লক্ষ্মীর পাঁচালি আসলে মেয়েদের জীবনযাপনের ক্ষমাহীন নির্দেশাবলী

Modern Lakkhir Panchali : পাঁচালিটিতে যত কিছু অনাচার বা অসুবিধা, সব কিছুর দায় মেয়েদের উপরেই।

Yashodhara Roychowdhury
৬ মিনিট
লক্ষ্মীর পাঁচালি আসলে মেয়েদের জীবনযাপনের ক্ষমাহীন নির্দেশাবলী

আমি ভালো মেয়ে হতে চাই না মা

আমি দুষ্টু হতে চাই

আমি খুব সাঙ্ঘাতিক কিছু করে ফেলতে চাই মা

চাই আমার শিকড়শুদ্ধু উপড়ে নিয়ে যাক ও

এই সব আপোষগন্ধী পথ, এইসব লজ্জারাঙানো চুপ

সব ছিঁড়ে ছিঁড়ে নিয়ে একটা গল্প, নাটক, জমাটি কাব্যকথা

হতেই থাকবে, এমন কারুর সঙ্গে

আমি চলে যাব মা।

লক্ষ্মী মেয়েটি তার মাধ্যমিক পরীক্ষার অঙ্ক প্র্যাকটিস

খাতার পেছনে লিখেছিল।

আজ খুব মনে পড়ছে সেদিনের কথা।

ক্লান্তিহীন যখন সে রঙিন জীবন দেখে চলে।

অথবা, বেরঙিন স্বামীর সঙ্গে এককালে পালিয়ে আসার

গন্ধমোছা গেঞ্জি কেচে কেচে

ইতিহাস লেখে তার ক্লান্তি খাতা খুলে।

যেভাবেই দেখো, মেয়েটি চেয়েছিল।

মেয়েটি পেয়েছে।

অকরুণ, তাই, তুমি ওর

উড়ে যাওয়া তুলো, ফেঁশো, ছেঁড়া চুল সব স্পষ্ট বোঝ!

ধী ও শ্রী – এই দুইখানি গুণের ভেতর পৃথিবীর সমস্ত আকাঙ্খা আছে, ঠিক। সুন্দর, নান্দনিক, সুষম, শৃঙ্খলাবদ্ধ, প্রতিসাম্যে স্থিত। শিল্প ও জীবনের আদর্শ, এইই। কিন্তু লক্ষ্মী মেয়ের ভেতরে ধী ও শ্রী দেখতে চাওয়ার দাবি যেভাবে গভীর গভীরতর শিকড় চারিয়ে দিয়ে সমস্ত সমাজকে জেন্ডার নিউট্রাল না করে একপেশে করে দিয়েছে, তা মেয়েদের ওপরে কত বড় দাবি, কত বড় পেষণ, এ কথা বোঝা খুব দরকারি। দীপাবলীর দিন অলক্ষ্মী বিদায়ের মন্ত্র বলতে শেখানো হয়।

"ওঁ অলক্ষ্মীং কৃষ্ণবর্ণাং কৃষ্ণবস্ত্রপরিধানাং মুক্তকেশীং ... বিকৃতদ্রংষ্ট্রাং কলহপ্রিয়াম্"

অলক্ষ্মী? লক্ষ্মীরই সহোদরা সে। যা কিছু লক্ষ্মী নয় তাকে চিহ্নিতকরণের অত্যন্ত জটিল এক খেলা চলে মেয়েদের জীবনে, আজন্ম। এভাবে মেয়েদের জোরে কথা বলতে, জোরে হাসতে, নিজের দাবি আদায় করতে বারণ করে দেওয়া হয়। ডিসিপ্লিন অ্যান্ড পানিশের খেলা চলে। মেয়েরা এই প্যাটার্নে এক সময় নিজের অজান্তেই অংশগ্রহণ করে ফেলে এবং সারা জীবনের জন্য এই লক্ষ্মী মেয়ে হবার চক্করে পড়ে যায়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ম্রিয়মান পটুয়া গান! লোকসংস্কৃতির অন্তর্জলিযাত্রায় লক্ষ্মীর পট, পাঁচালির গান

Lakshmi Puja Pattachitra: ত্রয়োদশ শতকে পটশিল্প বিস্তার লাভ করেছিল। আরও পরে পনেরো শতকে গাজীর পট জনপ্রিয় হয়েছিল। ষোড়শ শতকে চৈতন্যদেবের বাণী প্রচারের জন্য পটের ব্যবহার হত।

এই ধরনের জীবনপ্রণালী ও কর্মসূচি বেঁধে দেওয়ার যন্ত্র-তন্ত্র-মন্ত্র অনেক। যেমন, এক এজেন্ট হলো লক্ষ্মীপুজোর দিনে পাঠ্য লক্ষ্মীর পাঁচালি বইটি। কৃষিভিত্তিক গ্রামীণ কৌম জীবন থেকে উঠে আসা ব্রতকথার ঢঙে, সামাজিকভাবে সম্মানিত এক প্রথা এই পাঁচালি পাঠ। শহুরে জীবনেও তা স্থান করে নিয়েছে। মেয়েদের জীবনযাপনের আদর্শ বেঁধে দেওয়ার এ এক পদ্ধতি।

সচরাচর দশকর্মা ভাণ্ডারে নানা পূজা সামগ্রীর সঙ্গে সঙ্গেই আসে পাঁচালিটি। একটি পাতলা ফিরফিরে কাগজে, সাদা বা ঘিয়ে রঙের উপর লাল অক্ষরে ছাপা পাঁচালি, সচরাচর সেইসব প্রেসে বা প্রকাশকের ঘরে ছাপা হয় যাকে কথ্যবাংলায় বটতলা বলি। না আছে সম্মান, না আছে অর্থবল। এইসব বইয়ের সামান্য দাম হয়, তেমনই এর লেখকরাও নাম না জানা, অজ্ঞানের অন্ধকারে ডুবে থাকা কোন কোন পাঁচালি কবি! লেখক বলতে, পাঁচালির কোনও আদি বা মূল লেখক আমরা পাই না। কিন্তু এও আশ্চর্যের যে, একটিই পাঁচালির অন্য অনেকগুলি ভার্সন বা ভাষ্য পাওয়া যায়। মূল কাঠামো এক থাকে, তা বাদে ছোট ছোট ডিটেলে নানা তফাত থাকে।

অন্তত একশো বছর ধরে বদলে গেছে বাঙালি মেয়ের মুখের ভাষা, বদলে গেছে ব্রত পালন আর পুজো করার রীত। পাল্টায়নি শুধু লক্ষ্মীর পাঁচালির মূল সুর। যে সুর এখনও ডিসিপ্লিন অ্যান্ড পানিশ। কী কী করলে লক্ষ্মী কুপিতা হন আর কী কী করতে থাকলে লক্ষ্মীকে ঘরে ধরে রাখা যাবে সেই তালিকায় কোনও পরিবর্তন চোখেই পড়ে না। মোটের উপর, বলাই যায় লক্ষ্মীর পাঁচালি এত বছর ধরে ইভলভ করেনি, তার কোনও উন্নয়ন হয়নি। এবং প্রায় পুরো ক্ষেত্রেই পাঁচালিটিতে যত কিছু অনাচার বা অসুবিধা, সব কিছুর দায় মেয়েদের উপরেই। মেয়েরাই সংসারকে ধরে রাখবেন আর তাই সংসার রসাতলে যেতে বসলে মেয়েরাই ভুলচুকের শাস্তি মাথা পেতে নেবেন। নারীকেন্দ্রিক এই বয়ান সোজা কথায় রীতিমতো নারী স্বাধীনতা ও লিবারাল মূল্যবোধ বিরোধী। আর তাই আপত্তি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মায়ের জাত থেকে মাদারজাত! মাতৃত্ব দিয়ে মেয়েদের আসলে ঘুষই দেওয়া হয়

International woman's Day 2023: প্রতি নারীদিবসে ‘আমি নারী আমি পারি’ গোছের শব্দ তির এসে সোশ্যাল মিডিয়া ছ্যাঁদা করে দেবে। ‘আমি পারি’ তাঁদেরই ফলাও করে বলতে হয় যাঁদের ‘পারা’টা স্বীকৃতই নয়।

কোনও এক কাল্পনিক অবন্তীনগরের এক ব্যবসায়ীর বৃহৎ সংসারে গোলমাল লাগা ও তার সমাধান হবে প্রতি পাঁচালিতেই, তবে উনিশ-বিশ বাদ দিলে, শুরুর দিকটা প্রায় সব পাঁচালিতেই একইরকম। লক্ষ্মীর পাঁচালি পড়বেন মূলত মহিলারাই, এটা একটা ঘরোয়া পুজো এবং সবাই তামা তুলসি হাতে নিয়ে পাঁচালি শুনবেন এমত কৌম প্রথায় আবদ্ধ আমাদের পাঁচালি পাঠের নিয়তিটুকু। এই ‘সকলের’ প্রায় প্রত্যেকেই নারী, ঘরের লক্ষ্মী বলতে যা বোঝায়… তাই মনে হয় যেন প্রব্লেমেটিকের প্রতি লক্ষ্মী যেই মুহূর্তে নজর করেন এবং অন্নহীনতার কারণ দর্শাতে শুরু করেন, সেটা হয়ে যায় প্রায় নারীদের একটি ‘কোড অব কনডাক্ট’ বা ‘টু ডু লিস্ট’। কী কী বিধি ও নিষেধ তার তালিকা। যেন মেয়েদের আচার আচরণের উপরেই নির্ভরশীল দেশের অর্থনীতি, অন্ন শস্যের বাড়বৃদ্ধি।

নারীর পরমগতি স্বামী ভিন্ন কেবা।

ভুলেও না করে নারী স্বামী পদসেবা।।

যথায় স্বেচ্ছায় ঘুরিয়া বেরায়।

গুরুজনে অকারণে মন্দ বাক্য কয়।।

যে নারী সকালে না দেয় ছড়া।

করি তার সংসার আমি লক্ষ্মীছাড়া।।

গুরুদেবের প্রতি ভক্তি নাহি করে।

আমি যে থাকি না তাহার ঘরে।।

এঁয়োতি নারী সিঁদুর না দেয় কপালে।

মলিন বস্ত্রে যথা ইচ্ছা তথা ঘোরে।।

নিত্য যে না করে অবগাহন।

তারে ছাড়ি করি অন্যত্র গমন।।

তিথি ভেদে নিষিদ্ধ বস্তু যে বা খায়।

হই না কভু তার ওপর সহায়।।

যে মনুষ্য ভক্তি ভরে একাদশী না করে।

নাহি হই প্রসন্ন তাহার ওপরে।।

উচ্চ হাসি হাসিয়া যে নারী ঘোরে।

ঘোমটা না টানে মস্তক উপরে।।

গুরুজন দেখি যারা প্রণাম নাহি করে।

সন্ধ্যাকালে ধূপ দীপ নাহি জালে ঘরে।।

এমন নারী যে গৃহেতে করে অবস্থান।

কভু নাহি পায় তারা লক্ষ্মীর বরদান।।

ইতিহাসের অবদানই বলুন আর সময়ের দান, আজকের মেয়েরা অনেকটাই আসলে পালটে গেছেন। তাই এই লক্ষ্মীর পাঁচালিকে প্রায় আউটডেটেড মনে হচ্ছে ইদানীং। আজকের মেয়েদের জীবন আর আগের মতো নেই। তথাকথিত লক্ষ্মী মেয়েরা আজ সরস্বতীর বরপুত্রীই শুধু না, তারা কর্মে দশভুজা হওয়ার চ্যালেঞ্জ নিয়ে সফল হয়েও তাকে সচেতনে পাশে সরিয়ে রেখে বলতে শিখেছেন, ‘আই অ্যাম নট পারফেক্ট’। আমার সর্বংসহা হওয়ার দায় নেই, সর্বগুণান্বিতা হওয়ার দায় নেই। আমি তোমাদেরই মতো দোষে গুণে মানুষ। আমাকে পুরে দিও না স্টিরিওটাইপের খাঁচায়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বিধবার কামনায় ব্রাত্য ধন দৌলত, ঐশ্বর্য! লক্ষ্মীপুজোয় আজও একঘরে 'স্বামীহীনা'রা

ধন-দৌলত, ঐশ্বর্যের দেবীভক্তিতে বিধবার প্রবেশ নিষেধ! সমকালে কিছু ব্যতিক্রম থাকলেও তা নেহাতই এক্ষেত্রে যেন সংখ্যালঘুর মতো!

এই উদ্দেশ্য নিয়েই আমরা কিছু মেয়েরা লিখতে শুরু করেছিলাম নতুন একটি লক্ষ্মীর পাঁচালি। যদিও বিশাল সমুদ্রে এক ফোঁটা জল ঢালার মতোন এই প্রচেষ্টা। সেই পাঁচালিতে লেখা হয়েছিল আধুনিক কিছু ভাবনার কথা। মেয়েদের রোজকার জীবনের সঙ্গে যা যুক্ত। যা শাসন শৃঙ্খলার কথা নয় কিন্তু পরিবেশ, পরিজন, স্বাস্থ্য সম্পর্কিত জরুরি কথা। কেউ লিখেছিলেন নিরাপদ সন্তান জন্মদানের কথা, কেউ লিখেছিলেন জল বাঁচানোর কথা। কেউ লিখেছিলাম বিখ্যাত মেয়েদের কথা, যাঁরা আমাদের স্মরণীয়া লক্ষ্মী। ম্যানুয়ালের মতো হোক নতুন পাঁচালি। কোনও ডাক্তার যদি স্বাস্থ্য নিয়ে পাঁচালি লেখেন, মেনস্ট্রুয়াল হেলথ, প্রজনন, বোন হেলথ এগুলোর ভুল ধরান, তাহলে মিথ ভাঙানো যায়। গার্হস্থ্য হিংসা বা ডোমেস্টিক অ্যাবিউজের ক্ষেত্রে কিছু আইনের কথাও এই ছলে বলাই যায়। সত্যিই কাজের কাজ হয় তবে। গ্রামে গঞ্জেও তা প্রসারিত করা যাবে। পাঁচালির মাধ্যমেই লোকশিক্ষেও তো হয়।

যেহেতু এ পাঁচালি কোনও একজনের লেখা না, তাই এর ভাষ্য বদল করাও সম্ভব বলেই মনে হয়।

“লক্ষ্মী বলেন যদি পার মেয়েগণ

পৃথিবীর তাপজ্বালা করিও মোচন।

কল খুলে রেখে দিয়ে বহায়ো না পানি

শুদ্ধ পরিষ্কৃত জল মহামূল্য জানি।

ফেলিও না বীজ কোনও প্লাস্টিকে অবুঝ

মাটিতে স্থাপন কর, বাড়াও সবুজ।”

এটুকু নমুনা রাখা গেল না হয়। লক্ষ্মী ও অলক্ষ্মী নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তোলা হোক। অলক্ষ্মী বলে মেয়েদের দাগিয়ে দেওয়া বন্ধ হোক। দিক দিক থেকে, গ্রাম মফসসল থেকে, সাইকেল চালানো মেয়ে, স্কুটি চালানো মেয়ে, ট্রেনে-মেট্রোতে-বাসে চাপা মেয়ে, সেবা কাজ ও ঘরে ঘরে হোম ডেলিভারি দেওয়া মেয়ে... এরা সবাই এখন রাজপথের দিকেই আসছেন... ছোট বাড়ি থেকে, বস্তির ঘর থেকে, বহুতল থেকে… এরা লক্ষ্মী বা অলক্ষ্মী নন। এঁরা মানবী, লড়াই করে বেঁচে থাকা মেয়ে। মেয়েদের জীবনে একটা আলাদা জোয়ার এসেছে, তার কিছুটা তো অবশ্যই কনজিউমার মার্কেটের দান, কিছুটা হয়তো অর্থনীতির চাকায় পিষে গিয়ে নিরুপায়, আরও একটু অর্থোপার্জনের তাগিদ।

দেখেছি, ভোর পাঁচটায় উঠে শ্বশুরবাড়ির সবার জন্য রান্না করে, নিজের রুটি তরকারি স্টিলের টিফিন বাক্সে ভরে, তারপর ট্রেনে চেপে হাসপাতালে নার্স বা মেট্রনের চাকরি করতে আসা মহিলাকে। দেখেছি, দুপুরে ভাতঘুম না দিয়ে শাড়ির বা গয়নার ব্যবসা করা গৃহবধূকে। দেখেছি, স্বনির্ভর গোষ্ঠীতে কাজ করা মেয়েদের, চাষের বা পারিবারিক পেশায় অকাতরে শ্রম করা মেয়েদের। দেখেছি, অজস্র কান্নার পর মুঠো মুঠো চুল অত্যাচারী স্বামীর হাতে দান করে দেওয়ার পর ঘুরে দাঁড়ানো মেয়েকে। ঘর ছেড়ে আসা, লড়াই করা মেয়েদের। মেয়েমানুষ কত কী না করছে। সংসার ছেড়ে দিয়ে বিয়ের কারণে শেষ না হওয়া পড়া আবার পড়ে ডিগ্রি নিচ্ছে, চাকরি পাওয়ার দোষে স্বামী হাত কেটে নেওয়ার পর চাকরিতে যোগ দিয়ে সফলভাবে কাজ করছে। সুখে সংসার করছে মেয়েরা, দুঃখে ভেঙে পড়ছে না মেয়েরা, ক্লান্তিতে নুয়ে পড়তে পড়তেও দাঁড়িয়ে থাকছে।

দিনশেষের ক্লান্তি ভুলতে সে তুলে নিচ্ছে যোগাসনের মুদ্রা নিজ শরীরে। অথবা জিমে যাচ্ছে নিজের দেখভাল করবে বলে। ধনীঘরের বউয়েরাও সমস্ত আপোস ভুলে সমাজসেবায় আসছে। ক্যানসার রোগীর সেবা করছে তারা বিবিধ এনজিওতে যোগ দিয়ে। নিজের চোখে দেখেছি, প্রকৃতই এরা লক্ষ্মী সরস্বতী। চিরাচরিত স্টিরিওটাইপ লক্ষ্মীপ্রতিমার খাঁচার বিরুদ্ধে ঘুরে দাঁড়াচ্ছেন মেয়েরাই। সাঁতার পোশাকে নিজেদের ছবির পর ছবি সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্ট হয়েছে... করেছেন বিদ্রূপ। বলেছেন, ‘মাই বডি মাই রাইটস’। আমার শরীর আমার অধিকার। স্বল্পবসনা মেয়েদের স্বৈরিণী বলে দাগিয়ে দেয় আমাদের সমাজ। মেয়েদের বলে রেখেঢেকে না চললে তুমি ধর্ষিত হবে। এই সব কালিমা মুছে ফেলে ঘুরে দাঁড়ানো আজ। নিজের শরীরের অধিকার, নিজের মাতৃত্ব ও জরায়ুর অধিকার, নিজের সমস্ত সত্তার, ভালো থাকা ও খারাপ থাকার অধিকার নিজের হাতে নিয়ে ফেলার অঙ্গীকার।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

ক্লাইভের মুখে দুগ্গা দুগ্গা, কেমন ছিল শোভাবাজার রাজবাড়ির প্রথম দুর্গাপুজো

Shobhabazar Rajbari Durgapuja: শোভাবাজারের গর্ব সাবেকী এক চালার প্রতিমা। প্রতিমা শিল্পী, মোদক, ঢাকি বংশ পরম্পরায় জড়িয়ে আছেন এই পুজোর সঙ্গে। দশমীর পুজোর অন্যতম নিয়ম ‘কনকাঞ্জলি প্রথা’। লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০২১ সালের ১১ অক্টোবর।

জিতাষ্টমী থেকে শুরু দেবীর আরাধনা, ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির পুজো চলে পনেরো দিন

Jhargram Rajbari Durga Puja: রাজপুতানার ফতেহপুর সিক্রি থেকে আসা চৌহান বংশের ক্ষত্রিয় বীর সর্বেশ্বর সিংহ চৌহান। মুঘল সেনাপতি মানসিংহের বাংলা অভিযানের সময় তিনি জঙ্গলখণ্ডে আসেন। স্থানীয় জংলি মাল রাজাকে দ্বন্দ্বযুদ্ধে পরাজিত করে তিনি এই জঙ্গলমহলে নিজের রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। নামের সঙ্গে জুড়ে নেন 'মল্লদেব' উপাধি। আর ঘন জঙ্গলে ঘেরা সেই জায়গার নাম দেন ঝাড়গ্রাম।

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

থিম নেই, জাঁকজমক নেই: মানুষের ভালবাসায় গড়া আমার গ্রাম কেশাতড়ার দুর্গাপুজো

Keshatara village Durga Puja: পুজোর সম্পূর্ণ খরচ বহন করেন গ্রামের মানুষই। ইদানীং সরকারি অনুদান মেলে ঠিকই, কিন্তু পুজোর ভোগের চালটা আজও আসে গ্রামের মানুষের দেওয়া টাকা থেকেই।

দুর্গা মুখ তুলে তাকাবেন হকারদের দিকে?

Durga Puja Economy in Bengal: কর্পোরেট পুঁজির প্রভাব, অসংগঠিত অর্থনীতির সংকট, হকার উচ্ছেদ এবং ধর্মীয় বিধিনিষেধের আবহে কতটা সুরক্ষিত থাকবে শারদোৎসবের নিজস্ব চরিত্র? পুজোর জৌলুস বাড়লেও নাগরিক স্বাধীনতা, শিল্পের স্বতঃস্ফূর্ততা এবং সাধারণ মানুষের জীবিকার জায়গা ক্রমশ সংকুচিত হবে?

দুর্গাপুজোর উৎসব, অসুরের শোক: বাংলার ইতিহাসে কার জয়, কার পরাজয়?

Mahishasur Puja: ২০১১-র পুরুলিয়া পার করে ২০১৪-র মালদার গাজল। নিত্যানন্দ হেমব্রমরা শুরু করলেন অসুর আন্দোলন। ততদিনে উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলে অসুর পুজোর সংখ্যা ৬৫০ ছাড়িয়েছে। কেউ মূর্তি বানিয়ে মহিষাসুর স্মরণ করেন, কেউ ফ্লেক্স বানিয়ে আলোচনা সভা।

প্রতিদিন বদলায় মেনু, বদলায় খাবারের দাম: তবু স্বাদে অটুট কলকাতার সিদ্ধেশ্বরী আশ্রম

Hotel Siddheswari Ashram: সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে চোখ পড়বে সুবিশাল মেনু বোর্ডে, যাতে মুদ্রিত আছে হোটেলটির সামগ্রিক খাদ্য সমাহার। বোর্ডটিতে সেই দিনের প্রাপ্ত পদের পাশে চকখড়িতে হাতে লেখা সেই দিনের দাম। আর অতি অবশ্যই বাংলা ও ইংরাজিতে লেখা থাকে তারিখ।

যে দুর্গাবাড়ির পঞ্চমুণ্ডির আসনে আজও বসেন দেবী, সেখানেই একদিন শপথ নিতেন বিপ্লবীরা

Gangarampur Durgabari,: তন্ত্রশাস্ত্র অনুসারে, পঞ্চমুণ্ডি আসন সাধারণ কোনো বেদি নয়। পাঁচটি নির্দিষ্ট খুলি বা করোটি—যেমন চণ্ডাল বা ডোমের, শিয়ালের, বেজি বা নেউলের, বিষধর সাপের এবং হনুমানের খুলি মাটির নিচে নির্দিষ্ট নিয়মে পুঁতে এই আসন তৈরি করা হয়।