‘পঙ্গু’ করা হল তসলিমা নাসরিনকে, কীভাবে কর্পোরেট দালালে পরিণত হলেন স্বয়ং ডাক্তার

Taslima Nasrin : “অপারেশান এক্ষুনি না করলে প্রব্লেম”, ইচ্ছের বিরুদ্ধেই হাঁটু বদল হল তসলিমার

Kankana Mukherjee
৪ মিনিট
‘পঙ্গু’ করা হল তসলিমা নাসরিনকে, কীভাবে কর্পোরেট দালালে পরিণত হলেন স্বয়ং ডাক্তার

‘নি রিপ্লেসমেন্ট’, শব্দটি আজকাল খুবই পরিচিত। আশেপাশের বাড়িতে একটু খোঁজ নিলে সহজেই দু-একজনকে পাওয়া যাবে, যাঁরা এই বিষম পদ্ধতিটির মধ্যে দিয়ে গিয়েছেন। সহজভাবে বলতে গেলে হাঁটু বদলে ফেলা। একটা সময় এই কথাটা শুনলেই রীতিমত আঁতকে উঠতে হতো, নিজের হাঁটু তা কিনা বদলে ফেলা হবে, ভাবা যায়? হ্যাঁ ভাবা যায়,আজকাল অবশ্য একটু বেশি করেই ভাবা যায়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের 'উন্নতি' আমাদের এমন জায়গায় নিয়ে গিয়েছে যাতে এ ঘটনা একেবারেই মামুলি বিষয়। পান থেকে চুন খসলেই, অর্থাৎ হাঁটু সামান্য বেগরবাই করলেই কেটে ফেলো, বাজারে এখন কিনতে পাওয়া হয় কৃত্রিম হাঁটু, জুড়ে দিলেই খেল খতম।

বিষয়টা শুনতে যতটা সহজ লাগছে আদপেও কি ঠিক তাই? একটা ধার করা, কেনা হাঁটু কি আদৌ আগের মত হাঁটতে, ছুটতে, লাফাতে পারে? প্রশ্নগুলো আগে থেকেই ছিল। সাম্প্রতিক একটি ঘটনা নতুন করে চোখ খুলে দিয়েছে সমাজের। গত দুইদিন ধরে নেট মাধ্যমে ঘুরে ফিরে আসছেন তসলিমা নাসরিন। চিরকালই বিতর্কিত বলে পরিচিত এই মানুষটি আবারও নতুন একটা বিতর্ক সামনে এনেছেন। ফেসবুক বিবৃতিতে তিনি লেখেন - “এক মুহূর্তে একটি মৃত্যু ঘটেছিল। সেই মৃত্যু আমার উচ্ছল উজ্জ্বল জীবনকে গ্রাস করে নিয়ে একটি স্তব্ধ স্থবির জীবন ফেলে রেখে গেছে। এই জীবনটি আমার নয়, অথচ আমার।” কী সেই এক মুহূর্তের মৃত্যু? কেন এমন কথা বললেন লেখিকা? এই বিষয়ে অবশেষে স্পষ্ট করলেন তিনিই। অভিযোগের তীর সরাসরি বর্তমান সময়ের চিকিৎসা বিজ্ঞান এবং প্রাইভেট হাসপাতালের দিকে। সরাসরি তোপ দেগেছেন তিনি চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে।

দিন কয়েক হল ‘অদ্ভুত’ সব পোস্ট করছিলেন লেখিকা। একেবার লিখছেন মরণোত্তর দেহ দানের কথা, আবার কখনও লিখছেন এক মুহুর্তে মৃত্যু ঘটেছে তাঁর। এ সব নিয়ে শুরু হয়েছিল জল্পনা। তার মধ্যে রবিবার হাসপাতালের বেডে শুয়ে থাকা অবস্থায় ছবি পোস্ট করে সেই জল্পনা আরও খানিকটা বাড়িয়ে দেন তিনি। অবশেষে গতকাল জানা গিয়েছে আসল কারণ।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
“নিজেকে ভালোবাসো তুমি এবার...”, পরীমনিকে কেন এ কথা বললেন তসলিমা?

Pori Moni: পরীমনির জীবন অনেকটা আমার মতো, বললেন তসলিমা নাসরিন

লেখিকার বয়ান, “হাসপাতালের বেডে আমার শুয়ে থাকার ছবি দেখে অনেকে ভেবেছে আমার বোধহয় হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক হয়েছে। না, সেসব কিছুই হয়নি। সেদিন ওভারসাইজ পাজামা পরে হাঁটছিলাম ঘরে, পাজামা চপ্পলে আটকে গিয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়ে গেলাম। অগত্যা যা করতে হয়, করেছি। হাঁটুতে ব্যথা হচ্ছিল, আইস্প্যাক দিয়েছি, ভলিনি স্প্রে করেছি। মনে হল হাঁটুর লিগামেন্টে হয়তো লেগেছে, কোনও হাসপাতালে গিয়ে এক্সরে করে দেখি কী হলো। গেলাম হাসপাতালে। এক্সরে আর সিটিস্ক্যান করে হাড়ের ডাক্তার বলে দিলেন পায়ের ফিমার নামের হাড়টির গলায় একখানা ক্র্যাক হয়েছে। এর চিকিৎসা কী, চিকিৎসার জন্য ডাক্তার দুটো অপশান দিলেন, প্রথম অপশান ইন্টারনাল ফিক্সেশান, ফাটলের জায়গাটা স্ক্রু লাগিয়ে ফিক্স করে দেবেন। দ্বিতীয় অপশান হিপ রিপ্লেসমেন্ট, আমার হিপ কেটে ফেলে দিয়ে কিছু প্লাস্টিক মেটাল দিয়ে একটা নকল হিপ বানিয়ে দেবে্ন।”

ঠিক এই অবধি লেখাটা পড়লেই কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে। সামান্য একটা হুমড়ি খেয়ে পড়ে যাওয়া থেকে কিনা এমন বিপত্তি যে একেবারে অস্ত্রোপচার! আমার আপনার মতো সাধারণ মানুষ হলে অবশ্য একরকম ছিল কিন্তু তসলিমা নাসরিন যে নিজেও পেশায় একজন ডাক্তার। চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিষয় তিনিও তো খানিকটা অবগত। সেই তিনিও কিনা এক্কেবারে ঘোল খেয়ে গেলেন। ঠিক করে ভাবার অবকাশ অবধি পেলেন না যে কোন অপশনটি বেছে নেবেন। এমনকী তিনি নিজেই জানান যে, তিনি চাননি সার্জারি করতে, জোর দিয়ে বেছে নিয়েছিলেন, “ফিক্সেশান করবো”। কিন্তু ঘটনাপ্রবাহ সে সব কিছুকে তোয়াক্কা করলে তো! অতঃপর হাঁটু বদল, কেনা হাঁটু লাগানো হল তসলিমার শরীরে। আর এর জেরেই নিজেকেই “পঙ্গু” বলে দাবি লেখিকার।

চিকিৎসা, স্বাস্থ্য, এ তো জরুরি পরিষেবা, আর ডাক্তার? তিনি তো ভগবান! এমন বিশ্বাসই মনে মনে পোষণ করেন সাধারণ মানুষ। তাহলে এ কোন সময়ে দাঁড়িয়ে রয়েছি আমরা? যেখানে রক্ষকই কিনা ভক্ষক! জীবন বাঁচানোও এখন কেবল পয়সার খেলা। চিকিৎসা এখন বড় ব্যবসা। দেশের জরুরি পরিষেবার সরকারি পরিকাঠামো ধুঁকছে, আর সেই সুযোগে ব্যবসা ফেঁদে বসেছে কিছু পয়সালোভী পিশাচের দল। স্বাস্থ্য পরিষেবাতেও কোনও ছাড় নেই। মানুষের জীবন নিয়ে বড় রকমের একটা খেলা চলছে। পশ্চিমবঙ্গের দিকে তাকালেও তো স্পষ্ট এই একই ছবি। হাতে গোনা কয়েকটা সরকারি হাসপাতাল, তাও কেবল কলকাতায় কুক্ষিগত। জেলার হাসপাতালগুলোর কথা যত না বলা যায় ততই ভালো। সেখানে না আছে যন্ত্রপাতি, না আছে ভালো ডাক্তার। আর কলকাতায় গুটিকয়েক যে কজন ভালো ডাক্তার আছেন, এই বিপুল পরিমাণ রোগীর কাছে তারা নেহাৎই তুচ্ছ। প্রতিদিন সকাল থেকে লম্বা লাইন পড়ে সরকারি হাসপাতালের ওপিডি-তে। এই এত রোগীকে সামাল দেওয়ার জন্য না আছে পরিমিত ডাক্তার, না আছে বেড। এমনকী মাটিতে পড়ে থাকতে হয় মুমূর্ষু রোগীদের। আর এই বিষম পরিস্থিতি থেকে পালিয়ে বাঁচতে অগত্যা বেসরকারি হাসপাতাল।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মেসি হোক বা পেনাল্টি, ফেসবুকেই বিশ্বকাপ খেললেন তসলিমা

FIFA World Cup 2022 : প্রত্যেকেই ফুটবলের উত্তাপে গা সেঁকছেন। তসলিমা নাসরিনও সেই আবহেই আছেন। বলা ভালো, একটু বেশিই আছেন।

ব্যাস এখানেই শুরু ব্যবসা। বেড ভাড়া থেকে শুরু করে ওষুধ, খাবার, ডাক্তার সবকিছুর জন্য আলাদা আলাদা মূল্য ধার্য করা। সেসব দিয়েও মুক্তি নেই, এরপর শুরু হয় আসল ব্যবসা। যেন কোনও হাসপাতাল নয়, খোদ বাজার।

হার্টের অবস্থা খুব খারাপ এক্ষুনি স্টেন বসাতে হবে নাহলে মৃত্যু অবধারিত, কিংবা রোগীর অবস্থা খুব খারাপ এক্ষুনি ভেন্টিলেশনে দিতে হবে নাহলে বাঁচানো যাবে না, এরকম একের পর এক ভয় দেখিয়ে চিকিৎসা নিয়েও চলে ব্যবসা। আর এরই একটার সম্প্রতি শিকার হয়েছেন লেখিকা তসলিমা নাসরিন। তিনি বারবার বললেন হাঁটুতে ফিক্সেশান করাবেন, অথচ কিছুতেই রাজি হলেন না স্বয়ং সার্জেন। ক্রমশ বোঝাতে লাগলেন, “ফিক্সেশানে সবসময় ফিক্স হয় না, ৮০% কাজ হয়, কিন্তু ২০ % ফেইল করে”। একটা অদ্ভুত ভয়ের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হল লেখিকাকে। হাসপাতালের সকলেই দাগিয়ে দিতে থাকলেন উনি ‘বড় সার্জেন’, তাই এটাই করতে হবে। এমনকী তসলিমাকে দ্বিতীয় কারোর সঙ্গে আলোচনা করার সুযোগও কার্যত দিল না বেসরকারি হাসপাতাল। “অপারেশান এক্ষুনি না করলে প্রব্লেম, ইনফেকশান হয়ে যাবে”, ক্রমাগত একটা মানসিক চাপের মধ্যে পড়েই অগত্যা ইচ্ছের বিরুদ্ধেই হাঁটু বদল হল তসলিমার।

তসলিমা লিখছেন, “আমার হিপ জয়েন্ট কেটে ফেলে দিয়ে টোটাল হিপ রিপ্লেসমেন্ট করা হলো। একটা পঙ্গু মানুষের জীবন আমাকে দেওয়া হলো।” এই সাইক্লিং করছেন, সুইমিং করছেন, ট্রেড মিল করছেন, ছুটছেন, দৌড়চ্ছেন, এমনটাই অ্যাকটিভ একজন মানুষ তসলিমা, সেই তসলিমাকে হাসপাতাল থেকে স্বান্তনা দেওয়া হল, “চিন্তার কিছু নেই, তুমি হাঁটতে পারবে।” আর দেওয়া হল একগাদা রেস্ট্রিকশন।

এই গোটা ঘটনা যেন নতুন করে চোখ খুলে দেয়, বর্তমান সমাজের অবক্ষয় চোখে আঙুল দিয়ে দেখায়। একটা বেসরকারি হাসপাতাল মানেই একটা বিশাল দালাল চক্র। একটা বড় ব্যবসা। আর এই ব্যবসার দায় সরকারেরও। সরকারি পরিষেবা যতদিন না আশার আলো দেখাতে পারবে ততদিন রমরমিয়ে চলবে স্বাস্থ্য নিয়ে ব্যবসা। আর এই ব্যবসার জেরেই ভগবানের আসন থেকে ক্রমশ আরও আরও নেমে আসবে ডাক্তার পেশাটি।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

চিনির বিকল্প স্টেভিয়া! ঘরের বাগানে রাখা যায় যে ‘মধু পাতা’

Stevia benefits: গাছ থেকে সদ্য তোলা কাঁচা পাতা কিংবা রোদে শুকিয়ে নেওয়া পাতা সরাসরি চা বা যেকোনো পানীয়ের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়। এতে চিনির মতো একই রকম মিষ্টতা পাওয়া যায়। স্টিভিয়ার নির্যাস থেকে তৈরি মিষ্টান্ন ডায়াবেটিস রোগীরা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধির ঝুঁকি থাকে না বললেই চলে।

ফুটপাথের ধারের সেই খাবার যেভাবে হয়ে উঠল কলকাতার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

Kolkata Street food history: সুতানুটি-গোবিন্দপুর-কলিকাতার শ্রমজীবী মানুষের তৃপ্তির জন্য জন্ম হয়েছিল ফুটপাতের খাবারের। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের 'সংবাদ প্রভাকর' থেকে হুতোম প্যাঁচার নকশা, এফএও সমীক্ষা থেকে এফএসএসএআই আইন হয়ে ২০২৫ সালে রাসেল স্ট্রিটে প্লাস্টিক-মুক্ত ফুড হাবের জন্ম। কলকাতার স্ট্রিট ফুড আজও এই শহরের প্রাণ। এই শহরের অন্যতম ঐতিহ্য।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি কেন আরশোলার মৃত্যুতে দুঃখ পেয়েছিলেন?

Sanae Takaichi cockroach story: ঘটনাটি আপাতদৃষ্টিতে খুব সাধারণ। সরকারি বাসভবনে গভীর রাতে একা কাজ করতে গিয়ে তিনি একটি আরশোলা দেখতে পেয়েছিলেন। সচরাচর আরশোলা দেখলে তিনি চিৎকার করে ওঠেন, কিন্তু সেদিন তিনি সেটিকে মারেননি।

স্ট্রেস কি সবসময় খারাপ? কখন স্বাভাবিক চাপ হয়ে ওঠে মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি?

mental stress: একটি ইঁদুরের উপর পরীক্ষা করতে গিয়ে তারা দেখেছেন, একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত ইঁদুরটির মধ্যে স্ট্রেস বাড়ানোর সঙ্গে তার কাজকর্মের মান আরও উন্নত হয়েছে। কিন্তু নির্দিষ্ট সীমা পার করবার পর পরই তার ফলাফল করার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা ক্রমশ কমতে কমতে শেষে সেটা প্রায় শূন্যতে নেমে গিয়েছে।

নিজের সর্বস্ব দিয়ে হাসপাতাল গড়েছিলেন রাধাগোবিন্দ কর

History of RG Kar Medical College and Hospital: আজ যে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল বারবার খবরের শিরোনামে, তার দীর্ঘ ইতিহাস কী? কে ছিলেন রাধাগোবিন্দ কর, যিনি নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে গরিব মানুষের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল গড়ে তুলেছিলেন? প্লেগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বাংলায় চিকিৎসাবিজ্ঞান চর্চা ও সমাজসেবায় তাঁর অবদান আজ কতটা মনে রাখা হয়েছে?

হিরোশিমা-নাগাসাকির আগুন থেকে বেঁচে যাঁরা, কেমন ছিল তাঁদের পরের জীবন?

Hiroshima, Nagasaki: বিস্ফোরণের বহু বছর পর এমিকোর ঘরে মেয়ে এল, আর তারও পর জন্ম নিল এমিকোর নাতনি কাজুমি কুওয়াহারা। নবজাতক নাতনিকে দেখে চিকিৎসকেরা পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, "এই বাচ্চা তিন দিনের বেশি বাঁচবে না।" জিনের ভিতরে লুকিয়ে থাকা কোনো অজানা দুর্বলতা যেন জন্ম থেকেই জাপটে ধরেছিল ছোট কাজুমিকে।

কেন কম ঘুমেও কেউ সুস্থ, কেউ হারাচ্ছেন স্মৃতি? জানালেন গবেষকরা

sleep deprivation and brain health: গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে AQP4 (Aquaporin-4) নামে একটি জিন। এই জিনকে অনেকটা মস্তিষ্কের 'সাফাই কর্মী' বলা যায়। আমরা যখন গভীর ঘুমে থাকি, তখন মস্তিষ্কে শুরু হয় এক বিশেষ পরিষ্কার করার কাজ। সারাদিনে জমে থাকা বর্জ্য এবং আলঝাইমার্স রোগের সঙ্গে যুক্ত ক্ষতিকর প্রোটিন এই সময় ধীরে ধীরে শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে। আর সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজে বড় ভূমিকা পালন করে AQP4 জিন।