মহাত্মা'-রা ওড়ালেন। লাভ কী হলো? তাঁর স্বদেশ বলে কিছু আছে কি? এই কথায় গান্ধী চুপ করে গেলেন। অবাক। বললেন, "এই দেশ তোমার, তুমি না খাঁটি স্বদেশপ্রেমী?" আম্বেদকর উত্তর দিয়েছিলেন, "যে দেশ, যে ধর্ম আমাদের কুকুর-বেড়ালের সঙ্গে তুলনা করে, তাকে আমার বলি কী করে?" গান্ধী গম্ভীর। জানিয়ে দিলেন হিন্দুসমাজের বাইরে আলাদা করে দলিতদের স্বীকৃতি তিনি সমর্থন করবেন না, কিছুতেই।

এমনকী, এই গোঁ এত দূর গড়াল, যে কমিউনাল অ্যাওয়ার্ডে দলিতদের আলাদা নির্বাচনের অধিকার যখন দিল ইংরেজ সরকার, পুনা জেলের মধ্যে গান্ধীজি আমরণ অনশনে বসলেন। তাঁর বক্তব্য, কংগ্রেসকে ভাঙতে চাইছেন আম্বেদকর। আরও তিতিবিরক্ত হয়ে উঠলেন আম্বেদকর। তাঁর বক্তব্য, গান্ধী তো জাতিব্যবস্থা পুরোপুরি শেষ করে দেওয়ার জন্যও অনশনে বসতে পারতেন। বসেছেন কি! এমনকী, মন্দিরে প্রবেশাধিকারের আন্দোলনেও তাঁকে দেখা যায়নি। অথচ দলিতদের একটা অধিকার কেড়ে নেওয়ার জন্য অনশনে বসতে তাঁকে দু'-বার ভাবতে হয়নি! কংগ্রেসের সাবর্ণ নেতাদের বারংবার কাকুতিমিনতি করতে লাগলেন আম্বেদকরের কাছে। বললেন, কংগ্রেসের মধ্যেই নানা সিটে দলিতদের জায়গা দেওয়া হবে। কিন্তু আলাদা নির্বাচনের ব্যবস্থা ছাড়তে হবে। দলিতরা একত্রিত হলে তাঁদের গদি উল্টে যেতে পারে, এই ভয় তাঁদের ছিল। গান্ধীর শরীর যত দুর্বল হলো, পাল্লা দিয়ে তাদের ভয় বাড়ল। সেই চাপের মুখে একরকম বাধ্য হয়েই আম্বেদকরকে জঘন্য 'পুনা চুক্তি' করতে হলো। এই নিয়ে আজও সমালোচিত হন আম্বেদকর। তিনি নিজেও আজীবন এই নিয়ে আক্ষেপ করেছেন। গান্ধী দলিতদের বাধ্য করলেন হিন্দুদের দয়ায় বেঁচে থাকতে— এর থেকে ঘৃণ্য আর কী হতে পারে। ১৯৩৪-এ গান্ধী বারংবার বলছেন, অস্পৃশ্যতার সময় প্রায় শেষ। তাঁর এই চিন্তা যে কতখানি শিশুসুলভ এবং ভুল— তা আমরা আজও দেখছি।

এই বিষয়টি গান্ধী নিজেও লক্ষ করেছেন। মধ্যপ্রদেশের অনন্তপুরে দলিতদের অবস্থা বর্ণনা করেছেন নিজেই। 'পুনা চুক্তি'-র পর বারদুয়েক অনশনও করেছেন, কিন্তু তা খুবই কম সময়ের জন্য। দলিতদের অবস্থারও তাতে কোনও উন্নতি তো হয়নি-ই, বরং যা ক্ষতি হওয়ার ওই একটি চুক্তিতেই হয়ে গিয়েছিল। ১৯৪৬-এ শুধুমাত্র দলিত এবং সাবর্ণের বিবাহে যেতে শুরু করলেন, নিজেকে 'হরিজন' ঘোষণা করলেন। এবং দলিত মহিলা প্রধানমন্ত্রী দাবি করলেন। কিন্তু তখন 'মহাত্মা'-কে তেমন কেউ পোঁছে না কংগ্রেসের ভেতরেই। মোটামুটি গদি সবার ঠিকঠাক হয়ে গিয়েছে। একটা নির্দিষ্ট পদ্ধতির বাইরে হঠাৎ করে এইসব আওয়াজ তুলে যে কিছুই করা যায় না, তাইই আবার প্রমাণিত হলো মাত্র।

প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ আম্বেদকর তাই বলেছিলেন, "আমি আবারও জোর দিয়ে বলছি, আমি গান্ধীকে অপছন্দ করি, কারণ এই দেশের প্রতি প্রেম আমার বেশি…গান্ধীর পুজো এবং দেশসেবা দু'টি সম্পূর্ণ আলাদা এবং বহুক্ষেত্র পরস্পরবিরোধীও বটে।" আরেক জায়গায় বলছেন, "সমস্ত ধরনের মহাত্মাদের আমি ঘেন্না করি। এদের পাট চুকিয়ে দেওয়াই উচিত। তাঁদের জন্ম সেই জাতির জন্য অভিশাপ। বুদ্ধিবৃত্তি এবং যুক্তির জায়গায় অন্ধবিশ্বাস তৈরি ছাড়া তাঁদের কাজ নেই আর কিছু।" কংগ্রেসের গান্ধীকে মহাত্মা করে তোলার কারণগুলি পরিষ্কার ধরতে পেরেছিলেন আম্বেদকর। গান্ধীর দলিত চিন্তা থেকে সমস্ত দলিতদের সমব্যথী সাবর্ণদের শিক্ষা নেওয়া উচিত, যে নিজ অবস্থানে বসে থেকে 'দলিতদের ভালো চাই' -এর দোহাই দিয়ে নিজের ইচ্ছে তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যায় না। সেটাও ব্রাহ্মণ্যবাদ। এবং তাতে দলিতদের ক্ষতিই বেশি। নিজেদের অধিকার নিয়ে বরং দলিতরা নিজে সরব হোক। নিজেদের অধিকার বুঝে নিক, ছিনিয়ে নিক, তবেই দলিত মুক্তি আসতে পারে‌। কেবলমাত্র প্রেম মুক্তির জন্য যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন পথের হদিসও, প্রয়োজন সমানুভূতির। গান্ধীর দলিতপ্রেম যতই সৎ হোক, তা দলিতদের বহু সম্ভাবনাকে গলা টিপে মেরেছে। আজকের দিনে দাঁড়িয়ে তা অস্বীকারের উপায় নেই।

More Articles