সবুজ রঙের বাজি মানেই কি পরিবেশবান্ধব? জানুন গ্রিন ক্র্যাকারের আসল সত্য

Green Crackers: সাধারণত, পথের ধারে যারা বাজির স্টল দিয়ে থাকেন তাঁদের কাছে এই ধরনের গ্রিন ক্র্যাকার থাকে না। তাই তাঁদের কাছ থেকে সবুজ বাজির আশা না করাই ভালো।

Sourish Das
৫ মিনিট
সবুজ রঙের বাজি মানেই কি পরিবেশবান্ধব? জানুন গ্রিন ক্র্যাকারের আসল সত্য

এক বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আবারও হাজির বাঙালির আলোর উৎসব দীপাবলি। আর কালীপুজো-দীপাবলি বলতেই সবার আগেই মনে পড়ে আতসবাজির খেলা। যদিও এবার কালীপুজোয় পোড়ানো যাবে শুধুমাত্র পরিবেশবান্ধব বাজি। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ২০১৮ থেকেই জারি হয়েছে এই নতুন নিয়ম। দূষণের কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত। আর এই নির্দেশের পরেই দোকানে দোকানে বাড়ছে সবুজ বাজি, অর্থাৎ গ্রিন ক্র্যাকার্স কেনার হিড়িক। গত বছর থেকেই কলকাতার বিভিন্ন বড় বাজিবাজারে হিট হয়ে উঠেছে এই সবুজ বাজি।

এমনিতেই, বায়ু দূষণের ইনডেক্স অনুযায়ী, কলকাতা এই মুহূর্তে ভারতের সব থেকে দূষিত কয়েকটি শহরের মধ্যে একটি। ২০১৭ থেকেই কলকাতার বায়ু দূষিত হতে শুরু করেছিল। আর কালীপুজোর সময় কলকাতার এই দূষণমাত্রা থাকে সর্বাধিক। সেই লক্ষ্যেই কলকাতায় শুরু হয়েছিল এই সবুজ বাজির বিক্রি। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, এই সবুজ বাজি তৈরির প্রথম দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল সিএসআইআরের অন্তর্গত ন্যাশনাল এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট (নিরি)-কে। তাদের ফর্মুলাতে সফলভাবে পরিবেশবান্ধব বাজি বাজারে নিয়ে আসাও হয়েছিল। তবে, সবুজ বাজি বলে দিলেই যে কোনও বাজি সবুজ বাজি হয়ে যায় না; বা রং সবুজ হলেও কোন বাজি হয়ে যায় না গ্রিন ক্র্যাকার।

সাধারণ আতসবাজি এবং গ্রিন ক্র্যাকারের মধ্যে তফাত কী?

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের সঙ্গে কথা বলার সময় পরিবেশ বিজ্ঞানী ড. রবীন্দ্র খাইওয়াল এবং ড. সুমন মোরের বক্তব্য অনুযায়ী, সবুজ বাজি এবং সাধারণ আতসবাজির মধ্যে এটাই প্রধান তফাত যে, সবুজ বাজিতে পরিবেশ বা মানুষের ক্ষতি হয় এরকম পদার্থ কম উৎপন্ন হয়। সাধারণ আতসবাজি পোড়ালে যত পরিমাণ দূষক পদার্থ তৈরি হয়, তার ৩০ শতাংশ কম দূষক পদার্থ তৈরি হয় সবুজ বাজি পোড়ালে। ড. খাইওয়াল বলছেন, "গ্রিন ক্র্যাকার সাধারণত কম ধোঁয়া তৈরি করে এবং পরিবেশের ধুলো কিছুটা হলেও শুষে নেয়। এই ধরনের বাজিতে বেরিয়াম নাইট্রেটের মতো কোনও ক্ষতিকারক পদার্থ থাকে না। এছাড়াও, এই ধরনের বাজিতে কোনও ক্ষতিকারক ধাতু থাকেনা। অপেক্ষাকৃত কম ক্ষতিকারক ধাতু এবং রাসায়নিক পদার্থ দিয়ে এই বাজি তৈরি করা হয়।"

অর্থাৎ সহজ ভাষায় বলতে গেলে, এই ধরনের বাজি পরিবেশের পক্ষে অনেকটাই ভালো এবং তুলনায় অনেক কম পরিমাণ কার্বন ফুটপ্রিন্ট তৈরি করে। সবুজ বাজি এমনিতে সাধারণ আতসবাজির মতোই। শুধু ফারাকটা এই জায়গায় যে, এই ধরনের বাজি মাল্টিফাংশনাল অ্যাডিটিভ, যারা ধোঁয়া কম তৈরি করে।"

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বাবার মৃত্যু থেকে অধিনায়কত্ব বিতর্ক, সব পেরিয়ে যেভাবে প্রত্যাবর্তন বিরাটের

Virat Kohli: ২০১২ সালে জঘন্য একটা আইপিএল মরশুম কাটার পর বোধোদয় ঘটে কোহলির। বুঝতে পারেন, এবারে অধঃপতনের দিকে যাত্রা শুরু করেছেন তিনি।

শুধু তাই নয়, এক একটি শব্দবাজিতে শব্দ দূষণও হয়ে থাকে। প্রায় ১৬০ ডেসিবেল আওয়াজ হয় এক একটি বাজি ফাটলে। যেখানে সবুজ বাজিতে আওয়াজ হতে পারে সর্বাধিক ১১০ ডেসিবেল। ফলে শব্দ দূষণের সম্ভাবনাও অনেকটাই কম থাকে এই সবুজ বাজির ক্ষেত্রে।

কারা তৈরি করেন এই গ্রিন ক্র্যাকার?

নিরির ফর্মুলা অনুযায়ী যদি কেউ সঠিকভাবে গ্রিন ক্র্যাকার তৈরি করতে পারে, তাহলেই আদতে সেটি পরিবেশবান্ধব বাজি হয়ে উঠবে। যেকোনও ধাতু দিয়ে এই ধরনের পরিবেশবান্ধব বাজি তৈরি করা যায় না। তবে নিরি যে ফর্মুলা তৈরি করেছে, তা কিন্তু প্রত্যেক বাজি নির্মাতা ব্যবহার করতে পারেন না। শুধুমাত্র যারা এই বাজি তৈরির লাইসেন্স গ্রহণ করেছে তারাই এই ফর্মুলায় বাজি তৈরি করতে পারেন।

ভারতের সব থেকে বড় বাজি নির্মাতা কোম্পানি সিভাকাসির ১,০০০ জন নির্মাতা এই নিরি অনুমোদিত ফর্মুলা অনুযায়ী বাজি তৈরি করতে পারেন। সাধারণ আতসবাজিতে রংয়ের জন্য ব্যবহার করা হয় নানা ধরনের ক্ষতিকারক ধাতু। সাদা রঙের জন্য ব্যবহার হয় অ্যালুমিনিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং টাইটানিয়াম। কমলা রঙের জন্য ব্যবহার করা হয় কার্বন এবং আয়রন। হলুদ রঙের জন্য ব্যবহার করা হয় সোডিয়ামের ধাতু, নীল রঙের জন্য ব্যবহার করা হয় কপারের কোনও যৌগ এবং লাল রঙের জন্য ব্যবহার করা হয় শরীরের পক্ষে সবথেকে ক্ষতিকারক স্ট্রনশিয়াম ধাতুর কিছু যৌগ। এছাড়াও, সবুজ রঙের জন্য ব্যবহার করা হয় বেরিয়াম মনোক্লোরাইড লবণ, বেরিয়াম নাইট্রেট অথবা বেরিয়াম ক্লোরেট লবণ। এই বেরিয়াম ধাতুটি জ্বালানো হলে ঘন ধোঁয়া তৈরি করে, ফলে পরিবেশ ব্যাপকভাবে দূষিত হয়। তবে সবুজ বাজিতে এইরকম কোনও ধাতু ব্যবহার করা হয় না। ফলে পরিবেশের পাশাপাশি শরীরের পক্ষেও সবুজ বাজি অনেকটাই ভালো।

সবুজ বাজির সমস্যা

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মৃত্যুর চারশো বছর পরও কবর জোটেনি! রানিকে দেখতে এসে পর্যটকরা কেন খাবলে নিতেন হাড়?

Catherine of Valois: মৃত্যুকালীন অবস্থায় রানির যেমন চেহারা হয়েছিল সেই একইভাবে বানানো কাঠের পুতুলটি আজও চ্যাপেলে বর্তমান।

গ্রিন ক্র্যাকার বা সবুজ বাজির প্রধান সমস্যা হলো, এই ধরনের বাজি খুব একটা বেশি দিন স্থায়ী হয় না। যেহেতু এই ধরনের বাজিতে অপেক্ষাকৃত নরম ধাতু ব্যবহার করা হয়, তাই এই ধাতুগুলির স্থায়িত্ব কম থাকে। এই কারণে যারা বাজি বিক্রেতা রয়েছেন, তাদের জন্য এই ধরনের গ্রিন ক্র্যাকার খুব একটা লাভজনক নয়। এই বছর যদি তাঁরা তাঁদের সমস্ত বাজি বিক্রি করতে না পারেন, তাহলে পরের বছর পর্যন্ত সেই বাজি স্থায়ী হবে না। ফলে ব্যবসার ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তামিলনাড়ু ফায়ারওয়ার্ক্স ট্রেডার্স ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট ভি রাজা চন্দ্রশেখরন বলছেন, "সিএসআইআর এবং নিরি এই ধরনের বাজিতে অবশ্যই কিছু স্থায়িত্ব বৃদ্ধিকারী পদার্থ ব্যবহার করেছে। তবে সেই ধাতুগুলির নিজস্ব স্থায়িত্ব যদি বেশি না হয়, তাহলে কখনই বাইরে থেকে কোনও পদার্থ যোগ করে স্থায়িত্ব বেশিদিন বৃদ্ধি করা যায় না। এর ফলে যারা বাজি বিক্রি করছেন এবং যারা কিনছেন, দু'জনই ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন।

সবুজ রং মানেই সবুজ বাজি নয়

ডক্টর খাইওয়াল এবং প্রফেসর মোর জানিয়েছেন, গ্রিন ক্র্যাকারস ভারতে জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করলেও অনেকেই এমন আছেন যারা সবুজ রঙের সাধারণ আতসবাজিকে পরিবেশবান্ধব বাজি হিসেবে বিক্রি করে থাকেন। গ্রিন ক্র্যাকার্সের মধ্যে মূলত তিনটি শ্রেণি রয়েছে - SWAS, SAFAL ও STAR।

SWAS শ্রেণির বাজির পুরো নাম - Safe Water Releaser। অর্থাৎ এই ধরনের বাজিতে একটি ওয়াটার পকেট থাকে, যা বাজি ফাটার সময়ে ফেটে যায় এবং বাষ্প তৈরি করে। ধোঁয়া তৈরি করার জন্য পরিবেশের আশেপাশের ধুলোকে ব্যবহার করে এ ধরনের বাজি, যারা বাষ্পের সঙ্গে মিশে যায়। এর ফলে ধোঁয়া তৈরি করার জন্য পটাশিয়াম নাইট্রেট অথবা গন্ধকের মতো পদার্থ ব্যবহার করতে হয় না। পাশাপাশি বাজি পোড়ানোর আনন্দটাও মাটি হয় না।

একইভাবে, STAR হল Safe Thermite Cracker, যারা অপেক্ষাকৃত কম ধোঁয়া তৈরি করে এবং উৎপন্ন শব্দের মাত্রাও অনেকটা কম থাকে। এছাড়া, SAFAL হলো Safe Minimal Aluminium। এই শ্রেণিটি সাধারণত তুবড়ি এবং রং মশাল তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। এই ধরনের বাজিতে অ্যালুমিনিয়ামের ব্যবহার থাকে অত্যন্ত কম, এবং তার পরিবর্তে ব্যবহার করা হয় ম্যাগনেসিয়াম। ফলে শব্দের পাশাপাশি অ্যালুমিনিয়ামের ক্ষতিকারক দূষক পদার্থের উৎপত্তিও কম হয়।

তবে, যেকোনও সবুজ রঙের বাজি মানেই কিন্তু গ্রিন ক্র্যাকার নয়। সাধারণত, পথের ধারে যারা বাজির স্টল দিয়ে থাকেন তাঁদের কাছে এই ধরনের গ্রিন ক্র্যাকার থাকে না। তাই তাঁদের কাছ থেকে সবুজ বাজির আশা না করাই ভালো। তাঁরা যে ধরনের বাজিকে সবুজ বাজি বলে বিক্রি করে থাকেন, সেগুলি রঙে সবুজ। অর্থাৎ সেই বাজিতে অতিরিক্ত পরিমাণ বেরিয়াম লবণ ব্যবহার করা হয়েছে। সেই বাজি পরিবেশের পক্ষে ভালো তো একেবারেই নয়, বরং বলতে গেলে সাধারণ বাজির থেকেও বেশি খারাপ।

লাইসেন্সিং

এই ধরনের গ্রিন ক্র্যাকার সবাই বিক্রি করতে পারে না। কোনও লাইসেন্স প্রাপ্ত দোকান ছাড়া এই ধরনের বাজি পাওয়া যায় না। পাশাপাশি, প্রথম দিকে যখন এই ধরনের ক্র্যাকার বাজারে আসতে শুরু করেছিল সেই সময়ে ১০০০টি কারখানা এই বাজি বানাতো। কিন্তু এখন মাত্র ১৬০টি কারখানা বেঁচে রয়েছে। বাকি সব কারখানাই নিজেদের লাইসেন্স হারিয়েছে নিষিদ্ধ রাসায়নিক ব্যবহারের কারণে। তাই যদি আপনার সত্যিই গ্রিন ক্র্যাকার কেনার পরিকল্পনা থাকে, তাহলে কোনও এমন দোকান থেকে এই ধরনের বাজি কিনুন যার কাছে গ্রিন ক্র্যাকার লাইসেন্স রয়েছে। এই ধরনের সবুজ বাজিতে কোথাও না কোথাও CSIR-NEERI-র লোগো এবং ব্র্যান্ডিং থাকবে। সেই ব্র্যান্ডিংয়ে সত্যতা যাচাই করার পরেই গ্রিন ক্র্যাকার কিনুন।

লিখেছেন
Sourish Das
Sourish Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

দেশভাগের ক্ষত বুকে নিয়েই গড়ে উঠেছিল ঢাকা কালীবাড়ি, দক্ষিণ কলকাতার মন্দিরের ইতিহাস

Dhaka Kalibari: দেশভাগের পর বরিশাল থেকে কলকাতায় এসে নিজের শিকড়ের স্মৃতি ধরে রাখতে মন্দির গড়ে তুলেছিলেন ননীগোপাল চক্রবর্তী। দক্ষিণ কলকাতার প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোডের এই মন্দিরই আজ পরিচিত ঢাকা কালীবাড়ি নামে। মাটির প্রতিমা থেকে কষ্টিপাথরের বিগ্রহ, কালীপুজোর বিশেষ ভোগ—মন্দিরটির ইতিহাসে মিশে রয়েছে ধর্মীয় বিশ্বাস ও দেশভাগের স্মৃতি। কী ভাবে?

বইয়ের জন্য হাঁটতে হয় কেন?

Walk for Books 2026: প্রায় পঞ্চাশ-ষাট বছর আগে বইমেলাকে মনে করে বইয়ের জন্য একবার হেঁটেছিল বাঙালি। তারপর দীর্ঘ বিরতি পেরিয়ে আবার এই ৩১ অক্টোবর, ২০২৬-এ দেখা গেল সেই ছবি। হুড়দুড় করে ছেলেবুড়োমেয়েমদ্দ সব রাস্তায় নেমে এল—এ কী আজব খেলা রে ভাই!

ঋত্বিক: ফিরে দেখা

Ritwik Ghatak: আমরা যখন ছোট ছিলাম, মানে ষাটের দশকের সেই শেষ দিকে বা সত্তরের দশকে, তিনি কত না অদ্ভুতভাবে আমাদের প্রভাবিত করতেন। যেমন একদিন আমাদের রবীন্দ্রসদনের সামনে দেখতে পেয়ে তিনি হঠাৎ বললেন, আমাকে একটা ট্যাক্সি ধরে দেবে?

কলকাতায় চালু হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ স্কুল অফ ম্যাজিক অ্যান্ড পারফর্মিং আর্টস

West Bengal School of Magic: মুখ্যমন্ত্রী ‘পশ্চিমবঙ্গ স্কুল অফ ম্যাজিক, ইল্যুশন অ্যান্ড পারফর্মিং আর্টস’ স্থাপনের প্রস্তাবে অনুমোদন করেছেন। পুজোর পর উপদেষ্টা কমিটির সদস্যরা বৈঠক করবেন।

বিভূতিভূষণের উপন্যাস কেবল দৃশ্যের নয়, শব্দেরও এক জগৎ তৈরি করে

Bibhutibhushan Bandyopadhyay: বাংলা সাহিত্যে বিভূতিভূষণকে আমরা সাধারণত প্রকৃতির কবি বলেই চিনি। তাঁর বর্ণনায় নদী, মাঠ, বন, আকাশ, ঋতু আর গ্রামীণ জীবনের যে ছবি ফুটে ওঠে, তা নিয়ে বহু আলোচনা হয়েছে। কিন্তু তাঁর সাহিত্যকে যদি একটু অন্য দিক থেকে দেখা যায়? যদি আমরা শুধু দৃশ্যের দিকে না তাকিয়ে শোনার চেষ্টা করি?

স্ট্যাচু অব লিবার্টি ও আমেরিকার অভিবাসন: আমেরিকার ইতিহাসে আশ্রয়প্রার্থীদের জায়গা কোথায়?

Statue of Liberty: স্ট্যাচু অব লিবার্টির ধারণার সূত্রপাত ১৮৬৫ সালে। ফরাসি রাজনৈতিক চিন্তাবিদ এদুয়ার্দ দ্য লাবুলে আমেরিকার স্বাধীনতার শতবর্ষ এবং ফ্রান্স-আমেরিকার বন্ধুত্বকে স্মরণ করে স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের ধারণা দেন।

এশিয়ার সেরা মিউজিয়ামের স্বীকৃতি পাটনার, কীভাবে বিশ্বসেরাদের টেক্কা দিল বিহার মিউজিয়াম?

Patna Outranks paris: বিশ্বের সেরা ১০০টি মিউজিয়ামের তালিকায় নবম স্থান অর্জন করে কীভাবে ল্যুভর ও মেটের মতো বিখ্যাত জাদুঘরকে পিছনে ফেলে এশিয়ার সেরা মিউজিয়াম হয়ে উঠল পাটনার বিহার মিউজিয়াম?

দেশভাগের ইতিহাসকে নারীর চোখে দেখা: অংশুমান করের ‘হিরণবালা’

Hiranbala Novel Review: বাংলা উদ্বাস্তু-আখ্যানের বড় অংশে দেশভাগের অভিজ্ঞতা এসেছে পুরুষের জীবন, তার মনস্তত্ত্ব ও তার গতিবিধির ভিতর দিয়ে। ‘হিরণবালা’ প্রথমেই এই কাঠামো ভেঙে দেয়। উদ্বাস্তু পরিবারের গল্পে একজন নারীকে নিষ্ক্রিয় বা পরোক্ষ ভূমিকায় না দেখিয়ে, উদ্বাস্তু হওয়ার অভিজ্ঞতাটিকে প্রত্যক্ষভাবে বুনে দেয় নারীটির জীবন। দেশভাগকে প্রায় অদৃশ্য করে হিরণকে উদ্বাস্তু করা শুরু হয় ১৯৪৬ সালে, বিয়ের মধ্য দিয়ে।