আজও রবীন্দ্রনাথের স্মৃতি বহন করে কুয়াশামাখা এই পাহাড়ি বাংলো

মংপুর এই বাসভূমি গুরুদেবের শেষ জীবনের আশ্রয়স্থল, যার সান্নিধ্যে এসে জোড়াসাঁকোর চৌহদ্দির আড়ালে লুকিয়ে রাখা যাবতীয় বিস্ময়কে তিনি দু' হাত ভরে আস্বাদন করতে করতে, পাড়ি দিয়েছিলেন অমৃতলোকের দিকে।

Shrabanti Mitra
৪ মিনিট
আজও রবীন্দ্রনাথের স্মৃতি বহন করে কুয়াশামাখা এই পাহাড়ি বাংলো

বাইশে শ্রাবণ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮১তম মৃত্যুদিবস। মৃত্যুদিবস শব্দটা নেহাতই একটা উপমামাত্র, যাকে কেন্দ্র করে একটা গোটা দিন উদযাপন করা যায় রবীন্দ্রজীবনের বিস্মৃত ভান্ডারকে নতুন করে আবিষ্কার করার মাধ্যমে। রবীন্দ্রনাথ নিজেই শিখিয়ে দিয়ে গিয়েছিলেন, মৃত্যুকে আশ্রয় করে কীভাবে নতুন যাপন পদ্ধতিকে জানতে পারা যায় জীবনের পরতে পরতে। তাই তো অনেক আঘাত আর অনেক মৃত্যু সয়ে যাওয়ার পর তিনি উপলব্ধি করেন, 'দুঃখ জানবার গুরুত্ব' কতখানি। এহেন উপলব্ধিই আমাদের ভরসা দেয় দুঃখকে গ্রহণ করতে, এহেন ভাবনাই আমাদের চেতনায় দুঃখবোধ আর মৃত্যুতাড়নাকে প্রশমিত করে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে। তাই ঘুরে ফিরে আবারও স্মরণ করি সেই দুঃখজাগানিয়াকেই।

রবীন্দ্রনাথ পৃথিবীর রূপ-রস-গন্ধকে নিজের মধ্যে চারণ করতে কত না অজানা পাহাড়-নদী-অরণ্যের কোলে ঠাঁই নিয়েছেন আজীবন। সেইসব প্রাকৃতিক সূক্ষ্মানুভূতিই তাঁর কলমকে ঋদ্ধ করেছে প্রতি মুহূর্তে। পাহাড় ছিল গুরুদেবের নিভৃত যাপনের ঠিকানা। সুযোগ পেলেই মাঝেমধ্যে তিনি দার্জিলিং, সিমলা, ডালহৌসি বেরিয়ে আসতেন। এর মধ্যে কালিম্পং বেড়াতে বেড়াতে প্রথমবার তিনি মৈত্রেয়ী দেবীর অনুরোধে মংপুতে আসেন ১৯৩৮ সালের ২১ মে। মৈত্রেয়ী দেবীর বাবা সুরেন্দ্রনাথ দাশগুপ্ত ছিলেন রবীন্দ্রনাথের দীর্ঘদিনের বন্ধু এবং ঘটনাসূত্রে তাঁর স্বামী মনমোহন সেন ছিলেন সিঙ্কোনা প্ল্যান্টেশনের বিখ্যাত কুইনোলজিস্ট। সেই সূত্রেই মংপুতে তাঁদের কোয়ার্টারে বারংবার আমন্ত্রণ জানাতেন কবিকে মৈত্রেয়ী দেবী। ১৯৩৮ সালের পর ১৯৩৯ সালের ১৪ মে তিনি কয়েকদিনের জন্য এখানে আসেন। মংপুর এই সিঙ্কোনা-ঘেরা পাহাড়ি বনভূমিই তাঁকে প্রথম চিনতে শেখায় জঙ্গল আর অরণ্যর প্রভেদ। লম্বা লম্বা সব গাছ, যারা ঊর্ধ্বমুখে দণ্ডায়মান আর যার নিচে ঘন ছায়ায় কেবলই চোখে পড়ে কালো কালো অন্ধকার, তাকেই ভালবেসে 'অরণ্য' বলে আখ্যা দেন কবি। তাই অরণ্যকে আরও নিবিড় করে পেতে সেই বছরই সেপ্টেম্বর মাসের ১২ তারিখে চলে আসেন তিনি মংপুর এই বাড়িতে, প্রায় দু'মাসের জন্য। এই সমস্ত সময়ই তিনি 'বাংলা ভাষা পরিচয়'-এর কাজ চালিয়ে যান প্রতিদিন। এর পাশাপাশি বিভিন্ন গান ও কবিতাও রচিত হয় এই পাহাড়ি বাংলোয় বসেই, যার মধ্যে 'নবজাতক', 'আকাশপ্রদীপ', 'ক্যামেলিয়া' উল্লেখযোগ্য।

গুরুদেবের বসার ঘরের পশ্চিমের জানালা দিয়ে একটা প্রকাণ্ড anarcaria পাম গাছ দেখা যেত, আর ঠিক তার নিচেই একটা ক্যামেলিয়া গাছ সাদা ফুলে ভরিয়ে দিত তাঁর সমস্ত সকালটাকে। এমন এক দৃষ্টিনন্দিত রূপকে তিনি তাই বলতেন, 'মোমের ফুল', এবং স্বাভাবিকভাবেই কবির উৎসুক মন তাঁকে বারবার কলম থামিয়ে নিমগ্ন করত, মোমের ফুলের দৃষ্টিসৌরভের কাছে।

সেসময় মংপু যাওয়া আজকের মতো সহজ ছিল না। কখনও সড়কপথে শিলিগুড়ি থেকে রম্ভি অথবা কখনও টয় ট্রেনে গেলিখোলা অবধি পৌঁছতে হতো তাঁকে। আর রম্ভি থেকে পালকি সহযোগে ন'কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে, তবে মংপুর এই বাসভূমিতে পৌঁছতেন তিনি। তাই মাত্র চারবারের বেশি আসতে পারেননি তিনি এখানে। শেষবার আসেন ১৯৪০ সালের ২১ এপ্রিল। সেবার মহাসমারোহে পাহাড় আর শাল-সেগুন-অর্জুন গাছে ঘেরা এই মংপুতে তাঁর জন্মদিন পালন করা হয়। সেই স্মৃতিতেই তিনি এখানে বসে লেখেন তাঁর জন্মদিন কবিতাটি। এরপর পঞ্চমবারও তিনি এখানে আসার কথা ভাবেন শরৎকালের গোড়ার দিকে। তবে কালিম্পঙে থাকাকালীন অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাঁকে সত্বর কলকাতায় ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। রবীন্দ্রনাথের মংপুতে কাটানো সময়ের নানাবিধ অভিজ্ঞতার সবটুকুই মৈত্রেয়ী দেবী লিখে গেছেন তাঁর 'মংপুতে রবীন্দ্রনাথ' বইটিতে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
'আজ সকালে সে মারা গেছে', কাছের মানুষের মৃত্যুশোক সারাজীবন তাড়া করেছে রবীন্দ্রনাথকে

পরিবারে পরের পর মৃত্যু সয়েছেন আজীবন। মৃত্যুকে যেভাবে দেখেছেন রবীন্দ্রনাথ, তাতে জীবন দিয়ে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে হয়েছে কবিকে।

'দক্ষিণের বারান্দা'

গুরুদেবের মৃত্যুর তিনমাস পর এই বাংলোটিতে রবীন্দ্র সংগ্রহশালা তৈরি করা হয়, নাম দেওয়া হয় 'রবীন্দ্র ভবন'। এই বাড়ির ঠিক বিপরীতেই রয়েছে কুইনাইন কারখানার প্রধান গেট। কুইনাইনের কারখানাগুলো যেমন আজ অবহেলিত, পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে, তেমনই রবীন্দ্রনাথের এই বাসভবনও দীর্ঘ অনেক বছর এমনই অবহেলায় পড়েছিল। এরপর সিঙ্কোনা কর্তৃপক্ষ, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রালয় ও জিটিএ-র তথ্য সংস্কৃতি আধিকারিকদের দীর্ঘদিনের সম্মিলিত টানাপোড়েনের পর অবশেষে ২০১৭ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের হেরিটেজ তকমা পায় এই বাড়িটি।

মংপুর 'রবীন্দ্র ভবন'

বাড়িটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে বহু বছর ধরে কাজ করছেন শিশিরকুমার রাহুত। তিনি যে একজন আদ্যোপান্ত রবীন্দ্রপ্রেমী মানুষ, তা তাঁর ব্যবহারে সর্বদাই পরিলক্ষিত হয়। রবীন্দ্র ভবনের প্রতিটি কোনায় ছড়িয়ে থাকা, প্রতিটি দ্রষ্টব্য তিনি অবিরাম আগ্রহে দেখিয়ে যান প্রতিটি পর্যটককে। এতটুকু ক্লান্তি নেই তাঁর শরীরে। এরই মাঝে কখনও পাইনগাছের তলায় বসে গুনগুনিয়ে ওঠেন, 'কবে আমি বাহির হলেম তোমারই গান গেয়ে, সে তো আজকে নয়'।

এই বাড়ির সমস্তটা জুড়ে রবি ঠাকুরের চিরকাঙ্ক্ষিত নান্দনিকতা ছড়িয়ে রয়েছে‌। বাড়িটি ক্লাসিক ইউরোপিয়ান স্থাপত্যরীতিকে মাথায় রেখে বানানো হলেও, গৃহসজ্জার প্রতিটি ক্ষেত্রে রবীন্দ্র ভাবনার ছাপ সুস্পষ্ট। তাঁর লেখার ডেস্ক, রঙের প্যালেট, বায়োকেমিক্যাল শিশির পাশাপাশি রয়েছে তাঁর আঁকা বেশ কিছু ছবি এবং মৈত্রেয়ী দেবীকে লেখা বেশ কিছু চিঠিপত্র। শিশিরবাবুর একটা অভিযোগ আছে রবীন্দ্রনাথের চিত্রকলা নিয়ে‌‌। তিনি বলেন, জীবনের ৪০ বছর পেরিয়ে যাবার পর তিনি কলমের সঙ্গে তুলি ধরলেন এবং ম্যাজিকের মতো পাহাড়কে ফুটিয়ে তুললেন তাঁর ক্যানভাসে। অথচ অর্ধেক লোক দেখলই না তাঁর আঁকা ছবি। এখনও নিয়ম করে এই বাড়ি দায়িত্ব নিয়ে পরিষ্কার করান শিশিরবাবু।

'কতই ছবি এঁকেছি যে...'

গোটা বাড়িটার মধ্যে স্নানাগারটি দেখতে অত্যন্ত চমকপ্রদ লাগে‌। লাল সিমেন্ট দেওয়া ছোট্ট দেশীয় ধাঁচের স্নানঘরে কী সুন্দর করে গরম জল ও ঠান্ডা জলের খোপকাটা আলাদা জায়গা করা হয়েছে। দেখে আজকের যুগে গড়ে ওঠা পাহাড়ের কোলে থাকার বাহারি হোটেলগুলোকে বড় ক্লিশে মনে হয়।

এ বাড়ির সবটুকু জুড়ে আলোছায়া লুকোচুরি খেলে সারাদিন। এ বাড়িই কবিকে ভুলিয়ে দিতে পেরেছিল অহরহ ধাক্কা দিয়ে যাওয়া বিরহদহন আর শোকগাঁথাকে। তাই মংপুর এই বাসভূমি গুরুদেবের শেষ জীবনের আশ্রয়স্থল, যার সান্নিধ্যে এসে জোড়াসাঁকোর চৌহদ্দির আড়ালে লুকিয়ে রাখা যাবতীয় বিস্ময়কে তিনি দু' হাত ভরে আস্বাদন করতে করতে, পাড়ি দিয়েছিলেন অমৃতলোকের দিকে।

লিখেছেন
Shrabanti Mitra
Shrabanti Mitra
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

মাছ-ভাত খেয়ে দেবী বরণ আর কী কী বিশেষ রীতি পালন করা হয় ২২০ বছরের রাজকৃষ্ণ মিত্র বাড়ির দুর্গাপুজোয়?

Rajkrishna Mitra House Durga Puja: দর্জিপাড়ার রাজকৃষ্ণ মিত্রের বাড়ির শতাব্দীপ্রাচীন দুর্গাপুজোতে ২২০ বছর ধরে একই রীতি মেনে পুজো হয়ে আসছে। তবে এই পুজোর বিশেষত্ব শুধু তার প্রাচীনত্বে নয়, দেবীর ভোগ, নৈবেদ্য, পারিবারিক খাওয়া-দাওয়া থেকে শুরু করে দশমীর বরণ; প্রতিটি ক্ষেত্রেই রয়েছে নিজস্ব কিছু নিয়ম। যার মধ্যে অন্যতম, দশমীর দিন মাছ-ভাত খেয়ে দেবীকে বরণ করেন বাড়ির মহিলারা। আবার যে পুজোয় একসময় বলির রীতি ছিল, সেই পুজোতেই এখন বলির পরিবর্তে দেওয়া হয় চিনির নৈবেদ্য।

ইস্টবেঙ্গলের জয়ে কোমা ভেঙে চোখ মেলেছিলেন শচীনকর্তা

S D Burman's love for East Bengal: শচীনকর্তার একমাত্র পুত্র ‘পঞ্চম’ বাবার কানের কাছে চিৎকার করে উঠলেন— “বাবা… ইস্টবেঙ্গল জিতসে… পাঁচ-শূন্য!” আর তারপরই ... যে মানুষটি নির্জীব পড়েছিলেন, যাঁর স্নায়ু কোনো ডাকে সাড়া দিচ্ছিল না—তাঁর চোখের কোণ সামান্য কেঁপে উঠল। ধীরে ধীরে শচীনকর্তা তাঁর অক্ষিপট মেলে তাকালে। ব্যাস, ওইটুকুই। এর পর আর কোনোদিন তিনি চোখ খোলেননি।

যে দুর্গাপুজোয় সাধারণের প্রবেশ ছিল নিষেধ, সেখান থেকেই যেভাবে হলো সর্বজনীন পুজোর শুরু

history of Durga Puja in Kolkata: ব্রিটিশ কলকাতায় সেই পুজোর ধরন বদলাতে শুরু করল; বদলাল গেট-টুগেদারের ধরনও। আর কলকাতার দুর্গাপুজো আদতে হয়ে উঠল কোম্পানির পুজো। মানে কোম্পানির লোকেদের তোয়াজের জন্য করা পাঁচ দিনের অনুষ্ঠান। সেই পুজোর থেকে ইংরেজদের মনোরঞ্জন করা প্রধান উদ্দেশ্য ছিল।

প্রেমে, ঈর্ষায়, ভ্রমণে মারিয়া কোদামার চোখে কেমন ছিলেন বোর্হেস?

Jorge Luis Borges: ২০১৯ সালে প্রকাশিত এই সাক্ষাৎকারে লেখকের বিধবা স্ত্রী মারিয়া কোদামা তাঁদের অনন্য সম্পর্ক ও একান্ত যাপনের স্মৃতিচারণ করেছিলেন। মারিয়া কোদামা মৃত্যুবরণ করেন ২০২৩ সালের ২৬ মার্চ। সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছিলেন পাবলো হিয়েনেরা। এটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ২০১৯ সালে, পরে লা নাসিয়ন (La Nacion) পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ২০২৩ সালের ২৫ মার্চ। সাক্ষাৎকারটি স্প্যানিশ থেকে অনুবাদ করেছেন স্প্যানিশ সাহিত্য ও বোর্হেসবিশেষজ্ঞ কবি, প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক রাজু আলাউদ্দিন।

এনসিইআরটি-র নতুন ইতিহাসের বই হিন্দুত্ববাদী ইতিহাসচর্চাকে নতুন জায়গা করে দিচ্ছে?

NCERT Class 9 Book controversy: নবম শ্রেণির সমাজবিজ্ঞান বই 'আন্ডারস্ট্যান্ডিং সোসাইটি'-র 'রেজিস্ট্যান্স অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স' অধ্যায়ে সপ্তম শতক থেকে ভারতীয় উপমহাদেশে আরব, তুর্কি, মুঘল ও ইউরোপীয় আক্রমণের ধারাবাহিকতা, ধর্মীয় উদ্দেশ্য ও হিন্দু রাজাদের দেবী-প্রদত্ত তলোয়ারের উল্লেখ রয়েছে। মুসলিমদের বিরুদ্ধে জাঠ-শিখ-রাজপুত-অহোম প্রতিরোধের বর্ণনা। হিন্দুত্ববাদী লেখক জে. সাই দীপকের 'মধ্যপ্রাচ্যের ঔপনিবেশিকতা'র ধারণা ও হিন্দুত্ববাদী ইতিহাসবিদ মীনাক্ষী জৈনের গবেষণার ছায়ায়, এভাবেই তৈরি হচ্ছে নতুন সাম্প্রদায়িক ইতিহাসচর্চার পরিসর।

‘গ্রাহক পঞ্চায়েত’-এর সভায় ছুরি কোথা থেকে এল?

SRFTI Kolkata clash: সমাজমাধ্যমে যে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়েছে, তা লক্ষ্য করলেই দেখা যাবে—এক ব্যক্তি হঠাৎ পিছন থেকে এসে এক শিক্ষার্থীকে সজোরে লাথি মারছে। অথচ ঠিক সেই মুহূর্তেও পিছনের দেওয়ালে ভারতমাতা ও স্বামী বিবেকানন্দের ছবি দেওয়া ব্যানারটি সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় ঝুলছিল। অর্থাৎ, যে ব্যানার ছেঁড়ার অভিযোগকে সামনে এনে এত প্রচার চালানো হচ্ছে, তখনো পর্যন্ত সেই ব্যানারে কোনো আঁচড়ও পড়েনি।

চার-পাঁচ বছর নিয়েছিল তৃণমূল, বিজেপি মাত্র চারমাস

SRFTI incident: গোটা দেশে যখন মানুষের বিজেপির প্রতি মোহভঙ্গ ঘটতে শুরু করেছে, তখন আশ্চর্যজনকভাবে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় এল। অথচ একসময় গর্বের সঙ্গে বলা হতো—“হোয়াট বেঙ্গল থিঙ্কস টুডে, ইন্ডিয়া থিঙ্কস টুমরো।” আজ তা যেন উল্টে গিয়েছে।

মাতঙ্গিনী হাজরা ও তমলুকের বিদ্রোহ: এক বৃদ্ধার মৃত্যু যেভাবে বদলে দিয়েছিল আন্দোলনের গতিপথ

Matangini Hazra death: ২৯ সেপ্টেম্বর, ১৯৪২। তমলুক শহরের দিকে পাঁচ দিক থেকে ধেয়ে এল জনতার উত্তাল মিছিল। সরকারি দপ্তর ঘিরে ফেলতে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় হাজার মানুষের এক বিরাট বাহিনী এগিয়ে আসছিল শহরের উত্তর দিক থেকে—ফৌজদারি আদালতের পথ ধরে। আর সেই বাহিনীর পুরোভাগে ছিলেন প্রায় বাহাত্তর বছর বয়সি মাতঙ্গিনী হাজরা।