রয়্যালটি, যশ|| লিখে যতদূর যেতে চান কবি

Bengali Poetry: পুরস্কারের হাতছানি সামনে রেখে কবিতা লেখা তো দূরস্থান, প্রকাশিতব্য বইয়ের জন্য পাণ্ডুলিপি প্রস্তুতির কাজও চালানো যায় বলে মনে হয় না।

Susnato Chowdhury
৪ মিনিট
রয়্যালটি, যশ|| লিখে যতদূর যেতে চান কবি

পুরস্কার ব্যাপারটা নিরপেক্ষ না পক্ষপাতদুষ্ট, সেই চিরাচরিত বিতর্কে না ঢুকেও বলা যায়— খুব গোদা অর্থেই যদি ধরি, তাহলে পুরস্কারের বৈশিষ্ট্য হলো, তা প্রাপক বা তাঁর অতি-ঘনিষ্ঠ বৃত্ত বড়জোর চিরকাল মনে রাখেন; আর যাঁরা দেন সেই পুরস্কার, তাঁদের ফাইলবন্দি নথিতে লেখা থাকে সে-কথা। এর বাইরে পুরস্কারের তালিকা স্মৃতিতে ধরে রাখেন কেবল জিকে-নিষ্ঠ মানুষজন, সরকারি চাকরির পরীক্ষার্থীরা। বাকি দুনিয়া ভুলে যায়। বাংলা বাজার আর বিশ্ব বাজারে এই জায়গায় কোনও ফারাক নেই। পৃথিবীর তাবড় পুরস্কারগুলির ক্ষেত্রেও মোটের ওপরে একই ব্যাপার ঘটে। যে-কারণে, তিন-চার বছর আগে কে নোবেল কিংবা বুকার পেয়েছিলেন, তা জিজ্ঞেস করলে অধিকাংশেরই মেমরি লোকাল লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে। অথচ ১৯১৩ সালে যে রবীন্দ্রনাথ এই পুরস্কার পান, তা স্মরণে আনতে অন্তত একটা বড়-সংখ্যক বাঙালির বিন্দুমাত্র সময় লাগে না। এর কারণ দুটো হতে পারে; হয় তাঁকে বা তাঁর সৃষ্টিকে আমাদের ঘনিষ্ঠ বৃত্তেরই অংশ মনে করি অথবা ইশকুলবেলা থেকে সাধারণ জ্ঞানের বইয়ে এই তথ্য পড়ে আসতে বাধ্য হয়েছি।

এখন প্রশ্ন হলো, মানুষ কেন কবিতা লেখে? কেন ছবি আঁকে? বরাত পেয়েই হোক বা স্বতঃপ্রণোদিতভাবে, এর প্রাথমিক ও প্রধান কারণ, অন্তরের তাড়না। না লিখে, না এঁকে সে পারে না বলেই, সেই কাজে মেতে ওঠে। ভাবনার স্তরে, লিখনভঙ্গির পদ্ধতিতে প্রতিটি মানুষ আলাদা হলেও, ভিতরের ছটফটানির বিষয়ে তারা অভিন্ন। যতক্ষণ-না তার অন্তর্জগতের ভাবনাকে সে কাঙ্ক্ষিত অবয়ব দিয়ে বহির্জগতের অংশ করে তুলতে পারছে, ততক্ষণ তার মুক্তি নেই। সুতীব্র যৌন সুখের মতো এক আলোড়ক অনুভূতি ছাড়া সৃষ্টির ওই চূড়ান্ত মুহূর্তে আর কিছুই কাজ করে না— না লভ্যাংশের পাটিগণিত, না সম্মাননার আকাঙ্ক্ষা, না পুরস্কারের সমীকরণ।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
সংরক্ষণ মানে অমরত্ব, কবে বুঝবে লিটল ম্যাগাজিন?

হার্ড কপি-র সংরক্ষণের কথাও বিবেচনায় রাখতে হবে।

রয়্যালটি আর অ্যাওয়ার্ড। অর্থমূল্য। কবি কি তাহলে এসবের থেকে দূরেই থাকবেন? পার্থিব জীবনের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য মিটিয়ে নেবেন শুধুই সৃষ্টিশীলতার অপার্থিব আনন্দে? কারও ব্যক্তিগত নির্বাচন হতেই পারে এই জীবন; কিন্তু স্রেফ কবিতা লিখেই কেউ যদি পন্টিয়াক গাড়ি চড়তে চান, অন্তত সেই চাওয়াটুকুর জন্য তাঁকে দোষারোপ করা চলে না। বিচার হতে পারে তাঁর কাজের গুণমানের নিরিখে। আবার, রয়্যালটি ও পুরস্কার— এই দুই প্রাপ্যের মধ্যেও রয়েছে মৌলিক ফারাক। বাঙালির সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে, বিশেষত বইপত্রের জগতের নানা ক্ষেত্রে প্রায়শ কয়েকটি কথা শুনতে পাওয়া যায়— ‘লোকটির কাজ ভালো, কিন্তু বড্ড প্রফেশনাল’ কিংবা ‘এই কাজের জন্য ন্যূনতম পারিশ্রমিকও আমি নিইনি’ অথবা ‘অমুক তো এই দিয়ে ব্যবসা করতে চায়’। স্থান-কাল-পাত্রভেদে ব্যত্যয় অবশ্যই হতে পারে, কিন্তু এই যে পারিশ্রমিক না নেওয়াকে মহৎ প্রতিপন্ন করা আর সৎ-অসৎ বিচার না করে একধারসে পেশাদারিত্ব কিংবা ব্যাবসার প্রয়াসকে খাটো করে দেখার প্রবণতা— চূড়ান্ত অপেশাদার না হলে কোনও গোষ্ঠী বা জাতির সাধারণ বয়ান এই কথা হতে পারে না।

ফলে যা হওয়ার, তা-ই হয়। সে বই ছাপায় ও তা বিক্রির আশা করে না। এবং বিক্রির আশা করে না, তৎসত্ত্বেও বই ছাপায়! সাম্প্রতিক ‘পিওডি’ জমানার পঞ্চাশ কপি প্রিন্ট রানের স্বর্ণযুগে আমাদের এই প্রবণতা গ্রন্থের মতো ‘ভারী’ বস্তুটিকে প্রায় ‘খেলনা’ করে তুলেছে। অথচ পেশাদারিত্ব বিষয়টিকে সদর্থে গ্রহণ করতে পারলে অতিপ্রজ অবস্থান ছেড়ে হয়তো আমরা অনেক দিনই বেরিয়ে আসতে পারতাম। এত এত ছাপা পাতায় বাজার গিজগিজ করত না। এবং ভালো বই হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কমত। বিক্রি বাড়ত। মাগনার সৌজন্য কপিও বিলোতে হত না। সবচেয়ে বড়ো কথা, পরিশ্রমের বিনিময়ে পারিশ্রমিক চাইতে লেখকেরও কোনো কুণ্ঠা কাজ করত না। বস্তুত, চাওয়ার প্রসঙ্গই আসত না, এটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ারই অংশ হয়ে উঠতে পারত। তা হতে পারেনি, বিশেষত কবিতার বইপত্রের ক্ষেত্রে তো বটেই। অবশ্য তার নেপথ্যে প্রকরণগত কারণে জনসাধারণের কাছে কবিতার গ্রহণযোগ্যতা কম হওয়ারও একটা দিক রয়েছে। আরও নানা কারণ থাকতে পারে; তবু এ-কথা অস্বীকার করা যায় না যে লেখার বিনিময়ে একজন লেখক বা কবির যে-রয়্যালটি পাওয়ার কথা, তা যত সামান্যই হোক-না-কেন, তা তাঁর হিসেবের ভিতরে থাকা প্রাপ্যই। কিন্তু কোনও লেখক, শিল্পী বা স্রষ্টার কাছে পুরস্কার হল হিসেবের অতিরিক্ত পাওয়া। পুরস্কারের হাতছানি সামনে রেখে কবিতা লেখা তো দূরস্থান, প্রকাশিতব্য বইয়ের জন্য পাণ্ডুলিপি প্রস্তুতির কাজও চালানো যায় বলে মনে হয় না।

তবে সবকিছুর পর কেউ যদি নির্বাচিত হন কোনও পুরস্কার বা সম্মাননার জন্য, তা গ্রহণ করা-না-করা সম্পূর্ণত ব্যক্তিগত ব্যাপার। এমনকী, পুরস্কারের খবরে কবি নির্বিকারচিত্ত থাকবেন, না কি উৎফুল্ল হবেন, তা নিয়েও কিছু বলা চলে না। এ-ও বিবেচনায় রাখা দরকার, অর্থমূল্য অত্যন্ত জরুরি ঠিকই, কিন্তু ক্ষেত্র-বিশেষে আন্তরিকতা ও প্রয়াসের গুরুত্ব এই নগদ অর্থের বিপরীতে দাঁড়িয়ে কাউকে অধিকতর সম্মানিতও করতে পারে। অথচ সমস্যা হয়, যখন সেই প্রাপ্য সম্মানের বিচার না করেই আলোকিত মঞ্চ আর ঠুনকো পদকের মোহে আমরা লোলুপ হয়ে পড়ি। এমনকী ইদানীং এও তো শুনি, নিজেই নিজেকে পুরস্কৃত করার জন্যও নাকি গোপন আয়োজনের ঘুঁটি সাজানো হয়! দিনান্তে কী যে মেলে এইসবে, তা সে-পথের পথিকেরাই সম্যক বলতে পারবেন।

শুরুতে যে-প্রশ্নের কাছে গিয়েছিলাম, শেষে পুনরায় সেই দিকেই ফিরে আসি। কবিতা লিখে কবি কী পেতে চান? শুধুই কি অন্তরের তাড়না থেকে পরিতৃপ্তি? স্রেফ কিছু রয়্যালটি? না কি গোপন মনোবাসনায় যশ, খ্যাতি, মোটা অঙ্ক? না। সব শেষে কবির চাহিদা থাকে আসলে একটিই—তাঁর সৃষ্টির অমরত্ব। থেকে যাওয়া। কালোত্তীর্ণ হওয়া। কেউ কেউ শুধু কালি-কলমেই সে-কাজ সেরে ফেলতে পারেন। সকলে নয়। অথচ অমরত্বের প্রত্যাশা বেঁচে থাকে জিয়ল মাছের মতো। ছায়াঘন সেই আশা আর চরম অসহায়তার যুগলবন্দি থেকেই তখন জন্ম নেয় বিবিধ বাজারি ধুমচুম, হইহল্লা— যেনতেন টিকে থাকার কর্মসূচি। অথচ কবিতার সঙ্গে সেসবের সংযোগ কতটুকুই-বা! কবির জীবনধারণের জন্যও যেমন পুরস্কার বা প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতির হয়তো প্রয়োজন আছে। কিন্তু তার সঙ্গে কাজের মহত্ত্বের বা কালোত্তীর্ণ হতে পারার কোনও সম্পর্ক নেই। অমরত্বের তো নেই-ই।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

কেতকী কুশারী ডাইসনের গবেষণায় রবীন্দ্রনাথের বর্ণান্ধতা: কবির দেখা রঙের পৃথিবীটা কেমন ছিল?

Ketaki Kushari Dyson about Rabindranath Tagore color blindness: ডাইসনের ক্ষেত্রে একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ‘রঙের রবীন্দ্রনাথ’-এর ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তরুণ বয়সে তাঁর নিজের দৃষ্টিশক্তি গুরুতর সংকটের মুখে পড়েছিল। ডাইসনের নিজের বিবরণ অনুযায়ী ১৯৫৯-৬০ সালে তাঁর চোখে দুটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচার হয়।

‘ভারতের সঙ্গে খাপ খায় না ধর্মনিরপেক্ষতা’: মোহন ভাগবতের দাবি কতটা সত্য?

Mohan bhagwat's anti secularism: উজ্জয়নীর যুব ধর্ম সংসদে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতা পশ্চিমা ধারণা, ভারতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর সঙ্গে এটি খাপ খায় না। সত্যিই কি তাই? মোহন ভাগবতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর যুক্তি এবং আরএসএসের ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে অবস্থানের প্রেক্ষিতে নিবেদিতা মেননের ‘মিসডিরেকশন’ তত্ত্ব কী প্রশ্ন তুলছে?

পাতে মাছ, হাতে ‘সনাতনী’ সার্টিফিকেট, কোনটা চায় বাঙালি?

Dhirendra Shastri fish meat controversy: বিতর্কের সূত্রপাত বাগেশ্বর ধামের ধর্মগুরু ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর মন্তব্যে। তিনি সম্প্রতি বাংলায় এসে দুর্গাপুজোর সময় হিন্দু বাঙালিদের মাছ-মাংস না খাওয়ার আহ্বান জানান। আমিষাশী হিন্দু বাঙালিদের ‘পাখণ্ডী’ বিশেষণ উপহার দেন।

ছবির পরিকল্পনা থেকে পলিফোনিক সুর: মণিদার যে কাজগুলি শেষ পর্যন্ত হলো না

Gautam Chattopadhyay: একদিন মণিদা বলল, ‘চল তো, জয়ন্ত বোসের বাড়ি যাব। ওকে দিয়ে ছবিতে একটা পলিফোনিক আবহ সংগীত তৈরি করাব।’ তখন আমরা দূরদর্শনের জন্য ‘মহুয়া সুন্দরী’ তৈরি করছি—ময়মনসিংহ গীতিকার একটি জনপ্রিয় লোকপালা।

এক রাজকন্যার স্মৃতি যেভাবে হয়ে উঠল রাঢ় বাংলার মেয়েদের নিজস্ব উৎসব

Bhadu Festival: অবিভক্ত মানভূম জেলার পঞ্চকোটের রাজা নীলমণি সিংহদেবের অপরূপা কন্যা ভদ্রেশ্বরী দেবীর অনূঢ়া অবস্থায় অকালে মৃত্যু ঘটে। রাজকন্যার এই আকস্মিক প্রয়াণে রাজার সঙ্গে প্রজাসাধারণও শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে। কন্যার স্মৃতি অমলিন রাখতে শোকার্ত রাজা রাজ্যজুড়ে এক বিশেষ উৎসব পালনের নির্দেশ দেন।

আলো দিয়ে অন্ধকার দেখাতেন, ব্যঙ্গ দিয়ে সমাজের মুখোশ খুলে দিতেন গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর

Gaganendranath Tagore: আধুনিক ভারতীয় শিল্পের প্রেক্ষাপটে গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান বুঝতে হলে তাঁকে কেবল ‘ঠাকুরবাড়ির মানুষ’ হিসেবে দেখলে চলবে না; বিচার করতে হবে একজন অনুসন্ধিৎসু ও আধুনিক শিল্পী হিসেবে।

বুদ্ধের হাত, বিশ্বকর্মার যন্ত্র! ইলোরার ১০ নম্বর গুহায় আসলে কে বসে আছেন?

The caste history of vishwakarma's: ইলোরার 'সুতারের ঝোপড়ি' থেকে আধুনিক কারিগরের কর্মশালা, বিশ্বকর্মার হাজার বছরের যাত্রা আজও অব্যাহত। ইলোরার দশ নম্বর গুহায় বুদ্ধের মূর্তিকে ভক্তরা ডাকেন বিশ্বকর্মা বলে, যিনি কারিগরদের পূর্বপুরুষ, দেবতাদের স্থপতি। ঋগ্বেদের 'সর্বকর্তা' থেকে পুরাণের 'দেবশিল্পী', ব্রাহ্মণত্বের দাবি থেকে ওবিসি সংরক্ষণ—বিজয়া রামাস্বামী, জ্যান ব্রাউয়ার ও কিরিন নারায়ণের গবেষণায় উন্মোচিত হয়েছে, বিশ্বকর্মাদের ঘিরে গড়ে ওঠা বর্ণবাদ, কারিগরি ও ক্ষমতাকাঠামোর জটিল ইতিহাস।

লেপচাদের দার্জিলিং যেভাবে হয়ে উঠল ব্রিটিশদের শৈলশহর

Darjeeling history: ভারতের প্রথম ‘জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন’ (জিআই) ট্যাগ প্রাপ্ত পণ্য বিশ্বখ্যাত ‘দার্জিলিং টি’। অথচ এই চা গাছ কিন্তু দার্জিলিং-এর ‘ভূমিপুত্র’ নয়। সাহেবরা নিজেদের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে শান দিতেই এখানকার আদি বাস্তুতন্ত্রের খোলনলচে বদলে দিয়েছিল। দেশীয় বনভূমি ধ্বংস করে পাইন আর চা রোপণের মাধ্যমেই জন্ম নিয়েছিল আধুনিক পর্যটন মানচিত্রের এই ‘খাদের ধারের দার্জিলিং’।