নয়া সংসদ ভবনে নরেন্দ্র মোদির 'অভিষেক'! কোথা থেকে এল এই রাজদণ্ড?

New Parliament Inauguration: সেঙ্গোল শব্দটি এসেছে তামিল শব্দ 'সেম্মাই' থেকে। সেম্মাই মানে 'ধার্মিকতা'।

inscript
৩ মিনিট
নয়া সংসদ ভবনে নরেন্দ্র মোদির 'অভিষেক'! কোথা থেকে এল এই রাজদণ্ড?

দেশে প্রজারাই সব। প্রজাদের তন্ত্র দেশকে চালায়। অন্তত সংবিধানে তেমনই বলা কওয়া আছে। ৭৫ বছর হয়ে গেছে দেশের স্বাধীনতার। দেশে পুরোনো সংসদ ভবনের পাশে কোটি কোটি টাকা খরচা করে নয়া চোখ ধাঁধানো সংসদভবন গড়া হয়েছে। ২৮ মে সেই নতুন সংসদ ভবনের উদ্বোধনে ভারতবর্ষ যে চিত্র দেখেছে তাতে প্রজাতন্ত্র শব্দটি নিয়ে কিঞ্চিৎ প্রশ্ন উঠছে বৈকি! নয়া সংসদ ভবনে 'রাজদণ্ড' স্থাপন করেছেন নরেন্দ্র মোদি। দেশের সাধুরা নরেন্দ্র মোদির হাতে এক রাজদণ্ড তুলে দিয়েছেন। ঠিক যেন কোনও রাজার অভিষেক হলো নয়া সাম্রাজ্যে। ধর্মনিরপেক্ষ দেশের সংসদ ভবনের উদবোধনে কেনই বা হিন্দু সাধুদের রমরমা, কেনই বা রাজদণ্ড স্থাপন, কেনই বা হিন্দু আচার অনুষ্ঠানের এমন ব্যাপক আয়োজন, প্রশ্ন উঠছে। হঠাৎ এই রাজদণ্ড স্থাপনের বিষয়টি সংসদে এসে জুটলই বা কীভাবে? সত্যিই কি দেশে তবে রাজতন্ত্রের ধারণা শুরু হচ্ছে নতুন করে?

এই যে রাজদণ্ডটি, তা নতুন সংসদ ভবনে স্পিকারের চেয়ারের কাছে স্থাপন করা হবে। কিন্তু কেন? "জাদুঘর থেকে 'সেঙ্গল' এনে আনুষ্ঠানিকভাবে মোদির কাছে হস্তান্তর করা তাঁর 'অভিষেকের' প্রতীক। নতুন সংসদ ভবনে এটিকে বিশেষভাবে প্রদর্শন করা, নাগরিক গণতন্ত্রকে নষ্ট করে 'রাজা ও প্রজা'-র শাসন ফিরিয়ে আনারই প্রতীক,” বলেছেন সিপিআই(এম) নেতা সীতারাম ইয়েচুরি। বামেদের বিতর্ক একদিকে, তারই অন্যপাশে কংগ্রেস আর বিজেপির বিতর্ক শুরু হয়েছে একদম গোড়া থেকে। বলা হচ্ছে, এই রাজদণ্ড নতুন কোনও বিষয় নয়। কংগ্রেসের প্রধানমন্ত্রীর হাতেই প্রথম নাকি এই রাজদণ্ড তুলে দেওয়া হয়েছিল!

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কেন স্বাধীনতার ৭৫ বছর পর দরকার পড়ল নতুন সংসদ ভবনের?

New Parliament building: পুরনো সংসদ ভবনটি ১৯২৭ সালে চালু করা হয়েছিল।

এখানেই শেষ নয়, বলা হচ্ছে, ব্রিটিশদের থেকে ভারতে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রতীক এই দণ্ড। লর্ড মাউন্টব্যাটেন, সি রাজাগোপালাচারী এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু নাকি এই রাজদণ্ডকে ব্রিটিশদের দ্বারা ভারতে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রতীক হিসাবেই বর্ণনা করেছেন। যদিও, কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ বলছেন, এই বিষয়ে কোনও নথিভুক্ত প্রমাণ কোত্থাও নেই। আম্বালাভানা দেশিকা পরমাচার্য স্বামী থিরুভাবাদুথুরাই আদিনাম বলেছেন, এটিই সেই রাজদণ্ড যা ১৯৪৭ সালে ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুকে দেওয়া হয়েছিল এবং এটি তামিলনাড়ুর গর্ব।

তামিলনাড়ু থেকে ৩০ জন আদিনাম সাধু দিল্লিতে এসে পৌঁছন। শৈব মঠ থিরুভাবাদুথুরাই আদিনামের সন্ন্যাসীরা শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনে এই রাজদণ্ড হস্তান্তর করেন। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণও সেই মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রীর বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন। নতুন সংসদে লোকসভার স্পিকারের আসনের পাশে এটি বসানো হবে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
দূরদর্শনে মোদির স্তুতিতে তথ্যচিত্র! ঐতিহ্যের নামে বাদ পড়ল ভারতে প্রকৃত ইতিহাসই?

Doordarshan New India Documentary: ভারতীয় ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরতে গিয়ে বাদ পড়ে গিয়েছে দ্রাবিড়, আদিবাসী বা মুসলিমদের প্রভাব।

প্রাচীনকাল থেকেই রাজদণ্ড হিসাবে পরিচিত এই সেঙ্গোল। এই রাজদণ্ড ক্ষমতার প্রতীক, প্রজাদের জন্য রাজার প্রতিশ্রুতিরও প্রতীক। এই রাজদণ্ড চোল রাজাদের শাসনের সঙ্গেও যুক্ত। প্রাক্তন রাজারা ক্ষমতার উত্তরাধিকার হস্তান্তর করার সময় সেঙ্গোলটিকে নবনির্বাচিত রাজার হাতে তুলে দিতেন। রামায়ণ-মহাভারতেও এ ধরনের উত্তরাধিকার হস্তান্তরের উল্লেখ আছে। মহাভারতে যুধিষ্ঠিরের রাজ্যাভিষেকের সময়ও রাজদণ্ডের উল্লেখ আছে। শান্তিপর্বে রাজদণ্ড প্রসঙ্গেই বলা হয়েছিল, এই রাজদণ্ডই রাজার ধর্ম, এই দণ্ডই ধর্ম ও অর্থ রক্ষা করে। রাজ্যাভিষেকের পদ্ধতি অনুযায়ী, রাজা যখন সিংহাসনে বসেন, তিনি তিনবার 'আদণ্ডৌ অস্মি' বলেন। রাজপুরোহিত তাঁকে পলাশের লাঠি দিয়ে আলতো আঘাত করে বলেন 'ধর্মদণ্ড্যোঃ অসি' বলে। রাজার কথার অর্থ হলো, তাঁকে শাস্তি দেওয়া যাবে না। পুরোহিতের কথার অর্থ হচ্ছে, ধর্ম রাজাকেও শাস্তি দিতে পারে। এই বলেই রাজার হাতে রাজদণ্ড তুলে দেওয়া হয়।।

সেঙ্গোল শব্দটি এসেছে তামিল শব্দ 'সেম্মাই' থেকে। সেম্মাই মানে 'ধার্মিকতা'। এই রাজদণ্ডই রাজাকে ন্যায্য শাস্তি দেওয়ার অধিকারী করে তোলে। রাজদণ্ড ব্যবহৃত হয়েছে মৌর্য সাম্রাজ্যে, চোল সাম্রাজ্যে, গুপ্ত সাম্রাজ্য এবং বিজয়নগর সাম্রাজ্যেও। সম্প্রতি ব্রিটেনে প্রিন্স চার্লসের রাজ্যাভিষেকের সময়ও রাজদণ্ডের প্রতীক একটি লাঠি তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

মোদির হাতে যে রাজদণ্ড তুলে দেওয়া হয়েছে তাতে চূড়ায় রয়েছে নন্দীর মূর্তি। নন্দীর মূর্তি শৈব ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত। পাশাপাশি নন্দী আত্মসমর্পণের প্রতীক। নন্দী যে বৃত্তাকার মঞ্চে প্রতিষ্ঠিত তা নাকি বিশ্বের প্রতীক। রাজদণ্ডের দৈর্ঘ্য পাঁচ ফুট। এতে লক্ষ্মীর ছবিও খোদাই করা রয়েছে।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।