মঙ্গল আর বৃহস্পতির মাঝে রহস্যময় 'সুপার-আর্থ'! পৃথিবীকে নিশ্চিহ্ন করে দেবে এই গ্রহই?

Super Earth: বৃহস্পতি হচ্ছে সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ। পৃথিবীর তুলনায় প্রায় ৩১৮ গুণ বড় এটি

inscript
৩ মিনিট
মঙ্গল আর বৃহস্পতির মাঝে রহস্যময় 'সুপার-আর্থ'! পৃথিবীকে নিশ্চিহ্ন করে দেবে এই গ্রহই?

নবগ্রহ থেকে কান ধরে বের করে দেওয়া হয়েছে প্লুটোকে। এখন আটটি গ্রহ নিয়ে সৌর জগতের সংসার। সৌরজগতের ব্যাপ্তি লিখে শব্দ খরচা অহেতুক। সেই বিপুল বিশ্বের এই একটি সংসারে সামান্য বদল হলেই তোলপাড় পড়ে যায়। একটি মাত্র গ্রহে রয়েছে মানুষ, সেই মনুষ্যজাতির অস্তিত্বই পড়ে সংকটে। সৌর জগতের গঠন এবং বিবর্তন নিয়ে এখনও ঢালাও গবেষণা চলছে। আটটি গ্রহ সূর্যকে ঘিরে ঘুরে চলেছে ঠিকই, তবে এর মাঝেও রয়েছে অনাবিষ্কৃত নানা বিষয়। রয়েছে এমন কিছু পদার্থের বা অংশের উপস্থিতি যা এখনও ব্যাখ্যাতীত। এমনই একটি বিষয় হচ্ছে 'সুপার-আর্থ'! মানে পৃথিবী ছাড়াও রয়েছে অন্য এক পৃথিবী?

গবেষকরা একটি গবেষণায় দেখেছেন যে মঙ্গল এবং বৃহস্পতি গ্রহের মধ্যে একটি সুপার-আর্থ রয়েছে। সে থাকলে অসুবিধা বিশেষ ছিল না। কিন্তু দেখা যাচ্ছে এই সুপার আর্থ আমাদের গোবেচারা পৃথিবীকে সৌরজগতের বাইরে ঠেলে ফেলে দিতে পারে। মানে, এই একরত্তি গ্রহের সমস্ত জীবন নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। সুপার-আর্থ হচ্ছে এমন গ্রহ যেগুলি পৃথিবীর চেয়ে বিপুল ও বিশাল কিন্তু নেপচুন এবং ইউরেনাসের মতো বরফের দৈত্যের চেয়ে হালকা।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ভেঙে পড়ল সূর্যের এক জ্বলন্ত অংশ! ছিটকে আসবে কি পৃথিবীর দিকেই?

Sun Breaks Off: সৌরশিখা হলো সূর্যের পৃষ্ঠ থেকে বাইরের দিকে প্রসারিত একটি বড় উজ্জ্বল অংশ।

বিজ্ঞানীরা একটি বিষয়ে বিভ্রান্ত হয়েছেন। এ যাবৎ যেসব নক্ষত্র জগৎ খুঁজে পাওয়া গিয়েছে তার মধ্যে সুপার-আর্থ আছে ঠিকই। তবে তার বেশিরভাগেরই আকার বিশাল টেরেস্টিয়াল ও গ্যাসীয় গ্রহের আকারের মাঝামাঝি। আমাদের সৌরজগতে কিন্তু এমন কিছুই ছিল না। আবার এদিকে, বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে মঙ্গল গ্রহ এবং বৃহস্পতির মধ্যেকার লক্ষ লক্ষ কিলোমিটার জুড়ে এমনই কিছু খুঁজে পাওয়ার আশা করছেন, যেখানে অন্য কিছুই আর নেই।

"সৌরজগতের স্থাপত্য এবং পৃথিবীর বিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে এই বোঝাপড়াটিই। গ্রহ বিজ্ঞানীরা প্রায়ই চান যেন দু'টি গ্রহের মধ্যে কিছু থাকে। এটিকে নষ্ট রিয়েল এস্টেটের মতো মনে হয়," বলছেন ইউসিআর অ্যাস্ট্রোফিজিসিস্ট স্টিফেন কেন। গবেষকরা মঙ্গল এবং বৃহস্পতির মধ্যে একটি গ্রহের গতিশীলতাকে নানাভাবে খতিয়ে দেখে অন্যান্য সমস্ত গ্রহের কক্ষপথের উপর এর প্রভাব পর্যবেক্ষণ করেছেন। গবেষকরা দেখেছেন, এই সুপার আর্থ কেবল পৃথিবী নয়, সৌরজগতের জন্যও বিপর্যয়কর।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
এমনও সম্ভব! পৃথিবীতে বাক্সের মধ্যে তৈরি হল সূর্য, অসাধ্যসাধন বিজ্ঞানীদের

Nuclear Fusion: মানবজাতি যে পদ্ধতিতে পরমাণু বোমা বানিয়েছে বা পরমাণু চুল্লিতে শক্তি উৎপাদন করেছে তার একেবারে বিপরীত এই প্রযুক্তি।

প্ল্যানেটারি সায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছে, এই গ্রহটি অর্থাৎ এই সুপার আর্থ বৃহস্পতিকে তার কক্ষপথ থেকে সরিয়ে দেবে এবং এটি সৌরজগতকে অস্থিতিশীল করে তোলার জন্য যথেষ্ট বড় একটি বিষয়। এই সুপার আর্থ গ্রহটি বৃহস্পতিকে যদি ধাক্কা মারে তাহলে সেই ধাক্কার চোট গিয়ে পড়বে পৃথিবীর উপরেও। মুহূর্তে টালমাটাল হয়ে যাবে এই সৌরজগৎ। অনেক জ্যোতির্বিজ্ঞানীই চান, আরও একখানা অতিরিক্ত গ্রহ থাকলে ভালো হতো। থাকলে যে কী হতে পারে তার আশঙ্কাটাই ভয়াবহ। তবে আশার কথা হচ্ছে, এই সুপার আর্থ সংক্রান্ত গবেষণা সবটাই হাইপোথেটিক্যাল। মানে সুপার আর্থ আছে এমনটা ধরে নিয়ে গবেষণা চলছে। আসলে এমন কোনও অতিরিক্ত গ্রহ আমাদের সৌরজগতে নেই।

বৃহস্পতি হচ্ছে সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ। পৃথিবীর তুলনায় প্রায় ৩১৮ গুণ বড় এটি। বৃহস্পতির মাধ্যাকর্ষণ ক্ষেত্রও তাই বিশাল। কোনও সামান্যতম বস্তুও যদি বৃহস্পতির কক্ষপথে সামান্য ব্যাঘাত ঘটায় তাহলে আমাদের সৌরজগতের রুটিন এক্কেবারে ঘেঁটে যাবে। গবেষকরা বলছেন, এই সুপার আর্থ বুধ এবং শুক্রকে তাদের কক্ষপথ থেকে ছিটকে বের করে দিতে পারে এবং ইউরেনাস আর নেপচুনের কক্ষপথকেও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।

আর পৃথিবী যদি একবার নিজের কক্ষপথ থেকে ছিটকে বেরিয়ে যায় তবে সর্বনাশ। সূর্যকে ঘিরে যদি আর পৃথিবী না ঘোরে, তবে পৃথিবীর পরিবর্তিত কক্ষপথ এই গ্রহকে আর বাসযোগ্য রাখবে না। সৌরজগৎ আসলে অদ্ভুত এক সূক্ষ্ম সুরে বাঁধা। যেন এক বিশাল ঘড়ি, তার অজস্র নাটবল্টু, অজস্র তার, অনন্ত চাকা। সবটা এক নির্দিষ্ট সুরে বাঁধা। কোথাও যদি ক্ষুদ্রতম নাটবল্টুটিও আলগা হয়ে যায় তাহলে ভেঙে পড়বে সবটাই। তাই সুপার আর্থ এসে যে আমাদের এই সাধের গ্রহটিকে চিরকালের মতো বাতিল করে দেবে না এমন নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না, বরং উল্টোটাই বেশি সম্ভবপর।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

AI-এর যুগে মানুষ কি নিজের বুদ্ধিটাই মেশিনের হাতে তুলে দিচ্ছে?

Artificial Intelligence: ছোটবেলায় অনেকেই ভাবত রোবট এসে মানুষের কায়িক শ্রমের কাজগুলি করে দেবে। মানুষ অবসর পেয়ে গান শুনবে, কবিতা লিখবে কিংবা বারান্দায় বসে কফি খাবে। বাস্তবে দেখা গেল ঠিক তার উল্টো চিত্র। রোবট এখন কবিতা লিখছে, ছবি আঁকছে আর কোড তৈরি করছে। অন্যদিকে মানুষ সকাল থেকে রাত ল্যাপটপের সামনে বসে শিখছে প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং।

মহাকাশে রওনা নাসার টেলিস্কোপের, বদলে দিতে পারে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি?

NASA’s Roman Space Telescope: নাসার নতুন ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ বদলে দেবে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি? হাবল ও জেমস ওয়েবের পর কেন প্রয়োজন হলো এই নতুন মহাকাশ-চোখের? ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জি, গ্যালাক্সি ও এক্সোপ্ল্যানেট সম্পর্কে কি নতুন তথ্য দেবে রোমান? মহাবিশ্বের প্রসারণের ইতিহাস বুঝতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে এই অত্যাধুনিক টেলিস্কোপ?

সৌরপৃষ্ঠ আসলে কেমন? ৩৩ বছর পর মিলল উত্তর

Sun’s surface mystery: সূর্যের পৃষ্ঠকে এতদিন দূর থেকে তুলোর মতো নরম ও শান্ত দেখালেও, তা কি সত্যিই এমন? বিশ্বের বৃহত্তম সৌর টেলিস্কোপ ড্যানিয়েল কে ইনোয়ের তোলা সর্বোচ্চ-রেজোলিউশনের ছবিতে দেখা গেল ছোট ছোট হিংস্র প্লাজমার ঘূর্ণি। ৩৩ বছর আগে করা জোয়ান কার্পেনের সেই ভবিষ্যদ্বাণী কি অবশেষে সত্যি প্রমাণিত হলো? এই আবিষ্কার কি বদলে দেবে সৌরপৃষ্ঠ সম্পর্কে ধারণা?

৩ অগাস্ট থেকে বদলে যাচ্ছে শেয়ার বাজারের নিয়ম!

Stock Market India: নতুন ব্যবস্থার অধীনে শেয়ার বাজার বন্ধের সময়কে তিনটি আলাদা অংশে ভাগ করা হয়েছে। তবে নন-এফএন্ডও (Non-F&O) স্টকগুলির ক্ষেত্রে আগের মতোই বিকেল ৩:৩০টা পর্যন্ত স্বাভাবিক লেনদেন চালু থাকবে, এতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। কিন্তু এফএন্ডও স্টকগুলির ক্যাশ মার্কেটে প্রতিদিন একটানা লেনদেন চলবে বিকেল ৩:১৫ মিনিট পর্যন্ত।

আইআইটি-র দুই প্রাক্তনীর বৈদ্যুতিক কৃষিযন্ত্রে একরপ্রতি খরচ মাত্র ৪০ টাকা

Electric Power Tiller: বাজারে যেসব ট্র্যাক্টর পাওয়া যায়, তা হয় বিশাল বড় জমির উপযোগী, না হয় কেনা ও চালানো দুটোই খুব ব্যয়বহুল। ভারতে ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ কৃষকের জমিই ছোট ও খণ্ড-বিখণ্ড, যেখানে বড় যন্ত্র ঢোকানোই সম্ভব নয়। আবার চিন থেকে আমদানি করা ছোট ছোট সস্তা মেশিনগুলিতে যন্ত্রাংশ ও সার্ভিসিংয়ের চূড়ান্ত সমস্যা তৈরি হয়। তাই বিদেশ থেকে আমদানির কথা না ভেবে, আইআইটি বোম্বের দুই প্রাক্তনী ঐশ্বর্য রামকৃষ্ণন ও কেদার গোখলে সিদ্ধান্ত নেন খাঁটি দেশীয় প্রযুক্তিতে ভারতের মাটির উপযোগী সমাধান তৈরি করার।

মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেও উষ্ণ থাকে সোনাম ওয়াংচুকের বাড়ি

Sonam Wangchuk House: সোনম ওয়াংচুক মানেই পাহাড়ঘেরা লাদাখের ছবি, বরফে ঢাকা জীবন আর নতুন এক ভাবনার আলো। পেশায় তিনি একজন প্রকৌশলী, শিক্ষাবিদ এবং উদ্ভাবক। কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে তিনি যেন রূপকথার সেই মানুষটি, যিনি পাহাড়ের রুক্ষ জীবনের কঠিন সমস্যাগুলিকে বিজ্ঞানের সহজ ছোঁয়ায় অত্যন্ত সহজ করে তুলেছেন।

মহাকাশে মিলল চিনির সন্ধান, কেন গুরুত্বপূর্ণ এই আবিষ্কার?

natural sugar in space: ছায়াপথের কেন্দ্রের একটি আণবিক মেঘে প্রথমবারের মতো প্রকৃত মনোস্যাকারাইড ‘এরিথ্রুলোজ’-এর সন্ধান পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। এই আবিষ্কার জানাচ্ছে, নক্ষত্র ও গ্রহ তৈরির আগেই মহাকাশে জটিল জৈব অণু তৈরি হতে পারে। ফলে পৃথিবীতে প্রাণের উৎপত্তি এবং মহাবিশ্বে জীবনের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে গবেষণার আগ্রহ বেড়েছে।

কর্মদক্ষতা মাপল এআই, চাকরি হারালেন কর্মীরা? মেটার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মামলা

Meta mass layoffs: কর্মীদের ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত কি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নেবে? মেটার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় অভিযোগ, এআই-নির্ভর মূল্যায়নের কারণে মাতৃত্বকালীন ও চিকিৎসাজনিত ছুটিতে থাকা কর্মীরা অন্যায্যভাবে চাকরি হারিয়েছেন।