দু'বছর পর বেকসুর খালাস, জেল থেকে ছাড়া পাবেন উমর খালিদরা?

Delhi Riot 2020: দিল্লির আদালত ইতিমধ্যেই উমর খালিদদের বেকসুর ঘোষণা করে দিয়েছে। তারপরও অবশ্য জেলে থাকতে হবে এই ছাত্রনেতাদের।।

Aritra Som
৩ মিনিট
দু'বছর পর বেকসুর খালাস, জেল থেকে ছাড়া পাবেন উমর খালিদরা?

২০২০-র ১৩ সেপ্টেম্বরের পর কেটে গিয়েছে দু’বছর। বারবার আদালতে জামিনের আবেদন করেও লাভ হয়নি। তবে এবার খানিকটা স্বস্তি পেলেন উমর খালিদ। ৩ ডিসেম্বর দিল্লির করকরদুমা আদালত প্রাক্তন ছাত্রনেতা খালিদকে বেকসুর খালাস হিসেবে ঘোষণা করেছে। সেইসঙ্গে আরও এক প্রাক্তন ছাত্রনেতা খালিদ সইফিকেও বেকসুর ঘোষণা করেছেন বিচারক। ২০২০ দিল্লি দাঙ্গার সময় পাথর ছোঁড়ার মামলায় এই রায় দেওয়া হল বলে জানা গিয়েছে। এরপরই এই রায়কে ‘সংবিধানের জয়’ বলেছেন খালিদ সইফির স্ত্রী নার্গিস সইফি। অবশ্য বেকসুর খালাস হলেও এখনও জেলেই থাকতে হবে উমর এবং সইফিকে। তাঁদের বিরুদ্ধে ইউএপিএ আইনে রুজু করা মামলার এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। তাই এখনই জেল থেকে মুক্তি পাবেন না এই দুই প্রাক্তন ছাত্রনেতা।

এই সুযোগে আরও একবার চোখ ফেরানো যাক ২০২০-র ফেব্রুয়ারির দিকে। কী হয়েছিল ওইদিন দিল্লিতে? ওই সময় গোটা দেশজুড়ে চলছিল এনআরসি ও সিএএ বিরোধী আন্দোলন। কলকাতা থেকে দিল্লি – নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন অনেকেই। সেই সময় ২৩ ও ২৪ ফেব্রুয়ারি উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে শুরু হয় বিপুল গণ্ডগোল। একদিকে সিএএ আইনকে সমর্থনকারী, অন্যদিকে এই আইনের বিরোধী – এই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সেই সংঘর্ষই বদলে যায় হিন্দু মুসলিম দাঙ্গায়। ২২ ফেব্রুয়ারি জাফরাবাদ মেট্রো স্টেশনের বাইরে প্রায় ১০০০ প্রতিবাদী মানুষ এসে জড়ো হন। সেই দলে মহিলারাও ছিলেন। এর জেরে সিলামপুর, জাফরাবাদ, মৌজপুরের রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। পরের দিন দুপুর নাগাদ ভারতীয় জনতা পার্টির নেতা কপিল মিশ্রা তাঁর সঙ্গীদের নিয়ে মৌজপুরের দিকে রওনা দেন। উদ্দেশ্য ছিল ‘সবক শেখানোর’। তারপরই পরিস্থিতি ভয়ংকর হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ। কারাওয়াল নগর, মৌজপুর চক, বাবরপুরের মতো বেশ কিছু জায়গায় শুরু হয় পাথর বৃষ্টি। সেইসঙ্গে শুরু হয় গাড়ি জ্বালানো, দোকান ভাঙচুর।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
প্রাপ্য শুধুই সহমর্মিতা! উমরের মুক্তি চেয়ে কি আদৌ জোট বাঁধবে দেশ?

Umar Khalid: উমর খালিদের মা সাবিহা খানুম বলেন, “উমর নিজের অসুবিধার কথা শেয়ার করে না। সবসময় হাসিমুখে কথা বলে।”

এর পরের দিন, ২৪ ফেব্রুয়ারি পরিস্থিতি আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে। মুখ ঢেকে, হাতে তরোয়াল নিয়ে হামলা চালায় একদল লোক। শুরু হয় দাঙ্গা। হিন্দু ও মুসলিম – উভয় পক্ষেরই ক্ষয়ক্ষতির সংখ্যা বাড়তে থাকে লাফিয়ে লাফিয়ে। উত্তর-পূর্ব দিল্লির চারটে মসজিদে তাণ্ডব চালানো হয়। আশঙ্কায়, ভয়ে অনেকে ঘর থেকেও পালিয়ে যান। তাঁরা পরবর্তী অনেকগুলো দিন নিজের এলাকায় ফিরতে সাহস পাননি। গেরুয়া ও ‘জয় শ্রী রাম’-এর দাপটের মধ্যেই সিলিন্ডার বিস্ফোরণ করা হয়। এই পুরো ঘটনায় পুলিসের ভূমিকাও বড়সড় সমালোচনার মুখে পড়ে। দিনের শেষে হিসেবে দেখা যায়, দাঙ্গায় ৫৩ জন মারা গিয়েছেন। আহত হয়েছেন ২০০-রও বেশি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বিচারের আগেই মিডিয়া যে ভাবে 'অপরাধী' বানিয়েছে উমর খলিদকে

Umar Khalid: আদালতের রায়ের অপেক্ষা না করে জনমানসে উমরকে তারা দোষী সাব্যস্ত করার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছে বলে মত সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সেই মোতাবেক পদক্ষেপ করার দায়িত্বে থাকা স্বাধীন নিয়ামক সংস্থা ন্যাশনাল ব্রডকাস্টিং অ্যান্ড ডিজিটাল স্ট্যান্ডার্ডস-এর।

সেই সময়ই দিল্লির খাজুরি খাস থানায় জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র উমর খালিদ, খালিদ সইফি সহ আরও কয়েকজনের নামে এফআইআর দায়ের করা হয়। একজন কনস্টেবল বলেন, চাঁদ বাগ পুলিয়ায় একদল উন্মত্ত জনতা পাথর ছুঁড়তে শুরু করেছিল। তারপর দোকান ভেঙে, আশেপাশের মানুষদের মারধোর করে গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়। বলা হয়, এই ঘটনায় উমর খালিদদের প্ররোচনা রয়েছে। পাশাপাশি দিল্লির এই দাঙ্গায়ও এই ছাত্রনেতাদের হাত রয়েছে বলে দাবি করে বিজেপি ও হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীগুলি। তার ভিত্তিতেই তাঁদের গ্রেফতার করা হয়। মোট ২২০০ জনকে এই দাঙ্গায় গ্রেফতার করা হয় বলে জানা গিয়েছিল।

২০২০-র দিল্লির হিংসা ঠিক কী ছিল? সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা? নাকি নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের প্রতিবাদ রুখতে ‘সবক শেখানো’? এই প্রশ্ন বারবার তোলা হয়েছে। শাহিনবাগ ও সিএএ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম মুখ ছিলেন এই উমর খালিদ। সেজন্যই কি তাঁকে দু’বছর ধরে তিহার জেলের ওপারে থাকতে হচ্ছে? দিল্লির এই করকরদুমা আদালতই অক্টোবরে খালিদদের জামিনের আবেদন খারিজ করে। বিচারক জানিয়েছেন, এই মামলার চার্জশিট দেওয়া হয়ে গিয়েছে। তাই অন্যান্য অভিযুক্তদের গ্রেফতার না করা অবধি উমর খালিদদের জেলে বন্দি করে রাখা চলবে না। অবশ্য ইউএপিএ-র গেরোয় এখনও তাঁরা জেলে।

লিখেছেন
Aritra Som
Aritra Som
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আপত্তি, ১০ মাসে দুই কমিশনারের ১৪ বার প্রশ্ন

Election Commission SIR: এসআইআর ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন বলে দাবি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ফর্ম ৬ বদল, ভোটার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীয়করণ, পশ্চিমবঙ্গের আপিল এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি ফের আলোচনায়।