এখনই ৪০ ছুঁইছুঁই পারদ! ঠিক কবে থেকে এমন অগ্নিকুণ্ডে পরিণত হতে শুরু করল বাংলা?

Weather Update : তাপের কামড়ে বেহাল জনজীবন, আরও ভয়াল ইঙ্গিতের আশঙ্কায় কাঁপছে গোটা বাংলা

inscript
৩ মিনিট
এখনই ৪০ ছুঁইছুঁই পারদ! ঠিক কবে থেকে এমন অগ্নিকুণ্ডে পরিণত হতে শুরু করল বাংলা?

কার্যতই অসহ্য হয়ে উঠেছে পরিস্থিতি। তাপের কামড়ে নাজেহাল গোটা বাংলা। ঘরের মধ্যেই যেন আগুন ছুটছে! আর বাইরে বেরোলে তো কথাই নেই, মুহূর্তের মধ্যেই জ্বর যাচ্ছে শরীর। ক্যালেন্ডার মেনে গ্রীষ্মকালের শুরু হতে এখনও দিন কয়েক দেরি। বৈশাখ নয়, চৈত্র মাসেই মাত্রা ছড়াচ্ছে পরিস্থিতি। পশ্চিমের জেলাগুলোয় ইতিমধ্যেই পারদ ছুঁয়েছে ৪০ ডিগ্রি। ৩৮ ডিগ্রি পেরিয়েছে কলকাতার তাপমাত্রাও। মালদহ সহ উত্তরবঙ্গের একাধিক জায়গার পরিস্থিতিও সমান বেহাল। এখানেই শেষ নয়, আবহাওয়াবিদরা জানাচ্ছেন, আগামী কয়েক দিনে সারা দেশ জুড়েই আরও বাড়বে তাপমাত্রা।

আজ থেকে বছর কয়েক আগেও এমন পরিস্থিতি ছিল না বাংলায়। গরম পড়ত ঠিকই তবে তার প্রকোপ এমন ছিল না যে চৈত্রের শেষেই এই অবস্থা হয়! প্রসঙ্গত, কলকাতায় শেষ বৃষ্টি হয়েছে ১ এপ্রিল। বিগত ৯ দিন ধরে কলকাতায় একফোঁটাও বৃষ্টির দেখা নেই। দেখা মেলেনি কালবৈশাখী ঝড়েরও। আগামী পাঁচদিনও কলকাতায় বৃষ্টির দেখা মিলবে না বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে। আপাতত কালবৈশাখীও হবে না দক্ষিণবঙ্গে। বেশ কিছু জায়গায় খুব দ্রুত ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়ে ফেলবে পারদের গ্রাফ। তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি তৈরি হতে চলেছে জেলায় জেলায়।

কিন্তু ঠিক কবে থেকে এমন বদলে যেতে শুরু করল বাংলার ছবিটা? কেনোই না এমন পরিবর্তনের শুরু? অবশ্য শুধু বাংলা নয়, সারা বিশ্বেই দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে গড় তাপমাত্রা। আর এই তাপমাত্রা বাড়ার বিরূপ প্রভাব পড়ছে প্রকৃতি, জীব ও উদ্ভিদ জগত সহ মানব জীবনেও। কিন্তু কেন বাড়ছে তাপমাত্রা? এমন প্রশ্নই এখন বিশ্ব-সমস্যা বা ‘গ্লোবাল ইস্যু’র মূল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বেশ কিছুদিন ধরেই এই মাত্রা ছাড়া তাপ বৃদ্ধির কারণ নিয়ে নিয়ত গবেষণা চলছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ‘নাসা’র গডার্ড ইনস্টিটিউট নামে একটি প্রতিষ্ঠান এই তাপ বৃদ্ধির কারণ অনুসন্ধান করছে। তাদের গবেষণা থেকেই জানা যাচ্ছে, প্রতিবছর পূর্ববর্তী বছরের রেকর্ড ভেঙে বেড়েই চলেছে বৈশ্বিক তাপমাত্রা। ১৮৮০ সালে তাপমাত্রা সংরক্ষণের আধুনিক পদ্ধতি আবিষ্কৃত হওয়ার পর থেকে দেখা গেছে যে, প্রতি বছরই বেড়েছে পারদের পরিমাণ।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
রাজস্থানে অভাবনীয় তুষারপাত! কলকাতায় শীতকাল কবে আসবে সুপর্ণা?

Winter Weather Update: রাজস্থানের মাউন্ট আবু হিল স্টেশনে তুষারপাত ঘটেছে এবং থর মরুভূমির প্রবেশদ্বার চুরুতে তাপমাত্রার পারদ নেমে গিয়েছে শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াসে।

বিশেষত ২০০০ সালের পর থেকে এই পরিস্থিতি এতটাই চরমভাবে বদল হতে শুরু করেছে যে গবেষকরাও একে গভীর আশঙ্কাজনক বলে দাগিয়ে দিয়েছেন। ১৯৯২ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত সময়কালে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়েছে প্রায় ৩ ইঞ্চি পর্যন্ত।

টিম ফলগার নামে এক বিজ্ঞানী ‘ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক’ জার্নালে প্রকাশিত এক লেখায় জানাচ্ছেন, স্বাভাবিকভাবে আমরা ঠিক যতটা ধারণা করছি তার থেকে অনেকটা বেশি হারেই বাড়ছে তাপমাত্রার পরিমাণ। শুধু তাই নয় এইমাত্র ছাড়া পারদের বৃদ্ধি অ্যান্টার্কটিকা ও গ্রিনল্যান্ডের মতো শীতল অঞ্চলের বরফ গলাতেও শুরু করেছে দ্রুত। ফলে সব মিলিয়ে পরিস্থিতি জীববৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে হুমকি স্বরুপ।

একদিকে শিল্প বিপ্লবের হাত ধরে তৈরি হওয়া আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার অন্যদিকে বর্তমান বদলে যাওয়ার সময়ের সঙ্গে সাযুজ্য রেখে লাগাম ছাড়া বন জঙ্গল হ্রাস, এ দুই যেন দ্বৈত চাপ সৃষ্টি করেছে পরিবেশের ওপর। এমনকী আশঙ্কা করা হচ্ছে, অতি- যান্ত্রিকীকরণের কুপ্রভাবে এবং পরিবেশ ও প্রাণবৈচিত্র্য বিনষ্টের কারণে চলতি একুশ শতকেই বৈশ্বিক তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধির শীর্ষবিন্দু স্পর্শ করবে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
হুবহ পুরীর আদল এবার বাংলাতেই! কী কী থাকছে দীঘার জগন্নাথ মন্দিরের অন্দরে?

Jagannath Temple in Digha: এসেছে রাজস্থানের বংশী পাহাড়ের পাথর, পুরীর আদলেই দীঘায় গড়ে উঠছে জগন্নাথ মন্দির

২০১৫ সালের ডিসেম্বরে সম্পাদিত প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে বলা হয়েছিল, বৈশ্বিক তাপমাত্রা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে। কোনোভাবেই যেন পৃথিবীর তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম না করে সেটা নিশ্চিত করতেই হবে। এরও আগে ১৯৯৭ সালে স্বাক্ষরিত ‘কিয়োটো প্রটোকল’-এ বৈশ্বিক তাপমাত্রা সীমিত রাখার অঙ্গীকার করা হয়।

যদিও বাস্তব ছবিটা সম্পূর্ণ অন্য। যার ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে পরিবেশের ওপর। দেখে নেওয়া যাক ঠিক কোন কোন নেতিবাচক প্রভাব এই ভাবে বদলে দিচ্ছে তাপমাত্রা?

১. উন্নত দেশগুলিতে জ্বালানি পোড়ানো তাপমাত্রা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

২. এছাড়াও কলকারখানার দূষিত বায়ু বায়ুমন্ডলের সাথে মিশে প্রকৃতিতে বিরুপ আবহাওয়ার সৃষ্টি করছে। ওজন স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যার ফলে খুব সহজেই সূর্যের অতি ক্ষতিকারক রশ্মির প্রভাব পৃথিবীতে এসে পড়ছে।

৩.এসবের পাশাপাশি বেড়েছে আধুনিক যান্ত্রিকীকরণের প্রভাব। ঘরে ঘরে এখন বৈদ্যুতিক যন্ত্রের চল, যার ক্ষতিকর প্রভাব মিশছে বাতাসে। সব মিলিয়ে যেন দিন দিন অগ্নিগর্ভে পরিণত হচ্ছে সামগ্রিক পরিবেশ।

৪. বর্তমান সময়ে হাইরাইজ তৈরির জন্য লাগাম ছাড়া গাছ কাটা, নদী ভরাট চলছে অবাধে। অগ্রগতির এই মাতাল পরিস্থিতি দিনের শেষে মরণ কামড় বসাচ্ছে বায়ুমন্ডলের ওপর যার ফল স্ব রূপ ভোগান্তি নেমে আসছে প্রকৃতিতে। মাত্রা ছড়াচ্ছে গরম। অচিরেই কঠিনতর হয়ে উঠছে আমাদের বেঁচে থাকার সহজ পথ। উন্নতি নিশ্চয়ই প্রয়োজন তবে তার ক্ষতিকর প্রভাব যদি আমাদের বেঁচে থাকাকে ব্যাহত করে তবে তো মুশকিল! তাই পরিস্থিতি বদলের জন্য সবার আগে প্রয়োজন সচেতনতা। মানুষের সচেতন দৃষ্টিভঙ্গিই পারে পরিস্থিতি ফের বদলের প্রধান সূচক হয়ে উঠতে।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

সিভিল সার্ভিস ছেড়ে বাঘের টানে রণথম্ভোরে, ৩৫ একর জমিতে তৈরি করলেন বন

Ranthambore tiger conservation: তাঁরা কেবল চেয়েছিলেন সংরক্ষিত বনের বাইরে বাঘেদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয় গড়ে তুলতে। তারপর কুড়ি বছর পর্যটন লজ থেকে যেটুকু আয় হতো, তার প্রায় সবটাই তাঁরা সঞ্চয় করতেন ভাদলাভে কৃষকদের কাছ থেকে এক এক করে জমি কেনার জন্য। প্রায় দুই দশক ধরে একটু একটু করে ৩৫ একরেরও বেশি জমি তাঁরা কিনে নেন, যার মোট খরচ ছিল সে সময়ের হিসাবে এক কোটি টাকারও বেশি।

জলবায়ু বদল শুধু প্রকৃতির বিপদ নয়, ভারতের অর্থনীতির ভিতও নড়বড়ে করে দিচ্ছে

climate change and economy: ১৯৯০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ২১টি উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতি খতিয়ে দেখে একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে এক চমকে দেওয়ার মতো তথ্য। দেখা যাচ্ছে, বার্ষিক গড় তাপমাত্রা যদি মাত্র ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসও বাড়ে, তবে দীর্ঘমেয়াদে সামগ্রিক উৎপাদন দক্ষতা কমে যায় প্রায় ৩.২২ শতাংশ।

নেপাল বিপর্যয়ের ক্ষতিপূরণ দেবে কে?

Climate Justice for nepal: ২৬ অগাস্ট লাংটাং লিরুং-এর হিমবাহ ধসে নেপালের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিপর্যয়—নিহত ১,৩৪৪, নিখোঁজ ৪,৮৮৭। পুনর্গঠনে প্রয়োজন ৪-৫ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ডে আছে মাত্র ৮২২ মিলিয়ন ডলার।নেপালের দাবি, চিন-ভারত-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক দায় আছে। জলবায়ু ন্যায়বিচারের প্রশ্ন এখন আন্তর্জাতিক কাঠগড়ায়।

নেপালের হড়পা বান থেকে বেঁচে ফিরলেন যাঁরা, তাঁদের চোখে ২৬ অগাস্ট

Nepal flash floods 2026: ২৬ অগাস্ট, ২০২৬-এ নেপালের হড়পা বানে ধ্বংসস্তূপের মাঝেও কিছু মানুষ বেঁচে ফিরেছেন। কেউ এক কাপ চায়ের বিরতির জন্য, কেউ গাড়ির একটা রিভার্স গিয়ারের কারণে, কেউ ডালপালা ছড়ানো একটা আমগাছ আঁকড়ে ধরে, আবার কেউ কেবল ১৫ সেকেন্ডের দৌড়ে ছিনিয়ে এনেছেন নিজের শ্বাস। মৃত্যু খুব কাছ থেকে অনুভব করে ফেরা সেই মানুষগুলির অভিজ্ঞতায় রইল রাসুয়া আর নুয়াকোটের সেই সকালের কথা।

হিমালয়ের বরফ গলছে দ্বিগুণ হারে, নেপালের বিপর্যয়ের বিজ্ঞান কী বলছে?

Nepal Flood 2026: বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে দিয়েছিলেন, ৪৫০০ থেকে ৬০০০ মিটার উচ্চতার মধ্যে থাকা হিমবাহ অঞ্চলের অন্তত ৭৮ শতাংশ উচ্চতা-নির্ভর উষ্ণায়নের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। পাঁচ মাস পর সেই সতর্কবাণীই যেন সত্যি হয়ে উঠল নেপালের উপত্যকায়।

ছয় দশকে কতটা সফল ভারত-নেপাল গান্ডাকচুক্তি?

Gandak dam history: নেপালের হিমবাহ থেকে পাথর ধসের পর জল নেমেছে ত্রিশূলী-কালীগণ্ডক হয়ে বিহারে। বাল্মীকিনগর বাঁধের ৩৬টি গেট খুলে প্রাণ বাঁচল বহু মানুষের। কিন্তু, ১৯৫৯ সালের গান্ডাক চুক্তি কি সত্যিই নেপাল ভারত দুই দেশের ‘সমন্বিত স্বার্থ’ রক্ষা করল? নেপালের তরাইয়ে জল মেলে না, ক্ষতিপূরণ মেলে না কৃষকদের। ৬০ বছরের পুরনো বাঁধ প্রকল্পকে নিয়েও নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।

নেপালের বন্যায় সবচেয়ে বেশি বিপন্ন মহিলারাই, ঝুঁকিতে ১.৬ লক্ষ নারীর জীবন

Nepal Flash Floods: নেপালের ভয়াবহ হড়পা বানে প্রায় ১.৬ লক্ষ নারীর জীবন ঝুঁকিতে। বন্যার পর তাঁদের সামনে কী কী স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, খাদ্য ও জীবিকার সংকট তৈরি হয়েছে? রাষ্ট্রপুঞ্জের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, নারীদের সুরক্ষায় কী পদক্ষেপ জরুরি?