ইউক্রেনের হাতে আত্মঘাতী ভয়াবহ ড্রোন, রাশিয়ার পরিণতি কি বদলে যাবে?

Satyaki Tat
২ মিনিট
ইউক্রেনের হাতে আত্মঘাতী ভয়াবহ ড্রোন, রাশিয়ার পরিণতি কি বদলে যাবে?

রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের আগুন নেভার কোনও সম্ভাবনা এখনও দেখা যাচ্ছে না। রুশ আগ্রাসন চলছে পুরোদমেই। এবার সেই আগ্রাসন ঠেকাতে ইউক্রেনের হাতে এল ৮০০ মিলিয়ন ডলারের মার্কিন সাহায্য, যার মধ্যে রয়েছে একটি ড্রোন, যার মারণক্ষমতা ভয়ানক‌। এই ড্রোন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানি আত্মঘাতী বিমানবাহিনী কামিকাজের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে লক্ষ‍্যবস্তুর ওপর, এবং তাকে ধ্বংস করে দেয়। তার নাম 'ফিনিক্স ঘোস্ট'।

পেন্টাগন জানাচ্ছে যে, এই ড্রোন নিয়ে আমেরিকান বায়ুসেনা বেশ কিছুদিন আগে থেকেই গবেষণা করছিল। রুশ আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর যখন ইউক্রেন আমেরিকার কাছে সাহায্য চায়, তখন তাদের কাছে সুপারিশ আসে ফিনিক্স ঘোস্টের। পেন্টাগন মনে করছে, অ্যাভেক্স এরোস্পেস এবং বায়ুসেনা-নির্মিত এই ড্রোন ইউক্রেনের পরিস্থিতির জন্য একেবারে আদর্শ, বিশেষ করে পূর্ব ইউক্রেনের ডনবাস অঞ্চলের জন‍্য।

তবে বিশ্বের কাছে এই ড্রোন এখনও নতুন এবং এর বিষয়ে এখনও পর্যন্ত বিস্তারিত কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। এটুকু জানা গিয়েছে যে, কৌশলগত হামলার জন্য এই ড্রোনটি আদর্শ। এটি লক্ষ‍্যের কাছাকাছি পৌঁছে বিস্ফোরণ ঘটায়, নিজের সঙ্গে সঙ্গে লক্ষ‍্যবস্তুকেও একেবারে চুরমার করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে এই ফিনিক্স ঘোস্ট। এই ড্রোনে রয়েছে ইনফ্রারেড রশ্মি, যার সাহায্যে এটি রাতের অন্ধকারেও কাজ করতে পারবে, যে কারণে এটি আরও ভয়ংকর।

পেন্টাগনের মুখপাত্র জন কার্বি জানাচ্ছেন, এই ড্রোনের সঙ্গে মিল রয়েছে এরোভিরনমেন্ট সুইচব্লেড ড্রোনের। দু'টি ড্রোনকেই বলা হয় কামিকাজে ড্রোন, তাদের আত্মঘাতী হানার ক্ষমতার জন্য। সুইচব্লেডের মতোই ফিনিক্সে রয়েছে নজরদারি ক্যামেরাও, যার সাহায্যে শত্রুর এলাকায় নজরদারি সম্ভব।

ইউক্রেনকে ৪০০টি সুইচব্লেড ইতিমধ্যেই পাঠিয়েছে আমেরিকা, এবং ১২১টি ফিনিক্স ঘোস্ট ড্রোন নতুন প্যাকেজে তারা পাঠাবে। এই দুই ধরনের ড্রোনের খুব বেশি তফাৎ না থাকলেও একটি বড় পার্থক্য হল, সুইচব্লেড বাতাসে ৩০-৪০ মিনিট ভেসে থাকতে পারে, সেখানে ফিনিক্স ঘোস্টের ক্ষমতা প্রায় ছয় ঘণ্টার। তবে কত দূর অবধি এই ড্রোন উড়ে যেতে পারবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

তবে একটা প্রশ্ন বারবার উঠে আসছে। আমেরিকা কি ইউক্রেনকে সামনে রেখে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ছায়াযুদ্ধ চালাচ্ছে? মনে রাখা দরকার, এই আটশো মিলিয়নের সাহায্য কিন্তু অতিরিক্ত সাহায্য। এর আগেও কোটি কোটি ডলারের সাহায্য তারা ইউক্রেনকে পাঠিয়েছে। যুদ্ধ চলেই যাচ্ছে, মারা যাচ্ছেন ইউক্রেনের সাধারণ মানুষ, তাহলে কি আমেরিকার উচিত নয় অস্ত্রসাহায্যের জায়গায় ইউক্রেনের সাধারণ মানুষের জন্যে সাহায্য পাঠানো? বা যুদ্ধ থামানোর চেষ্টা করা? ইউক্রেন কি এখন মার্কিন যুদ্ধাস্ত্র প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলোর অস্ত্র পরীক্ষার ঘাঁটি হয়ে উঠল?

অন্যদিকে রাশিয়াও থামার কোনও লক্ষণ দেখাচ্ছে না। চলছে নির্বিচারে গণহত্যা, নিরপরাধ মানুষ নিধন। কতদিন এই ভাবে যুদ্ধ চলতে থাকবে, বিশ্ববাসীর কাছে সেটাই উদ্বেগের!

লিখেছেন
Satyaki Tat
Satyaki Tat
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আপত্তি, ১০ মাসে দুই কমিশনারের ১৪ বার প্রশ্ন

Election Commission SIR: এসআইআর ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন বলে দাবি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ফর্ম ৬ বদল, ভোটার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীয়করণ, পশ্চিমবঙ্গের আপিল এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি ফের আলোচনায়।

হুথিরা যেভাবে স্থানীয় বিদ্রোহী থেকে মধ্যপ্রাচ্যের শক্তিতে পরিণত হলো

Houthi Expansion in Yemen: ইয়েমেনে ফের কেন যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে? হুথিরা কীভাবে স্থানীয় জায়দি আন্দোলন থেকে শক্তিশালী সামরিক-রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হল? ইরানের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক কতটা গভীর? মোখা ও হানিশ দ্বীপপুঞ্জ দখলের পর কেন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বাব আল-মান্দাব? এই সংঘাতের প্রভাব কি শেষ পর্যন্ত বিশ্ব বাণিজ্য, জ্বালানি পরিবহণ ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে পড়বে?